|
|
তেল নিয়ে তেলেসমাতি আর নয়!
সংলাপ
॥
কয়েক বছর ধরেই দেশে তেল নিয়ে তেলেসমাতি চলছে।
ব্যবসায়ীরা নিজেদের খেয়াল খুশি মতো দফায় দফায় ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে যাচ্ছেন।
ক্রেতারা বাধ্য হচ্ছেন
সেই বাড়তি দামে তেল কিনতে।
অন্যদিকে সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের বৈঠকে ভোজ্য তেলের দাম না
বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হলেও সেটা তোয়াক্কা করছেন না ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ী মহলের এধরনের বেপরোয়া আচরণ সত্যিই হতাশাজনক।
এ
সপ্তাহে নতুন করে বোতলজাত তেলে প্রতি লিটারে ৫/১০ টাকা বেশি নিচ্ছেন
বিক্রেতারা।
খোলা তেলের দামে আরো কারসাজি করা হয়।
অতীতে দাম বাড়ানোর ব্যপারে ব্যবসায়ীরা নানা বাহানা দেখিয়েছেন।
এবার বলছেন ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে;
কিন্তু
কথা হলো,
ডলারের দাম বৃদ্ধি হলেই তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভোক্তাদের ওপর দাম
চাপিয়ে দেবেন এটা কেমন কথা।
আর সরকারের সিদ্ধান্তও মানবেন না তা কী করে হয়।
তাছাড়া সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের দাম কমার দিকে।
তাই দেশী বাজারে এমন অস্থিরতা
কিছুতেই বোধগম্য নয়।
এসবের আসল কারণ অনুসন্ধান করা দরকার।
গত সপ্তাহে একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়,
ভোজ্য তেলের দাম বাড়ার নেপথ্যে কাজ করছে ৫ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী।
তাদের মিলগুলো পরিবেশকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করছে।
তবে পণ্যের সরবরাহ চালান ও ক্যাশ মেমোতে দেখানো হচ্ছে
কম মূল্য।
বাড়তি টাকা নেয়া হচ্ছে
গোপনে।
এসব তথ্য পরিবেশিত হয়েছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার
বরাত দিয়ে।
ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কথা আমরা আগেও শুনেছি।
কথা হলো কতিপয় ব্যবসায়ী দেশের সাধারণ মানুষের মাথার উপর কাঁঠাল ভেঙ্গে
খাবে সেটা কী ঠিক?
ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে
সরকারকে ব্যবস্থা
নিতে হবে এ কথা অনেক বার বলা হয়েছে কিন'
এতে কি কোন কাজ হয়েছে?
হয়নি।
এর প্রতিকার করতে পারে একমাত্র জনসচেতনতা,
স্বাস্থ্য
সচেতনতা।
কিভাবে?
উত্তর - তেল খাওয়া ছেড়ে দিয়ে।
তেল স্বাস্থ্যের
জন্য উপকারী নয়।
প্রাণিজ হোক কিংবা উদ্ভিজ হোক যে কোনো রকমের তেল যে কয়েক ধরনের শরীরগত
ক্ষতিসাধন করে সেগুলো হলো - ১. অক্সিজেন সংকট ও তৎজনিত বিবিধ ব্যাধির
আক্রমণ।
২. কোলেস্টরলের মাত্রা বৃদ্ধি।
৩. ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি।
৪. ডায়াবেটিসের আক্রমণ।
তেল রক্তের লোহিত কণিকা এবং ক্ষুদ্রতর অণুচক্রিকার চারপাশে একটা ফ্যাটি
ফিল্ম সৃষ্টি করে।
ফলে কণিকাগুলো জমাট বেঁধে যায়।
আর এই জমাটবাঁধা অবস্থায়
এরা নিজের কাজ সঠিকভাবে করতে পারে না।
ধীরে ধীরে রক্তবাহী ক্যাপিলারিগুলো প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
তেল রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দেয় ফলে দেহের টিস্যুগুলো তাদের
প্রয়োজনীয় পরিমাণ অক্সিজেন প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়।
ফলে ধমনী সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগ,
হার্ট অ্যাটাক,
উ"চ রক্তচাপ,
পিত্তপাথরী,
দৃষ্টিসমস্যা,
শ্রবণ সমস্যা,
অকাল বার্ধক্য ইত্যাদি রোগের সৃষ্টি হয়।
তেল,
কোলেস্টরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে প্রাণনাশক হৃদরোগের সৃষ্টি করে।
তেল,
ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি করে,
দেহে বাতব্যাধি ও আর্থারাইটিসের প্রকোপ বৃদ্ধি করে।
স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীরা
বলেন,
ডায়াবেটিস রোগের প্রধান কারণ তেল।
কারণ রক্তের ফ্যাট দেহের সুগার থেকে তাপশক্তি নেয়ার কাজে প্রচন্ড বাধা
দেয়।
অতিরিক্ত তেল খেলে মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে ডায়াবেটিস দেখা দিতে পারে।
ফ্যাট গ্রহণের স্বাভাবিক প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সন্দেহের অবকাশ নেই।
কিন'
এ নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা হলো ভোজ্যতেল,
ঘি,
মাখন ইত্যাদি খাওয়া।
বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দেখা গেছে এমন কোনো খাদ্যবস'
নেই যাতে ফ্যাট নেই।
প্রয়োজনীয় তাপ ও শক্তির জন্য যতটুকু ফ্যাট দরকার তা আমরা খাদ্যশষ্য,
শাক-সবজি আর ফলমূল থেকেই পেতে পারি।
পুষ্টি বিজ্ঞানের গবেষণায় জানা যায়,
সুস্বাস্থ্যের
জন্য তেল খাওয়া শুধু অর্থহীন নয়,
যথেষ্ট ক্ষতিকারক।
এ পর্যন্ত তেল নিয়ে যত পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে তাতে সন্দেহাতীত ভাবে
প্রমাণিত হয়েছে যে,
তেল ক্ষতিকারক স্নেহ পদার্থ এই পদার্থের প্রতি স্নেহ থাকা স্বাস্থ্যের
জন্য হুমকি।
আসুন আমরা তেল খাওয়া ছেড়ে দেই।
তাহলে ব্যবসায়ীরা তেলের দাম কমাতে বাধ্য হবে।
বন্ধ হবে তেল নিয়ে তেলেসমাতি।
|
|