|
রক্ষা পেল পৃথিবী
সংলাপ
॥
চিন্তা
ছিল বিজ্ঞানীদের।
তাই আগে থেকেই সতর্কবার্তা পৌঁছে গিয়েছিলো আমেরিকার সর্বত্র।
সেদেশের প্রতিরক্ষা বিভাগকেও তৈরি থাকতে বলা হয়েছিল।
তবে মশা মারতে কামান দাগাটা যেমন হাস্যকর,
তেমনি পৃথিবীর ওপর আছড়ে পড়া তেজস্ক্রিয় কণাবৃষ্টি রোখাটা কোন দেশের
প্রতিরক্ষা বিভাগের ক্ষমতার মধ্যে পড়ে না।
তবে যেহেতু আগাম জানানো হয়েছিল তাই ওই সতর্কবার্তা নিয়ে সব দেশেই কমবেশি
উদ্বিগ্ন ছিল।
তবে এ যাত্রায় কোন কুফল দেখা যায়নি এই যা রক্ষে।
২৪শে জানুয়ারি লন্ডনের স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১১টায় পৃথিবীর ওপর আছড়ে
পড়েছিল সৌর ঝড়।
মহাজাগতিক এই রোমাঞ্চকর ঘটনার ছবিও তুলতে পেরেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা
সংস্থা নাসা।
২০০৩ সালে অক্টোবর মাসের পর এত সৌর ঝড় দেখেনি পৃথিবী।
সেকেন্ডে ২,২০০
কিলোমিটার বেগে ধেয়ে এসেছিলো ওই ঝড়।
ছুঁয়ে গেছে বহির্জগতের তড়িৎচৌম্বকত্ব বিকিরণ থেকে পৃথিবীকে আগলে রাখার
ঢাল ম্যাগনোস্ফিয়ারকে।
মহাকাশ বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা ছিল ওই সৌর ঝড়ের তেজস্ক্রিয় বিচ্ছুরণ এ
যাত্রায় পৃথিবীর বাইরের কৃত্রিম উপগ্রহকে সে অর্থে ক্ষতি করতে পারেনি।
মহাকাশে থাকা নভোচররা সূর্যের তেজস্ক্রিয় বিকিরণে মুখোমুখি হলেও তারা
কোনক্রমে বেঁচে গেছেন।
যদিও নাসার গডার্ড স্পেস ওয়েদার সেন্টার বারংবার যাওয়া সত্ত্বেও উত্তর
আমেরিকার বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েনি।
আগে থেকে নিষেধ করার জন্যই ওই সময় মেরু প্রদেশে কোন উড়ান চালানো হয়নি।
তাই সাধারণ সৌর ঝড়ের দ্বিগুণ গতিবেগে এই আঘাত হলেও ক্ষতিটা সে অর্থে
ছুঁতে পারেনি পৃথিবীকে।
তবে বিকিরণের প্রভাবে উত্তর আমেরিকায় দেখা গেছে বিরল মেরুজ্যোতি।
নাসার বিজ্ঞানীরা আগেই জানিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে এই সময়
কাজ করছেন ছয় জন মহাকাশচারী।
২৪ তারিখের আচমকা ঝড়ের হাত থেকে বাঁচতে মহাকাশচারীদের আগেই পাঠানো হয়েছিল
সতর্ককরণীয় ভিডিও মেসেজ।
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন,
সূর্যের আবহম-লের চৌম্বকীয় শক্তির হঠাৎ হঠাৎ বিচ্ছুরণের জন্য তৈরি হয় সৌর
ঝড়।
এর আগে অবশ্য প্রত্যেকটি বড় সৌর ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
১৯৭২ সালে এমনই এক সৌর ঝড়ের প্রভাবে আমেরিকার ইলিওনিস প্রদেশে বেতার
যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোদস্তুর বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।
১৯৮৯ সালে অপর একটি ঝড়ে কানাডার কুইবেক প্রদেশের বিদ্যুৎবাহী গ্রিড বিকল
হয়ে গিয়েছিল।
৬০ লক্ষ মানুষকে অন্ধকারে কাটাতে হয়েছিল।
পুরনো এসব অভিজ্ঞতার জন্যই বিজ্ঞানীরা আগাম আশঙ্কার কথা জানিয়ে রেখেছিলো।
সেই সঙ্গে নিতে বলা হয়েছিল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।
আমেরিকার ন্যাশনাল ওসানিক অ্যান্ড অ্যাটমিস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিষ্ট্রেশন
(নোয়া) জানিয়ে দিয়েছিল সৌর ঝড় আছড়ে পড়বে পৃথিবীর ম্যাগনোস্ফিয়ারে।
বহির্জগতের তড়িৎ চৌম্বকীয় আক্রমণ থেকে পৃথিবীকে সুরক্ষা দেয় এই
ম্যাগনোস্ফিয়ার।
সৌর ঝড়ে নির্গত তড়িৎচৌম্বকীয় আঘাত এখানে তৈরি করবে দুই থেকে তিনটি
ছিদ্র।
ওই ছিদ্র পথে পৃথিবীর অভিমুখে বেয়ে আসতে থাকবে ভারী তড়িৎ চৌম্বকীয়
বিকিরণ।
এখানেই শেষ নয়।
এর পিছু পিছু আঘাত শানাতে থাকবে প্রোটোন কণার তেজস্ক্রিয় বিচ্ছুরণ।
সাধারণ সৌর ঝড়ের গতিবেগ যেখানে হয় ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০ লক্ষ মাইল,
সেখানে এবারে ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘন্টার ৪০ লক্ষ মাইল।
সে অর্থে এবারে সৌরঝড়ের গতি দাঁড়াচ্ছে সাধারণ ঝড়ের দ্বিগুণ।
তবে প্রভাব সে অর্থে তেমন একটা হয়নি।
নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন,
সৌর ঝড়ের দুঘণ্টা পরে দেখা গেছে সৌর শিখা।
বিজ্ঞানীদের মতে,
এই ঘটনায় তিন রকমের বিকিরণ বের হতে থাকে সূর্য থেকে।
প্রথমদিকের বিকিরণটি তড়িৎচুম্বকীয়।
গত রবিবার থেকে তা শুরু হয়েছে।
গত বুধবার পর্যন্ত চলছে এই বিকিরণ।
এই বিকিরণ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে চলা বিভিন্ন কৃত্রিম উপগ্রহ এবং
মহাকাশচারীদের ওপর প্রভাব ফেলবে আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের।
মেরু অঞ্চলে যাতায়াতকারী বিমানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে
যাওয়ারও আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।
বিজ্ঞানীদের মতে ২০০৫-এর মে মাসের পরে এই প্রথম বড় সৌর ঝড়ের সন্ধান
পাওয়া গেল।
অন্যদিকে,
দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় সূর্য থেকে যে প্রোটন কণার স্রোত এবং একাধিক কণার
স্রোত (করোনাল মাস ইনজেকশন) নির্গত হবে তা নিয়েই সমস্যা বেশি হওয়ার কথা
ছিল।
ঘন্টায় ১৫ কোটি কিলোমিটার বেগে প্রোটন কণা স্রোতের পাশাপাশি ঘন্টায়
কমপক্ষে ৩২ লক্ষ কিলোমিটার বেগে ছুটে আসার কথা ছিল বিভিন্ন কণার স্রোত।
শেষের বিকিরণ থেকে মুক্তি পাওয়ার কোন সম্ভাবনা ছিল না।
পস্নুটো অবধি ছড়িয়ে পড়েছে এই বিকিরণ।
|