সন্ত্রাস নিয়ে মার্কিনী ভণ্ডামি

 

সংলাপ

 

গত সপ্তাহে ইরাকের বিভিন্নস্থানে ইরাকী সরকারী বাহিনীর উপরে এবং অন্যত্র আক্রমণের ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ মার্কিন 'কমব্যাট' সেনা ইরাক থেকে সরতে শুরু করার পর মঙ্গলবার মার্কিন সেনাসংখ্যা ৫০ হাজারের নিচে নেমে গিয়েছিল ২০০৩ সালের পর থেকে এই প্রথম ইরাকে মার্কিন সেনা ৫০ হাজারের নিচে নামলো আর তার পরের দিনেই এই আক্রমণ ফলে স্বাভাবিকভাবে মার্কিন ও ইরাক প্রশাসনের দুর্ভাবনা বেড়েছে কারণ ওয়াশিংটন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা ইরাক থেকে প্রত্যক্ষ সমরে যুক্ত মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেবে সে কাজ শুরুও হয়ে গেছে ইরাকী সেনাদের সাহায্য করা ও পরামর্শ দেয়ার জন্য মার্কিন সাধারণ সেনা থাকবে আগামী সপ্তাহের মধ্যে ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের পুরোপুরি সরে যাওয়ার কর্মসূচী রয়েছে অনেকে বলছেন সাত বছরের যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটলো মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা অবশ্য সেভাবে বিষয়টি হাজির করতে চান না হোয়াইট হাউস চায় মার্কিন নাগরিকদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে যে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের দু'মাস আগে ওবামা তার কথা রেখেছেন আগামী সপ্তাহে এসব নিয়ে ওবামা জবরদস্ত ভাষণ দিবেন বলে শোনা যাচ্ছে হয়তো ইরাক ফেরত মার্কিন সেনাদের সঙ্গে তার মোলাকাতও করিয়ে দেয়া হবে

৩১ আগস্ট থেকে ইরাকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা থাকবে এই সংখ্যা বেড়ে ৭০ হাজারে গিয়ে দাঁড়াতে পারে এদের সঙ্গে থাকবে ফৌজি বিমান, হেলিকপ্টার এই মার্কিন সেনারা ইরাকে আরো ১৬ মাস থাকবে যাই হোক ইরাকের ভবিষ্যৎ যে বিপদসঙ্কুল থেকে যাচ্ছে তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে কারণ মার্কিন সেনাদের একটা বড় অংশ সরে যাওয়ার পর সেখানে যে শূন্যতার সৃষ্টি হবে তা পূরণ করার মতো ক্ষমতা বর্তমান ইরাক প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর নেই রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে কলহ করতেই ব্যস্ত ৩ কোটি সাধারণ ইরাকী আবার অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের মুখে পড়বেন দেশের নির্বাচিত রাজনীতিবিদেরা নির্বাচনের ৫ মাস বাদেও সরকার গঠন নিয়ে এতো বেশি কলহে মত্ত যে সেই শূন্যতার সুযোগ নেবে উগ্রপন্থী শক্তিগুলো বলাইবাহুল্য, ২০০৩ সালে ইরাকে একতরফাভাবে মার্কিনী আক্রমণের ফলে ভীষণ সুবিধা হয়েছে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন গুলোর পশ্চিম এশিয়ায় তারা নিজেদের প্রভাব বাড়াতে পেরেছে বোঝাই যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার নামে মার্কিন প্রশাসন আসলে সন্ত্রাসবাদকেই মদদ দিয়েছে এবং দিচ্ছে এই সত্য এখন আরো বেশি মাত্রায় অনুভব করা যাচ্ছে

মার্কিনীদের ইরাক আক্রমণ আসলে সন্ত্রাসবাদীদের কাছে বিরাট উপহার কারণ, মার্কিন সেনাদের আক্রমণ ও অত্যাচারে বিপর্যস্ত সাধারণ ইরাকীরা নিশ্চয় মার্কিনীদের সমর্থন করবেন না মার্কিন সেনাদের ইরাক ছাড়া নিয়ে ইরাকে নীরবতা ও অনিশ্চয়তার অন্ধকার নেমে এসেছে ২০০৩ সাল থেকে আমেরিকা নানাভাবে ইরাককে বিপর্যস্ত করেছে একটি আধুনিক সভ্য দেশকে থেঁতলে দিলো আদিপত্যবাদী শক্তিগুলো ইরাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করেছিল এক ভয়ঙ্কর ধরনের মিথ্যা তথ্যকে ঘিরে, ইরাকের হাতে নাকি গণ-বিধ্বংসী সমরাস্ত্র আছে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতি জর্জ বুশ আক্রমণের আগে 'মুক্তি ও স্বাধীনতার' স্লোগান দিয়েছিলেন ওই স্লোগানের আড়ালে ইরাকে একবিংশ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠা করা হলো এক নয়া উপনিবেশের ইরাকে এখন বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকবে মার্কিনী চক্রান্তের পরিণামে ইরাকে অসংখ্য সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে ৫০ লক্ষ ইরাকী শরণার্থীতে পরিণত হয়েছেন ইরাককে শোচনীয় অবস্থায় রেখে ওবামা এখন 'মহান' সাজতে চাইছেন।                

 

উত্তরাঞ্চল ফেন্সিডিল পাচারের নিরাপদ রুট

 

এস.এম.শামসুজ্জোহা ॥ 

 

উত্তরাঞ্চলে শুধু ভারতীয় অবৈধ ফেন্সিডিল পাচারে বিনিয়োগ হচ্ছে অন্তত প্রতি মাসে ৫০ কোটি টাকাবিনিময়ে স্থানীয় এজেন্টের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগীয় ঢাকা-রাজশাহী মহা সড়কের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যশোর ও নওগাঁ সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন রুট হয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় চলে যাচ্ছে এইসব ভারতীয় অবৈধ ফেন্সিডিলক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে ভাগ হয়ে ভারতীয় অবৈধ ফেন্সিডিল চোরাচালান করছে স্থানীয় চোরাকারবারীরাএইসব ভারতীয় অবৈধ ফেন্সিডিলের গন্তব্য রাজধানী ঢাকাসহ টাঙ্গাইল, গাজিপুর ও ময়মনসিংহআর ভারতীয় অবৈধ ফেন্সিডিল পাচারের সুবিধার জন্য মালবাহী ট্রাক ও সবজির চালানকে বেছে নিচ্ছে চোরাকারবারিরাবর্তমানে ভারতীয় অবৈধ ফেন্সিডিল পাচারের নিরাপদ রুট হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে রাজশাহী অঞ্চলরাজশাহী বিভাগীয় গোয়েন্দা অফিস এমনই তথ্য দিয়েছেগত সপ্তাহে রাতে ভারতীয় অবৈধ ফেন্সিডিল পাচারে নিয়োজিত মূল হোতা গোদাগাড়ীর মাদারপুর গ্রামের আব্দুর রহমান টিপু ফেন্সি, চারঘাট ফেন্সিডিল ও ভারতীয় মদ ব্যবসায়ি শফিকুল গ্রেফতারের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য দিয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশ সহকারি কমিশনার তারিকুল ইসলাম

পুলিশ সূত্র জানায়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভারতীয় অবৈধ ফেন্সিডিল চোরাচালানের টাকা আসছে কুরিয়ার সার্ভিসে বেনামেসম্প্রতি পুলিশ ও র‌্যাব অভিযান চালিয়ে এ চক্রের কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছেতাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে  ফেন্সিডিল চোরাচালানে তাদের বিনিয়োগ ও পাচারের কৌশলপুলিশ সূত্র আরো জানায়, ভারতীয় অবৈধ ফেন্সিডিলের চালান নিতে বিভিন্ন জেলা থেকে চোরাচালানিরা রাজশাহীতে এসে আবাসিক হোটেলে অবস্থান নেয়মোবাইল ফোনে কন্ট্রাকের মাধ্যমে নিশ্চিত করে ফেন্সিডিল চালানএরপর মাল ও সবজিবাহি ট্রাক চালকদের সঙ্গে আপোষরফা করে ফেন্সিডিল চোরাচালানিরা নিজেরাই সবজি কিনে ট্রাক ভর্তি করে তার সঙ্গে ফেন্সিডিল চোরাচালান করছেনাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফেন্সিডিল চোরাচালানী ব্যবসায়িক জানান, ভারতীয় অবৈধ ফেন্সিডিলের চালান আনা হয় সম পরিমাণ পণ্য বা তামা, কাঁসা, পিতলসহদামী জিনিসের বিনময়েপরে খুচরা ব্যবসায়িকরা টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে যায় দেশের বিভিন্ন জায়গায়এ সময় গোপন টোকেন ও সংকেত ব্যবহার করা হয়ে থাকেগত ২০ আগস্ট কাঁচা মরিচের সঙ্গে ফেন্সিডিল পাচারের সময় একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে ৮৫০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করে র‌্যাবএর আগেও সবজির সঙ্গে ফেন্সিডিল পাচারের সময় পুলিশ ও র‌্যাব অভিযান চালিয়ে তা উদ্ধার করছেগোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানায়, আগে ফেন্সিডিল চোরাচালানিরা চালান নিয়ে হাতে হাতে টাকা দিয়ে যেতএখন ফেন্সিডিল পাওয়ার পর সেই টাকা চোরাচালানিরা ছদ্মনামে কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠিয়ে দেয়া হয়গত ১৩ আগস্ট রাজপাড়া থানা পুলিশ নগরীর ওয়েহোম আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে ফেন্সিডিল চোরাচালানির সদস্য জামিলকে গ্রেফতার করেপুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে জামিল জানিয়েছে, ঢাকা থেকে দুই সঙ্গীসহ রাজশাহীতে আসে সেতারা নগরীর নিউমার্কেট এলাকার ওয়েহোম আবাসিক হোটেলে অবস্থান নেয়জামিলের দেয়া তথ্যানুযায়ী পুলিশ ১৪ আগস্ট কুমারপাড়া এলাকার এসএ পরিবহণের কাছ থেকে গ্রেফতার করে হাবিব নামের এই চক্রের আরেক সদস্যকেতার কাছ থেকে উদ্ধার হয় ১৯ লক্ষ টাকাতারা দু'জন পুলিশকে জানিয়েছে, ফেন্সিডিলের চালান নিতে ঢাকা থেকে টাকাগুলো পাঠানো হয়প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন রুটের চোরাচালানিরা প্রায় ৫ থেকে ১০ কোটি টাকা লেনদেন করে বলে সূত্র নিশ্চিত করেগোয়েন্দা পুলিশ সহকারী কমিশনার তারিকুল ইসলাম জানান, ফেন্সিডিল নিতে এ অঞ্চলে নতুন করে চোরাচালানিদের বিনিয়োগের তথ্য পাওয়ার পর তারা মাঠে নামেনতাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, নগরী ছাড়াও আশেপাশের জেলাগুলোতে নতুন কায়দায় তারা বিনিয়োগ করছেতবে বর্তমানে চোরাকারবারিরা উত্তরাঞ্চলকে ভারতীয় অবৈধ ফেন্সিডিল চালানের নিরাপদ রুট হিসাবে ব্যবহার করছে।  প্রতিমাসে ১০ কোটি টাকার বিনিয়োগ হচ্ছেসব টাকা আসছে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমেতিনি আরো জানান, সর্বশেষ গত সোমবার অভিযান চালিয়ে চোরাচালান চক্রের সদস্য আবদুর রহমান টিপুকে গ্রেফতার করা হয়েছেএছাড়া তার কাছে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ছদ্ম নামে পাঠানো ৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছেতার দেয়া তথ্যানুযায়ী বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫০০ বোতল ভারতীয় অবৈধ ফেন্সিডিল

পুলিশ কমিশনার রোকন উদ্দিন জানান, ভারতীয় অবৈধ ফেন্সিডিল চোরাচালানে বিপুল অংকের অর্থ বিনিয়োগের কারণে তারা ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।  শিঘ্রই ভারতীয় অবৈধ ফেন্সিডিল চোরাচালানে বিনিয়োগকারী চক্র মূল হোতা ও তাদের সহযোগীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান। 

                  

মোবাইল ফোন বিকিরণে মানুষের পঙ্গুত্ব বাড়ছে

 

সংলাপ

 

অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় রেডিও বিকিরণ ছড়ায় এমন অসংখ্য নিম্নমানের মোবাইল ফোনে ক্রমশ ছেয়ে যাচ্ছে বাজার'ব্রান্ডেড' মোবাইল সেটগুলির তুলনায় অনেক কম দামে যত্রতত্র বিক্রি হওয়া এই সব মোবাইল সেট ব্যবহারের ফলে শুধু যে এদেশে অদূর ভবিষ্যতে মস্তিষ্কের ক্যানসার বা মস্তিষ্কে টিবি-এর মতো মারণ রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে তাই নয়, এর ফলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতাও দ্রুত কমতে থাকবে বলে চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের অভিমতকমে যাবে স্মৃতিশক্তি মহামারীর মতো দেখা দিতে পারে 'অ্যালজাইমার্স' জাতীয় মস্তিষ্কের ব্যাধিএছাড়া সারা দিন ধরে মাথা ধরা, বিরক্তিভাব, খিটখিটে মেজাজ এসব তো আছেইশুধু মোবাইল ফোন ব্যবহার করার সময় নয়, উচ্চ বিকিরণ ক্ষমতাসম্পন্ন ওই সব মোবাইল সেট শরীরের সংস্পর্শে রাখলেও নানা ধরনের শারীরিক ক্ষতির কারণ হতে পারে প্যান্টের পকেটে যারা রাখেন সেই সব পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতার সমস্যা হতে পারেকোন নামী সংস্থার ছাপ মারা নয়, নেহাতই অনামী এই মোবাইল সেটগুলি বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে ঢুকে পড়ছে মূলত সিঙ্গাপুর থেকেচীন ও তাইওয়ানের এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী এই সব অননুমোদিত স্পেসিফিকেশনের মোবাইল সেটগুলি তৈরি করে আন্তর্জাতিক বাজারে চালান দিচ্ছে আশঙ্কার কথা, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ওই সব মোবাইল ফোনের শুধুমাত্র 'চিপস' নামক মূল যন্ত্রাংশটি আমদানি করেও সস্তায় অনামী হ্যান্ডসেট তৈরি করারও বেশ কিছু কোম্পানিও গড়ে উঠেছে সারা এশিয়া জুড়েআমরা অনেকেই জানি যে, মোবাইল ফোন ব্যবহার করার সময়েই ব্যবহারকারীর শরীরে 'রেডিও ওয়েভ' বা বেতার তরঙ্গের বিকিরণ প্রবেশ করেএর ফলে শরীরের ক্ষতি হয়কিন্তু ক্ষতির পরিমাণ যথাসম্ভব কম রেখে মোবাইল ফোনে সর্বোচ্চ বিকিরণ ক্ষমতা কতটা রাখা যাবে তার জন্য একটি 'আন্তর্জাতিক গাইডলাইন' ঠিক করে দেয়া আছেসমস্ত মোবাইল সেটা প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলোকে ওই নির্দেশিকা মেনে হ্যান্ডসেট তৈরি করতে বলা হয়যদিও তা ঠিকঠাকভাবে মানা হচ্ছে কিনা, দেখার জন্য বাংলাদেশে কোনও পরিকাঠামো নেইবিদেশ থেকে আমদানি করা মোবাইল সেটের ওপর এই বিধি বলবৎ করার মতো কোনও আইনই নেই আমাদের দেশেশুধু আইনি প্রশ্ন নয়, এদেশে গ্রাম-শহরের বিস্তীর্ণ বাজারে দৈনিক বিক্রি হওয়া লক্ষ লক্ষ মোবাইল সেটের বিকিরণ মাত্রা পরীক্ষা করার মতো কোনও ব্যবস্থাও নেই সরকারের হাতেমোবাইল হ্যান্ডসেটের বিকিরণ মাত্রা পরিমাপ করার জন্য যে আন্তর্জাতিক বিধি রয়েছে তার নাম 'স্পেসিফিক অ্যাবজরপশান রেটস' (এসএআর) এটি প্রকৃত পক্ষে একটি একক, যা দিয়ে বোঝানো হয় একটি নির্দিষ্ট সময়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর শরীরে কতটা বেতার তরঙ্গ প্রবেশ করলোএই বিকিরণের সর্বোচ্চ মাত্রা নির্ধারণের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক সংস্থার নাম- ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অন নন আয়োনাইজিং রেডিয়েশন প্রোটেকশন (আইসিএসআইআরপি)'এস এ আর' মাপা হয় প্রতি কিলোগ্রাম পিছু ওয়াটের ভিত্তিতে'এস এ আর' যত বেশি হবে বিকিরণের মাত্রাও তত বাড়বেআই সি এন আই আর পি-র নির্দেশ হল, কোনও মোবাইল হ্যান্ডসেট এর 'এস এ আর'-এর মাত্রা যেন কেজি পিছু ১ ওয়াটের বেশি না হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, রাশিয়া, জার্মানি, ব্রিটেন, ফ্রান্সের মতো বিশ্বের উন্নত দেশগুলিতে এই বিধি কঠোরভাবে মানা হয়নামী কোম্পানির হ্যান্ডসেটগুলি সাধারণত ওই আন্তর্জাতিক মান বজার রেখেই তৈরি হয় বলে ধরে নেয়া হয়যদিও এ ব্যাপারে তদারকির ব্যবস্থা নেইকিন্তু মুশকিল হল, অনামী কোম্পানিগুলির 'আনব্র্যান্ডেড' সেটগুলি নিয়েতাই আমরা মনে করি বাংলাদেশ সরকার এখনই এ ব্যাপারে রক্ষাকবচ তৈরি করুক যাতে অতি উচ্চক্ষমতার 'এসএআর' সম্পন্ন ও মানবদেহের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর বিদেশি মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানি বন্ধ করা যায়।                    

 

রবীর হাম্বার

 

 

‌ইশা  

 

ওপার বাংলায় গত ৩০ তারিখে উত্তরায়ণে রবীন্দ্রনাথের ব্যবহৃত 'হাম্বার গাড়ি' রাস্তায় চলল স্টিয়ারিং ধরে চালকের আসনে বসেছিলেন বিশ্বভারতীর চালক কর্মী দুলাল আচার্যযদিও তার খুব একটা করার কিছু ছিল নাঅচল গাড়িঅনেকে মিলে ঠেলে নিয়ে যাওয়া হল নতুন আস্তানায়এতদিন উত্তরায়ণে লতানে আমগাছ তলায় ছোট্ট ঘরের মধ্যে থাকত ১৯৩৩ সালের হাম্বার (ডব্লুবিএ-৮৬৮৯) দেশ-বিদেশের পর্যটকেরা দেখতেন খুব কষ্ট করে রবীন্দ্রনাথের সার্ধশতবর্ষে তাঁর ব্যবহৃত গাড়ি এবার স্থান পেল 'উদয়ণের' পাশে চারিদিকে কাঁচ লাগানো ঘরেপুরনো ঘর থেকে নতুন ঘরের দূরত্ব ১৫০ মিটারএই ১৫০ মিটার মোরামের পথ স্টিয়ারিং কাটিয়ে গন্তব্যে নিয়ে যেতে পারায় আপ্লুত দুলাল৮০-এর দশকে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্বভারতীর পরিদর্শক জ্ঞানী জৈল সিং শান্তিনিকেতনে এসে রবীন্দ্রনাথের ওই গাড়ি দেখে উৎসাহিত হয়ে চাপতে চেয়েছিলেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক নিমাইসাধন বসু বুঝিয়ে বলতেই বুঝেছিলেন যে চাপা ঠিক হবে নাহাওড়া মোটর্স গাড়িটিকে নিয়ে গিয়ে মেরামতের প্রস্তাব দিয়েছিলগাড়ি কিন্তু নড়েনি রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর পুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর চাপতেন এই গাড়িটিতার মৃত্যুর পর গাড়িটি পড়ে ছিল উদয়ণ বাড়ির পাশেই রবীন্দ্র ভবনের স্পেশ্যাল অফিসার নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, চারিদিকে কাঁচের দেয়াল থাকায় দর্শকদের দেখতে আরও সুবিধা হবে

 

খাবারে বিষ মেশানো

 

 

সংলাপ

 

ক্ষমতাসীনকে নিঃশব্দে হত্যা করে শাসনব্যবস্থাকে টালমাটাল করা? উচ্চ পদাধিকারী এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিকেশ করার প্রবণতা? শাসনক্ষমতা নিরঙ্কুশ করার জন্য তাবৎ প্রতিস্পর্ধীদের পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়া? এ সব কিছুরই এককালীন সহজ মাধ্যম হল - খাবারে বিষ মেশানো! খ্রিষ্টপূর্ব কাল থেকে সেদিনের মোগল সাম্রাজ্য - ক্ষমতা দখলের লোভ আর রাজত্ব ধ্বংসের অন্যতম পন্থা হিসেবে খাবারে বিষ মিশিয়ে দেয়ার নজির ভুরি ভুরিপ্রচীন তথা মধ্যযুগীয় ওই অপরাধ কৌশলকে এবার রাজনীতিক ও সন্ত্রাসবাদীরাও হাতিয়ার করে নিচ্ছেপড়শী দেশে সম্প্রতি আয়োজিত সমস্ত রাজ্য পুলিশের কর্তাদের দুদিনের সম্মেলনে ভিআইপি সিকিউরিটি সংক্রান্ত আলোচনায় ভারতের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা এজেন্সীগুলো এই বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছেবলা হয়েছে, ভিআইপি-দের বিপদ শুধুমাত্র গুলিবিদ্ধ হওয়া অথবা বোমা বিস্ফোরণের আশঙ্কাতেই আটকে নেইতারা খবর পেয়েছে উগ্রবাদী ক্ষমতালোভী সংগঠনগুলো এবার কৌশলে মন্ত্রী ও প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতাসহ অতি গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকদের খাবারে বিষ মিশিয়ে হত্যার চক্রান্ত আঁটছেতাই প্রতিটি রাজ্যের পুলিশকে ভিআইপি-দের খাবারের বিষয়েও কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে

মিশরের রানি ক্লিওপেট্রার মৃত্যু দুই সাপের কামড়ে হয়েছে বলে প্রচারিত হলেও পরবর্তীকালে বিতর্ক তৈরি হয় এবং দাবি করা হয় ওষুধ হিসাবে খাবারে বিষ মিশিয়েই তাকে হত্যা করা হয়েছিল আলেকজান্দ্রিয়া থেকে ভারত১৫৩০ অথবা ১৫৩১ সালে প্রথম মোগল সম্রাট বাবরের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরেও সেই খাবারে বিষক্রিযার সন্দেহ ঘনীভূত হয়েছিলএখানেই শেষ নয়যুবরাজ সেলিমের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর শেষ চার বছরে সম্রাট আকবরের স্বাস্থ্যের ক্রমেই ভেঙে পড়া এবং শেষে ১৬০৫ সালে তার মৃত্যুর পিছনেও অনেক ইতিহাসবিদ ধীরগতিতে খাবারে বিষক্রিয়ার কারণ খুঁজেছেনআর আওরাঙ্গজেবের পর মোগল সাম্রাজ্যে সিংহাসন পাওয়ার প্রতিযোগিতায় একে অন্যকে বিষ দেয়ার অভিযোগের কথা বলে শেষ করা যায় নাসুতরাং সেই পুরানো প্রবণতা এখনও রয়েছে বিশেষকরে বাংলাদেশেকিন্তু বাংলাদেশে তা তলিয়ে দেখা হয়নি এবং এখনও হচ্ছে নাযে কোন মৃত্যুর পিছনে খাবার বিষ ছিল কিনা তা পরীক্ষা করার দরকার এবং বর্তমান সরকারের বলিষ্ঠ ভূমিকা নিয়ে ওই খাবার ও মৃত্যু পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা সময়ের দাবীএ বিষয়ে গণসচেতনতা গড়ে তোলার জন্য মানবাধিকার সংস্থাসমূহসহ সকল সরকারি-বেসরকারি সংস্থাকে এগিয়ে আসতে হবেমনে রাখতে হবে সাবধানের ঘরে মার নেই

 

কাশ্মীর নিয়ে ভারত-চীন সম্পর্কে চিড় ধরছে

 

 

ফয়সাল

 

ভারত-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে প্রয়াস আবার বাধাগ্রস্থ হলো ভারত-চীন প্রতিরক্ষা আলোচনা বিনিময়ে জুলাইয়ে বেজিং যাওয়ার কথা ছিল সেনাবাহিনীর উত্তরাঞ্চলের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল বি এস জাসয়ালেরকিন্তু চীন তার সফরে সম্মতি দেয়নিকারণ, চীনের বক্তব্য, জাসয়াল 'বিতর্কিত' জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দা ক্ষুব্ধ ভারতদু'দেশের সম্পর্কহানি না ঘটলেও, কূটনৈতিক ক্ষেত্রে এ এক কালো মেঘএর প্রতিবাদে ভারত চীনা সেনা অফিসারদের দিল্লি সফর বাতিল করে দিয়েছে দিল্লিতে চীনের রাষ্টদূত চাং ইয়াংকে বিদেশ মন্ত্রকে পাঠিয়ে ভারতের ক্ষোভের কথা জানানো হয়েছেগত জানুয়ারি ভারত-চীন দু'দেশই সম্মত হয়েছিল দু'দেশের জেনারেল পর্যায়ের অফিসারদের পারস্পারিক সফরেদু'দেশের বার্ষিক প্রতিরক্ষা আলোচনার এটা একটা পদক্ষেপকিন্তু চীন যখনই জানতে পারে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাসয়াল যাবেন, তখনই আপত্তি তোলেচীন জানায় জাসয়াল কাশ্মীরের মানুষ বিশ্বের ওই অঞ্চলের মানুষজনকে চীন আলাদারকম ভিসা দেয়এ কথা জানিয়ে চীন সরকার লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাসয়ালের বদলে অন্য কোনো সেনা অফিসারকে পাঠাতে বলে ক্ষুব্ধ ভারত চীনা অফিসারের ভারত সফর বাতিল করে দেয় পাকিস্তানের কাশ্মীর নীতিকে মদদ দিয়ে কিছুদিন ধরেই চীন জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দাদের চীন সফরের আবেদনে ভারতীয় পাসপোর্টে ভিসা ছাপ দিচ্ছে নাভিসা দিচ্ছে আলাদা একটা কাগজেকিন্তু আলাদা কাগজে ওই ভিসা নিয়ে ভারতের কোনও বিমানবন্দরে গেলে অভিবাসন বিভাগের অফিসাররা তা গ্রহণ করছেন না লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাসয়াল জানিয়েছেন, তাকে বলা হয়েছে তার চীন সফর স্থগিত করা হয়েছেএর বেশি কিছু তাকে জানানো হয়নি হায়দরাবাদে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনি এ বিষয়ে বলেছেন, এতে দু'দেশের প্রতিরক্ষা সমঝোতা বাতিল হবে নাচীনের সঙ্গে ভারতে সমঝোতা দৃঢ়ইকিন্তু মাঝে মাঝে কিছু সমস্যা হয়এর বেশি কিছু বলেননি তিনিতবে জানিয়েছেন, ভারতের উদ্বেগের বিষয়গুলিও চীনকে বুঝতে হবেভারতের বিদেশ রাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণীত কাউর অবশ্য সংসদ চত্বরে এ নিয়ে বলেছেন, ভারত কড়া মনোভাবই দিখাচ্ছে দিল্লিতে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের একটি পাঠ্যসূচিতে এ অংশগ্রহণ করার কথা ছিল চীন সেনা অফিসারদেরভারত চীন সেনা অফিসারদের এ সফর বাতিল করে দিয়েছেচীনকে বুঝিয়ে দিতে হবে এ ব্যাপারে ভারতের অসন্তোষ বেজিংকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে হবে জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ কংগ্রেস মুখপাত্র মণীশ তিওয়ারী বলছেন, যদি এরকম কোনও একতরফা সম্পর্ক লঙ্ঘনের ঘটনা চীন ঘটায়, তবে ভারতের উচিত আপন স্বার্থে অটল থাকাদু'দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে পারস্পারিক মর্যাদারক্ষা, পরস্পরের  উদ্বেগের বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দিতেই হবে।  

 

পশ্চিমবঙ্গের রাজারহাট নিউ টাউনের

নাম হলো জ্যোতি বসু নগর

 

 

ইমরান 

 

পশ্চিমবঙ্গের রাজারহাট নিউ টাউনের নাম করা হয়েছে জ্যোতি বসু নগরবুধবার গৃহায়নমন্ত্রী গৌতম  দেব একথা বলেন

গৃহায়নমন্ত্রী বলেন, জ্যোতি বসু নগরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে আগামী ১ অক্টোবরওই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানানো হবে উপনগরীতে জ্যোতি বসুর একটি মূর্তি বসানো হবেএছাড়া তার নামে একটি উদ্যানও থাকবে১ অক্টোবর থেকে ১৫ দিন ধরে চলবে সেই অনুষ্ঠান মন্ত্রী জানান, রাজারহাটে সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্টের নামকরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছেএই প্রকল্পের ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ করা হবে রাজারহাটে যে ২০ হাজার ফ্ল্যাট তৈরি হয়ে রয়েছে, ৬ সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রী তার উদ্বোধন করবেনতিনি বলেন, হিডকো আরো ১০ হাজার নতুন ফ্ল্যাট তৈরি করবে অন্যদিকে রেললাইনের জন্য যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে, তারাও এখানে জমি পাবেন।   

 

কলকাতার জন্মদিন!

 

 

নাবিল

 

দিনটি ছিল ১৬৯৮ সালের ১০ নভেম্বরসকাল সকাল বেশ কয়েকজন ইংরেজ কর্মচারীর সঙ্গে উদ্ধত ভঙ্গিতে অহঙ্কারী দর্পে বাংলার দক্ষিণ অঞ্চল বড়িশায় পা রাখলেন জোব চার্নকের জামাতা চার্লস আয়ারএগিয়ে গিয়ে অভ্যর্থনা জানালেন তামাম এলাকার জায়গীরদার বিদ্যাধর রায়চৌধুরী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাবড়িশায় সাজের আটচালায় এক বৈঠকে বসলেন দু'পক্ষআর তার অল্প কিছুক্ষণ পরেই এক ঐতিহাসিক ঘটনার সূত্রপাতকলকাতা, সূতানুটি ও গোবিন্দপুরের প্রজাস্বত্ব হস্তান্তরিত হলো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতেনিতান্ত অনিচ্ছাসত্ত্বেই বার্ষিক ১৩০০ মুদ্রা খাজনার শর্তে কোম্পানির হাতে দলিল তুলে দিলেন জায়গীরদার রায়চৌধুরী পরিবারশুরু হলো কলকাতার দ্বিতীয় অধ্যায়দিল্লির মসনদে তখন মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব, গোটা ঘটনার নিরব সাক্ষীসাবর্ণ রায়চৌধুরীর পুরনো কুঠি, আটচালা আর সাবর্ণ সংগ্রহশালার সামনে দাঁড়ালেই খোঁজ পাওয়া যায় সেই সব পুরানো ইতিহাসের

দু-দু'বার চেষ্টা করেছিলেন জোব চার্নক কোম্পানির স্বার্থে বাংলায় শুল্ক মুক্ত বাণিজ্যকে পাখির চোখ করে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলছিলেন তিনিকলকাতা, সূতানটি ও গোবিন্দপুর তিনটি গ্রামই তার ভারী পছন্দ ছিলবিশেষ করে কলকাতায় বাণিজ্য এবং সূতানটিতে ইংরেজ বসতি গড়ে তোলা লক্ষ্য ছিল তার১৬৮৬ সাল থেকে ১৬৯০ - এর মধ্যে সে উদ্দেশ্য তার সিদ্ধ হয়নিকারণ ইংরজ-মুঘল লড়াইশেষে ইব্রাহিম খানের অনূকুল্যে হুগলী নদীর তীরে বিস্তীর্ণ জলাভূমি সূতানুটিতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কুঠি স্থাপন করার উদ্যোগ নেনতারিখটি ছিল ১৬৯০ সালের ২৪ আগস্টএই দিনটিই নাকি কলকাতার জন্মদিন? অবশ্য এ নিয়ে বিতর্ক আছেযাইহোক, এখানেই সূতানুটির মাটিতে শেষ আশ্রয়  জোব চার্নকের১৬৯৩ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি বেঁচে ছিলেন

এরপরই স্যার গোল্ডসবরো ওই কুঠিগুলোর সর্বময় কর্তা হয়ে ওঠেনতারপর চার্লস আয়ার ১৬৯৬ সালে কোম্পানির ভার নেনএসেই ১৬ হাজার মুদ্রা দিয়ে বাগে আনার চেষ্টা করেন মুঘল সম্রাটকেকারণ বাংলায় কিছু করতে হলে তার স্বত্ব দরকারতা দিতে পারেন স্বয়ং দিল্লীশ্বরই আওরঙ্গজেবের নাতি আজিম উস সানের মাধ্যমেই সম্রাটের সনদ এসে পৌঁছায়ইচ্ছে ছিল না রায়চৌধুরীদেরইংরেজদের কাছে জমি হস্তান্তরের ইচ্ছা ছিল না বাংলার দেওয়ানদেরওকিন্তু বাদশাহের অনুমতি রয়েছেতাও টালবাহানা করছিলেন তখনকার রায়চৌধুরী জমিদাররা কোম্পানিও নাছোড়শেষে হুগলীর প্রাক্তন গর্ভনর জৈনুদ্দিন খানের মধ্যস্ততায় কোম্পানির তরফ থেকে আজিম উস সানের কাছে যান প্রতিনিধি ওয়ালসএরপরই প্রজাস্বত্ব হস্তান্তর করার আদেশ এসে পৌঁছায় জায়গীরদারের কাছেযদিও জায়গীরদার হিসেবে দলিলে সই করেননি সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের কোনো পরিচালন কর্তাইসই ছিল অন্যান্য সদস্যদের

মূল দলিলটি ছিল ফার্সী ভাষায় লেখাবলছিলেন সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের দেবর্ষি রায়চৌধুরীবড়িশা সুখেরবাজার অঞ্চলে সাবর্ণ সংগ্রহশালায় এই দলিলের প্রতিলিপি রাখা আছেরয়েছে তার বাংলা ও ইংরেজী অনুবাদওদেবর্ষি জানালেন, জোব চার্নকের আমলে কলকাতার প্রতিষ্ঠা হয়েছিল বলে এর ভুল বার্তা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছিলএটি ঠিক নয়এই দলিলই তার বড় প্রমাণকলকাতা যদি তার আগে থেকে নাই থাকতো তাহলে তা হস্তান্তর হলো কেমন করেসাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদ ও কয়েকজন শিক্ষাবিদ বুদ্ধিজীবী এর বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করেঅধ্যাপক নিমাইসাধন বসুর নেতৃত্বে একটি কমিটি তৈরি হয়রিপোর্ট প্রকাশিত হয় ২০০৩ সালের ৩১ জানুয়ারি১৬ মে উচ্চ আদালত রায় দেন, কলকাতার কোনো নির্দিষ্ট জন্মদিন নেইতাই কলকাতার কোনো প্রতিষ্ঠাতাও নেইঅথচ কলকাতা কর্পোরেশনের ওয়েবসাইটে ও টাউন হলে এখনো ওই ভুল তথ্যই লেখা রয়ে গিয়েছেআবেদন করা হয়েছে এগুলি বাতিল করার জন্য

সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের জায়গীর প্রাপ্তি সম্পর্কে বলতে গিয়ে দেবর্ষি রায়চৌধুরী বলেন, ১৬০৮ সালে মানসিংহের কাছ থেকে জমিদারী প্রাপ্ত হন লক্ষ্মীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়উত্তরে হালিশহর থেকে দক্ষিণে লক্ষ্মীকান্তপুর পর্যন্ত এই ৮টি পরগণার জায়গীর পান তিনিতখন মোঘল সম্রাট ছিলেন জাহাঙ্গীরতখন থেকেই রায়চৌধুরী উপাধি পান তিনিগোত্র হয় সাবর্ণকালক্রমে এই ধারা চলতে থাকে তার বংশধরদের মধ্যেসে সময়ে তারা এখানে থাকতেন নাতারা পাকাপাকিভাবে বড়িশা অঞ্চলে বসবাস শুরু করেন ১৭১৬ সাল থেকেতার আগে ১৭১০ সালে কয়েকটি বসতবাড়ি গড়েন তারাতবে আটচালাটি নির্মিত হয় ১৬১০ সালেইসে সময়ে আরো কয়েকটি অফিস বাড়ি তৈরি হয় এই অঞ্চলে

পরিবারের অনেক নিদর্শনই রাখা আছে সাবর্ণ সংগ্রহশালায়রয়েছে মুদ্রা থেকে সে সময়ে ব্যবহৃত জিনিষপত্র, ১৬০৮ সালের ইট, ফসিল ও দলিল দস্তাবেজআছে ১৮ ও ১৯ শতকের কাবিলতিপত্র, যা প্রমাণ করে হালিশহরের যে ভিটা রামপ্রসাদের বলে পরিচিত তা আদৌ রামপ্রসাদের ছিল না - এমন আরো কত কি! পুরনো কলকাতার এক খন্ডচিত্র যেন ফুটে উঠেছে এই সংগ্রহশালায় তারা জানাতে চায় আরো ইতিহাসপুরানো কথা বলতে চায় স্থাপত্যগুলিওকমতো নয়, কলকাতা সংলগ্ন অঞ্চলের এ ইতিহাস যে প্রায় ৩৫০-৪০০ বছরের পুরনো