সস্তা
চমকের আশায় মানুষের জীবন নিয়ে এক বিপজ্জনক খেলায় মেতেছেন ভারতের
রেলমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
বিগত পনেরো মাস ধরে শিলান্যাস ছাড়া আর কোনো ক্ষেত্রে তার ন্যূনতম
দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছেন না মমতা ব্যানার্জি।
গণ-মানুষ বলছে,
রেলমন্ত্রীর এই দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ফলে রেলের সামগ্রিক পরিকাঠামো
অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সম্প্রতি গভীর রাতেই ওপার বাংলায় বীরভুমের সাঁইথিয়া স্টেশনে ঘটে গেছে
এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
উত্তরাঞ্চল এক্সপ্রেস ও বনাঞ্চল এক্সপ্রেসের মধ্যে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত
প্রায় ১০০ জনেরও বেশি যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
দু'মাসেরও
কম সময়ের মধ্যে জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে দেড়
শতাধিক যাত্রীর।
মমতা ব্যানার্জির আমলে ঘটে গেছে শতাধিক ছোট বড় দুর্ঘটনা।
বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে গেছে অনেক ট্রেন।
একদিকে নতুন নতুন ট্রেন ঘোষণা আর শিলান্যাস করে মানুষকে প্রতারণা করছেন
মমতা ব্যানার্জি।
অপরদিকে যাত্রী সুরক্ষার ব্যবস্থা যথাযথ না করে মানুষকে ঠেলে দিচ্ছেন
মৃত্যুর মুখে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরে ভারতজুড়ে গণ-মানুষের প্রবল সমালোচনার মুখে
পড়েছেন মমতা ব্যানার্জি।
সারা ভারতে রেলমন্ত্রক প্রতিদিন ৯ হাজার যাত্রীবাহী ট্রেন চালায়।
দৈনিক মোট যাত্রীর সংখ্যা ২ কোটি।
অভিযোগ উঠেছে এই বিশাল যাত্রী পরিষেবা দেখভাল করার জন্য বিন্দুমাত্র
সময় দেয়ার প্রয়োজনবোধ করেন না রেলমন্ত্রী।
খাদ্য,
সুরক্ষা,
যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের নামে একদল পেটোয়া বুদ্ধিজীবীকে হাজার হাজার টাকা
বেতনে নিয়োগ করেছেন রেলমন্ত্রী।
তিনি মন্ত্রিসভার বৈঠকে যান না।
সংসদে উপস্থিত হন না।
তিনি রেলভবনে বসে কাজ দেখতে চান না।
তার একমাত্র লক্ষ্য ওপার বাংলা পশ্চিমবঙ্গের মহাকরণ।
তাই কলকাতায় বসে তুঘলকী খেয়াল অনুসারে ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করেন।
নতুন নতুন রুটের কথা ঘোষণা করেন রেলমন্ত্রী।
এসবই রাজনৈতিক চমক দেয়ার জন্য।
রেল লাইনের আধুনিকীকরণ না করে ট্রেনের গতি বাড়ানো সম্ভব নয়।
সিগন্যাল ব্যবস্থাকে আরো উন্নত না করে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব নয়।
কিন্তু সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য ভারতের রেলমন্ত্রী এই পনেরো মাসে
পনেরো'শ
ঘোষণা করেছেন।
জমি অধিগ্রহণ না করেই প্রকল্পের শিলান্যাস করছেন।
অর্থের বরাদ্দ না করেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছেন।
রেলের সুরক্ষা সংশ্লিষ্ট ৯৩ হাজারের বেশি পদ শূন্য রয়েছে।
এক বছরে মমতার আমলেই খালি হয়েছে ২২ হাজার পদ।
স্বভাবতঃ কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।
সব মিলিয়ে রেলমন্ত্রীর খেয়াল মেটাতে গোটা পরিকাঠামো নড়বড়ে অবস্থায়।
এসব সত্ত্বেও নাকি রেলমন্ত্রী নির্বিকার।
জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসে নাশকতার পরেও রেলের পক্ষ থেকে এ কাজে এখনও
বিশেষ উদ্যোগ দেখছে না যাত্রীরা।
বরং জ্ঞানেশ্বরীর নাশকতার জন্য ওপার বাংলার সরকারকে দায়ী করতেই তিনি
বেশি ব্যস্ত।
রেলের নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন কমিটি বা কমিশনের কোনো সুপারিশকেই আমল
দিচ্ছে না রেলমন্ত্রক।
সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটেছে বিহার,
উত্তর প্রদেশ,
মহারাষ্ট্র,
আসাম,
কর্ণাটক,
তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গে।
একের পর এক দুর্ঘটনা সামনে এনে দিয়েছে রেলের সুরক্ষা ব্যবস্থার বেহাল
রূপটিকে।
এই পরিস্থিতিতে দেশের সাধারণ জনগণের চাহিদা হলো রেলের যাত্রী সুরক্ষার
বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হোক।
দুর্ঘটনার কয়েকদিন পর তার কারণ অনুসন্ধানকে চাপা দেয়া হয়।
ফলে ভবিষ্যতে কোনো প্রতিকার হয় না।
সাঁইথিয়ার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হয়নি।
খুঁজে বের করা হয়নি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ।
রেলমন্ত্রকের যদি এই তদন্তের সাধ্য না থাকে তাহলে সিবিআই'র
মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করুক রেল,
এই আওয়াজ উঠেছে অভিজ্ঞমহল থেকে।
অন্যান্য দুর্ঘটনাগুলোরও কারণ অনুসন্ধানে ব্যবস্থা নেয়া ভারতের
রেলমন্ত্রকই নয়,
কেন্দ্রীয় সরকার এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নিজেরও এ বিষয়ে নজর দেয়া
উচিত বলে ভারতীয় বিশেষজ্ঞমহল অভিমত প্রকাশ করা শুরু করেছেন।