|
নিরাপত্তায় সচেতনতা
মনি
॥

দেশব্যাপী নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা বিধান এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের
ধর্মীয় উৎসবগুলোতে আনন্দ এবং শান্তি শৃঙ্খলা অটুট রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন
পুলিশ (ডি.এম.পি)
তাদের
কর্মসূচীর সাথে জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করে নিরাপত্তায় সচেতনতা
(সেফটি
ফার্স্ট) শীর্ষক প্রচারপত্র
(লিফলেট)
বিতরণ কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।
বিশেষ
করে শহরকেন্দ্রিক মেট্রোপলিটন আওতাধীন এলাকাগুলোতে অব্যাহত চুরি,
ডাকাতি,
সহিংসতা প্রতিরোধে জনগণের সচেতনতা বাড়াতে এই প্রচারপত্রটি বিতরণ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে জাতিসংঘের একটি সংস্থা ইউ.এন.ডি.পি
এর
সহযোগিতায় পুলিশ রিফর্ম প্রোগ্রামের একটি অংশ হিসেবে এই কর্মসূচী গ্রহণ করা
হয়।
ডি.এম.পি,
শান্তি শপথে বলীয়ান
-
এই
লোগো সম্বলিত নিরাপত্তায় সচেতনতা
(সেফটি
ফার্স্ট) শীর্ষক প্রচারপত্রে যা উলেস্নখ রয়েছে :
ব্যক্তি ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য নিম্নবর্ণিত পরামর্শ অনুসরণ করা যেতে
পারে।
বাসা/বাড়ীর নিরাপত্তায় :
১.
বাসা/বাড়ী ত্যাগের পূর্বে রুমের দরজা-জানালা সঠিকভাবে তালাবদ্ধ করুন।
যে
সমস্ত দরজা-জানালা নাজুক অবস্থায় আছে তা এখনই মেরামত করে নিন এবং যথাসম্ভব
সুরক্ষিত করে নিন।
প্রয়োজনে একাধিক তালা ব্যবহার করা যেতে পারে।
২.
বাসা এক তলায় হলে বাসার ভেন্টিলেশনের জানালা বন্ধ নিশ্চিত করুন।
৩.
রাতে আপনার বাসার চারপাশ আলোকিত করে রাখুন।
৪.
আপনার বাসা বা ফ্ল্যাটে সিসিটিভি থাকলে সকল সিসিটিভিসহ অন্যান্য নিরাপত্তা
ব্যবস্থা সক্রিয় থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করুন।
৫.
সম্ভব হলে দরজায় নিরাপত্তা এলার্ম যুক্ত তালা ব্যবহার করুন।
৬.
মূল্যবান সামগ্রী ও দলিল নিরাপদ হেফাজতে রাখুন এবং তালাবদ্ধ করুন।
প্রয়োজনে ব্যাংক লকারের সহায়তা নিতে পারেন।
৭.
বাসা/বাড়ী ত্যাগের পূর্বে যে সমস্ত প্রতিবেশি/পাশের ফ্ল্যাটের অধিবাসী ঢাকায়
অবস্থান করবেন তাদেরকে আপনার বাসার প্রতি নজরদারী রাখতে অনুরোধ করুন এবং ফোনে
তাদের সাথে যোগাযোগ রাখুন।
৮.
ঈদের পূর্বে আপনার বাসায় কোনো নতুন কাজের লোক,
নিরাপত্তা কর্মী রাখা হলে তাদের পরিচয় ও বিশ্বস্ততার বিষয়ে নিশ্চিত হোন এবং
তাদের ছবিসহ বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করুন।
৯.
আপনার গাড়ীর ড্রাইভারকে গাড়ীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের সকল বিষয় সম্পর্কে
অবহিত করুন।
১০.
ঈদে ছুটিতে যাওয়ার পূর্বে গাড়ী গ্যারেজে রেখে গেলে গাড়ীর কাগজপত্র অন্যত্র
সরিয়ে রাখুন।
১১.
বাসার গাড়ীর গ্যারেজ সুরক্ষিত করুন।
গাড়ীর
যন্ত্রাংশ চুরি রোধে গার্ডকে সতর্ক করুন এবং গাড়ী চুরি হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য
অটোমেটিক এলার্ম,
স্টিয়ারিং লক ও জিপিএস ব্যবহার করুন।
১২.
আপনার অনুমতি না নিয়ে কেউ যেন বাসায় প্রবেশ করতে না পারে এ বিষয়ে বাড়ীর
গার্ডকে সতর্ক করুন।
গার্ড
না থাকলে আগন্তুক এর পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে দরজা খুলবেন না।
১৩.
ভাড়াটিয়াগণ পূর্বেই বাসার মালিককে ঈদ উপলক্ষে বাসা ত্যাগের বিষয়টি অবহিত করুন।
১৪.
বাসা/বাড়ী ত্যাগের পূর্বে আপনার রুমের লাইট,
ফ্যানসহ অন্যান্য ইলেকট্রিক লাইনের সুইচ বন্ধ করেছেন কিনা তা নিশ্চিত হোন এবং
পানির ট্যাপ ও গ্যাসের চুলা বন্ধ করুন।
১৫.
মহল্লা ও বাড়ীর সামনে সন্দেহজন কাউকে/দুস্কৃতিকারীকে ঘোরাফেরা করতে দেখলে
স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি ও থানাকে অবহিত করুন।
১৬.
ঈদে আপনার মহল্লা/বাসায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকলে বা ঘটার সম্ভাবনা থাকলে
তা স্থানীয় কমিউনিটি পুলিশ/থানা/ফাঁড়িকে অবহিত করুন।
১৭.
আপনার এলাকার সংশিস্নষ্ট পুলিশ এবং অন্যান্য জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থার
ফোন নম্বর সংরক্ষণ করুন এবং প্রয়োজনে দ্রুত তাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
রাস্তা/যাত্রাপথে নিরাপত্তায়
১.
নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।
প্রয়োজনে টহল পুলিশের সহায়তা নিন।
২.
রাত্রিকালে কোন নির্জন গলিপথে চলাচল না করে একটু দূর হলেও জনবহুল রাস্তা দিয়ে
চলাচল করার চেষ্টা করুন।
৩.
রাস্তায় চলাচলের সময় সঙ্গে থাকা মূল্যবান সামগ্রী বা টাকা পয়সা সম্পর্কে
সাবধানতা অবলম্বন করুন।
৪.
রাস্তায় -বাস/ট্রেন/লঞ্চ টার্মিনালে পকেটমার ও দুস্কৃতিকারী হতে সাবধান থাকুন।
৫.
যানবাহনে চলার সময় বা ট্রাফিক জ্যামে পড়লে গাড়ির জানালা বন্ধ রাখুন যাতে
ছিনতাইকারী কর্তৃক আপনার মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া না যায়।
৬.
আপনার সাথে মোবাইল ফোন এবং হ্যান্ডব্যাগের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য করুন।
৭.
অপরিচিত কারও সাথে ভাগাভাগি করে গাড়ী ভাড়া করবেন না।
এতে
আপনি দুষ্কৃতিকারীর খপ্পরে পড়তে পারেন।
৮.
রাস্তায় অপরিচিত কারো কাছ থেকে কোন কিছু খাবেন না।
৯.
যাতায়াতের সময় সহযাত্রী বেশে থাকা অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির খপ্পর হতে
সাবধান হোন।
১০.
মধ্য কিংবা শেষ রাতে বাসস্ট্যান্ডে নামলে সতর্কতার সাথে চলাচল করুন।
১১.
ট্যাক্সি/অটোরিক্সা বা ভাড়ায় চালিত অন্যান্য গাড়ি ভাড়া করার সময় গাড়ির
রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং ড্রাইভারের নাম ও ঠিকানা লিখে নিন।
প্রয়োজনে উক্ত রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও ড্রাইভারের নাম প্রিয়জনের নম্বরে এসএমএস
করুন।
১২.
যাত্রাকালে নিজের মালামালের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখুন এবং রাতে মূল্যবান
সামগ্রী নিয়ে একাকী চলাচল পরিহার করুন।
মার্কেট/শপিং মলে নিরাপত্তা
১.
ঈদের পূর্বে শেষ কেনাকাটার দিনে মার্কেট/শপিং মলে কোন নগদ অর্থ রাখবেন না।
২.
মার্কেট/শপিং মল ত্যাগের পূর্বে অবশ্যই নিশ্চিত হোন যে আপনার প্রতিষ্ঠান
যথাযথভাবে তালাবদ্ধ করা হয়েছে।
৩.
স্বর্ণের দোকান,
ব্যাংক,
বীমা,
অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠান হলে সিসিটিভি এবং এলার্ম স্কিম ব্যবহার করুন এবং
নিশ্চিত হোন তা সক্রিয় রয়েছে।
৪.
ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন এবং টাকা বহনে সর্বদা সতর্ক থাকুন।
বড়
অংকের অর্থ বহনে প্রাইভেট কার কিংবা মাইক্রোবাস ব্যবহার করুন।
প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা নিন।
৫.
মার্কেট/শপিং মলে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীর বিশ্বস্ততা সম্পর্কে নিশ্চিত
হোন এবং তাদের ঠিকানাসহ ছবি ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহে রাখুন।
৬.
মার্কেট/শপিং মলের চাবি নিজের কাছে রাখুন।
৭.
গাড়ী পার্কিং এর জন্য নির্ধারিত স্থান ব্যবহার করুন।
৮.
গাড়ী পার্কিং এর সু-ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা রয়েছে এ ধরনের মার্কেট/বিপনী
বিতান হতে কেনাকাটায় উৎসাহী হোন।
৯.
মার্কেট কিংবা বিপনী বিতানে পার্কিং এর সুব্যবস্থা না থাকলে গাড়ী নিকটতম
পে-পার্কিং এ রাখুন অথবা গাড়ীতে সর্বদা ড্রাইভারকে অবস্থান করার পরামর্শ দিন।
১০.
গাড়ীতে স্টিয়ারিং লক ব্যবহার করুন।
১১.
গাড়ী পার্কিং শেষে গাড়ীর দরজা লক করেছেন কিনা তা যাচাই করে নিন।
মটরবাইক এর উভয় চাকায় লক ব্যবহার করুন।
অননুমোদিত স্থানে মটরবাইক রাখবেন না।
১২.
আপনার গাড়ীতে ড্রাইভার নতুন হলে তার বিশ্বস্ততার বিষয়ে নিশ্চিত হোন এবং তার
ছবি ও ঠিকানাসহ সকল তথ্য সংগ্রহে রাখুন।
১৩.
গাড়ী চুরি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অটোমেটিক এলার্ম/কার লক/জিপিএস/জিএসএম
ডিভাইস ব্যবহার করুন।
১৪.
মার্কেটে কিংবা বিপনী বিতানে গমনের সময় দামী অলংকারাদি ব্যবহার থেকে বিরত
থাকুন।
১৫.
মার্কেটে/শপিং মলে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় অনাকাঙ্খিত ভিড় ও ধাক্কাধাক্কি
পরিহার করুন।
১৬.
পকেটমার,
ছিনতাইকারী,
প্রতারক ও দুস্কৃতিকারী হতে সাবধান হোন।
১৭.
যতদূর সম্ভব দিনের আলোয় কেনাকাটা শেষ করার চেষ্টা করুন।
ঝুঁকি
এড়াতে অধিক রাতে কেনাকাটা পরিহার করুন।
১৮.
ইভটিজিং রোধে মালিক পক্ষ/আপনি পুলিশকে অবহিত করুন।
১৯.
মালিক পক্ষ স্ব স্ব মার্কেট/শপিং মলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করুন এবং
আপনার এলাকার থানা/ফাঁড়ির সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখুন।
২০.
মার্কেট/শপিং মলের নিরাপত্তার স্বার্থে সিসিটিভি ব্যবহারে উৎসাহী হোন।
২১.
মার্কেট/শপিং মল সংলগ্ন কোন বাসা,
মেস,
হোটেল বা রেস্টুরেন্ট থাকলে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করুন যেন কেউ আপনার
মার্কেট/ শপিং মলের দেয়াল ভেঙে বা ফুটো করে ভিতরে প্রবেশ করতে না পারে।
২২.
দোকানের ক্যাশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে নিজস্ব নিরাপত্তায় এবং
প্রয়োজনে পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে ব্যাংকে জমা দেয়ার ব্যবস্থা করুন।
২৩.
মার্কেট/শপিং মলের সামনে কোন সন্দেহজনক লোককে ঘোরাফেরা করতে দেখলে সঙ্গে
সঙ্গে তা পুলিশকে অবহিত করুন।
২৪.
মালিকপক্ষ স্ব স্ব মার্কেট/শপিং মলের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে
নিজেদের জেনারেটর ব্যবহারে অধিক তৎপর হোন।
|