|
আসছে ফাল্গুন নিয়ে আহ্বান -
মুক্তির সঙিন যুব শক্তি হও আগুয়ান
সংলাপ
॥
জাগো
যুব সম্প্রদায় জাগো।
নেশাগ্রস্ত হয়ে ঘুমিয়ে থাকার দিন শেষ হয়ে গেছে।
আর
কত ঘুমাবে! বাংলার আকাশে আজ দূর্যোগের ঘনঘটা।
ধর্মের নামে অধর্ম,
রাজনীতির নামে রাজনীতিকদের ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থে উন্মাদনা,
বিদেশীদের লোলুপ দৃষ্টি থেকে বাংলাকে বাঁচাতে - সামাজিক পরিবর্তনে মূল কান্ডারি
যুব সম্প্রদায়-আগামী প্রজন্মের আলোর দিশারীদেরকে নেশাগ্রস্ত রাজনীতির ঘুম
ভেঙে বাংলা মায়ের আহ্বানে আবার ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে মুক্তির জয়গান গেয়ে।
সময়
আজ দ্বারপ্রান্তে।
পরীক্ষিত,
যুব
সমাজের সার্বিক উন্নতি ছাড়া এদেশে উন্নতি হতে পারে না।
সেইজন্যে যুব সমাজের উত্থান সময়ের দাবী।
দারিদ্র,
অজ্ঞতা আর রাজনীতিকদের নিপীড়নে হতবিহ্বল গণমানুষকে বাঁচাতে যুব সমাজের হৃদয়
প্রসারিত হোক,
মুক্তির চিন্তায় বিভোর হোক- সহানুভূতির ডালা নিয়ে সমাজের প্রতিটি স্তরের
রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়ুক সব বাধা অতিক্রম করে - এটাই সময়ের আহ্বান।
ভাবতে অবাক লাগে : যে যুব শক্তিকে জাতি সালাম জানিয়েছে স্বাধীনতা আন্দোলন
থেকে আরম্ভ করে সাংস্কৃতিক আন্দোলন সমূহের জন্য,
যে
যুব শক্তি জাতির জন্যে জীবন দিয়ে শহীদ হয়েছে - সেই যুব শক্তি নেতিবাচক ও
ব্যর্থ কাজে জড়িয়ে পড়েছে এবং পড়ছে।
অল্প বয়সে জীবনের লক্ষ্য ও ব্রতকে পদদলিত করে কিভাবে নিজের এবং দেশের
অমঙ্গল ডেকে আনছে রাজনৈতিক প্ররোচনায় হঠাৎ বড়লোক হওয়ার নেশায়।
রাজনীতিকরা বিপ্লব,
পরিবর্তন,
বিবর্তন,
ধর্মযুদ্ধের কথা বলছে বাংলার মাটিতে - কিন্তু মুক্তির কথা বলছে না।
সব
রকমের মুক্তি পেতে হলে যুব সমাজের চিন্তা জগতের চিন্তাগুলোর পরিবর্তন
কার্যক্রম প্রণয়ন করে মুক্তির পথে উত্তরণ ঘটাতে হবে।
এরজন্য অধ্যাত্মবিদ্যায় স্ব-শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে কারণ বাংলার
মাটি-বাতাস-পানি আধ্যাত্মিকতায় ভরপুর।
রাজনীতিকরা নিজ ও দলীয় স্বার্থে যুব সমাজকে বাধ্য করেছে এবং করছে বিদেশী
সাংস্কৃতির মধ্যে হাবুডুবু খেতে।
জীবন চলার পথে ওই বিদেশী সংস্কৃতি প্রবাহিত করতে গিয়ে আজ যুব সমাজ দূষিত।
বাংলার মাটির ঐতিহ্য হলো কর্মের মাঝে আধ্যাত্মিকতা।
সেই
আধ্যাত্মিকতা যুব সমাজ ভুলতে বসেছে এবং নিজস্ব সাংস্কৃতিহীন জীবন ধারায়
জীবন চলার পথ বেছে নিয়েছে।
সময়
এসেছে,
বতর্মান সরকারের প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব যুব সমাজকে সকল অন্যায়ের
বিরুদ্ধে জাগ্রত করে ঐতিহ্যবাহী বাংলার সহজ-সরল পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য
প্রেরণা দেয়া।
যুব
শক্তিই রূপান্তর ঘটাবে দূষিত পরিবেশকে।
যুব
শক্তিকে অনুপ্রাণিত করতে হবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে শপথ নেয়ার জন্য এবং সমাজ
পরিবর্তনে সরকারকে মদদ যোগাতে হবে।
অনেক দেরী হয়ে গেছে।
আসছে আর একটি ফাল্গুন।
সরকারকে সব ভুল শুধরিয়ে যুব শক্তির পিছনে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দাঁড়াতে হবে
যাতে যুবশক্তি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে,
চিন্তাজগতের প্রসারতা বাড়িয়ে,
দেশের সামগ্রিক উন্নতি সাধন করতে পারে।
যুব
সমাজের এক অংশ বিভিন্নরকম নেশায় মোহাচ্ছন্ন হয়ে জীবন ধ্বংস করে দিচ্ছে।
নেতিবাচকতায় আবদ্ধ হয়ে গেছে।
সুস্থ চিন্তা ও স্বাস্থ্যকে হারিয়ে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মিথ্যাচার যুব শক্তির অন্য এক অংশকে হিংসা,
লোভ
ও ক্রোধের বন্ধু হতে সহায়তা করছে।
তাদের মধ্যে নতুন করে মনুষ্যত্ববোধকে জাগ্রত করতে সরকারকে শপথ নিতে হবে,
যুব
সমাজকে লক্ষ্য অর্জনে কান্ডারি
হতে হবে সার্বিক সহযোগিতার জন্য উন্নয়নের পথে।
সময়
এসেছে সরকারের,
সব
মহৎকাজে যুব শক্তিকে ফিরিয়ে আনতে দৃঢ় হবার।
যুব
সমাজ এক জলন্ত মোমবাতি।
বাংলার মানুষ ওই শক্তিকে আজও অনুস্মরণ করে-অনেক কিছু আশা করে।
সরকার তাদের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করলে অধিকার পাওয়া যাবেই।
যুব
সমাজের আলোতেই আছে অগ্রগতি ও উন্নতি - দেশ ও জাতির উন্নয়নের ও পরিবর্তনের
মূল কথা।
কর্মের মাঝে আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়াচ লাগলে ঘরে ঘরে আবার জয়ধ্বনি উঠবে এবং সেই
জয়গানে বাংলার আকাশ বাতাস মোহিত হয়ে শান্তির পরশ আনবে।
রাজনীতির মাঠে-
ঘুণে ধরছে রাজনীতিকদের!
সংলাপ
॥
কাঁচা
বাঁশে ঘুণ ধরে না।
এটাই
প্রকৃতির সাধারণ নিয়ম।
কাঁচা
বাঁশের শুকছালের নিচে যে রস থাকে,
তাতে
ঘুণপোকাদের বাঁশ খেতে অসুবিধা হয়।
খটখটে
না হলে তারা খেতে পারে না।
তবে
প্রকৃতিতে অঘটনও ঘটে।
কাঁচা
বাঁশেও ঘুণে ধরে।
সে বড়
অলক্ষুণে।
ঘুণে
ধরা বাঁশ দাঁড়িয়ে থেকে বাঁশঝাড় শেষ করে দেয়।
প্রকতির সেই অলক্ষুণে অঘটনটা রাজনীতিতে একটা সরকারের ও বিরোধীদলীয়
রাজনীতিকদের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে।
কাঁচা
বয়সের সরকারে ও বিরোধী দলে ঘুণে ধরছে ভুলের জন্য।
কুর
কুর শব্দ করে খাচ্ছে।
যারা
সে শব্দ শুনছে আর মানুষকে শোনাচ্ছে,
তাদের
ভয় ভাবনা হচ্ছে।
যারা
ঘুণের শব্দ শুনেও শুনতে চায় না,
তারা
বাঁশটার দিকে তাকিয়ে আছে।
ঘুণ
কথাটার তিনটা অর্থ।
একটি
হলো ওই ঘুণপোকা।
এরা
রসহীন শুকনো খটখটে বাঁশে ধরে,
কাঠে
ধরে,
মরাগাছের গিটে ধরে,
গুঁড়িতে ধরে।
খেয়ে
খেয়ে অক্ষরের মত ক্ষত তৈরি করে।
তাকেই
বলে ঘুণাক্ষর।
ঘুণ
কথাটার আরেক অর্থ ছলাকলায়,
গোঁজামিলে,
নিপুণ,
ওস্তাদ।
তৃতীয়
অর্থটি - ঈপ্সিত,
আভাস।
ঘুণের
এই তিন অর্থই দেশের কাঁচা বাঁশ সাম্প্রতিক রাজনীতিতে ফুটে উঠেছে।
ঘুণে
ধরার প্রথম অর্থ ফুটেছে : বাঁশে যেটা রসের জোর,
সরকারের ক্ষেত্রে সেটা হলো সাধারণ মানুষ দরদী নীতির জোর।
কাঁচা
বাঁশ যখন মাটি থেকে রস নেবার শক্তি হারায়,
ভেতরে
দুর্বল হয়ে,
খটখটে
হয়ে পড়ে,
তাকে
ঘুণে ধরে।
কাঁচা
বাঁশের শুকনো হবার লক্ষণ ফুটে ওঠে।
ফ্যাকাশে হয়ে যায়।
বাঁশের মতো সরকারও যখন বারো আনা সাধারণ মানুষের পক্ষে কল্যাণকর নীতি ও তার
রূপায়নের শক্তির জোর হারায় বিরোধীদলীয় ষড়যন্ত্রের জন্য তখন ভেতরে সঙ্কট তৈরি
হয়।
সরকার
খটখটে হয়ে পড়ে।
তাকে
ঘুণে ধরে।
তাদের
কাজে-কথায় ফুটে ওঠে ব্যর্থতা,
অনিয়ম,
বেনিয়ম,
মুখে
বড়াই।
হ-য-ব-র-ল সৃষ্টি হয়।
অপরদিকে বিরোধী রাজনীতিকরা ঢিলেঢালা,
অগ্রাধিকার,
জ্ঞানহীন,
অস্থির,
দিশাহারা হয়ে পড়ে।
হলো
না,
মুখে
আস্ফালন,
মিথ্যা আশ্বাস,
ধর্ম
গেল দেশ গেল বলে মিথ্যা ভঙ্গি দেখায়।
কাজে
ও কথায় ফারাক দেখা দেয়।
সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সঙ্কট সমাধানে তারা পথ খোঁজে না।
ছড়ায়
আছে - পানের ভিতর ফোপরা।
কাঁচা
বাঁশ সরকারের ভিতর ফোপরা।
স্বাস্থ্যক্ষেত্র,
শিক্ষাক্ষেত্র,
কৃষিক্ষেত্র,
আইনশৃঙ্খলাক্ষেত্র,
বিদ্যুৎক্ষেত্র,
অর্থক্ষেত্র - এমন একটি ক্ষেত্র নেই যেখানে সঠিক ব্যবস্থাপনার নীতি গ্রহণে
ব্যর্থতার জন্য ঘুণে ধরেনি।
ব্যর্থতা ঢাকতে এবং উত্তরণ ঘটাতে নানা যুক্তি,
দাবি,
তর্ক
তুলছে সরকার।
অপরদিকে বিরোধী শক্তির মিথ্যাচারে জেলায় জেলায় সাধারণ মানুষ রাগে ক্ষোভে ফেটে
পড়ছে।
ক্ষেতমজুরের মজুরি কমছে।
বন্টনবিলি ঠিক চলছে না।
লুটতরাজের সন্ত্রাস সৃষ্টিতে দুর্বৃত্তরা প্রশ্রয় পাচ্ছে।
প্রভাব খাটিয়ে বিরোধী শক্তি অভিযুক্তকে আড়াল করছে,
থানা
থেকে ছাড়িয়ে - ছিনিয়ে নিচ্ছে।
গণতন্ত্রের মাথায় কদর্য পা রেখে শিক্ষাঙ্গনে দলতন্ত্র বাড়াচ্ছে।
জোট ও
গোষ্ঠীর সংঘর্ষে এক গোষ্ঠী আরেক গোষ্ঠীকে মারছে।
শরিক
দলের নেতাকর্মী আক্রান্ত হচ্ছে।
এলাকায় মানুষ ভয়ে,
অশান্তিতে সন্ত্রস্ত হয়ে থাকছে।
প্রতিহিংসা,
আক্রমণ চলছে।
খুন
করা হচ্ছে।
স্কুল
-কলেজে ছাত্র পেটাচ্ছে।
প্রতিবাদের মিটিং মিছিলে সন্ত্রাস করছে।
মুখে
গণতন্ত্রের কাঠামো রক্ষার কথা,
গণতন্ত্রপ্রিয়তার কথা বলা হচ্ছে,
কাজে
বিপরীতটা করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে আমলাতন্ত্রকে আনার পথ করছে।
বিজ্ঞপ্তি দিয়ে,
বিজ্ঞপ্তি বদল করে বিভ্রান্তি,
ক্ষোভ-অসন্তোষ বাড়াচ্ছে বিরোধী শক্তি,
অধিকারের মাত্রাবোধ হারাচ্ছে।
সংসদীয় নীতিরীতি অনুসরণ না করায় সংসদকে হাস্যস্পদ করে তুলছেন।
সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাটা অগ্রাহ্য হচ্ছে।
প্রতিশ্রুতির যত ফানুস একে এক ফাটছে।
অহরহ
নানা দোষে বিরোধী জোটের নেত্রী সরকারকে দোষী করছেন।
প্রবাদ আছে,
সকাল দেখে দিন কেমন যাবে বোঝা যায়।
সরকারের ঢিলেঢালা,
দিশাহারা অস্থির অবস্থা,
গরিবস্বার্থ বিরোধী নীতি তাকে ঘুণে ধরিয়েছে।
ঘুণে ধরা কাঁচাবাঁশ সরকারটা এখন দেশবাসীদের মাথায় ভেঙে পড়ে কিনা আশঙ্কায়
জাতি!
ঘুণে ধরার দ্বিতীয় অর্থ ফুটেছে : ঘুণ ধরার কথা আড়াল করতে,
দেশবাসীর সব মৌলিক ও জরুরি জীবন-যন্ত্রণার সমস্যা সমাধানে সরকারের উপযুক্ত
পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যর্থতা ঢাকতে,
নতুন সরকার গড়তে যে জনমর্থন ছিল তা ধরে রাখতে,
সরকার নতুন নতুন কৌশল নিচ্ছে।
ইতোমধ্যে আমলাদের দপ্তর বদলি করা হয়েছে।
অপেক্ষায় আছেন অনেক মন্ত্রী।
সরকারের নীতি জনস্বার্থমুখী হলেও ঘুণে ধরায় দোষ অপদার্থ কিছু মন্ত্রীর।
মানুষের উপকার হোক আর না হোক - এরকম একটা মনোভাব তৈরি করে দেয়া হচ্ছে - এ
সরকারটা জনস্বার্থে কত কঠোর।
বিরোধী রাজনীতিকদের আরেক দক্ষ কৌশল হলো - বাঙালির অন্তরে যে দিকে টান বেশি,
ভাবাবেগ বেশি,
যে
আবেগ যে বিষয়ে তাদের মধ্যে খেলে বেশি,
সে
সব ভাঙিয়ে খাও।
সে
সব নিয়ে নতুন নতুন ঘোষণা,
হইচই,
কাজের জিগির ও কর্মব্যবস্ততা তোলায় সুযোগ খুঁজতে থাকো।
বরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্বকে,
বিদ্রোহী কর্মাত্মাকে,
বিপ্লবী ঐতিহ্যকে ভাঙিয়ে খাও।
ঘুণে খাওয়ার কুর কুর শব্দ চাপা দিয়ে বিরোধীদল যে সবুজ আছে,
তার
প্রমাণ করো।
পাশাপাশি কৌশল নিয়েছে সরকারের ব্যর্থতা,
বিরোধিতা ও বিদ্বেষ বাড়ানোর।
উদ্দেশ্য একটাই,
পিছিয়ে থাকা মানুষদের মনকে সরকার সম্পর্কে বিষাক্ত করা।
এরপর হয়তো বলা হবে সরকার চক্রান্ত করেছে।
ছলাকলা চমক ভঙ্গি।
ঘুণধরা থেকে মানুষের চোখ সরাতে যতই বাঁশের গিটে গিটে চমক ও প্রতিশ্রুতির
নতুন পাতা ও কঞ্চি পোঁতা হোক আর তাকে সজিব প্রমাণের চেষ্টা করা হোক,
ঘুণ
বিরোধীদের ছাড়ছে না।
হ-য-ব-র-ল-ব খট খটে বিরোধীদের বড় সুখ।
কুরকুর শব্দে তারা বাঁশ খায়,
কাঠ
খায়,
মরাগাছের গিট খায়,
সরকারও খায়।
ইতিহাসে শোনা যায়,
একদল পন্ডিত মানুষের মাথাতেও ঘুণ ধরে।
মস্তিষ্ক কুরে কুরে খায়।
সেখানে ঘুণাক্ষর তৈরি করে।
তখন
প্রভু তাদের যা নির্দেশ দেয়,
তারা সে মতো চলে,
বলে,
কাজ
করে সেটাও চলছে বর্তমানে।
ঘুণে ধরার তৃতীয় অর্থ ফুটেছে : ঘুণে খাওয়ার কুরকুর শব্দের মধ্যে,
আর
ঘুণাক্ষর পড়ে সরকার আশঙ্কার ইঙ্গিত,
আভাস,
আঁচ
করছে।
সরকারের যত হিতাকাঙ্খীরা যারা কাঁচা বাঁশ - সরকারটিকে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায়
আনার জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত,
তারা কাঁচা বাঁশে এখন ঘুণের কথা দেখিয়ে সরকারকে সতর্ক করছে।
পরামর্শ দিচ্ছে,
সরকার কাঁচা নবীন সবুজ থাকে যদি তার শেকড়ে শেকড়ে,
প্রশাসনিক দক্ষতা,
সমন্বয় ও সফলতায় রসের যোগান যাতে থাকে।
তা
না হলে মেঠো বক্তৃতা আর মনোরঞ্জনী প্রচারে চিঁড়ে বেশি দিন ভেজে না।
বিরোধী অবস্থানে যা চলে,
সরকারের অবস্থান থেকে তা চলে না।
গোঁজামিলে প্রশাসন দুর্বল হয়।
মরা
বাঁশে চমক ও প্রতিশ্রুতির ডালপালা সাজিয়ে মরাকে জীবিত বলে ভ্রম সৃষ্টি করা
যায়,
কিন্তু ঘুণপোকাকে ফাঁকি দেয়া যায় না।
জোট-শরিক সম্পর্ক তাদের অসন্তোষের বিষয়ে সজাগ করছে।
প্রতিরোধের চেহারা,
জনমত সৃষ্টির সাফল্য,
শুনিয়ে সতর্ক করছে।
ঘুণপোকা মারার কৃৎকৌশল সম্পর্কে ইঙ্গিত,
আভাসও দিচ্ছে।
সরকারের কাছে তাদের বিপুল প্রত্যাশায়,
প্রতিশ্রুতি পূরণের কার্যকর ভবিষ্যৎ দিশা পাচ্ছে না - এসব কথা সরকার
হিতাকাঙ্খীরা নানাভাবে শোনাচ্ছে।
সরকার ঠিক ঠিক নজর দিচ্ছে না বলে ক্ষোভও প্রকাশ করছে।
কমিটি গঠনে আধিক্য,
অনিয়ম-বেনিয়ম সম্পর্কে সতর্ক করছে।
এতদিনের একটা সরকারের কাঠামো রাতারাতি ভেঙে না দিতে পরামর্শ দিচ্ছে।
অপরদিকে মিথ্যাচার আর ষড়যন্ত্র করে বিরোধীদলীয় শক্তিতে ঘুণ তার সব অর্থেই
কাঁচা বাঁশ রাজনীতিতে আগাগোড়ায় ধরেছে।
ঘুণাক্ষরে ফুটে উঠছে - বিরোধী শক্তির ভিতর ফোপরা।
ঘুণে ধরা বাঁশের রাজনৈতিক ইতিহাস হলো - ভেতরে ফোপরা নিয়েও সে দাঁড়িয়ে থাকতে
পারে অনেকদিন।
কিন্তু সময় বুঝে,
দেশবাসীর হাত জড়ো করে,
সরকারের জোর সাহসী ধাক্কা বিরোধী শক্তির মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে
যদি দেয়া যায়,
ঘুণে ধরা বাঁশ হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে।
বিপদ কাটে।
সাধারণ মানুষ বাঁচে।
স্বস্তি শান্তি ফিরে আসে দেশে।
সেনা
বিদ্রোহে উলফা জড়িত!
সংলাপ
॥
বাংলাদেশে সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা বা ষড়যন্ত্রের বিষয়টি নস্যাৎ হওয়ার পরই
নিশ্চিত করা হয় যে,
ভারতের গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে এ
ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে ঢাকার শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ার করা হয়েছিল।
এবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সময়মতো পদক্ষেপ নেয়ায় অঙ্কুরেই ষড়যন্ত্র বিনষ্ট
করতে সক্ষম হয়েছে।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের ১৫ সদস্য সামরিক
বাহিনীর হাতে নিহত হওয়ার সময়ও ভারতের গোয়েন্দা বিভাগ ওই হামলা সম্পর্কে শেখ
মুজিবুর রহমানকে জানিয়েছিল।
কিন্তু তৎকালীন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা নিজেরাই ওই অভ্যুত্থানের সঙ্গে
যুক্ত থাকায় তারা ইচ্ছা করেই তা প্রতিহত করার কোন উদ্যোগ নেননি।
এর
ফল তো সবারই জানা।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যে দেশের ক্ষমতা গ্রহণে আগ্রহী নয় সেটা ২০০৮ সালে
বেসামরিক কর্তৃপক্ষের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর,
অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
ওই
নির্বাচনে পার্লামেন্টে তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে শেখ হাসিনা
ক্ষমতায় ফিরে আসেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেপথ্যে থেকে সামরিক বাহিনী যখন দেশের জঞ্জাল
পরিষ্কার করছিল তখন দেখা গেছে,
শেখ
হাসিনার আওয়ামী লীগ এবং খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের শীর্ষ অনেক
রাজনৈতিক নেতাই দুর্নীতিতে জড়িত।
সামরিক বাহিনীর অনেকেই তখন শংকিত ছিলেন যে,
একই
রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হলেই সেই পুরনো দুর্নীতির অবস্থা ফিরে আসবে।
তা
সত্ত্বেও সেনাবাহিনী বেসামরিক শাসনকেই শ্রেয় মনে করেছে এবং জনপ্রতিনিধিদের
কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে জনতার ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে।
নির্বাচকমন্ডলী যা প্রত্যাশা করেছিলেন বাস্তবে সেটা ঘটেনি।
প্রশাসন প্রাপ্য সম্মান পায়নি।
প্রতিশোধের বাসনা নিয়ে আবার দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতি ফিরে এসেছে।
অথচ
জনগণকে এ ধরনের অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়।
সামরিক বাহিনী এ কাজ করতে পারে না।
কারণ গণতন্ত্র আর স্বৈরতন্ত্রের মধ্যে এটাই পার্থক্য।
বিগড়ে যাওয়া শক্তি
সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে,
কিছু প্রবাসী বাংলাদেশীর ইন্ধনে গুটি কয়েক অবসরপ্রাপ্ত এবং বর্তমানে
দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা অন্যদের ধর্মীয় উদ্দীপনাকে পুঁজি করে সামরিক
বাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকে উৎখাত
করার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছ।
এতে
আরও বলা হয়েছে,
এ
ধরনের তৎপরতা নস্যাৎ করে দেয়া হয়েছে।
দেখা গেছে,
ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং অসন্তুষ্ট সামরিক কর্মকর্তাদের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধিই এ
অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালিয়েছিল।
শেখ
হাসিনার উদার এবং ধর্মনিরপেক্ষ সরকার কঠোরভাবে মৌলবাদীদের দমন করেছে বলে
মৌলবাদীরা অসন্তুষ্ট।
এছাড়া সেখানে ভারতবিরোধী আরও অনেক শক্তিই রয়েছে।
তারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে সব ধরনের পন্থাই কাজে লাগাচ্ছে।
শেখ
মুজিবকে যখন হত্যা করা হয় তখনও একই অবস্থা ছিল।
তিনিও কট্টরপন্থী ও বাংলাদেশ সৃষ্টির কারণে অসন্তুষ্ট শক্তির কাউকে কোন ছাড়
দিতেন না।
সেনাবাহিনীতে ইসলামপন্থীরা ঢুকে পড়েছে বলে শেখ হাসিনা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
বিষয়টি মোটেও শুভ নয়।
কারণ পাকিস্তানেও একই ঘটনা ঘটছে।
আমার কাছে তথ্য আছে,
এবারের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের হোতারা ভারতে সক্রিয় জঙ্গিদের সহযোগিতা পেয়েছে।
ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের অংশ বিশেষ রয়েছে তাদের সঙ্গে।
বৈরী ভাবাপন্ন নাগাদের সংগঠন এবং মনিপুরের বিদ্রোহীরাও ওই ষড়যন্ত্রের অংশ
ছিল।
বাংলাদেশ আগে ভারতবিরোধী বাহিনীর তৎপরতা সেখানে মেনে নিলেও এখন তারা এ
ধরনের কোন তৎপরতা বরদাশত করে না।
অথচ
ভারত এ ব্যাপারে বেশ ধীরে চলা এবং অকার্যকর নীতি অবলম্বন করছে।
বিষয়টি বেশ অদ্ভুত।
বৃহৎ পরিসরে নয়া দিল্লির বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ আনা যেতে পারে।
তারা ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
লেনদেন,
বিদ্যুৎ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ঢাকাকে যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে
তা এখনও অপূর্ণই রয়ে গেছে।
ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক জোরদার করতে শেখ হাসিনা একতরফাভাবে এতটাই এগিয়ে
এসেছেন যে,
তাতে বাংলাদেশের অনেকেই অসন্তুষ্ট হয়েছেন।
কিন্তু তারপরেও প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনার সঙ্গে বাণিজ্য,
বিদ্যুৎ এবং অর্থ সংক্রান্ত যে চুক্তি করেছেন দিল্লির আমলারা সেটা
বাস্তবায়ন হতে দিচ্ছেন না।
আমলারা বাংলাদেশ বিরোধী নন,
কিন্তু তারাই লাল ফিতার প্রতিনিধিত্ব করছেন,
যা
যে কোন পরিকল্পনা বা প্রকল্পের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে।
আমার মনে আছে,
পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ বেরিয়ে আসার পর দিল্লি পাঁচ বছর মেয়াদী এক
পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল।
সামগ্রিকভাবে ওই অঞ্চলের উন্নয়নের স্বার্থেই ওই পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল।
বিষয়টি নয়া দিলস্নী মাঝে মধ্যে স্মরণ করলেও এর কোন ফলোআপ করা হয়নি।
ঢাকার ব্যর্থ অভ্যুত্থান নয়া দিল্লির জন্য কেবল হুঁশিয়ারি নয়,
এটি
একটি সুযোগও বটে।
নয়া
দিল্লিকে দ্রুততার সঙ্গে বেশ কিছু বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে হবে,
যাতে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি বীতশ্রদ্ধ জনগণ বুঝতে পারে যে,
বাংলাদেশের প্রয়োজনে ভারত যে কোন ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
একই
সঙ্গে ঢাকা নয়া দিল্লির সম্পর্ক আরও জোরদার করা উচিত।
মনমোহন সিং আসামের বেশ কিছু জমি বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
এ
জমির দাবিদার বাংলাদেশই।
পার্লামেন্টের পরবর্তী অধিবেশনে সংবিধানের সংশোধনী আনার মাধ্যমে
প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
বিজেপি এবং আসামের কয়েকটি সংগঠন ওই জমি হস্তান্তরের বিরোধিতা করেছে।
কিন্তু তাদের বোঝা উচিত,
ওই
জমি বাংলাদেশেরই অংশ এবং ৪০ বছর ধরে সেটা ভারতের সঙ্গে ভুলক্রমে জুড়ে রয়েছে।
ঢাকার পক্ষ থেকে আরেকটি অব্যাহত অভিযোগ হচ্ছে,
বাংলাদেশের কেউ সীমান্ত দিয়ে ভুল করে ঢুকে পড়লেও সীমান্তরক্ষীরা তাদের
প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করে।
একটি ছেলে ভুল করে সীমান্ত অতিক্রম করে ঢুকে পড়ায় সীমান্ত পুলিশ কতটা
নির্দয়ভাবে তাকে পিটিয়েছে সেটা সম্প্রতি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে দেখানো
হয়েছে।
বাংলাদেশে সফর সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে
সুপরামর্শ দেয়া উচিত।
তিনি বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয় এবং আশা করা হচ্ছে,
বাংলাদেশে সফরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় অনুপস্থিত থেকে যে ভুল
করেছিলেন,
সেটা এবার শুধরে নেবেন।
কুলদীপ নায়ার,
যুক্তরাজ্যে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার এবং রাজ্য সভার সাবেক সদস্য
(২৮ জানুয়ারি গালফ নিউজ-এ প্রকাশিত লেখার অনুবাদ)
বিশ্বজুড়ে হত্যায় ড্রোন!
সংলাপ
॥

বিশ্বব্যাপী হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী চালকবিহীন ড্রোন বিমান সিআইএ এবং
মার্কিন সেনাবাহিনী ব্যবহার করতে শুরু করেছে।
এর
পিছনে রয়েছে ওবামা প্রশাসনের সম্মতি।
এই
মারণাস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে গোপনে।
মার্কিন কংগ্রেসের সমর্থন রয়েছে এর পিছনে।
মার্কিন প্রশাসনের এই ড্রোন কর্মসূচী সম্প্রতি খবরের শিরোনামে এসেছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট কাগজে প্রকাশিত এক নিবন্ধের শিরোনাম আন্ডার ওবামা,
অ্যান ইমারজিং
গ্লোবাল
অ্যাপারেটর্স অব ড্রোন কিলিং।
ওয়াশিংটন পোস্ট-এর
নিবন্ধে বলা হয়েছে,
কোনও রকম আইনী পদ্ধতি ছাড়া পৃথিবীর যে কোনও জায়গায় যে কোনও মানুষকে হত্যা
করার মার্কিন সরকারের সিদ্ধান্ত রীতিমতো আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
এভাবেই হাজার হাজার মানুষের হত্যালীলা সংগঠিত হয়েছে।
পোস্ট-এ প্রকাশিত নিবন্ধ অনুসারে এই ড্রোন কর্মসূচীর জন্য পূর্ব উপকূলে
দুটি অপারেশনাল হাব তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমে বিমানবাহিনীর ককপিট তৈরি হয়েছে।
দুটি মহাদেশের অন্তর্গত ছটি দেশে ড্রোন উৎক্ষেপণের ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছে।
মার্কিন কংগ্রেসের বাজেট অনুযায়ী আমেরিকার হাতে ৭৭৫টি প্রিডেটর এবং
অন্যান্য বিমান রয়েছে।
এছাড়াও সিআইএ-র হাতে বিপুল সংখ্যক ড্রোন রয়েছে।
যার
সঠিক অংক জানা যায়নি।
ইরাক এবং আফগানিস্তানের যুদ্ধ ছাড়াও তিনটি দেশে হত্যাকা- সংগঠিত হয়েছে।
সাম্প্রতিক ইরানের ওপর ড্রোন হামলা বিসস্তৃত
অঞ্চল জুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োগের প্রশ্ন তুলেছে।
প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হয়ে ওবামার প্রথম কতগুলো পদক্ষেপের অন্যতম ছিল
পাকিস্তানে ড্রোন আক্রমণের নির্দেশ দেয়া।
সে
সময় থেকে প্রায় ২৪০ বার ড্রোন আক্রমণ হয়েছে পাকিস্তানের ওপর।
প্রায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে যার অধিকাংশই পাকিস্তানি নাগরিক।
ইয়েমেনের ওপর প্রায় ১৫ বার ড্রোন আক্রমণ হয়েছে।
বাদ
যায়নি সোমালিয়াও।
পোস্ট-এর নিবন্ধে প্রকাশিত হয়েছে
সিআইএ এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর জয়েন্ট স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড
(জেএসওসি)-এর হত্যা তালিকা।
কীসের বিচারে হত্যার নিশানা ও পরিকল্পনা স্থির করা হয়েছিল তার কোনও তথ্য
জনসমক্ষে নেই।
সিআইএ-র তালিকাটি অবশ্য মার্কিন সেনাবাহিনীর তালিকা থেকে ছোট।
ইয়েমেনে মৃতদের তালিকায় তিনজন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন।
গত
৩০ সেপ্টেম্বর সিআইএ-র হাতে নিহত হন আনোয়ার আল-অওলাকি।
এর
সপ্তাহকয়েক পরেই জেএসওসি-র হাতে নিহত হন আনোয়ার আল-অওলাকি।
এর
সপ্তাহকয়েক পরেই জেএসওসি-র হাতে নিহত হয় অওলাকির ১৬ বছরের কিশার ছেলে।
পোস্টের দাবি,
অওলাকির ১৬ বছরের কিশোর ছেলে মূল লক্ষ্য ছিল না।
তার
সঙ্গে আল-কায়েদার সম্পর্কের কোনও প্রমাণও ছিল না।
তবু
এই মার্কিন তরুণের মৃত্যু অনেকটাই অপ্রত্যাশিত বলে মনে করা হচ্ছে।
ড্রোন হানায় নিহতের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধির কারণ হিসেবে পোস্ট চিহ্নিত
করেছে,
ওয়ানতানামো সাগরে সিআইএ-র কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি এবং ওই অঞ্চলে বদলি
বন্ধের সিদ্ধান্তকে।
বলা
হচ্ছে,
ড্রোন হামলা ছাড়া অন্য কোনও পথ খোলা ছিল না।
অভিযুক্ত সন্ত্রাসবাদীদের জেলখানা এবং নিগ্রহ কেন্দ্রে আটকে রাখার পরিবর্তে
ওবামা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত,
গোপনে স্রেফ মেরে ফেলাই অনেক বেশি কার্যকর হবে।
পোস্ট-এর মন্তব্য,
বর্ষীয়ান ডেমোক্র্যাটরা কেউ প্রশ্ন তোলেননি।
কীভাবে এবং কেনই বা তাদের দলের প্রেসিডেন্ট সন্দেহভাজন সন্ত্রাসবাদীদের
মারতে এধরনের এক অত্যন্ত কার্যকর যন্ত্রকে ব্যবহার করার কথা বললেন।
জনএফ কেনেডি-র হত্যার পর ক্ষমতায় এসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসন
স্বীকার করেছিলেন,
ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে সিআইএ এক জঘন্য হত্যালীলা সংগঠিত করেছে।
এর
মধ্যে ছিল কিউবার কিংবদন্তী নেতা ফিদেল ক্যাস্ত্রোকে হত্যার ছকও।
অনেক হত্যা পরিকল্পনার নেপথ্যে ছিল নিকসন প্রশাসন।
নানা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন নিকসন।
তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট হয় যার ফলে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
১৯৭০ এর দশকের মাঝামাঝি মার্কিন সিনেটর ওই আদেশনামায় সরকারিভাবে
হত্যাপ্রক্রিয়াকে খারিজ করা হয়।
কিন্তু ওবামা প্রশাসনের আক্রমণাত্মক মনোভাব এবং গোপনে গোপনে সিআইএ এবং
সেনাবাহিনীর উত্তরোত্তর বৃদ্ধি অতীতে অপরাধমূলক কাজের সীমাকে ছাড়িয়ে গেছে।
আইন
বহির্ভূত,
রাষ্ট্র অনুমোদিত হত্যাই এখন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ-র
নামে চলছে।
এর
ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধের মাত্রা বাড়ছে।
বাড়ছে আগ্রাসী যুদ্ধ,
অনির্দিষ্টকালীন আটক এবং নির্যাতনের ঘটনা।
মার্কিন সামরিক নীতির কেন্দ্রীয় উপাদান হয়ে উঠেছে এই ব্যবস্থা।
লিবিয়ার যুদ্ধে মার্কিন মদতে মুয়াম্মার গাদ্দাফির হত্যাতেই লিবিয়ার যুদ্ধ
শেষ হয়।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে,
ওসামা বিন লাদেনকে বেআইনীভাবে হত্যার ঘটনাকে নিজ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ
মুহূর্ত বলে চিহ্নিত করেছেন ওবামা।
দ্রুত বর্ধমান হিংসা এবং গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ একই প্রক্রিয়ার দুই দিক।
আমেরিকার ন্যাশনাল ডিফেন্স অথোরাইজেশন অ্যাক্টে বলা হয়েছে,
কোনও মার্কিন নাগরিক বা নাগরিক নন এই দুই ক্ষেত্রেই অনির্দিষ্টকালীন আটকের
সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টের পছন্দের ওপর নির্ভর করছে।
এই
আইন প্রকাশের দুসপ্তাহের মধ্যেই পোস্ট-এর এই নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়।
এই
আইনে বন্দী প্রদর্শনের বিষয়টি আর থাকল না।
মৌলিক সাংবিধানিক অধিকারও খর্ব করা হলো।
মার্কিন প্রশাসনের অবশ্য এ বিষয়ে বিশেষ মাথাব্যথা নেই।
কারণ,
এই
প্রশাসনের শীর্ষে আসীন স্বয়ং ওবামা আদতে শক্তিশালী অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং
সামরিক গোয়েন্দা ব্যবস্থাপনার এক জোটবদ্ধ উপস্থাপনা।
ওবামার সরকার অবশ্য মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সমর্থন পেয়েছে।
কেউ
কেউ বলেই ফেলছেন,
আফ্রিকান-আমেরিকান প্রেসিডেন্ট-এর যে কোনও সিদ্ধান্তই গ্রহণযোগ্য এমনকি
প্রগতিশীল।
যদিও বিশ্বজুড়ে হত্যাকা- সংগঠিত করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে নেশন।
করেছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থক বামপন্থীরা।
আটলান্টিক পত্রিকার বর্ষীয়ান সম্পাদক তা-নেহিসি কোট্স এর মতে গণতন্ত্রের
যথার্থ হাতিয়ার হলো ড্রোন।
দেশের শত্রুদের
খতম করার যাবতীয় বাহ্বা কেউ পেতেই পারেন।
সেনা নিধনের দোষ কেউ তাঁর বিরুদ্ধে দেবেন না।
ঘটনাচক্রে ১৬ বছরের ছেলেটির মৃত্যু দুঃখজনক।
গণতান্ত্রিক অধিকারের রক্ষাকবচ,
মার্কিন আধিপত্যবাদের পরাজয়,
সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এসবই শ্রমিকশ্রেণীর রাজনৈতিক
গণ-আন্দোলনের ওপর নির্ভরশীল।
এর
এক ভিত্তি রয়েছে।
ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে এ মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে দ্বন্দ্বে মুখোমুখি এই
গণ-আন্দোলন,
গণ-তান্ত্রিক দলগুলো এবং বামপন্থী শক্তি বলে বলীয়ান রাজনৈতিক দলগুলো।
মহাপ্রয়াণ
সংলাপ
॥

বাংলাদেশে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম শীর্ষ ধর্মীয় গুরু শ্রীমৎ সাধনান্ত
মহাস্থবির বনভান্তের মহাপ্রয়াণ হয়েছে।
গত
বৃহস্পতিবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে শুক্রবার সকালে তাকে রাঙামাটি থেকে
রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সেখানেই সোমবার বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন এই ধর্মীয় গুরু ১৯২০ সালের ২০ জানুয়ারি
রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের মোড়ঘোনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর পারিবারিক নাম রখীন্দ্র চাকমা,
পিতার নাম হারুমোহন চাকমা এবং মাতার নাম বীরপুদি চাকমা।
নিরাপত্তায় সচেতনতা
মনি
॥

দেশব্যাপী নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা বিধান এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের
ধর্মীয় উৎসবগুলোতে আনন্দ এবং শান্তি শৃঙ্খলা অটুট রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন
পুলিশ (ডি.এম.পি)
তাদের
কর্মসূচীর সাথে জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করে নিরাপত্তায় সচেতনতা
(সেফটি
ফার্স্ট) শীর্ষক প্রচারপত্র
(লিফলেট)
বিতরণ কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।
বিশেষ
করে শহরকেন্দ্রিক মেট্রোপলিটন আওতাধীন এলাকাগুলোতে অব্যাহত চুরি,
ডাকাতি,
সহিংসতা প্রতিরোধে জনগণের সচেতনতা বাড়াতে এই প্রচারপত্রটি বিতরণ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে জাতিসংঘের একটি সংস্থা ইউ.এন.ডি.পি
এর
সহযোগিতায় পুলিশ রিফর্ম প্রোগ্রামের একটি অংশ হিসেবে এই কর্মসূচী গ্রহণ করা
হয়।
ডি.এম.পি,
শান্তি শপথে বলীয়ান
-
এই
লোগো সম্বলিত নিরাপত্তায় সচেতনতা
(সেফটি
ফার্স্ট) শীর্ষক প্রচারপত্রে যা উলেস্নখ রয়েছে :
ব্যক্তি ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য নিম্নবর্ণিত পরামর্শ অনুসরণ করা যেতে
পারে।
বাসা/বাড়ীর নিরাপত্তায় :
১.
বাসা/বাড়ী ত্যাগের পূর্বে রুমের দরজা-জানালা সঠিকভাবে তালাবদ্ধ করুন।
যে
সমস্ত দরজা-জানালা নাজুক অবস্থায় আছে তা এখনই মেরামত করে নিন এবং যথাসম্ভব
সুরক্ষিত করে নিন।
প্রয়োজনে একাধিক তালা ব্যবহার করা যেতে পারে।
২.
বাসা এক তলায় হলে বাসার ভেন্টিলেশনের জানালা বন্ধ নিশ্চিত করুন।
৩.
রাতে আপনার বাসার চারপাশ আলোকিত করে রাখুন।
৪.
আপনার বাসা বা ফ্ল্যাটে সিসিটিভি থাকলে সকল সিসিটিভিসহ অন্যান্য নিরাপত্তা
ব্যবস্থা সক্রিয় থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করুন।
৫.
সম্ভব হলে দরজায় নিরাপত্তা এলার্ম যুক্ত তালা ব্যবহার করুন।
৬.
মূল্যবান সামগ্রী ও দলিল নিরাপদ হেফাজতে রাখুন এবং তালাবদ্ধ করুন।
প্রয়োজনে ব্যাংক লকারের সহায়তা নিতে পারেন।
৭.
বাসা/বাড়ী ত্যাগের পূর্বে যে সমস্ত প্রতিবেশি/পাশের ফ্ল্যাটের অধিবাসী ঢাকায়
অবস্থান করবেন তাদেরকে আপনার বাসার প্রতি নজরদারী রাখতে অনুরোধ করুন এবং ফোনে
তাদের সাথে যোগাযোগ রাখুন।
৮.
ঈদের পূর্বে আপনার বাসায় কোনো নতুন কাজের লোক,
নিরাপত্তা কর্মী রাখা হলে তাদের পরিচয় ও বিশ্বস্ততার বিষয়ে নিশ্চিত হোন এবং
তাদের ছবিসহ বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করুন।
৯.
আপনার গাড়ীর ড্রাইভারকে গাড়ীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের সকল বিষয় সম্পর্কে
অবহিত করুন।
১০.
ঈদে ছুটিতে যাওয়ার পূর্বে গাড়ী গ্যারেজে রেখে গেলে গাড়ীর কাগজপত্র অন্যত্র
সরিয়ে রাখুন।
১১.
বাসার গাড়ীর গ্যারেজ সুরক্ষিত করুন।
গাড়ীর
যন্ত্রাংশ চুরি রোধে গার্ডকে সতর্ক করুন এবং গাড়ী চুরি হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য
অটোমেটিক এলার্ম,
স্টিয়ারিং লক ও জিপিএস ব্যবহার করুন।
১২.
আপনার অনুমতি না নিয়ে কেউ যেন বাসায় প্রবেশ করতে না পারে এ বিষয়ে বাড়ীর
গার্ডকে সতর্ক করুন।
গার্ড
না থাকলে আগন্তুক এর পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে দরজা খুলবেন না।
১৩.
ভাড়াটিয়াগণ পূর্বেই বাসার মালিককে ঈদ উপলক্ষে বাসা ত্যাগের বিষয়টি অবহিত করুন।
১৪.
বাসা/বাড়ী ত্যাগের পূর্বে আপনার রুমের লাইট,
ফ্যানসহ অন্যান্য ইলেকট্রিক লাইনের সুইচ বন্ধ করেছেন কিনা তা নিশ্চিত হোন এবং
পানির ট্যাপ ও গ্যাসের চুলা বন্ধ করুন।
১৫.
মহল্লা ও বাড়ীর সামনে সন্দেহজন কাউকে/দুস্কৃতিকারীকে ঘোরাফেরা করতে দেখলে
স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি ও থানাকে অবহিত করুন।
১৬.
ঈদে আপনার মহল্লা/বাসায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকলে বা ঘটার সম্ভাবনা থাকলে
তা স্থানীয় কমিউনিটি পুলিশ/থানা/ফাঁড়িকে অবহিত করুন।
১৭.
আপনার এলাকার সংশিস্নষ্ট পুলিশ এবং অন্যান্য জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থার
ফোন নম্বর সংরক্ষণ করুন এবং প্রয়োজনে দ্রুত তাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
রাস্তা/যাত্রাপথে নিরাপত্তায়
১.
নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।
প্রয়োজনে টহল পুলিশের সহায়তা নিন।
২.
রাত্রিকালে কোন নির্জন গলিপথে চলাচল না করে একটু দূর হলেও জনবহুল রাস্তা দিয়ে
চলাচল করার চেষ্টা করুন।
৩.
রাস্তায় চলাচলের সময় সঙ্গে থাকা মূল্যবান সামগ্রী বা টাকা পয়সা সম্পর্কে
সাবধানতা অবলম্বন করুন।
৪.
রাস্তায় -বাস/ট্রেন/লঞ্চ টার্মিনালে পকেটমার ও দুস্কৃতিকারী হতে সাবধান থাকুন।
৫.
যানবাহনে চলার সময় বা ট্রাফিক জ্যামে পড়লে গাড়ির জানালা বন্ধ রাখুন যাতে
ছিনতাইকারী কর্তৃক আপনার মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া না যায়।
৬.
আপনার সাথে মোবাইল ফোন এবং হ্যান্ডব্যাগের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য করুন।
৭.
অপরিচিত কারও সাথে ভাগাভাগি করে গাড়ী ভাড়া করবেন না।
এতে
আপনি দুষ্কৃতিকারীর খপ্পরে পড়তে পারেন।
৮.
রাস্তায় অপরিচিত কারো কাছ থেকে কোন কিছু খাবেন না।
৯.
যাতায়াতের সময় সহযাত্রী বেশে থাকা অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির খপ্পর হতে
সাবধান হোন।
১০.
মধ্য কিংবা শেষ রাতে বাসস্ট্যান্ডে নামলে সতর্কতার সাথে চলাচল করুন।
১১.
ট্যাক্সি/অটোরিক্সা বা ভাড়ায় চালিত অন্যান্য গাড়ি ভাড়া করার সময় গাড়ির
রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং ড্রাইভারের নাম ও ঠিকানা লিখে নিন।
প্রয়োজনে উক্ত রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও ড্রাইভারের নাম প্রিয়জনের নম্বরে এসএমএস
করুন।
১২.
যাত্রাকালে নিজের মালামালের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখুন এবং রাতে মূল্যবান
সামগ্রী নিয়ে একাকী চলাচল পরিহার করুন।
মার্কেট/শপিং মলে নিরাপত্তা
১.
ঈদের পূর্বে শেষ কেনাকাটার দিনে মার্কেট/শপিং মলে কোন নগদ অর্থ রাখবেন না।
২.
মার্কেট/শপিং মল ত্যাগের পূর্বে অবশ্যই নিশ্চিত হোন যে আপনার প্রতিষ্ঠান
যথাযথভাবে তালাবদ্ধ করা হয়েছে।
৩.
স্বর্ণের দোকান,
ব্যাংক,
বীমা,
অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠান হলে সিসিটিভি এবং এলার্ম স্কিম ব্যবহার করুন এবং
নিশ্চিত হোন তা সক্রিয় রয়েছে।
৪.
ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন এবং টাকা বহনে সর্বদা সতর্ক থাকুন।
বড়
অংকের অর্থ বহনে প্রাইভেট কার কিংবা মাইক্রোবাস ব্যবহার করুন।
প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা নিন।
৫.
মার্কেট/শপিং মলে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীর বিশ্বস্ততা সম্পর্কে নিশ্চিত
হোন এবং তাদের ঠিকানাসহ ছবি ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহে রাখুন।
৬.
মার্কেট/শপিং মলের চাবি নিজের কাছে রাখুন।
৭.
গাড়ী পার্কিং এর জন্য নির্ধারিত স্থান ব্যবহার করুন।
৮.
গাড়ী পার্কিং এর সু-ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা রয়েছে এ ধরনের মার্কেট/বিপনী
বিতান হতে কেনাকাটায় উৎসাহী হোন।
৯.
মার্কেট কিংবা বিপনী বিতানে পার্কিং এর সুব্যবস্থা না থাকলে গাড়ী নিকটতম
পে-পার্কিং এ রাখুন অথবা গাড়ীতে সর্বদা ড্রাইভারকে অবস্থান করার পরামর্শ দিন।
১০.
গাড়ীতে স্টিয়ারিং লক ব্যবহার করুন।
১১.
গাড়ী পার্কিং শেষে গাড়ীর দরজা লক করেছেন কিনা তা যাচাই করে নিন।
মটরবাইক এর উভয় চাকায় লক ব্যবহার করুন।
অননুমোদিত স্থানে মটরবাইক রাখবেন না।
১২.
আপনার গাড়ীতে ড্রাইভার নতুন হলে তার বিশ্বস্ততার বিষয়ে নিশ্চিত হোন এবং তার
ছবি ও ঠিকানাসহ সকল তথ্য সংগ্রহে রাখুন।
১৩.
গাড়ী চুরি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অটোমেটিক এলার্ম/কার লক/জিপিএস/জিএসএম
ডিভাইস ব্যবহার করুন।
১৪.
মার্কেটে কিংবা বিপনী বিতানে গমনের সময় দামী অলংকারাদি ব্যবহার থেকে বিরত
থাকুন।
১৫.
মার্কেটে/শপিং মলে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় অনাকাঙ্খিত ভিড় ও ধাক্কাধাক্কি
পরিহার করুন।
১৬.
পকেটমার,
ছিনতাইকারী,
প্রতারক ও দুস্কৃতিকারী হতে সাবধান হোন।
১৭.
যতদূর সম্ভব দিনের আলোয় কেনাকাটা শেষ করার চেষ্টা করুন।
ঝুঁকি
এড়াতে অধিক রাতে কেনাকাটা পরিহার করুন।
১৮.
ইভটিজিং রোধে মালিক পক্ষ/আপনি পুলিশকে অবহিত করুন।
১৯.
মালিক পক্ষ স্ব স্ব মার্কেট/শপিং মলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করুন এবং
আপনার এলাকার থানা/ফাঁড়ির সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখুন।
২০.
মার্কেট/শপিং মলের নিরাপত্তার স্বার্থে সিসিটিভি ব্যবহারে উৎসাহী হোন।
২১.
মার্কেট/শপিং মল সংলগ্ন কোন বাসা,
মেস,
হোটেল বা রেস্টুরেন্ট থাকলে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করুন যেন কেউ আপনার
মার্কেট/ শপিং মলের দেয়াল ভেঙে বা ফুটো করে ভিতরে প্রবেশ করতে না পারে।
২২.
দোকানের ক্যাশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে নিজস্ব নিরাপত্তায় এবং
প্রয়োজনে পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে ব্যাংকে জমা দেয়ার ব্যবস্থা করুন।
২৩.
মার্কেট/শপিং মলের সামনে কোন সন্দেহজনক লোককে ঘোরাফেরা করতে দেখলে সঙ্গে
সঙ্গে তা পুলিশকে অবহিত করুন।
২৪.
মালিকপক্ষ স্ব স্ব মার্কেট/শপিং মলের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে
নিজেদের জেনারেটর ব্যবহারে অধিক তৎপর হোন।
রক্ষা পেল পৃথিবী
সংলাপ
॥
চিন্তা
ছিল বিজ্ঞানীদের।
তাই
আগে থেকেই সতর্কবার্তা পৌঁছে গিয়েছিলো আমেরিকার সর্বত্র।
সেদেশের প্রতিরক্ষা বিভাগকেও তৈরি থাকতে বলা হয়েছিল।
তবে
মশা মারতে কামান দাগাটা যেমন হাস্যকর,
তেমনি
পৃথিবীর ওপর আছড়ে পড়া তেজস্ক্রিয় কণাবৃষ্টি রোখাটা কোন দেশের প্রতিরক্ষা
বিভাগের ক্ষমতার মধ্যে পড়ে না।
তবে
যেহেতু আগাম জানানো হয়েছিল তাই ওই সতর্কবার্তা নিয়ে সব দেশেই কমবেশি উদ্বিগ্ন
ছিল।
তবে এ
যাত্রায় কোন কুফল দেখা যায়নি এই যা রক্ষে।
২৪শে
জানুয়ারি লন্ডনের স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১১টায় পৃথিবীর ওপর আছড়ে পড়েছিল সৌর
ঝড়।
মহাজাগতিক এই রোমাঞ্চকর ঘটনার ছবিও তুলতে পেরেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা
সংস্থা নাসা।
২০০৩
সালে অক্টোবর মাসের পর এত সৌর ঝড় দেখেনি পৃথিবী।
সেকেন্ডে ২,২০০
কিলোমিটার বেগে ধেয়ে এসেছিলো ওই ঝড়।
ছুঁয়ে
গেছে বহির্জগতের তড়িৎচৌম্বকত্ব বিকিরণ থেকে পৃথিবীকে আগলে রাখার ঢাল
ম্যাগনোস্ফিয়ারকে।
মহাকাশ বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা ছিল ওই সৌর ঝড়ের তেজস্ক্রিয় বিচ্ছুরণ এ যাত্রায়
পৃথিবীর বাইরের কৃত্রিম উপগ্রহকে সে অর্থে ক্ষতি করতে পারেনি।
মহাকাশে থাকা নভোচররা সূর্যের তেজস্ক্রিয় বিকিরণে মুখোমুখি হলেও তারা
কোনক্রমে বেঁচে গেছেন।
যদিও
নাসার গডার্ড স্পেস ওয়েদার সেন্টার বারংবার যাওয়া সত্ত্বেও উত্তর আমেরিকার
বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েনি।
আগে
থেকে নিষেধ করার জন্যই ওই সময় মেরু প্রদেশে কোন উড়ান চালানো হয়নি।
তাই
সাধারণ সৌর ঝড়ের দ্বিগুণ গতিবেগে এই আঘাত হলেও ক্ষতিটা সে অর্থে ছুঁতে পারেনি
পৃথিবীকে।
তবে
বিকিরণের প্রভাবে উত্তর আমেরিকায় দেখা গেছে বিরল মেরুজ্যোতি।
নাসার
বিজ্ঞানীরা আগেই জানিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে এই সময় কাজ করছেন
ছয় জন মহাকাশচারী।
২৪
তারিখের আচমকা ঝড়ের হাত থেকে বাঁচতে মহাকাশচারীদের আগেই পাঠানো হয়েছিল
সতর্ককরণীয় ভিডিও মেসেজ।
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন,
সূর্যের আবহম-লের চৌম্বকীয় শক্তির হঠাৎ হঠাৎ বিচ্ছুরণের জন্য তৈরি হয় সৌর ঝড়।
এর
আগে অবশ্য প্রত্যেকটি বড় সৌর ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
১৯৭২
সালে এমনই এক সৌর ঝড়ের প্রভাবে আমেরিকার ইলিওনিস প্রদেশে বেতার যোগাযোগ
ব্যবস্থা পুরোদস্তুর বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।
১৯৮৯
সালে অপর একটি ঝড়ে কানাডার কুইবেক প্রদেশের বিদ্যুৎবাহী গ্রিড বিকল হয়ে
গিয়েছিল।
৬০
লক্ষ মানুষকে অন্ধকারে কাটাতে হয়েছিল।
পুরনো
এসব অভিজ্ঞতার জন্যই বিজ্ঞানীরা আগাম আশঙ্কার কথা জানিয়ে রেখেছিলো।
সেই
সঙ্গে নিতে বলা হয়েছিল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।
আমেরিকার ন্যাশনাল ওসানিক অ্যান্ড অ্যাটমিস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিষ্ট্রেশন
(নোয়া) জানিয়ে দিয়েছিল সৌর ঝড় আছড়ে পড়বে পৃথিবীর ম্যাগনোস্ফিয়ারে।
বহির্জগতের তড়িৎ চৌম্বকীয় আক্রমণ থেকে পৃথিবীকে সুরক্ষা দেয় এই
ম্যাগনোস্ফিয়ার।
সৌর
ঝড়ে নির্গত তড়িৎচৌম্বকীয় আঘাত এখানে তৈরি করবে দুই থেকে তিনটি ছিদ্র।
ওই
ছিদ্র পথে পৃথিবীর অভিমুখে বেয়ে আসতে থাকবে ভারী তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ।
এখানেই শেষ নয়।
এর
পিছু পিছু আঘাত শানাতে থাকবে প্রোটোন কণার তেজস্ক্রিয় বিচ্ছুরণ।
সাধারণ সৌর ঝড়ের গতিবেগ যেখানে হয় ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০ লক্ষ মাইল,
সেখানে এবারে ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘন্টার ৪০ লক্ষ মাইল।
সে
অর্থে এবারে সৌরঝড়ের গতি দাঁড়াচ্ছে সাধারণ ঝড়ের দ্বিগুণ।
তবে
প্রভাব সে অর্থে তেমন একটা হয়নি।
নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন,
সৌর
ঝড়ের দুঘণ্টা পরে দেখা গেছে সৌর শিখা।
বিজ্ঞানীদের মতে,
এই
ঘটনায় তিন রকমের বিকিরণ বের হতে থাকে সূর্য থেকে।
প্রথমদিকের বিকিরণটি তড়িৎচুম্বকীয়।
গত
রবিবার থেকে তা শুরু হয়েছে।
গত
বুধবার পর্যন্ত চলছে এই বিকিরণ।
এই
বিকিরণ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে চলা বিভিন্ন কৃত্রিম উপগ্রহ এবং
মহাকাশচারীদের ওপর প্রভাব ফেলবে আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের।
মেরু অঞ্চলে যাতায়াতকারী বিমানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ারও
আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।
বিজ্ঞানীদের মতে ২০০৫-এর মে মাসের পরে এই প্রথম বড় সৌর ঝড়ের সন্ধান পাওয়া
গেল।
অন্যদিকে,
দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় সূর্য থেকে যে প্রোটন কণার স্রোত এবং একাধিক কণার
স্রোত (করোনাল মাস ইনজেকশন) নির্গত হবে তা নিয়েই সমস্যা বেশি হওয়ার কথা ছিল।
ঘন্টায় ১৫ কোটি কিলোমিটার বেগে প্রোটন কণা স্রোতের পাশাপাশি ঘন্টায় কমপক্ষে
৩২ লক্ষ কিলোমিটার বেগে ছুটে আসার কথা ছিল বিভিন্ন কণার স্রোত।
শেষের বিকিরণ থেকে মুক্তি পাওয়ার কোন সম্ভাবনা ছিল না।
পস্নুটো অবধি ছড়িয়ে পড়েছে এই বিকিরণ।
তেল নিয়ে তেলেসমাতি আর নয়!
সংলাপ
॥
কয়েক
বছর ধরেই দেশে তেল নিয়ে তেলেসমাতি চলছে।
ব্যবসায়ীরা নিজেদের খেয়াল খুশি মতো দফায় দফায় ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে যাচ্ছেন।
ক্রেতারা বাধ্য হচ্ছেন
সেই বাড়তি দামে তেল কিনতে।
অন্যদিকে সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের বৈঠকে ভোজ্য তেলের দাম না
বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হলেও সেটা তোয়াক্কা করছেন না ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ী মহলের এধরনের বেপরোয়া আচরণ সত্যিই হতাশাজনক।
এ
সপ্তাহে নতুন করে বোতলজাত তেলে প্রতি লিটারে ৫/১০ টাকা বেশি নিচ্ছেন
বিক্রেতারা।
খোলা
তেলের দামে আরো কারসাজি করা হয়।
অতীতে
দাম বাড়ানোর ব্যপারে ব্যবসায়ীরা নানা বাহানা দেখিয়েছেন।
এবার
বলছেন ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে;
কিন্তু
কথা
হলো,
ডলারের দাম বৃদ্ধি হলেই তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভোক্তাদের ওপর দাম
চাপিয়ে দেবেন এটা কেমন কথা।
আর
সরকারের সিদ্ধান্তও মানবেন না তা কী করে হয়।
তাছাড়া সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের দাম কমার দিকে।
তাই
দেশী বাজারে এমন অস্থিরতা
কিছুতেই বোধগম্য নয়।
এসবের
আসল কারণ অনুসন্ধান করা দরকার।
গত
সপ্তাহে একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়,
ভোজ্য
তেলের দাম বাড়ার নেপথ্যে কাজ করছে ৫ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী।
তাদের
মিলগুলো পরিবেশকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করছে।
তবে
পণ্যের সরবরাহ চালান ও ক্যাশ মেমোতে দেখানো হচ্ছে
কম মূল্য।
বাড়তি
টাকা নেয়া হচ্ছে
গোপনে।
এসব
তথ্য পরিবেশিত হয়েছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার
বরাত দিয়ে।
ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কথা আমরা আগেও শুনেছি।
কথা
হলো কতিপয় ব্যবসায়ী দেশের সাধারণ মানুষের মাথার উপর কাঁঠাল ভেঙ্গে খাবে সেটা
কী ঠিক?
ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে
সরকারকে ব্যবস্থা
নিতে হবে এ কথা অনেক বার বলা হয়েছে কিন'
এতে
কি কোন কাজ হয়েছে?
হয়নি।
এর
প্রতিকার করতে পারে একমাত্র জনসচেতনতা,
স্বাস্থ্য
সচেতনতা।
কিভাবে?
উত্তর
- তেল খাওয়া ছেড়ে দিয়ে।
তেল
স্বাস্থ্যের
জন্য উপকারী নয়।
প্রাণিজ হোক কিংবা উদ্ভিজ হোক যে কোনো রকমের তেল যে কয়েক ধরনের শরীরগত
ক্ষতিসাধন করে সেগুলো হলো - ১. অক্সিজেন সংকট ও তৎজনিত বিবিধ ব্যাধির আক্রমণ।
২.
কোলেস্টরলের মাত্রা বৃদ্ধি।
৩.
ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি।
৪.
ডায়াবেটিসের আক্রমণ।
তেল
রক্তের লোহিত কণিকা এবং ক্ষুদ্রতর অণুচক্রিকার চারপাশে একটা ফ্যাটি ফিল্ম
সৃষ্টি করে।
ফলে
কণিকাগুলো জমাট বেঁধে যায়।
আর এই
জমাটবাঁধা অবস্থায়
এরা নিজের কাজ সঠিকভাবে করতে পারে না।
ধীরে
ধীরে রক্তবাহী ক্যাপিলারিগুলো প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
তেল
রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দেয় ফলে দেহের টিস্যুগুলো তাদের প্রয়োজনীয়
পরিমাণ অক্সিজেন প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়।
ফলে
ধমনী সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগ,
হার্ট
অ্যাটাক,
উ"চ
রক্তচাপ,
পিত্তপাথরী,
দৃষ্টিসমস্যা,
শ্রবণ
সমস্যা,
অকাল
বার্ধক্য ইত্যাদি রোগের সৃষ্টি হয়।
তেল,
কোলেস্টরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে প্রাণনাশক হৃদরোগের সৃষ্টি করে।
তেল,
ইউরিক
অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি করে,
দেহে
বাতব্যাধি ও আর্থারাইটিসের প্রকোপ বৃদ্ধি করে।
স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীরা
বলেন,
ডায়াবেটিস রোগের প্রধান কারণ তেল।
কারণ
রক্তের ফ্যাট দেহের সুগার থেকে তাপশক্তি নেয়ার কাজে প্রচন্ড বাধা দেয়।
অতিরিক্ত তেল খেলে মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে ডায়াবেটিস দেখা দিতে পারে।
ফ্যাট গ্রহণের স্বাভাবিক প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সন্দেহের অবকাশ নেই।
কিন'
এ
নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা হলো ভোজ্যতেল,
ঘি,
মাখন ইত্যাদি খাওয়া।
বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দেখা গেছে এমন কোনো খাদ্যবস'
নেই
যাতে ফ্যাট নেই।
প্রয়োজনীয় তাপ ও শক্তির জন্য যতটুকু ফ্যাট দরকার তা আমরা খাদ্যশষ্য,
শাক-সবজি আর ফলমূল থেকেই পেতে পারি।
পুষ্টি বিজ্ঞানের গবেষণায় জানা যায়,
সুস্বাস্থ্যের
জন্য তেল খাওয়া শুধু অর্থহীন নয়,
যথেষ্ট ক্ষতিকারক।
এ
পর্যন্ত তেল নিয়ে যত পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে তাতে সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত
হয়েছে যে,
তেল
ক্ষতিকারক স্নেহ পদার্থ এই পদার্থের প্রতি স্নেহ থাকা স্বাস্থ্যের
জন্য হুমকি।
আসুন আমরা তেল খাওয়া ছেড়ে দেই।
তাহলে ব্যবসায়ীরা তেলের দাম কমাতে বাধ্য হবে।
বন্ধ হবে তেল নিয়ে তেলেসমাতি।
|