ইরানের
অপহৃত পরমাণু বিজ্ঞানী শাহরাম আমিরি তেহরানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র
ছেড়েছেন বলে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রামিন মেহমানপারাস্ত
জানিয়েছেন।
তিনি প্রথমে তৃতীয় কোনো দেশে যাবেন এবং সেখান থেকে ইরানে যাবেন।
গতকাল তিনি ওয়াশিংটনে পাকিস্তানের দূতাবাসে আশ্রয় নিয়ে তাকে দ্রুত ইরানে
ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় ওয়াশিংটনে অবস্থিত
পাকিস্তান দূতাবাস সেখানে ইরানের স্বার্থ দেখাশোনা করে।
গত
বছর জুন মাসে পবিত্র ওমরা পালনের জন্য সৌদি আরব যাওয়ার পর সৌদি গোয়েন্দা
সংস্থার সহায়তায় মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর সদস্যরা
শাহরাম আমিরিকে অপহরণ করে।
এদিকে ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিশনের প্রধান
আলাউদ্দিন বুরুজার্দি বলেছেন,
কোনো দেশের নাগরিক অপহরণ করাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বলে
গণ্য করা হয়।
তিনি বলেন,
অন্য দেশের নাগরিক অপহরণের ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানী শাহরাম আমিরিকে অপহরণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই
অপমানিত হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আলাউদ্দিন বুরুজার্দি বলেন,
ইরানের নাগরিককে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য ওয়াশিংটনের
ক্ষমা চাওয়া ও ক্ষতিপূরণ দেয়া উচিৎ।
তিনি বলেন,
ইরানের পরমাণু কর্মসূচী ব্যর্থ করতেই যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে।
তবে,
যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পারছে না যে,
ইরান পরমাণু ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিনী সব পদক্ষেপ ব্যর্থ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা-সিআইএ'র
হাতে অপহৃত ইরানী বিশেষজ্ঞ শাহরাম আমিরি দেশে ফিরে বলেছেন,
তিনি পাঁচ কোটি ডলার ঘুষের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আমিরি তেহরান বিমানবন্দরে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বলেন,
তার
অপহরণকে কেন্দ্র করে মার্কিন সরকার ইরানের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণা
চালিয়েছে।
তিনি বলেন,
ইরানে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য তাকে বিশাল অংকের অর্থের
পাশাপাশি ইউরোপের একটি দেশে উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ করে দেয়ার প্রস্তাব
দেয়া হয়েছিল।
এ
ছাড়া তাকে অপহরণের প্রথম দিন থেকে সিএনএন নিউজ চ্যানেলকে দশ মিনিটের
সাক্ষাৎকার দেয়ার জন্য এক কোটি ডলার ঘুষ প্রস্তাব করা হয় বলে আমিরি
জানিয়েছেন।
তিনি স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন বলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হিলারি ক্লিন্টন যে দাবি করেছেন,
আমিরি তা জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি বলেন,
'আমাকে
অপহরণের পর মানবাধিকারের ধ্বজাধারী বলে দাবি করা একজন শীর্ষ মার্কিন
কূটনীতিক আমাকে স্বাধীন বলে দাবি করায় আমি বিস্মিত হয়েছি।'
হিলারি গত মঙ্গলবার দাবি করেছে,
আমিরি মুক্ত এবং যে কোন সময় দেশে ফিরে যেতে পারেন।
আমিরির পরিবারকে ইরান সরকার চাপের মুখে রাখার পর তিনি ইরানে ফিরে আসতে
বাধ্য হয়েছেন বলে পশ্চিমা গণমাধ্যমে যে দাবি করেছে,
তিনি তাও প্রত্যাখ্যান করেন।
আমিরি বলেন,
'এ
দাবি একেবারেই অসত্য।
তিনি অপহৃত হওয়ার পর থেকে ইরানি কর্মকর্তারা তার পরিবারকে সহযোগিতা করেছেন।