|
|
বহুমাত্রিক
কোন্দলের নিয়ন্ত্রক শুদ্ধি অভিযান
সংলাপ
॥
'দল'
শব্দটির প্রথম ব্যবহার কবে থেকে শুরু হয়েছে গবেষণা ছাড়া তা বলা কঠিন।
'দল'
শব্দের আগে যখন থেকে রাজনৈতিক শব্দটি বসিয়ে দেয়া হল তখন থেকেই বহুল ব্যবহৃত
শব্দের তালিকায় উঠে এসেছিল এ
'দল'
শব্দটি,
তা
গবেষণা ছাড়াই বলে দেয়া যায়।
আর
এই 'দল'
শব্দের আগে রাজনৈতিক শব্দ বসে যাবার পর থেকেই দেখা গেল রাজনীতিতে
'দল'
বিচরণ করা শুরু করলো একা নয়,
-
তার
একটি জমজ ভাইকে নিয়ে,
যার
নাম কোন্দল।
'দল'
আর
'কোন্দল'
যেন
একটি জমজ শব্দ জোড়া।
'দল'
আছে
কিন্তু কোন্দল নাই এটা অসম্ভব।
কোন্দল আছে আর
'দল'
নেই
এটি অবাস্তব।
নীরব কোন্দল,
সরব
কোন্দল,
রক্তপাত শূন্য কোন্দল,
রক্তপাতময় কোন্দল,
সশস্ত্র কোন্দল,
নিরস্ত্র কোন্দল,
সাময়িক কোন্দল,
স্থায়ী কোন্দল,
থেমে থেমে কোন্দল,
লাগাতার কোন্দল,
কেন্দ্রীয় কোন্দল,
আঞ্চলিক কোন্দল,
প্রকাশ্য কোন্দল,
গোপন কোন্দল,
বিকেন্দ্রিক কোন্দল,
ত্রিকেন্দ্রিক কোন্দল,
এমনকি রয়েছে বহুকেন্দ্রিক কোন্দল।
ইত্যাদি রকমারি কোন্দলে ভারি হয়ে থাকে রাজনৈতিক দলগুলি।
কোন্দলের আবার রয়েছে সহজাত সংক্রামক ক্ষমতা।
দল
থেকে দলে উপদলে সহযোগী ও সহভোগী দলের,
বলে-সবলে ছড়িয়ে পড়ার অদ্ভুত ক্ষমতা আছে কোন্দলের।
গত
৩৮ বছরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রামাণ্য ইতিহাস দলিল পড়তে গেলে তা
যদি প্রকাশ করতে হয় ১০ খন্ডে,
সে
ক্ষেত্রে একই সংখ্যক রাজনৈতিক দলগুলোর কোন্দলের প্রামাণ্য দলিল প্রকাশ করতে
লাগবে ১০০ খন্ড।
দল
থাকলে কোন্দল থাকবেই।
এটাই যেন স্বাভাবিক।
প্রকাশ্যে না হলেও অপ্রকাশ্যে দলের নেতারা এটা স্বীকার করে থাকেন।
বড়
দল হলে তো কথাই নেই।
সে
রাজনৈতিক দলই হোক,
ছাত্র সংগঠনই হোক,
হোক
না কৃষক শ্রমীক বা যে কোন পেশাজীবী সংগঠন।
দল
ক্ষমতাশীল আবার ওই দলটিই কোন্দলহীন,
এটা
হতেই পারে না এবং হয়ও না।
যেমন হয়না একই সাথে ঘরটি আলোময় এবং অন্ধকারময়।
(কু)
ঐতিহ্যের ধারা ধরে অতীতের সকল ক্ষমতাশীল রাজনৈতিক দলগুলোর মতো বর্তমান
ক্ষমতাশীল রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ-এর মধ্যেও কোন্দল রয়েছে।
কখনও নিরব কখনও সরব।
সংক্রমণ ধারার আওয়ামী লীগ-এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলিও এই কোন্দল ব্যাধিতে
আক্রান্ত।
বেপরোয়া তারুণ্য,
টেন্ডার উৎসারিত কাঁচা টাকার নোট,
বাণিজ্যের বিনিয়োগশূন্য নগদ লাভ আর অনুষ্ঠান চাঁদাবাজি ক্ষমতাশীল
অঙ্গসংগঠনগুলোকে নিয়ে যায় সশস্ত্র সংঘাতে।
এ
অভিজ্ঞতা এদেশের ক্ষমতাশীল প্রতিটি অঙ্গসংগঠনের ইতিহাস থেকে নেয়া।
বর্তমান ক্ষমতাশীল ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতি মাসেই অভিজ্ঞতার
পাতায় সংযোজন করে চলেছে নতুন নতুন ঘটনা।
সংবাদ মাধ্যমের পাতায় ফলাও করে প্রকাশিত ছাত্র লীগের কোন্দলের সশস্ত্র
সংঘর্ষের খবরে দেশবাসি অবাক না হ'বারই
কথা।
নতুন করে এ নিয়ে ভাববার কিছু ছিল না।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত ৫ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে এরূপ অজস্র সংঘর্ষের খবর
জন্ম দিয়েছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
নিয়মিত যারা চোখ বুলিয়ে থাকেন দৈনিকের পাতায় আর চোখ রাখেন টিভির খবরে
তাদের কাছে ছাত্রলীগের এবারের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষগুলোর ঘটনার দু'টি
বিশেষত্ব ধরা পড়বে।
ছাত্রলীগসহ অতীতের ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনগুলির অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র
সংঘর্ষগুলি ঘটতো কমিটি গঠন,
টেন্ডার দখলের মতো নগদ স্বার্থসংশ্লিষ্ট উপস্থিত ইস্যুকে কেন্দ্র করে।
সময়ের বিচারে এসব সংঘাতকে অভিহিত করা যেত বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ বলে।
কিন্তু এবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে ছাত্রলীগের ঘটে যাওয়া
সশস্ত্র সংঘর্ষগুলোকে নিবিড় পর্যালোচনার আওতায় এনে বিশ্লেষণ করলে দেখা
যাবে অগ্রহণযোগ্য দৃশ্যমান ইস্যুর চেয়ে রহস্যময় অদৃশ্য ইস্যুই যেন কাজ
করছে এসব সংঘাতের মূলে এবং বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ নয়,
কোন একটি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার আওতায়।
রিমোটকন্ট্রোল এর নিয়ন্ত্রণে যেন দেশজুড়ে ঘটে চলছে।
ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ একের পর এক।
সংঘর্ষগুলোর অপর যে বিশেষত্বটি চোখে পড়তে বাধ্য তা হচ্ছে এর নির্মমতা।
অকল্পনীয় পাশবিকতা যা অতীতে কখনও ঘটেছে কিনা তা নিশ্চিত হ'তে
হ'লে
তন্ন তন্ন করে দেখে যেতে হবে অতীতের সবকটি অনুরূপ সংঘর্ষ।
সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ
সশস্ত্র সংঘর্ষের যে বিবরণ উঠে এসেছে পত্রপত্রিকার পাতায় আর যে সব ছবি
দেখা গেছে পত্রপত্রিকা ও টিভি চ্যানেলের পর্দায় তা রীতিমত লোমহর্ষক।
তিন তলা আর চার তলার ছাদ থেকে সহকর্মীদের মেরে ফেলে দেয়া এটা কোন ক্রমেই
স্রেফ অন্তর দলীয় কোন্দলের ফসল হতে পারে না।
কেবল যা হতে পারে তার ধারণা পেতে চাইলে বিবেচনায় নিতে হবে ক্ষমতাশীল
আওয়ামী লীগ এর দ্বিতীয় শীর্ষ দায়িত্বশীল ব্যক্তি দলীয় সাধারণ সম্পাদক,
দলের মুখপাত্র,
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের একটি
চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তিতে।
ছাত্রলীগের নজিরবিহীন অস্বাভাবিক সশস্ত্র সংঘাত অনুসন্ধানে নিয়োজিত মাঠ
পর্যায়ে কর্মরত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে
সৈয়দ আশরাফ কয়েক মাস আগে বলেছিলেন
'ছাত্রলীগে
শিবির ঢুকে পড়েছে'।
ছাত্রলীগে শিবির ঢুকে পড়েছে নাকি শিবিরই এখন ছাত্রলীগ করছে,
নাকি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় নীরবে কাজ করে কেন্দ্র এবং জেলা
উপজেলা পর্যায়ে শিবির সংগঠকরাই ছাত্রলীগ চালাচ্ছে তা ব্যাপক গোয়েন্দা
অনুসন্ধানই বলবে।
অন্তত সময়মতো বলে দেবেই একদিন।
বর্তমানে দাঁড়িয়ে কয়েক মাস আগেও শীর্ষস্থানীয় জামাত নেতাদের দেয়া একটি
বক্তব্যকে গভীর ভাবে বিবেচনায় নিতেই হবে।
পত্র পত্রিকায় উঠে আসা ছাত্রলীগের সংঘর্ষের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে
আওয়ামী লীগ এর পতন এর জন্য ছাত্রলীগই যথেষ্ট আর কারো দরকার হবে না।
ক্ষমতাশীল ছাত্র সংগঠনের অর্ন্তদলীয় কোন্দল কোন ক্ষমতাশীল দলের অকাল
ক্ষমতাচ্যুতির কারণ ঘটেছে ইতোপূর্বে বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন নজির একটিও
নেই।
প্রশ্ন হচ্ছে,
জামাত নেতারা তা'হলে
এ কথা বললেন কি করে?
এরূপ ভবিষ্যৎবাণী করলেন কিসের ভিত্তিতে?
এ
প্রশ্নের উত্তর সহজেই অনুমেয়।
কিন্তু অনুমানের ওপর প্রতিকার চলে না।
এর প্রামাণ্য উত্তর শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে খুঁড়ে বের করতে হবে
ক্ষমতাশীল আওয়ামী লীগকেই।
তাদের ক্ষমতার স্বার্থে এবং তার চেয়েও বেশি এই দেশের স্বার্থে।
|
|