রাজধানীতে শুরু হয়েছে ভয়াবহ যানজট।
পাশাপাশি ভ্যাপসা গরম ও যানবাহন সংকটে জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে।
যানজটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে নগরবাসী।
সকালে কর্মস্থলে যেতে এবং বিকালে বাসায় ফিরতে নগরীর বিভিন্ন বাস
স্টপেজে কর্মজীবী মানুষদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা।
অনেক ক্ষেত্রেই যাত্রীরা বাস ছেড়ে পায়ে হেঁটে দূর-দূরান্তে রওনা দেন।
বিকালে ইফতারির সময় হয়ে আসছে দেখে পায়ে হেঁটে বাসায় ফিরছে হাজারো মানুষ।
পুলিশের এতো আয়োজন থাকতেও নগরজীবন অচল হয়ে গেছে যানজটে।
সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত শেওড়াপাড়া,
আসাদগেট,
ফার্মগেট,
কাওরানবাজার,
বাংলামটর,
শাহবাগ,
মালিবাগ,
রামপুরা,
বাড্ডা,
তেজগাঁও,
পল্টন,
নবাবপুর,
উত্তরা,
গুলশান,
কাকলী,
যাত্রাবাড়ী,
কলাবাগান ও সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকা যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে।
যানজট ছড়িয়ে পড়ে পাড়া-মহল্লার অলিগলিতেও।
দুপুরের পর তা প্রকট আকার ধারণ করে।
বিশেষ করে দুপুর তিনটার পড়ে যানজটে নাকাল হয়ে পড়ে নগরবাসী।
কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে পরিবহন সংকট।
বাসে ওঠার উপায় নেই।
দুপুরের পরপর অধিকাংশ লোকাল বাস সিটিং বাসে পরিণত করা হয়।
সিএনজি-অটোরিকশা মিটারে চলে না।
তাই বাধ্য হয়ে বাদুর ঝোলা,
কখনোবা দীর্ঘপথ হেঁটেই বাসায় ফিরতে হয় যাত্রীদের।
দুপুর থেকে সায়েদাবাদ,
যাত্রাবাড়ী,
খিলগাঁও,
মিরপুর,
শ্যামলী,
বনানী,
কাকলি,
গুলশান ও এয়ারপোর্ট রোডে অসহনীয় যানজট সৃষ্টি হয়।
বিশেষ করে ফার্মগেট ও পল্টন এলাকায় অসহনীয় যানজট থাকে।
প্রচণ্ড গরমে বাসের মধ্যে আটকে থাকতে হয় বাসযাত্রীদের।
মহাখালী,
গাবতলী,
সায়েদাবাদ,
মতিঝিলের শাপলা চত্বরের আশপাশ,
গুলিস্তান,
দৈনিক বাংলার মোড়,
পল্টন,
নিউমার্কেট,
শাহবাগ,
বাংলামোটর,
সোনারগাঁও হোটেলের আশপাশ এলাকা,
মালিবাগ,
মৌচাক,
মগবাজার এলাকায় সারাদিনই লেগে থাকে যানজট।
সকাল থেকেই এই মোড়গুলোতে যানজটের জট বাড়তে থাকে।
মহানগরীর যানজট কমাতে রমজানের প্রথম দিন থেকেই কিছু নিয়মকানুন চালু করে
ট্রাফিক পুলিশ।
মহানগরীর ১৩টি পয়েন্টে চালু করা হয় ফোর লেন পদ্ধতি।
নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করতে বাড়ানো হয় পুলিশের তৎপরতা।
যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং বন্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়
মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে।
কিন্তু শত আয়োজনেও কোন দৃশ্যমান পরিবর্তন নেই যানজটে।
পুলিশ কমিশনার একেএম শহীদুল হক বলেন,
যানজটমুক্ত মেগাসিটির জন্য সিটির মোট আয়তনের ২০ শতাংশ সড়ক থাকা প্রয়োজন।
ঢাকা শহরে মাত্র সাত ভাগেরও কম সড়ক রয়েছে।
এছাড়া অনিয়ন্ত্রিত এবং অপরিকল্পিতভাবে প্রাইভেট গাড়ির রেজিস্ট্রেশন
দেয়ার কারণে শহরের যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
প্রতিদিন নতুন গাড়ি শহরে চলাচল শুরু করলেও সড়ক চওড়া করার ব্যাপারে কোন
পদক্ষেপ না থাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।