পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংগঠন ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স বা
আইএসআইকে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক জঙ্গি সংগঠন বলে মনে করে মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্র।
২০০৭ সালের
সেপ্টেম্বরে গোপন মার্কিন নথিতে এই কথা বার বার উলেস্নখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি ওই
স্পর্শকাতর তথ্য ব্রিটেনের ‘দি
গার্ডিয়ান’
পত্রিকায় ফলাও করে
ছেপে বেরনোয় চরম অস্বসিত্মতে পড়েছে ওয়াশিংটন এবং ইসলামাবাদ।
শুধু তাই নয়,
সরকারি
পর্যায়ে ওই গোপন নথিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে,
আল কায়েদা ও
তালিবানের মতোই সমান বিপজ্জনক হল আইএসআই।
প্রসঙ্গত,
৯/১১
গুয়ানতানামো বে-তে নির্বাসিত জঙ্গিদের লাগাতার জেরা করে আইএসআইয়ের মুখ
ও মুখোশ নিয়ে অনেক কিছুই জানতে পারে সিআইএ এবং পেন্টাগণ।
সেখান থেকেই
ঘটনাপ্রবাহের উপর সজাগ দৃষ্টি রেখে তারা সিদ্ধানেত্ম আসেন,
পশ্চিম
এশিয়ায় অতি সক্রিয় ইজরায়েল বিরোধী দুই জঙ্গি সংগঠন হামাস ও হিজবুল্লার
মতোই বিপজ্জনক হল আইএসআই এবং তার পরিচালন গোষ্ঠী।
দক্ষিণ
এশিয়ায় বিভিন্ন জঙ্গি হামলা,
নাশকতা ঘটায় তারা।
এদের একটি
অংশ আল কায়েদার সঙ্গেও জড়িত।
গুয়ানতানামো
আটক ৪২ বছরের তালিবান জঙ্গি নেতা হারুন শারজাদ অল আফগানি কবুল করেছে,
আইএসআই
আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট শক্তির বিরুদ্ধে নানা রকম
নাশকতায় মদদ দিচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে।
ওরা এটা
চালাচ্ছে প্রায় দু’দশক
ধরে।
আফগানিস্তানের
মাটিতে তালিবান প্রধান মোল্লা ওমরের নেতৃত্বে ডাকা গোপন বৈঠকে ২০০৭
সালে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ও সক্রিয় অনেক শীর্ষ আইএসআই অফিসার।
ওই বৈঠকে
তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত,
বিশ্বে কোন
কোন সংগঠন মার্কিন স্বার্থ ও নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক চেহারা নিচ্ছে
তার একটা মূল্যায়ন করে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
সেখানে
সম্ভাব্য বিপদ ও বিপদের মাত্রা নিয়ে একটি গোপন রিপোর্ট তৈরি করা হয়।
যাকে সামরিক
পরিভাষায় বলা হয়, ‘থ্রেট
ইন্ডিকেটর ম্যাট্রিক্স’।
২০০৭ এর
সেপ্টেম্বরে তৈরি হওয়া ওই থ্রেট ইন্ডিকেটর ম্যাট্রিক্সে স্পষ্ট বলা
হয়েছে,
বিশ্বে ৩৬টি
বিপজ্জনক সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর অন্যতম হল আইএসআই।
অন্যগুলো হল
হামাস,
হিজবুল্লা,
আল কায়েদা,
তালিবান,
লস্কর ই
তোইবা,
চেচেন শহিদদের
নিকটজনদের নিয়ে তৈরি ‘সাবোতাজ
ব্যাটেলিয়ন অব চেচেন মার্টিয়ার্স’
ইরানিয়ান
ইন্টিলিজেন্স সার্ভিস,
ইজিপসিয়ান ইসলামিক
জেহাদ,
মুসলিম ব্রাদার হুড
ইত্যাদি।
যদিও চার বছর আগে তৈরি ওই নথিগুলোতে আইএসআইয়ের উলেস্নখ রয়েছে।
তারপরেও
আমেরিকা সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তানকে কোটি কোটি ডলার সামরিক ও অসামরিক
সাহায্য মঞ্জুর করে।
কিন্তু
পত্রিকাটির মতে,
আইএসআইয়ের নাম ওই
কালো তালিকা থেকে এখনও মোছেনি ওয়াশিংটন।
বরং
আইএসআইকে কালো তালিকাভুক্ত করে তার কাজকর্মের ওপর কড়া নজর রেখে চলেছে।
পত্রিকাটি আরও লিখেছে,
আইএসআইয়ের
বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘাতে গেলে দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে চলা
যুদ্ধে আমেরিকা ও পশ্চিমী দেশগুলোর সমূহ ক্ষতি হবে।
এখনও লাদেন
ও তার সহযোগী জাওয়াহিরিসহ শীর্ষ আল কায়েদা নেতারা অধরা।
এই অবস্থায়
আমেরিকা ইচ্ছে করেই কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না।