জামাত-শিবিরের রাজনীতি বিষাক্ত করেছে দেশের পরিবেশ।
নিজস্ব মতাদর্শের বাইরের ছাত্রসংগঠনের কর্মীদের ওপর ইসলামি ছাত্রশিবিরের
কর্মকান্ড আবারো সামনে এনেছে তাদের উগ্রপন্থী রাজনীতির নগ্ন বীভৎস,
পৈশাচিক চেহারাটাকে।
শিবিরসহ তাদের অভিভাবক সংগঠন যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত স্বাধীনতাবিরোধী
জামাতে ইসলামিকে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠলেও কোনো সরকারই শেষ পর্যন্ত সে পথে
হাঁটেনি।
রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃশংসভাবে ছাত্র হত্যা এবং রগ কাটার
বীভৎস তাণ্ডব এবং গত ২৭ জুন হরতালকে কেন্দ্র করে নিরীহ পথচারীকে আগুনে
পুড়িয়ে মারায় দীর্ঘদিনের এই দাবিকে গণদাবিতে পরিণত করেছে।
সর্বস্তরের মানুষের এখন একটাই দাবি নিষিদ্ধ হোক সাম্প্রদায়িক রাজনীতি।
দেশের মানুষের সোচ্চার দাবি ইসলামি ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করা হোক।
পাশাপাশি সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হোক।
যতদূর জানা গেছে,
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ আন্ডারওয়ার্ল্ডে শুরু হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।
কঠোর হস্তে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নির্দেশ দেয়া
হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
সারাদেশে জামাত-শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে।
প্রাথমিক একটি তালিকা নিয়েই অভিযান শুরু হয়েছে।
যেখানে জামাত-শিবিরের ঘাঁটি আছে সেখানেই অভিযান চলবে এবং উৎখাত করা হবে
শিবিরকে।
পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত জামাত-শিবিরের অস্ত্রধারী,
সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।
গোয়েন্দা সংস্থাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জামাত-শিবিরের সন্ত্রাসী,
অস্ত্রধারীদের সম্পর্কে তথ্য দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ইতোমধ্যে
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে
বৈঠক হয়েছে।
বৈঠকে জামাত-শিবিরের সন্ত্রাসী,
অস্ত্রধারী উগ্রবাদী নেতাকর্মীদের তালিকা করে গ্রেফতার করারও নির্দেশ
দেয়া হয়েছে।
এছাড়া জামাত-শিবির আগে যে সব হিংসাত্বক ঘটনা ঘটিয়েছে সে সব ঘটনায় কারা
জড়িত ছিল,
তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং তাদের ওপর তীক্ষ্ম নজর
রাখতে বলা হয়েছে।
জামাতের কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপরও সার্বক্ষণিক নজরদারি করতে বলেছে
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সারা দেশে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা সৃষ্টির বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে
জামাত-শিবির মাঠে নেমেছে বলে দাবি করেছেন অভিজ্ঞমহল।
শিবিরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন ও সূর্যসেন হলে শিবিরের যে সংখ্যা কর্মী
রয়েছে তারা যে কোনো সময় বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দিতে ষড়যন্ত্র করছে।
অপরদিকে শিবিরের কর্মকাণ্ডে বাঁধা দেয়া হলে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনের
ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র শিবির।
পাশাপাশি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার বন্ধ ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবি
জানিয়েছে শিবির।
জামাত-শিবিরের অপকর্ম প্রতিহত করতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলে জানা গেছে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরুর সময় যতো এগিয়ে আসছে জামাত-শিবির
ততো মরিয়া হয়ে ওঠেছে।
এদের কর্মকাণ্ডে জামাত-শিবির রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ার পক্ষে জনমত জোরালো
হচ্ছে।
জনমতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সরকার ও প্রশাসন এদের রাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত
নিক এটাই গণ-দাবি।
এদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হোক আওয়ামী লীগ ও স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিগুলো
রাজনৈতিকভাবে এদের প্রতিহত করুক এটাই দেশবাসী চায়।
বর্তমান সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে।
জাতি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরুর দ্বারপ্রান্তে।
জামাত-শিবিরের রাজনীতি বন্ধ হোক- সংসদ সদস্য,
বুদ্ধিজীবী,
প্রগতিশীলদের পক্ষ থেকে এ দাবি জোরালো হচ্ছে।
জামাত-শিবির মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত নানা অপরাধ করেছে।
তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধের যে দাবি উঠেছে তাতে জনগণের বলিষ্ঠ সহযোগিতার
প্রয়োজন রয়েছে।
জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যেভাবে এ দেশের জনগণ সচেতন হয়েছে সেভাবে
জামাত-শিবিরের হিংস্র কার্যক্রমের বিরুদ্ধেও জনগণ সচেতন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাক এটাই
গণ-মানুষের দাবি।
এ
দেশের মানুষ তাদের হিংস্র কার্যকলাপ এবং রগকাটার রাজনীতি,
ধর্মকে ভিন্ন খাতে ব্যবহারের কার্যকলাপে জাতি অতিষ্ঠ।
এটাকে প্রতিরোধ,
প্রতিহত করা ছাড়া জাতির সামনে আর কোনো পথ নেই।