|
|
|||||||||||||||||||
|
|
|||||||||||||||||||
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
||||
|
|
|||||||||||||||||||
|
|
সন্ত্রাস নিয়ে মার্কিনী ভণ্ডামি
সংলাপ ॥
গত সপ্তাহে ইরাকের বিভিন্নস্থানে ইরাকী সরকারী বাহিনীর উপরে এবং অন্যত্র আক্রমণের ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬। মার্কিন 'কমব্যাট' সেনা ইরাক থেকে সরতে শুরু করার পর মঙ্গলবার মার্কিন সেনাসংখ্যা ৫০ হাজারের নিচে নেমে গিয়েছিল। ২০০৩ সালের পর থেকে এই প্রথম ইরাকে মার্কিন সেনা ৫০ হাজারের নিচে নামলো। আর তার পরের দিনেই এই আক্রমণ। ফলে স্বাভাবিকভাবে মার্কিন ও ইরাক প্রশাসনের দুর্ভাবনা বেড়েছে। কারণ ওয়াশিংটন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা ইরাক থেকে প্রত্যক্ষ সমরে যুক্ত মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেবে। সে কাজ শুরুও হয়ে গেছে। ইরাকী সেনাদের সাহায্য করা ও পরামর্শ দেয়ার জন্য মার্কিন সাধারণ সেনা থাকবে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের পুরোপুরি সরে যাওয়ার কর্মসূচী রয়েছে। অনেকে বলছেন সাত বছরের যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটলো। মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা অবশ্য সেভাবে বিষয়টি হাজির করতে চান না। হোয়াইট হাউস চায় মার্কিন নাগরিকদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে যে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের দু'মাস আগে ওবামা তার কথা রেখেছেন। আগামী সপ্তাহে এসব নিয়ে ওবামা জবরদস্ত ভাষণ দিবেন বলে শোনা যাচ্ছে। হয়তো ইরাক ফেরত মার্কিন সেনাদের সঙ্গে তার মোলাকাতও করিয়ে দেয়া হবে। ৩১ আগস্ট থেকে ইরাকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা থাকবে। এই সংখ্যা বেড়ে ৭০ হাজারে গিয়ে দাঁড়াতে পারে। এদের সঙ্গে থাকবে ফৌজি বিমান, হেলিকপ্টার। এই মার্কিন সেনারা ইরাকে আরো ১৬ মাস থাকবে। যাই হোক ইরাকের ভবিষ্যৎ যে বিপদসঙ্কুল থেকে যাচ্ছে তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে। কারণ মার্কিন সেনাদের একটা বড় অংশ সরে যাওয়ার পর সেখানে যে শূন্যতার সৃষ্টি হবে তা পূরণ করার মতো ক্ষমতা বর্তমান ইরাক প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর নেই। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে কলহ করতেই ব্যস্ত। ৩ কোটি সাধারণ ইরাকী আবার অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের মুখে পড়বেন। দেশের নির্বাচিত রাজনীতিবিদেরা নির্বাচনের ৫ মাস বাদেও সরকার গঠন নিয়ে এতো বেশি কলহে মত্ত যে সেই শূন্যতার সুযোগ নেবে উগ্রপন্থী শক্তিগুলো। বলাইবাহুল্য, ২০০৩ সালে ইরাকে একতরফাভাবে মার্কিনী আক্রমণের ফলে ভীষণ সুবিধা হয়েছে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন গুলোর। পশ্চিম এশিয়ায় তারা নিজেদের প্রভাব বাড়াতে পেরেছে। বোঝাই যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার নামে মার্কিন প্রশাসন আসলে সন্ত্রাসবাদকেই মদদ দিয়েছে এবং দিচ্ছে। এই সত্য এখন আরো বেশি মাত্রায় অনুভব করা যাচ্ছে। মার্কিনীদের ইরাক আক্রমণ আসলে সন্ত্রাসবাদীদের কাছে বিরাট উপহার। কারণ, মার্কিন সেনাদের আক্রমণ ও অত্যাচারে বিপর্যস্ত সাধারণ ইরাকীরা নিশ্চয় মার্কিনীদের সমর্থন করবেন না। মার্কিন সেনাদের ইরাক ছাড়া নিয়ে ইরাকে নীরবতা ও অনিশ্চয়তার অন্ধকার নেমে এসেছে। ২০০৩ সাল থেকে আমেরিকা নানাভাবে ইরাককে বিপর্যস্ত করেছে। একটি আধুনিক সভ্য দেশকে থেঁতলে দিলো আদিপত্যবাদী শক্তিগুলো। ইরাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করেছিল এক ভয়ঙ্কর ধরনের মিথ্যা তথ্যকে ঘিরে, ইরাকের হাতে নাকি গণ-বিধ্বংসী সমরাস্ত্র আছে। তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতি জর্জ বুশ আক্রমণের আগে 'মুক্তি ও স্বাধীনতার' স্লোগান দিয়েছিলেন। ওই স্লোগানের আড়ালে ইরাকে একবিংশ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠা করা হলো এক নয়া উপনিবেশের। ইরাকে এখন বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকবে। মার্কিনী চক্রান্তের পরিণামে ইরাকে অসংখ্য সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ৫০ লক্ষ ইরাকী শরণার্থীতে পরিণত হয়েছেন। ইরাককে শোচনীয় অবস্থায় রেখে ওবামা এখন 'মহান' সাজতে চাইছেন।
উত্তরাঞ্চল ফেন্সিডিল পাচারের নিরাপদ রুট
এস.এম.শামসুজ্জোহা ॥
পুলিশ সূত্র জানায়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভারতীয় অবৈধ ফেন্সিডিল চোরাচালানের টাকা আসছে কুরিয়ার সার্ভিসে বেনামে। সম্প্রতি পুলিশ ও র্যাব অভিযান চালিয়ে এ চক্রের কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে ফেন্সিডিল চোরাচালানে তাদের বিনিয়োগ ও পাচারের কৌশল। পুলিশ সূত্র আরো জানায়, ভারতীয় অবৈধ ফেন্সিডিলের চালান নিতে বিভিন্ন জেলা থেকে চোরাচালানিরা রাজশাহীতে এসে আবাসিক হোটেলে অবস্থান নেয়। মোবাইল ফোনে কন্ট্রাকের মাধ্যমে নিশ্চিত করে ফেন্সিডিল চালান। এরপর মাল ও সবজিবাহি ট্রাক চালকদের সঙ্গে আপোষরফা করে ফেন্সিডিল চোরাচালানিরা নিজেরাই সবজি কিনে ট্রাক ভর্তি করে তার সঙ্গে ফেন্সিডিল চোরাচালান করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফেন্সিডিল চোরাচালানী ব্যবসায়িক জানান, ভারতীয় অবৈধ ফেন্সিডিলের চালান আনা হয় সম পরিমাণ পণ্য বা তামা, কাঁসা, পিতলসহদামী জিনিসের বিনময়ে। পরে খুচরা ব্যবসায়িকরা টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে যায় দেশের বিভিন্ন জায়গায়। এ সময় গোপন টোকেন ও সংকেত ব্যবহার করা হয়ে থাকে। গত ২০ আগস্ট কাঁচা মরিচের সঙ্গে ফেন্সিডিল পাচারের সময় একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে ৮৫০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করে র্যাব। এর আগেও সবজির সঙ্গে ফেন্সিডিল পাচারের সময় পুলিশ ও র্যাব অভিযান চালিয়ে তা উদ্ধার করছে। গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানায়, আগে ফেন্সিডিল চোরাচালানিরা চালান নিয়ে হাতে হাতে টাকা দিয়ে যেত। এখন ফেন্সিডিল পাওয়ার পর সেই টাকা চোরাচালানিরা ছদ্মনামে কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠিয়ে দেয়া হয়। গত ১৩ আগস্ট রাজপাড়া থানা পুলিশ নগরীর ওয়েহোম আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে ফেন্সিডিল চোরাচালানির সদস্য জামিলকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে জামিল জানিয়েছে, ঢাকা থেকে দুই সঙ্গীসহ রাজশাহীতে আসে সে। তারা নগরীর নিউমার্কেট এলাকার ওয়েহোম আবাসিক হোটেলে অবস্থান নেয়। জামিলের দেয়া তথ্যানুযায়ী পুলিশ ১৪ আগস্ট কুমারপাড়া এলাকার এসএ পরিবহণের কাছ থেকে গ্রেফতার করে হাবিব নামের এই চক্রের আরেক সদস্যকে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় ১৯ লক্ষ টাকা। তারা দু'জন পুলিশকে জানিয়েছে, ফেন্সিডিলের চালান নিতে ঢাকা থেকে টাকাগুলো পাঠানো হয়। প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন রুটের চোরাচালানিরা প্রায় ৫ থেকে ১০ কোটি টাকা লেনদেন করে বলে সূত্র নিশ্চিত করে। গোয়েন্দা পুলিশ সহকারী কমিশনার তারিকুল ইসলাম জানান, ফেন্সিডিল নিতে এ অঞ্চলে নতুন করে চোরাচালানিদের বিনিয়োগের তথ্য পাওয়ার পর তারা মাঠে নামেন। তাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, নগরী ছাড়াও আশেপাশের জেলাগুলোতে নতুন কায়দায় তারা বিনিয়োগ করছে। তবে বর্তমানে চোরাকারবারিরা উত্তরাঞ্চলকে ভারতীয় অবৈধ ফেন্সিডিল চালানের নিরাপদ রুট হিসাবে ব্যবহার করছে। প্রতিমাসে ১০ কোটি টাকার বিনিয়োগ হচ্ছে। সব টাকা আসছে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে। তিনি আরো জানান, সর্বশেষ গত সোমবার অভিযান চালিয়ে চোরাচালান চক্রের সদস্য আবদুর রহমান টিপুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া তার কাছে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ছদ্ম নামে পাঠানো ৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তার দেয়া তথ্যানুযায়ী বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫০০ বোতল ভারতীয় অবৈধ ফেন্সিডিল। পুলিশ কমিশনার রোকন উদ্দিন জানান, ভারতীয় অবৈধ ফেন্সিডিল চোরাচালানে বিপুল অংকের অর্থ বিনিয়োগের কারণে তারা ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। শিঘ্রই ভারতীয় অবৈধ ফেন্সিডিল চোরাচালানে বিনিয়োগকারী চক্র মূল হোতা ও তাদের সহযোগীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
মোবাইল ফোন বিকিরণে মানুষের পঙ্গুত্ব বাড়ছে
সংলাপ ॥
অনুমোদিত
মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় রেডিও বিকিরণ ছড়ায় এমন অসংখ্য নিম্নমানের
মোবাইল ফোনে ক্রমশ ছেয়ে যাচ্ছে বাজার।
'ব্রান্ডেড'
মোবাইল
সেটগুলির তুলনায় অনেক কম দামে যত্রতত্র বিক্রি হওয়া এই সব মোবাইল সেট ব্যব
রবীর হাম্বার
ইশা ॥
খাবারে বিষ মেশানো
সংলাপ ॥
ক্ষমতাসীনকে
নিঃশব্দে হত্যা করে শাসনব্যবস্থাকে টালমাটাল করা?
উচ্চ পদাধিকারী এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিকেশ করার প্রবণতা?
শাসনক্ষমতা নিরঙ্কুশ করার জন্য তাবৎ প্রতিস্পর্ধীদের পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়া?
এ
স মিশরের রানি ক্লিওপেট্রার মৃত্যু দুই সাপের কামড়ে হয়েছে বলে প্রচারিত হলেও পরবর্তীকালে বিতর্ক তৈরি হয় এবং দাবি করা হয় ওষুধ হিসাবে খাবারে বিষ মিশিয়েই তাকে হত্যা করা হয়েছিল। আলেকজান্দ্রিয়া থেকে ভারত। ১৫৩০ অথবা ১৫৩১ সালে প্রথম মোগল সম্রাট বাবরের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরেও সেই খাবারে বিষক্রিযার সন্দেহ ঘনীভূত হয়েছিল। এখানেই শেষ নয়। যুবরাজ সেলিমের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর শেষ চার বছরে সম্রাট আকবরের স্বাস্থ্যের ক্রমেই ভেঙে পড়া এবং শেষে ১৬০৫ সালে তার মৃত্যুর পিছনেও অনেক ইতিহাসবিদ ধীরগতিতে খাবারে বিষক্রিয়ার কারণ খুঁজেছেন। আর আওরাঙ্গজেবের পর মোগল সাম্রাজ্যে সিংহাসন পাওয়ার প্রতিযোগিতায় একে অন্যকে বিষ দেয়ার অভিযোগের কথা বলে শেষ করা যায় না। সুতরাং সেই পুরানো প্রবণতা এখনও রয়েছে বিশেষকরে বাংলাদেশে। কিন্তু বাংলাদেশে তা তলিয়ে দেখা হয়নি এবং এখনও হচ্ছে না। যে কোন মৃত্যুর পিছনে খাবার বিষ ছিল কিনা তা পরীক্ষা করার দরকার এবং বর্তমান সরকারের বলিষ্ঠ ভূমিকা নিয়ে ওই খাবার ও মৃত্যু পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা সময়ের দাবী। এ বিষয়ে গণসচেতনতা গড়ে তোলার জন্য মানবাধিকার সংস্থাসমূহসহ সকল সরকারি-বেসরকারি সংস্থাকে এগিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে সাবধানের ঘরে মার নেই।
কাশ্মীর নিয়ে ভারত-চীন সম্পর্কে চিড় ধরছে
ফয়সাল ॥
ভারত-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে প্রয়াস আবার বাধাগ্রস্থ হলো। ভারত-চীন প্রতিরক্ষা আলোচনা বিনিময়ে জুলাইয়ে বেজিং যাওয়ার কথা ছিল সেনাবাহিনীর উত্তরাঞ্চলের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল বি এস জাসয়ালের। কিন্তু চীন তার সফরে সম্মতি দেয়নি। কারণ, চীনের বক্তব্য, জাসয়াল 'বিতর্কিত' জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দা। ক্ষুব্ধ ভারত। দু'দেশের সম্পর্কহানি না ঘটলেও, কূটনৈতিক ক্ষেত্রে এ এক কালো মেঘ। এর প্রতিবাদে ভারত চীনা সেনা অফিসারদের দিল্লি সফর বাতিল করে দিয়েছে। দিল্লিতে চীনের রাষ্টদূত চাং ইয়াংকে বিদেশ মন্ত্রকে পাঠিয়ে ভারতের ক্ষোভের কথা জানানো হয়েছে। গত জানুয়ারি ভারত-চীন দু'দেশই সম্মত হয়েছিল দু'দেশের জেনারেল পর্যায়ের অফিসারদের পারস্পারিক সফরে। দু'দেশের বার্ষিক প্রতিরক্ষা আলোচনার এটা একটা পদক্ষেপ। কিন্তু চীন যখনই জানতে পারে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাসয়াল যাবেন, তখনই আপত্তি তোলে। চীন জানায় জাসয়াল কাশ্মীরের মানুষ। বিশ্বের ওই অঞ্চলের মানুষজনকে চীন আলাদারকম ভিসা দেয়। এ কথা জানিয়ে চীন সরকার লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাসয়ালের বদলে অন্য কোনো সেনা অফিসারকে পাঠাতে বলে। ক্ষুব্ধ ভারত চীনা অফিসারের ভারত সফর বাতিল করে দেয়। পাকিস্তানের কাশ্মীর নীতিকে মদদ দিয়ে কিছুদিন ধরেই চীন জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দাদের চীন সফরের আবেদনে ভারতীয় পাসপোর্টে ভিসা ছাপ দিচ্ছে না। ভিসা দিচ্ছে আলাদা একটা কাগজে। কিন্তু আলাদা কাগজে ওই ভিসা নিয়ে ভারতের কোনও বিমানবন্দরে গেলে অভিবাসন বিভাগের অফিসাররা তা গ্রহণ করছেন না। লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাসয়াল জানিয়েছেন, তাকে বলা হয়েছে তার চীন সফর স্থগিত করা হয়েছে। এর বেশি কিছু তাকে জানানো হয়নি। হায়দরাবাদে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনি এ বিষয়ে বলেছেন, এতে দু'দেশের প্রতিরক্ষা সমঝোতা বাতিল হবে না। চীনের সঙ্গে ভারতে সমঝোতা দৃঢ়ই। কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু সমস্যা হয়। এর বেশি কিছু বলেননি তিনি। তবে জানিয়েছেন, ভারতের উদ্বেগের বিষয়গুলিও চীনকে বুঝতে হবে। ভারতের বিদেশ রাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণীত কাউর অবশ্য সংসদ চত্বরে এ নিয়ে বলেছেন, ভারত কড়া মনোভাবই দিখাচ্ছে। দিল্লিতে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের একটি পাঠ্যসূচিতে এ অংশগ্রহণ করার কথা ছিল চীন সেনা অফিসারদের। ভারত চীন সেনা অফিসারদের এ সফর বাতিল করে দিয়েছে। চীনকে বুঝিয়ে দিতে হবে এ ব্যাপারে ভারতের অসন্তোষ। বেজিংকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে হবে জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। কংগ্রেস মুখপাত্র মণীশ তিওয়ারী বলছেন, যদি এরকম কোনও একতরফা সম্পর্ক লঙ্ঘনের ঘটনা চীন ঘটায়, তবে ভারতের উচিত আপন স্বার্থে অটল থাকা। দু'দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে পারস্পারিক মর্যাদারক্ষা, পরস্পরের উদ্বেগের বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দিতেই হবে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজারহাট নিউ টাউনের নাম হলো জ্যোতি বসু নগর
ইমরান ॥
পশ্চিমবঙ্গের রাজারহাট নিউ টাউনের নাম করা হয়েছে জ্যোতি বসু নগর। বুধবার গৃহায়নমন্ত্রী গৌতম দেব একথা বলেন। গৃহায়নমন্ত্রী বলেন, জ্যোতি বসু নগরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে আগামী ১ অক্টোবর। ওই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানানো হবে। উপনগরীতে জ্যোতি বসুর একটি মূর্তি বসানো হবে। এছাড়া তার নামে একটি উদ্যানও থাকবে। ১ অক্টোবর থেকে ১৫ দিন ধরে চলবে সেই অনুষ্ঠান। মন্ত্রী জানান, রাজারহাটে সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্টের নামকরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই প্রকল্পের ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ করা হবে। রাজারহাটে যে ২০ হাজার ফ্ল্যাট তৈরি হয়ে রয়েছে, ৬ সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রী তার উদ্বোধন করবেন। তিনি বলেন, হিডকো আরো ১০ হাজার নতুন ফ্ল্যাট তৈরি করবে। অন্যদিকে রেললাইনের জন্য যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে, তারাও এখানে জমি পাবেন।
কলকাতার জন্মদিন!
নাবিল ॥
দিনটি ছিল ১৬৯৮ সালের ১০ নভেম্বর। সকাল সকাল বেশ কয়েকজন ইংরেজ কর্মচারীর সঙ্গে উদ্ধত ভঙ্গিতে অহঙ্কারী দর্পে বাংলার দক্ষিণ অঞ্চল বড়িশায় পা রাখলেন জোব চার্নকের জামাতা চার্লস আয়ার। এগিয়ে গিয়ে অভ্যর্থনা জানালেন তামাম এলাকার জায়গীরদার বিদ্যাধর রায়চৌধুরী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। বড়িশায় সাজের আটচালায় এক বৈঠকে বসলেন দু'পক্ষ। আর তার অল্প কিছুক্ষণ পরেই এক ঐতিহাসিক ঘটনার সূত্রপাত। কলকাতা, সূতানুটি ও গোবিন্দপুরের প্রজাস্বত্ব হস্তান্তরিত হলো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে। নিতান্ত অনিচ্ছাসত্ত্বেই বার্ষিক ১৩০০ মুদ্রা খাজনার শর্তে কোম্পানির হাতে দলিল তুলে দিলেন জায়গীরদার রায়চৌধুরী পরিবার। শুরু হলো কলকাতার দ্বিতীয় অধ্যায়। দিল্লির মসনদে তখন মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব, গোটা ঘটনার নিরব সাক্ষী। সাবর্ণ রায়চৌধুরীর পুরনো কুঠি, আটচালা আর সাবর্ণ সংগ্রহশালার সামনে দাঁড়ালেই খোঁজ পাওয়া যায় সেই সব পুরানো ইতিহাসের। দু-দু'বার চেষ্টা করেছিলেন জোব চার্নক। কোম্পানির স্বার্থে বাংলায় শুল্ক মুক্ত বাণিজ্যকে পাখির চোখ করে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলছিলেন তিনি। কলকাতা, সূতানটি ও গোবিন্দপুর তিনটি গ্রামই তার ভারী পছন্দ ছিল। বিশেষ করে কলকাতায় বাণিজ্য এবং সূতানটিতে ইংরেজ বসতি গড়ে তোলা লক্ষ্য ছিল তার। ১৬৮৬ সাল থেকে ১৬৯০ - এর মধ্যে সে উদ্দেশ্য তার সিদ্ধ হয়নি। কারণ ইংরজ-মুঘল লড়াই। শেষে ইব্রাহিম খানের অনূকুল্যে হুগলী নদীর তীরে বিস্তীর্ণ জলাভূমি সূতানুটিতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কুঠি স্থাপন করার উদ্যোগ নেন। তারিখটি ছিল ১৬৯০ সালের ২৪ আগস্ট। এই দিনটিই নাকি কলকাতার জন্মদিন? অবশ্য এ নিয়ে বিতর্ক আছে। যাইহোক, এখানেই সূতানুটির মাটিতে শেষ আশ্রয় জোব চার্নকের। ১৬৯৩ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি বেঁচে ছিলেন। এরপরই স্যার গোল্ডসবরো ওই কুঠিগুলোর সর্বময় কর্তা হয়ে ওঠেন। তারপর চার্লস আয়ার ১৬৯৬ সালে কোম্পানির ভার নেন। এসেই ১৬ হাজার মুদ্রা দিয়ে বাগে আনার চেষ্টা করেন মুঘল সম্রাটকে। কারণ বাংলায় কিছু করতে হলে তার স্বত্ব দরকার। তা দিতে পারেন স্বয়ং দিল্লীশ্বরই। আওরঙ্গজেবের নাতি আজিম উস সানের মাধ্যমেই সম্রাটের সনদ এসে পৌঁছায়। ইচ্ছে ছিল না রায়চৌধুরীদের। ইংরেজদের কাছে জমি হস্তান্তরের ইচ্ছা ছিল না বাংলার দেওয়ানদেরও। কিন্তু বাদশাহের অনুমতি রয়েছে। তাও টালবাহানা করছিলেন তখনকার রায়চৌধুরী জমিদাররা। কোম্পানিও নাছোড়। শেষে হুগলীর প্রাক্তন গর্ভনর জৈনুদ্দিন খানের মধ্যস্ততায় কোম্পানির তরফ থেকে আজিম উস সানের কাছে যান প্রতিনিধি ওয়ালস। এরপরই প্রজাস্বত্ব হস্তান্তর করার আদেশ এসে পৌঁছায় জায়গীরদারের কাছে। যদিও জায়গীরদার হিসেবে দলিলে সই করেননি সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের কোনো পরিচালন কর্তাই। সই ছিল অন্যান্য সদস্যদের। মূল দলিলটি ছিল ফার্সী ভাষায় লেখা। বলছিলেন সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের দেবর্ষি রায়চৌধুরী। বড়িশা সুখেরবাজার অঞ্চলে সাবর্ণ সংগ্রহশালায় এই দলিলের প্রতিলিপি রাখা আছে। রয়েছে তার বাংলা ও ইংরেজী অনুবাদও। দেবর্ষি জানালেন, জোব চার্নকের আমলে কলকাতার প্রতিষ্ঠা হয়েছিল বলে এর ভুল বার্তা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। এটি ঠিক নয়। এই দলিলই তার বড় প্রমাণ। কলকাতা যদি তার আগে থেকে নাই থাকতো তাহলে তা হস্তান্তর হলো কেমন করে। সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদ ও কয়েকজন শিক্ষাবিদ বুদ্ধিজীবী এর বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করে। অধ্যাপক নিমাইসাধন বসুর নেতৃত্বে একটি কমিটি তৈরি হয়। রিপোর্ট প্রকাশিত হয় ২০০৩ সালের ৩১ জানুয়ারি। ১৬ মে উচ্চ আদালত রায় দেন, কলকাতার কোনো নির্দিষ্ট জন্মদিন নেই। তাই কলকাতার কোনো প্রতিষ্ঠাতাও নেই। অথচ কলকাতা কর্পোরেশনের ওয়েবসাইটে ও টাউন হলে এখনো ওই ভুল তথ্যই লেখা রয়ে গিয়েছে। আবেদন করা হয়েছে এগুলি বাতিল করার জন্য। সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের জায়গীর প্রাপ্তি সম্পর্কে বলতে গিয়ে দেবর্ষি রায়চৌধুরী বলেন, ১৬০৮ সালে মানসিংহের কাছ থেকে জমিদারী প্রাপ্ত হন লক্ষ্মীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়। উত্তরে হালিশহর থেকে দক্ষিণে লক্ষ্মীকান্তপুর পর্যন্ত এই ৮টি পরগণার জায়গীর পান তিনি। তখন মোঘল সম্রাট ছিলেন জাহাঙ্গীর। তখন থেকেই রায়চৌধুরী উপাধি পান তিনি। গোত্র হয় সাবর্ণ। কালক্রমে এই ধারা চলতে থাকে তার বংশধরদের মধ্যে। সে সময়ে তারা এখানে থাকতেন না। তারা পাকাপাকিভাবে বড়িশা অঞ্চলে বসবাস শুরু করেন ১৭১৬ সাল থেকে। তার আগে ১৭১০ সালে কয়েকটি বসতবাড়ি গড়েন তারা। তবে আটচালাটি নির্মিত হয় ১৬১০ সালেই। সে সময়ে আরো কয়েকটি অফিস বাড়ি তৈরি হয় এই অঞ্চলে। পরিবারের অনেক নিদর্শনই রাখা আছে সাবর্ণ সংগ্রহশালায়। রয়েছে মুদ্রা থেকে সে সময়ে ব্যবহৃত জিনিষপত্র, ১৬০৮ সালের ইট, ফসিল ও দলিল দস্তাবেজ। আছে ১৮ ও ১৯ শতকের কাবিলতিপত্র, যা প্রমাণ করে হালিশহরের যে ভিটা রামপ্রসাদের বলে পরিচিত তা আদৌ রামপ্রসাদের ছিল না - এমন আরো কত কি! পুরনো কলকাতার এক খন্ডচিত্র যেন ফুটে উঠেছে এই সংগ্রহশালায়। তারা জানাতে চায় আরো ইতিহাস। পুরানো কথা বলতে চায় স্থাপত্যগুলিও। কমতো নয়, কলকাতা সংলগ্ন অঞ্চলের এ ইতিহাস যে প্রায় ৩৫০-৪০০ বছরের পুরনো। |
|
|||||||||||||||||
|
|
|
|
|||||||||||||||||
|
|
|||||||||||||||||||