পুরুষোত্তম কর্নেল তাহেরের ফাঁসি রহস্য ক্রমাগত উন্মোচনায় -

বাংলার রাজনীতির মোড় ঘুরবে

 

সংলাপ

 

ঘরকুণো, আরামপ্রিয়, ভীরু, পরাধীন  ইত্যাদি ধরনের কত অপবাদই না ছিল শান্তি প্রিয় বাঙালিদেরকিন্তু ৭১'র মহান মুক্তিযুদ্ধের আগুনঝরা দিনগুলোতে এসব অপবাদ দূর করে জাতিকে যারা সাহসী ও বীরের জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, দেশকে পাকিস্তানী হানাদারমুক্ত করেছিলেন, তাঁদেরই একজন ছিলেন কর্নেল এম এ তাহের ১১নম্বর সেক্টরের কমান্ডার এই বীর যোদ্ধাকে ৩৪ বছর আগে সামরিক আদালতে মৃত্যুদন্ড দেয়াসংক্রান্ত গোপন বিচারের নথি হাইকোর্ট তলব করেছেন গত ২৩শে আগষ্টওই নথি সংশ্লিষ্ট আদালতে দাখিল করার জন্য স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষাসচিব এবং কারা মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেয়া হয়েছেএকই সঙ্গে ১৯৭৬ সালের ১৪জুন জারি করা ১৬ নম্বর সামরিক আইন রেগুলেশন, এই রেগুলেশনের অধীনে গঠিত সামরিক আদালত এবং এই আদালতের গোপন বিচারে তাহেরকে ফাঁসির আদেশ ও তা কার্যকর করা কেন অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, এর কারণ জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, আইন ও মুক্তিযুদ্ধ  বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, কারা মহাপরিদর্শক, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের তত্ত্বাবধায়কসহ সাতজনকে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছেকর্নেল তাহেরের ভাই ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের অধ্যাপক ড. এম আনোয়ার হোসেন, কর্নেল তাহেরের স্ত্রী লুৎফা তাহের ও কর্নেল তাহেরের আরেক ভাই আবু ইউসুফের স্ত্রী ফাতেমা ইউসুফের  যৌথভাবে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই রুল জারি করেছেন

হাইকোটের্র এই তলব ও নির্দেশের খবরে দেশের গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তোলপাড়এই রুল জারির মধ্য দিয়ে ৭১'র বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেক্টর কমান্ডার তাহেরকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড দেয়ার মাধ্যমে  যে বিতর্ক, প্রতিবাদ ও সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছিল তা হয়তো শেষ হবে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তির মাঝেদীর্ঘ ৩৪ বছরের বেশির ভাগ সময় ধরে যারা এদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল তাদের অধিকাংশই ছিল স্বাধীনতার বিরোধীদের লালনকারীফলে ওই সময় এ ধরনের রিট করার কোন সুযোগ ছিল নাএ ব্যাপারে ড. আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর কারণে সামরিক আদালতের বিচার কার্যক্রম নিয়ে এতদিন প্রশ্ন তোলার সুযোগ ছিল না সুপ্রিম কোর্ট পঞ্চম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়ার কারণেই কর্নেল তাহেরের ফাঁসির রায়ের বৈধতা নিয়ে রিট করা হয়েছে

তাহেরের ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছিল 'রাষ্ট্র বনাম মেজর (অবঃ) জলিল ও অন্যান্য' নামের এক রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ১৯৭৬ সালের ১৭ই জুলাইবিচার হয়েছিল কারাভ্যন্তরের এক গোপন কামরায়রায় ঘোষণার মাত্র ৭২ ঘন্টার মাথায় ২১শে জুলাই ভোর রাতে তাঁর ফাঁসি কার্যকর করা হয় উল্লেখ্য যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্বামী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান তখন সেনাপ্রধান ও পরোক্ষভাবে দেশের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী তাহেরের ফাঁসির পর দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রশ্ন আকারে দেখা দেয় প্রশ্নগুলো হচ্ছে- বিচারকার্য অনুষ্ঠিত হয়েছিল সামরিক আইনের আওতায়, কিন্তু এর প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছিল লোকচক্ষুর অন্তরালে তড়িঘড়ি করে- মাত্র এক মাসের মধ্যেতাছাড়া এ ধরনের মামলায় মৃত্যুদন্ড দেয়ার বিধান নেই এমনকি মুক্তিযুদ্ধে একটি পা হারিয়ে তিনি ছিলেন পঙ্গুএকজন পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া যায় কি না সে প্রশ্ন তো রয়েছেইআবার মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করারও কোন সুযোগ ছিল নাআরও বড় কথা হচ্ছে মামলার প্রধান বিচারক ব্রিগেডিয়ার ইউসুফ হায়দার ছিলেন একজন বিতর্কিত লোকএসব প্রশ্ন একত্রিত করলে একজন বিবেকবান বাঙালির বুঝতে খুবই সুবিধা হয় যে, মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর সেনানীকে অন্যায়ভাবে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়েছিল

এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে যে অপরাধের কথা বলে  তাহেরের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রোদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছিল তাও ছিল এক বিরাট মিথ্যাচারঘটনাটি সংক্ষেপে এ রকম- তাঁর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছিল '৭৫-এর ৭ নভেম্বরের ঘটনাবলীর ধারাবাহিকতায়প্রকৃত ঘটনা ছিল অভ্যুত্থানের সময় সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে বন্দী করা হয়মূলত তাহেরের নেতৃত্বেই অভ্যুত্থানটি সংঘটিত হয় এবং অভ্যুত্থান শেষে তাহেরের সৈনিকেরাই জিয়াকে মুক্ত করেনকিন্তু মু্‌ক্ত জিয়া সম্পূর্ণ নতুন এক চেহারা নিয়ে দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আত্মপ্রকাশ করেন এবং অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী সামরিক আইন জারি করেন এবং একজন স্বাক্ষীগোপালকে রাষ্ট্রপতি-কাম-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক পদে বসিয়ে নিজে উপ-প্রধান সামরিক আইন পদে অধিষ্ঠিত হয়ে রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করেনসামরিক বাহিনী, দেশ ও জনগণের সাথে তাহেরের সম্পৃক্ততা এবং তাহেরের ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও মেধাকে প্রতিদ্বন্দ্বী ও শত্রু গণ্য করে তাঁকেই দুনিয়া থেকে চিরতরে সরিয়ে দেয়াকে শ্রেয় মনে করলেন জিয়া রাষ্ট্রোদ্রোহের মামলা সাজিয়ে তাহেরেকে ঝুলিয়ে দিলেন ফাঁসিতেএর ফলশ্রুতিতে জিয়া  হয়ে উঠলেন দেশের সর্বেসর্বাএকজন বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধা ও অতি উচ্চাভিলাষী সেনা কর্মকর্তা বাংলাদেশের রাজনীতি ও সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হলে যা হওয়ার কথা তাই হলজিয়াউর রহমান ওই সময় একবার নিজেই ঘোষণা করলেন,  'আই উইল মেইক দ্য পলিটিক্স ডিফিকাল্ট ফর দ্য পলিটিশিয়ান', অর্থাৎ, 'আমি রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি কঠিন করে দেব'এবং তার সময়ে তাই হল- সৎ, সত্যবাদী ও দেশপ্রেমিক মানুষরা যারা এদেশের সার্বিক  মুক্তি ও কল্যাণের জন্য এতকাল রাজনীতি করে আসছিলেন, তাদের জন্য রাজনীতি করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠল মিথ্যাচার কায়েম হতে থাকলো রাজনীতির সর্বস্তরে স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, লুটেরা, অসৎ ও দুর্নীতিবাজদেরকে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশের অবারিত সুযোগ তৈরি করে দেয়া হলোমুছে দেয়ার চেষ্টা চললো জাতির গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুসহ সকল জাতীয় নেতা বীরদের নাম পরিণতিতে স্বাধীনতা পরবর্তী একটি প্রজন্মই হলো  বিভ্রান্ত যার প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে জাতিকে ভুগতে হচ্ছে আজও

তাই বলা যায়, কর্নেল তাহেরের ফাঁসির আদেশের নথি তলবের মাধ্যমে মামলাটি পুনর্বিবেচিত হলে দেখা যাবে অনেক সত্য বেরিয়ে আসছে, রাজনীতির অঙ্গনের অনেক নায়কের প্রকৃত চেহারা জাতির কাছে উন্মোচিত হবেআর কর্নেল তাহেরের মতো বীর যোদ্ধার প্রতি যে অন্যায় করা হয়েছিল তার দায়ভার থেকে জাতি কিছুটা হলেও মুক্ত হবে রাজনীতির সার্বিক অঙ্গন হত্যা, সন্ত্রাস ও মিথ্যাচার থেকে মুক্ত থাকার পথ আরো খুলে যাবেপবিত্র কুরআনের ভাষায় বলতে হয়, নাসরুম্‌মিনাল্লাহি ওয়াফাতহুন কারীব, অর্থাৎ, 'সত্য সমাগত, মিথ্যা অপসারিত'।                 

                

চির-উন্নত মম শীর

 

সংলাপ

 

বারোই ভাদ্র কাজী নজরুল ইসলামের তিরোধান দিবস এগারোই জ্যৈষ্ঠ ভারতের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহাকুমার চুরুলিয়া গ্রামে যাঁর আবির্ভাব, সেই তিনি বারোই ভাদ্র শায়িত হয়েছেন বাংলাদেশের রাজধানীস্থ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে দেশ-কাল অতিক্রম করে তাঁর জীবনের আদি ও অন্ত ভেঙেছে সীমানা ভাঙনের এই দুর্দমনীয় সুর তাঁর সমগ্র জীবন স্রোতে অবিরত ধ্বনিত হয়েছে এ ভাঙন নিত্য নতুন সৃষ্টির উল্লাসে এ ভাঙন পুরাতনকে হটিয়ে দিয়ে নতুনের কেতন  উড়াবার অক্লান্ত প্রয়াসে এ ভাঙন মিথ্যাকে ধূলিস্যাত করে সত্যের উদ্বোধনে সত্য দ্রষ্টা নজরুল জীবন সাধনায় তাই অপ্রতিদ্বন্দ্বী এক সত্তা, যা অমর অক্ষয় শাশ্বত সেই সত্য সাধকের অরুনোদয়ে এই জরা-জীর্ণ পৃথিবী খুঁজে নিচ্ছে, নিবে জীবনের সফেদ ঠিকানা, মানবতার বিস্তীর্ণ দিগন্ত

চার আউলিয়ার গ্রাম চুরুলিয়া রুক্ষ আর উদার প্রকৃতির সৌন্দর্য-সম্ভারে শৈশবের নজরুলকে লালন করেছিল আপন সুষমায় ঐতিহ্যের শাশ্বত ধারাকে অক্ষুন্ন রেখে প্রকৃতির সন্তান নজরুলও কালের সাংঘর্ষিক চেতনায় পরিণত হয়েছিলেন সাধক পুরুষোত্তমে বংশ তালিকা হাতড়ে জানা যায় নজরুলের আদি পুরুষ ছিলেন হযরত গোলাম নকসবন্দ বাবা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন চুরুলিয়ার প্রাচীন দরগাহ্‌ হাজী পাহলোয়ানের আস্তানার খাদেম তাই নজরুলের শেঁকড় সাধককূলের জমিনে প্রোথিত ধর্ম ভিরু দানশীল, সরলচিত্ত, আপন ভোলা, বাংলা-উর্দু-ফার্সি জানা বাবার সব গুণই তিনি আত্মস্থ করেছিলেন চির দুরন্ত-দুর্দম নজরুল শৈশব থেকে কৈশোর, কৈশোর থেকে যৌবন, জীবনের প্রতিটি স্তরে যত বৈচিত্র্যেরই সমাবেশ ঘটান না কেন অবশেষে তিনি সমাহিত হয়েছেন আপনাতেই আপন শেঁকড়ের সঞ্চারিত প্রাণ রসে তিনি প্রাণবন্ত সত্য-সত্তায় হয়ে উঠেছেন মহান সাধক বিচিত্র কর্মের বিন্যাসে জীবনের বৈচিত্র্যতায় লব্ধ সত্যে প্রতিষ্ঠিত থেকে তিনি হয়েছেন সত্য স্রষ্টা তাই কোন খন্ডিত চেতনায় তাঁকে খন্ডন করার প্রয়াস নিতান্তই ঔদ্ধত্য, অনুচিত কেবল কবি নয়, কেবল প্রাবন্ধিক নয়, কেবল সাংবাদিক নয়, কেবল উপন্যাসিক নয়, কেবল নাট্যকার নয়, কেবল সৈনিক নয়, কেবল বিদ্রোহী নয়, কেবল প্রেমিক নয়, কেবল গায়ক বা অভিনেতা নয়, সামগ্রিক জীবনের অবিমিশ্র শৈল্পিকতার সমন্বয়ে ঋদ্ধ তিনি এই ঋদ্ধতা কালিক বাস্তবতাজাত সাত্তিক চেতনায় সুগভীর জ্ঞানে এই ঋদ্ধতা নজরুলকে দিয়েছে পুরুষোত্তমের মর্যাদা

কর্মই ধর্ম - এ সত্য ধারণ করেই তিনি ছিলেন প্রকৃত ধার্মিক তাই কেবল ভাবালুতার মাঝে আত্মবিসর্জন না দিয়ে তিনি নিরবচ্ছিন্ন কর্ম সাধনায় ছিলেন আত্মনিবেদিত কর্মের সাত্তিকতায় তিনি ধর্মকে দিয়েছেন শুদ্ধত্ব বাংলার সন্তান তিনি বাংলা সাহিত্যকে হাতিয়ার করে নেমেছিলেন সেই শুদ্ধি অভিযানে

বাংলার যেখানেই অনিয়ম-অনাচার, বৈষম্য-বিভেদ, কুসংস্কার, আনুষ্ঠানিকতার আবরণ, শোষণ, তাঁর দৃষ্টিগোচর হয়েছে সেখানেই তিনি গর্জে উঠেছেন প্রতিবাদে প্রতিরোধে এই প্রতিবাদী কন্ঠস্বরই তাঁকে চিহ্নিত করেছে 'বিদ্রোহী' রূপে কিন্তু এটিও তাঁর সমগ্র সত্তার একটি খন্ডাংশ তবে এও সত্য যে, এই বিদ্রোহী সত্তাই তাঁকে রেখেছে আপোষহীন, পরিণত করেছে সত্যের পথের দুর্দমনীয় অবিচলিত পথিকে এই বিদ্রোহী সত্তাই তাঁকে করেছে সত্য সাধক প্রেমও অনিবার্য উপাদান এখানে প্রেম-রসে জারিত হৃদয়ে তিনি যে কোন বিষয় বা কর্মকেই গ্রহণ বা সম্পাদন করেছেন একান্ত নিবিড় ও নির্ভীক ভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার সত্য সাহসে তিনি যে বাঁধ ভাঙার গান গেয়েছেন সেখানেও প্রেমের প্রকাশ সতত সহস্র ধারায় বহমান প্রেমজ কর্মই তাঁকে সাধক পুরুষ তথা শান্তির পথ প্রদর্শকে পরিণত করেছে

'আমার কৈফিয়ৎ' কবিতার সূচনাতেই যদিও নজরুল বলেছেন - 'বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই নবী কিন্তু ওই কবিতারই পরবর্তী স্তবকগুলোতে তিনি নিজেই নিজের যে পরিচয় তুলে ধরেছেন তাতে সুস্পষ্ট যে, তিনি যুগের 'হুজুগ' বা সকল বিতর্ককে তুচ্ছ জ্ঞান করে যুগাতীত এক সত্যকে ধারণ করে আছেন সেই সত্যের আলোয় তিনি উন্মোচিত করেছেন সেই 'বর্তমানের'ই প্রতারক, ভন্ড, শোষক শ্রেণীর মানুষের মুখোশ সমাজের প্রতিটি স্তরেই ওই মুখোশধারী মানুষেরা ছিল, আছে, থাকবে সাহিত্য-সংস্কৃতিতে, রাজনীতিতে, অর্থনীতিতে, ধর্মে, রাষ্ট্রীয় যন্ত্রে ওই নিপীড়ক শ্রেণী গ্রাস করে চলেছেন সবকিছু শোষণের নির্মমতা যেখানে শৃঙ্খল ছড়াতে ব্যস্ত, মুক্তির আর্তনাদ সেখানেই ধ্বনিত হয় শান্তির সুপথ রচনায় সেখানেই হাজির হন পথ প্রদর্শকগণ নজরুল ছিলেন তেমনি একজন পথ প্রদর্শক বিশিষ্ট সমালোচক মোহাম্মদ মাহ্‌ফুজ উল্লাহ্‌ বলেছেন - 'বাংলা সাহিত্যের অন্যতম যুগ স্রষ্টা এবং বিদ্রোহী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন ত্রিকালদর্শী লেখক এবং অসাধারণ সৃষ্টিধর্মী প্রতিভার অধিকারী, ইতিহাস ও কাল সচেতন,  বাস্তববাদী এবং দ্রষ্টা ও স্রষ্টা' এর সাথে আর একটু যোগ করে বলা যায় যে, নজরুল ছিলেন 'ত্রিকালদর্শী মহান সাধক' লেখক ও সাধক তবে 'সাধক' শব্দের মাঝে যে পূর্ণতা ও বিস্তৃতি আছে 'লেখক' শব্দের মাঝে তা কিছুটা খন্ডিত হয়

বেতার জগতের ১.২.১৯৪১ সংখ্যায় প্রকাশিত কুরআন সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য, 'কোরান শরিফে স্পষ্ট ইঙ্গিত আছে যে, যিনি বিভূতি বা যোগৈশ্বর্য লাভ করেছেন কোরান পাঠ ক'রে তার অর্থ হৃদয়ঙ্গম করার তিনিই অধিকারী হয়েছেন কোরান আরম্ভ হয়েছে 'সুরা বকরা' দিয়ে এই বকরা পার্থিব ও অপার্থিব ঐশ্বর্যের প্রতীক কোরানে আল্লাহকে একমেবাদ্বিতীয়ম অভেদম, পরম পূর্ণম, পরম নিত্যম বলা হলেও তিনি নিত্য পরম প্রেমময়, পরম ক্ষমাসুন্দর, পরম করুণাময় - এই আশার কথাই বিশেষ জোর দিয়ে বলা হয়েছে কোরানে সাধনার সহজতম পথের ইঙ্গিত আছে যে পথে অতি সহজে ব্রহ্মজ্ঞান প্রাপ্তি হয়, তার অপূর্ব সহজ উপায় ও তৎসম্বন্ধে উপদেশ ও তত্ত্ব বর্ণিত আছে তবে অতি উচ্চ স্তরের সাধক ব্যতীত সে ইঙ্গিত ধরতে পারবে না সকল ধর্মের লোক কোরানের এই আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা শুনে উপকৃত হবেন বিশেষ করে যাঁরা সাধক পথের পথিক, তাঁরা অনেক গুপ্ত পথের হদিস পাবেন এতে'

আমরা বিশ্বাস করি 'ইসলাম' মানেই 'বর্তমান' অতীতচারিতা বা ভবিতব্যের বলয়ে বন্দি হয়ে অকর্মন্য জীবনের পথ থেকে মুক্তি দিতেই বর্তমানকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ইসলামে বর্তমান সুন্দর হলেই জীবন সুন্দর বর্তমান সত্য হলেই জীবন সত্য বর্তমান শান্তিময় হলেই জীবন শান্তিময় তাই কাল সচেতন নজরুল যখন বলেন তিনি 'বর্তমানের কবি' তখনই তাঁর আসল স্বরূপ উন্মোচিত হয়ে যায় শব্দের আড়ালে তিনি আর নিজেকে আড়াল করে রাখতে পারেন না নমনীয় শব্দ গুচ্ছের মধ্যেই সত্য-সন্ধানীরা খুঁজে নেন তাঁকে

বর্তমানের নবজাগরণের তুর্যবাদক, সংগ্রামী চেতনার ধারক, মুসলিম পুনঃজাগরণের কান্ডারী, মানবতার পূজারী সাধক নজরুল এক প্রাণোচ্ছল, শুদ্ধ আদর্শের ধারক তাঁর সেই আদর্শ শান্তি ও মানবতার পথযাত্রায় চিরস্মরণীয় তথাপি স্বার্থবাদী সামাজিক বলয়ে আজো তিনি উপেক্ষিত নয় কি? নজরুল গবেষণা কেন্দ্রগুলো কি আজো সমগ্র  নজরুলকে আবিষ্কার করতে পেরেছে? নজরুলের আদর্শকে কি আমরা সমগ্র জাতির মাঝে ছড়িয়ে দিতে পেরেছি? পূর্ণ মর্যাদায় সুরক্ষিত করেছি নজরুলের সমাধি সৌধ? তথ্য-প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নজরুলের ওপর কি সঠিক তথ্য নির্ভর কোন ওয়েবসাইট খুলতে পেরেছি? নজরুল চর্চার উদাসীনতা কেন বাঙালি   শিক্ষিত সমাজে? 'শাশ্বত বর্তমানের নজরুল' কে উপেক্ষা করে আমরা কোন্‌ বর্তমানকে রচনা করছি বা করতে পারবো? এ প্রশ্ন সমগ্র জাতির কাছে।                        

 

বিশ্বের শীর্ষ দশ নেত্রীর তালিকায় শেখ হাসিনা ষষ্ঠ

 

 

শাওন

 

বিশ্বের ১০ সেরা নারীনেত্রীর মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ষষ্ঠ বিশ্বখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের চলতি সপ্তাহের অনলাইন সংস্করণে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তালিকার শীর্ষে আছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড

তালিকায় স্থান পাওয়া ১০ নেত্রী বিভিন্ন দেশের চ্যান্সেলর, প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তালিকায় দ্বিতীয় হয়েছেন আইসল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট জোহান্না সিগারডারডোট্টির এরপর যথাক্রমে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ফার্নান্ডেজ ডি কির্চনার (তৃতীয়), লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট ডালিয়া গ্রেবাউস্কাইতে (চতুর্থ), জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল (পঞ্চম), বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ (ষষ্ঠ), লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট এলেন জনসন সিরলিফ (সপ্তম), ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট তারজা হ্যালোনেন (অষ্টম), ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কমলা পেরসাদ বিশ্বের (নবম) এবং কোস্টারিকার প্রেসিডেন্ট লরা চিনচিলা (দশম) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে টাইম ম্যাগাজিনের এ জরিপ প্রতিবেদনের মন্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এই নেত্রী ১৯৭৫ সালের নারকীয় হত্যাকাণ্ড থেকে রক্ষা পান ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার পরিবারের ১৭ জন প্রাণ হারান এর মধ্যে রয়েছেন তার বাবা-মা ও তিন ভাই তখন তার বয়স ছিল ২৮ তিনি তখন ছিলেন দেশের বাইরে পরবর্তীকালে তিনি এক মর্মান্তিক গ্রেনেড হামলা থেকেও প্রাণে রক্ষা পান ওই হামলায় ২০ জনের বেশি নেতাকর্মী নিহত হন ওই হামলার সময় তার গাড়িতে পর্যন্ত বুলেটের আঘাত লাগে ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনে তার দল পরাজিত হয় পরে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আবার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা।              

 

সন্ত্রাসের কারবারীদের শিকার এখন শিশুরা

 

সাদি  

 

জাতিসংঘ উদ্বিগ্ন

বিশ্বজুড়ে শিশুরা যেভাবে সংঘর্ষের শিকার ও উগ্রপন্থী সংগঠনগুলোর ক্রীড়নকে পরিণত হচ্ছে তা রোধ করতে নিরাপত্তা পরিষদকে জরুরিকালীন ভিত্তিতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের আরজি জানালেন জাতিসংঘের প্রবীণ কর্মকর্তারা উগ্রপন্থী গোষ্ঠী বা সামরিক বাহিনী যারা শিশুদেরকে তাদের বাহিনীতে নিযুক্ত করছে বা তাদের যৌন নিপীড়নে বাধ্য করছে, পঙ্গু করে দিচ্ছে, এমনকি সংঘর্ষে শিশুদেরকে হত্যা পর্যন্ত করতে দ্বিধা করছে না, তার বিরুদ্ধে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করার দাবি করা হয়েছে এমনকি এ সকল উগ্রপন্থী সংগঠনসমূহের নেতাদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারির সুপারিশ পর্যন্ত করা হয়েছে জাতিসংঘের ওই কর্মকর্তাদের অন্যতম হলেন শ্রীলঙ্কার রাধিকা কুমারাস্বামী ও ভারতের অতুল খারে

জাতিসংঘ এই প্রথম চিহ্নিত করলো শিশুদেরকে অপরাধমূলক কাজে ব্যবহারকারী সংগঠনগুলোকে গত মাসে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই বিষয়টি উল্লেখ করে ১৬টি সামরিক গোষ্ঠী ও উগ্রপন্থী সংগঠনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই সংগঠনগুলোকে এ ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপে মদদ দিয়ে চলেছে এমনকি নেপালও শিশুদেরকে সামরিক বাহিনীতে নিযুক্তির অভিযোগ করেছে গত ৫ বছর ধরে শ্রীলঙ্কার রাধিকা কুমারাস্বামী বলেন - 'একদিকে চিহ্নিতকরণ ও ধিক্কার দেয়ার প্রক্রিয়া, একই সঙ্গে ক্রমাগত নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির প্রচেষ্টা চালাতে হবে এ ধরনের নিন্দনীয় কার্যকলাপ রোধ করা ও অন্যান্যদেরকেও ভবিষ্যতে কোনরকম শিশুঘাতী কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকবার ক্ষেত্রে নিবৃত্ত করার জন্য তা কার্যকরী হতে পারে' জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ১৫ সদস্যের ক্ষমতাশালী কমিটির কাছে তার এই বক্তব্য তুলে ধরেন তার আরো পর্যবেক্ষণ হলো, এই সংগঠনগুলোর বেশিরভাগই রাষ্ট্রের অধীন নয়, যাদেরকে জাতিসংঘের কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে তিনি সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারগুলোর কাছে আবেদন জানান শিশুদের স্বার্থে এই প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানানোর জন্য

জাতিসংঘের নিরাপত্তামূলক অভিযানের সহকারী মহাসচিব অতুল খারে সমস্যার গুরুত্ব তুলে ধরে নিরাপত্তা পরিষদে বলেছেন, নয়টি শান্তিরক্ষা অভিযানে শিশু সুরক্ষা উপদেষ্টা নিযুক্ত হয়েছেন লেবাননে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী বাহিনীর পক্ষে এ বিষয়ে বিশেষ নজর দেয়া হয়েছে আফগানিস্তানে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরো কার্যকরী করার পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে ইউনিসেফের উপঅধিকর্তা হিল্ডে জনসন নিরাপত্তা পরিষদে তার ভাষণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো ক্রমাগত বিদ্যালয়গুলোকে নিশানা করছে যা এক অভাবনীয় বাস্তবতা

নিরাপত্তা পরিষদের আহুত বিতর্ক সভা থেকে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয় প্রস্তাবে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় যে, কিছু সংগঠন স্বেচ্ছাচারে শিশুদেরকে আইন বহির্ভূত সামরিক কার্যকলাপে নিয়োজিত করছে ও তাদেরকে নিপীড়ন করছে এদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ও ক্রমশ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে একই সাথে নিষেধাজ্ঞা কায়েম করতে হবে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ভঙ্গ করার অপরাধে যারা শিশুদেরকে সেনাবাহিনীতে নিযুক্ত করেছে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে তাদের নিজ নিজ দেশের বিচার ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে, আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়ার সহায়তা গ্রহণ করে এবং ফৌজদারি আদালতে এদেরকে দোষী সাব্যস্ত করতে হবে ইতোমধ্যে মধ্য আফ্রিকার ৬টি দেশ তথাকথিত এন ডিজা মিনা ঘোষণার অঙ্গীকার অনুসারে শিশুদেরকে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্যামেরন, চাদ, মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র, নাইজার, নাইজেরিয়া এবং সুদান যৌথভাবে অঙ্গীকার করেছে আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি অনুসারে শিশু অধিকার সুরক্ষার উদ্যোগ গৃহীত হবে দেশে দেশে সশস্ত্র সংঘর্ষের বলি যাতে আর কোন শিশু না হয়, তার সক্রিয় উদ্যোগ নিতে হবে জাতিসংঘকেই নাবালক কিশোর-কিশোরীদের হাতে অস্ত্র নয়, তারা পাক সুস্থ পরিবেশ।              

      

শহীদ মিনারের পবিত্রতা বাড়ল  

 

মাসুম

 

ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষার লক্ষ্যে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে এডভোকেট আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করেন আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করে হাইকোর্ট সরকারের প্রতি রুল জারি করে আবেদনকারীর পক্ষে এডভোকেট মনজিল মোরসেদ ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মোস্তফা জামান ইসলাম শুনানি করেন রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি গ্রহণ করে হাইকোর্ট এই রায় দেয়

রায়ে ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি রক্ষার্থে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে আদালত এছাড়া শহীদ মিনার এলাকায় ভবঘুরেদের ঘোরাফেরা বা অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে পাহারার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে রায়ে শহীদ মিনারের মূল বেদীতে সভা-সমাবেশ করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ প্রদান করেছে তবে বেদীর পাদদেশে সভা করতে বাধানিষেধ থাকবে না এছাড়া শহীদ মিনারের নিরাপত্তা রক্ষার্থে তিনজন প্রহরী নিয়োগ করতে বলেছে আদালত প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের সচিব, সংস্কৃতি সচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন করবেন

 

মংলা বন্দরে এক যুগ ধরে পড়ে আছে

৩ কোটি টাকার ভারতীয় চাল

 

এম আর জয়ন্ত

 

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানিকৃত প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের চাল প্রায় এক যুগ ধরে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের গোডাউনে পড়ে আছে ১৯৯৯ সালে ওই চাল আমদানি করা হয় আইনি জটিলতায় বছরের পর বছর ওই চাল পড়ে থাকলেও এ ক্ষেত্রে চরম উদাসীন কর্তৃপক্ষ ফলে বন্দর গোডাউনে থাকা এ চাল পোকামাকড়ে আক্রান্ত হয়ে পচন ধরে পরিবেশ দূষণের উপক্রম হয়েছে খাবার অনুপযোগী এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ চাল বন্দর কর্তৃপক্ষের গোডাউন ভাড়া পরিশোধ করে স্থানীয় এজেন্ট অপসারণে কয়েক দফা চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে এ চালকে পুঁজি করে বন্দরের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বিগত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের রাজনৈতিক নেতারাও ফায়দা লুটেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে এতে একদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ সেড ভাড়া বাবদ কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অপরদিকে আইনি মারপ্যাঁচে আর্থিক ক্ষতির শিকার চালের দাবিদার স্থানীয় এজেন্ট

১৯৯৯ সালে আমদানিকৃত এ চালের সর্বশেষ গুণগতমান পরীক্ষা করা হয়েছে ২০০৮ সালের ২৯ মে খাদ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইন্সটিটিউট চালের গুণগতমান পরীক্ষা করে তাদের দাখিলকৃত রিপোর্টে উলেখ করে, এ চাল মানুষের খাদ্যের অনুপযোগী তবে মৎস্য ও পশুখাদ্যসহ টেক্সটাইল সাইজিং মেটারিয়াল কাজে ব্যবহার যোগ্য এ বিষয় বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক ট্রাফিক মোঃ মাহাবুব উল্লাহ বলেন, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি ও বন্দরের স্বার্থে গোডাউন খালি হওয়া এখন জরুরি হয়ে পড়েছে এ ব্যাপারে চালের দাবিদার স্থানীয় শিপিং এজেন্ট মালিক মোঃ বায়েজিদ আহম্মেদ আক্ষেপ করে বলেন, বন্দরের গোডাউনে থাকা চাল ছাড় করাতে গিয়ে তিনি পদে পদে নানা রকম হয়রানি ও ঘুষ বাণিজ্যের শিকার হয়েছেন আর এ চালবাজিতে পড়ে তিনি এখন সর্বস্বান্ত হয়েছেন তবে বিষয়টি সুরাহার জন্য তিনি এখনও দৌড়ঝাঁপ করে চলেছেন

 

ভাষা সৈনিকদের তালিকা তৈরি

 

সংলাপ

 

ভাষা সৈনিকদের প্রকৃত তালিকা তৈরি করার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট এ তালিকা তৈরি করার লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করতে বলেছে আদালত গঠিত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রকৃত ভাষা সৈনিকদের তালিকা ২০১২ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বিচারপতি মো: মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ও বিচারপতি নাঈমা হায়দারকে নিয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই রায় দেন

রায়ে মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের মরণোত্তর ও জীবিতদের জাতীয় পদক প্রদান করার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে একই সঙ্গে ভাষা সৈনিকদের মধ্যে যদি কেউ আর্থিক সাহায্য কামনা করেন সরকার তা দিতে বাধ্য থাকবে এছাড়া ভাষা সৈনিকদের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ এবং সরকারি সুযোগ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে রায়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে একটি লাইব্রেরিসহ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা এবং সেখানে ভাষা আন্দোলনের তথ্য সংক্রান্ত ব্রোশিয়ার রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে যাতে পর্যটকরা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানতে পারে এছাড়া সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ ও এর মর্যাদা রক্ষা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে আদালত