|
* প্রবাহ *
ফাতেমা তুজ
জোহরা
॥
বিদায়ী অর্থবছরে
রপ্তানি প্রবৃদ্ধি
নয়া অর্থবছরে ১০
শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে।
দুয়েকদিনের মধ্যে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যরো (ইপিবি) এ রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা
প্রকাশ করবে।
এদিকে
সদস্য সমাপ্ত অর্থবছরে ৪ দশমিক ২ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে।
বাণিজ্য
মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জনা গেছে।
প্রায় ১০ শতাংশ
প্রবৃদ্ধি ধরে ২০০৯-১০ অর্থবছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ
করা হয়েছিল;
কিন্তু বিশ্বমন্দার কারণে প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যায়নি।
তবে
এরপরও সদ্য বিদায়ী অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে ইতিবাচক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি
রপ্তানিকারকদের মনে আশার সঞ্চার করেছে।
এর ওপর
ভিত্তি করেই নয়া অর্থবছরে সদ্য বিদায়ী অর্থবছরের ওপর আরও ১০ শতাংশ রপ্তানি
প্রবৃদ্ধি ধরে নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য
মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট
মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন,
আমরা বিগত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকের রপ্তানি ধারা পর্যালোচনা করেছি।
ওই
অর্থবছরে জুলাই-মার্চ পর্যন্ত ৩ প্রান্তিকে ধারাবাহিকভাবে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি
বজায় থাকলেও শেষ প্রান্তিকে এসে প্রথমবারের মতো ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
ইপিবির
পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত অর্থবছরের ১১ মাসে রপ্তানি খাতে দুই দশমিক ৪৮ শতাংশ
প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
অর্থবছর
শেষে এ প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
মন্দা পুরোপুরি
কেটে না যাওয়ার পরও ১০ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষী কি
নাথ এমন প্রশ্নের উত্তরে ওই কর্মকর্তা জানান,
তারা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন।
ব্যবসায়ীরাও এ ব্যাপারে ইপিবিকে আশ্বস্ত করেছেন যে,
এ
লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব।
ব্যবসায়ীরা বলেছেন,
মন্দা কেটে যাওয়ার পর বিশ্বব্যাপী পণ্যের চাহিদা বাড়বে।
এছাড়া
রপ্তানি খাতে আরও নতুন কয়েকটি দেশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এসব দেশে
বাংলাদেশী পণ্যের বাজার ধরা গেলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে না।
উল্লেখ্য,
নতুন বাজার হিসেবে এশিয়ার জাপান,
ল্যাটিন আমেরিকার আর্জেন্টিনাসহ কয়েকটি দেশ,
সুদান,
জাম্বিয়াসহ পশ্চিম আফ্রিকার কয়েকটি দেশে বাংলাদেশের পণ্য বাজারজাতকরণের
উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
ইপিবি জানায়,
বাংলাদেশ এখন যে রপ্তানি করে এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে
অর্ধেকের বেশি রপ্তানি হয়ে থাকে।
প্রায় ৫২
দশমিক ৬৯ শতাংশ বাংলাদেশী পণ্য রপ্তানি হয় এসব দেশে।
এরপর
রয়েছে আমেরিকা,
যেখানে প্রায় ৩১ দশমিক ৬১ শতাংশ রপ্তানি হয়।
পূর্ব
এশিয়া অর্থাৎ আসিয়ান অঞ্চলে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ;
ইস্ট ইউরোপে ২ দশমিক ৫১ শতাংশ;
আফ্রিকায় শূন্য দশমিক ৯৭ শতাংশ;
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শূন্য দশমিক ৬২ শতাংশ এবং অন্যান্য অঞ্চলে ২ দশমিক
৭৪ শতাংশ রপ্তানি করে থাকে বাংলাদেশ।
দেশের প্রধান
রপ্তানি পণ্য হচ্ছে ওভেন গার্মেন্টস।
এ খাতে
মোট রপ্তানির প্রায় ৩৮ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়।
এরপর
নিটওয়্যার পণ্যে রপ্তানি ৩৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ,
হিমায়িত মাছ ও খাদ্যে ৪ দশমিক ২৩ শতাংশ,
পাটজাত পণ্যে ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ,
চামড়া ২ দশমিক ১৮ শতাংশ,
কাঁচাপাট ১ দশমিক ২১ শতাংশ,
কেমিক্যাল ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ,
চা শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশ এবং অন্যান্য পণ্য রপ্তানি করা হয় ১২ দশমিক ২৮ শতাংশ।
সূত্রগুলো জানায়,
সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্য,
চামড়া,
কৃষিজাত পণ্য,
হালকা মেশিনারিজ যেমন- ইলেকট্রনিক্স,
বাইসাইকেল ইত্যাদি খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও দেশের প্রধান রপ্তানি
খাত তৈরি পোশাক শিল্প অর্থাৎ ওভেন গার্মেন্টস,
নিটওয়্যার ছাড়াও হিমায়িত খাদ্য ও মাছ,
টেক্সটাইল ফেব্রিক্স,
চা ইত্যাদি খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির কারণে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা
সম্ভব হয়নি।
২০০৯-১০
অর্থবছরে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ১৭ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের বিপরীতে জুলাই থেকে
মে পর্যন্ত মোট ১১ মাসে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৪৯ কোটি ১১
লাখ ৪০ হাজার ডলার।
গত
অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ১ হাজার ৪১৪ কোটি ৩ লাখ ডলার।
এই আয় গত
অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
বছর শেষে
এটি ৪ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
আলোচ্য সময়ে
শীর্ষ রপ্তানি খাত নিট পোশাকে রপ্তানি হয়েছে ৬৫৪ কোটি ৫৬ লাখ ডলার,
প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক (-) ০.৯৩ শতাংশ;
ওভেন পোশাকে ৫৯৯ কোটি ৯০ লাখ ৬০ হাজার ডলার,
প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক (-) ০.০৯ শতাংশ;
হোম টেক্সটাইল ৩১ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার,
প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক (-) ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ;
টেক্সটাইল ফেব্রিক্স ৭ কোটি ৮৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার,
প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক (-) ১৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
এছাড়া
রপ্তানি কমেছে চা ১ কোটি ১৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার,
প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক (-) ৪৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ;
হিমায়িত খাদ্য ৩৮ কোটি ৫৩ লাখ ১০ হাজার ডলার,
প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক (-) ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং হস্তশিল্প ৬৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার
প্রবৃদ্ধি হয়েছ ঋণাত্মক (-) ১৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
সড়ক দুর্ঘটনা
রোধে
গত ১০ জুলাই
শনিবার রাজধানীতে এক সেমিনারে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন,
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীকে যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি
বলেন,
নতুন কোন আইনের প্রয়োজন নেই,
প্রচলিত আইনের সঠিক প্রয়োগ করেই সড়ক দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দেয়া
সম্ভব।
তিনি আরও
বলেন,
ওভারলোডিং,
ওভারটেকিং ও ওভারস্পিডের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে এবং এগুলো রোধে আইন রয়েছে।
এগুলো
প্রয়োগ করেই সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব।
আইনমন্ত্রী মনে করেন,
কোন আবেগ দিয়ে নয়,
সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়েই বিবেচনা করা উচিত।
বেপরোয়া
গাড়ি চালানোর (ডেঞ্জারাস ড্রাইভিং) বিরুদ্ধে কঠোর আইন করার যে দাবি উঠেছে,
এ
ব্যাপারে তিনি বলেন সেই
'কঠোর
আইন'
প্রয়োগেও পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা বড় হয়েই থাকবে।
গত ১০ জুলাই
শনিবারের সেমিনারে এডভোকেট তারানা হালিম এমপি জানান,
প্রতি বছর গড়ে ৪ হাজার ৮৫টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে এবং এগুলোতে ৩ হাজার ৩৭০ জন
মারা যান ও ২ হাজার ৮৮১ জন আহত হন।
তার মতে,
বেশিরভাগ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে।
তিনি
চাচ্ছেন,
এসব চালকের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে।
অন্যদিকে
বুয়েট দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষকরা বলছেন,
ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনই সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ।
এর মধ্যে
আছে টায়ারের হাওয়া বেরিয়ে যাওয়া,
ব্রেক ও এক্সেল ফেইলিওর।
আপাতদৃষ্টিতে দু'ধরনের
সমস্যার জন্যই দুর্ঘটনা ঘটে।
আইনমন্ত্রী আরও
জানাচ্ছেন,
আনাড়ি ড্রাইভাররা ঘুষ দিয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে
ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়ে থাকেন।
এ
ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে হবে।
আর ভুয়া
লাইসেন্সের ব্যাপারে সরকারকে কঠোর হতে হবে।
বিআরটিএর
চেয়ারম্যান বলেন,
৭০ শতাংশ ড্রাইভিং লাইসেন্স ভুয়া।
সড়ক
দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা প্রচলিত আইনে
আছে।
প্রন্তুত
ত্রুটিপূর্ণ পুলিশ রিপোর্টের কারণে দোষী ব্যক্তিরা ছাড়া পেয়ে যায়।
বিআরটিএর
চেয়ারম্যান জানাচ্ছেন,
দেশে মহাসড়কগুলোয় ২০৯টি জায়গা আছে,
যেগুলো সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
প্রতিদিন যেসব
সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে এর জন্য দায়ীর মধ্যে প্রধানত আছে ভুয়া লাইসেন্স,
বেপরোয়া গাড়ি চালনা ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন।
এগুলো
দেখার দায়িত্ব পুলিশ বিভাগের।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সঠিকভাবে দায়িত্ববান হলে পুলিশ বিভাগকে সড়ক দুর্ঘটনা
রোধে সক্রিয় করতে পারে।
এ কাজে
যারা অবহেলা করবে অথবা অসদুপায়ের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের ছাড় দেবেন,
তাদেরও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
এটা ঠিক
দেশের পুলিশে যে জনবল আছে,
তা তাদের দায়িত্ব পালনের জন্য পর্যাপ্ত নয়।
কিন্তু
যতটা সম্ভব ততটা করতে পারলেও সড়ক দুর্ঘটনা কমে যাবে।
অন্যদিকে
বিভিন্ন মহাসড়কের ত্রুটিপূর্ণ স্থানগুলো বহুবার চিহ্নিত করা হয়েছে।
কিন্তু
সড়ক ও জনপদ বিভাগ সড়কগুলো ত্রুটিমুক্ত করতে তাদের দায়িত্ব পালন করেনি।
সড়ক
দুর্ঘটনা বন্ধ করা একক কোন সংস্থার কাজ নয়।
সমন্বিত
উদ্যাগ নিলে প্রতিবছর তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার লোকের প্রাণ রক্ষা করা
সম্ভব হতো এবং যানবাহনের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি কমে যেত।
বর্জ্য সংগ্রহের
নতুন প্রবৃদ্ধি
নগরিকে
পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে বর্জ্য সংগ্রহে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে এগিয়ে
আসতে হবে।
নাগরিক
জীবনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার জন্য নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
মানুষ
সচেতন না হলে কোনো আধুনিক পদ্ধতি সফল হবে না।
গত ১৪
জুলাই বুধবার বিকাল ৪টায় টিএসসি মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে
পরিবেশবান্ধব কম্পেক্টর ট্রাকের মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে বর্জ্য সংগ্রহ
উদ্বোধনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন,
দেশাত্মবোধ,
মানবিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধারণ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে
সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা
সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিপন কুমার
সাহা জানান,
ঢাকায় ১ কোটি ২০ লাখ স্থায়ী লোক এবং ৩০ লাখ ভ্রাম্যমাণ লোক প্রতিদিন ৪ হাজার
২০০ টন বর্জ্য উৎপন্ন করে।
ডিসিসি
প্রতিদিন ৫৫ ভাগ বর্জ্য অপসারণ করতে পারে।
এতে
বার্ষিক খরচ হয় দেড়শ কোটি থেকে পৌনে দুইশ কোটি টাকা।
অবশিষ্ট
বর্জ্য টোকাইরা নানাভাবে সংগ্রহ করে।
ঢাকা
শহরে ১ লাখ ৭০ হাজার টোকাই এ কাজে জড়িত বলে তিনি জানান।
তিনি এ সময়
পরিবেশ রক্ষা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ডিসিসির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য নগরীর
সকল মেডিকেল কলেজ,
হাসপাতাল,
ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতি আহ্বান জানান।
জাপান
ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও
ঢাকা সিটি করপোরেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য
ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিপন কুমার সাহা ও জাইকার কারিগরি সহায়তা
দলের ভারপ্রাপ্ত উপদেষ্টা আকিও ইশি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান
পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সৈয়দ রেজাউর
রহমান।
উলফানেতা ভৈরবে
গ্রেপ্তার
বাংলাদেশে
আত্মগোপনকারী ভারতের আসাম রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফা (ইউনাইটেড
লিবারেশন ফ্রন্ট অফ আসাম) নেতা রঞ্জন চৌধুরী ওরফে মেজর রঞ্জন এবং তার এদেশীয়
সহযোগী প্রদীপ মারাককে গ্রেফতার
করা হয়েছে।
গত ১৭
জুলাই শনিবার ভোরে র্যাবের একটি দল ভৈরবের একটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের
গ্রেফতার করে।
এসময়
তাদের কাছ থেকে ১টি পিস্তল,
১টি রিভলবার,
রিভলবারের ৪ রাউন্ড গুলি,
স্থানীয়ভাবে তৈরি ৪টি বোমা এবং বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
রঞ্জন
চৌধুরী উলফার শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা।
তিনি গত
১৩ বছর ধরে নিজের নাম ও পরিচয় গোপন করে বাংলাদেশে বসবাস করে উলফার কার্যক্রম
চালাচ্ছেন বলে র্যাব কর্মকর্তারা জানান।
গত ১৭
জুলাই শনিবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র্যাব সদর দপ্তরে গ্রেফতারকৃত ওই
দুইজনকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
র্যাবের
লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার সোহায়েল গ্রেফতারকৃতদের
ব্যাপারে সাংবাদিকদের বিভিন্ন তথ্য জানান।
এসময়
র্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান,
লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের অন্য কর্মকর্তা মেজর শাখাওয়াত এবং ক্যাপ্টেন
ওয়ালিদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ
সম্মেলনে র্যাব কর্মকর্তারা জানান,
র্যাবের চলমান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে র্যাবের গোয়েন্দা শাখা
জানতে পারে,
কিছু সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারী অবৈধভাবে ভৈরবে অবস্থান করছে।
এমন
তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব ওই এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং তৎপরতা
অব্যাহত রাখে।
গত
শুক্রবার র্যাবের গোয়েন্দা শাখা নিশ্চিত হয় উল্লিখিত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা
ভৈরব থানার লক্ষ্মীপুর এলাকায় অবস্থান করছে।
এরই
ধারাবাহিকতায় র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরের ইন্টেলিজেন্স উইং এবং র্যাব-৯
(ভৈরব ক্যাম্প) এর একটি বিশেষ অভিযান দল গত শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে
লক্ষ্মীপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ রঞ্জন চৌধুরী ওরফে
মেজর রঞ্জন (৪৬) এবং তার এদেশীয় সহযোগী প্রদীপ মারাককে (৫৭) গ্রেফতার করতে
সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত উলফা নেতাদের নিয়ে র্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে
র্যাব লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইং এর পরিচালক কমান্ডার মো. সোহায়েল সাংবাদিকদের
জানান,
গ্রেফতারকৃত রঞ্জন চৌধুরী ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী নিষিদ্ধ সংগঠন উলফার নেতা।
উলফার এই
নেতা শক্তিশালী সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হওয়ায় উলফার ভেতর তাকে মেজর রঞ্জন
বলেও ডাকা হয়।
তার
স্থায়ী ঠিকানা আসামের ধুবড়ী জেলার গৌরীপুর মধু শোলমারীতে।
র্যাবের
ওই কর্মকর্তা আরও জানান,
গ্রেফতারকৃত রঞ্জন চৌধুরী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে,
উলফার শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে রঞ্জন চৌধুরী ১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে
কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
এরপর
থেকে তিনি কখনও রঞ্জন চৌধুরী,
মেজর রঞ্জন,
রঞ্জন সিসিম,
প্রদীপ রায়,
দ্বীপ জ্যাতি,
রঞ্জু বাড়ৈ ও মাসুদ চৌধুরী ছদ্মনাম ব্যবহার করে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী থানার
গজনী গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।
অন্যদিকে
গ্রেফতারকৃত প্রদীপ মারাকের গ্রামের বাড়ি শেরপুর ঝিনাইগাতীর বাঁকাকুড়া গ্রামে।
তিনি এক
সময় একটি এনজিওতে চাকরি করাকালীন ১৯৯৭ সালে শেরপুরে উলফা নেতা রঞ্জন চৌধুরীর
সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
ওই বছরই
প্রদীপ মারাক চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে রঞ্জন চৌধুরীর সঙ্গে মিলে উলফা সংগঠনকে
বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছিলেন বলে ব্যার কর্মকর্তারা জানায়।
পরীক্ষা ছাড়াই
খাদ্য রপ্তানি
'তেজস্ক্রিয়তা
পরীক্ষা ছাড়াই খাদ্য রপ্তানির সুযোগ পাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড'
শিরোনামে সহযোগী দৈনিকে একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে।
খবরে
লেখা হয়েছে,
কয়েক মাস ধরে অস্ট্রেলীয় দূতাবাস তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা ছাড়া খাদ্যদ্রব্য
আমদানির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে নানাভাবে বলে আসছে।
ইতোমধ্যেই
'বিদেশ
প্রাইভেট লিমিটেড'
নামে একটি জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রতিষ্ঠান প্রথমে অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানিকৃত
খাদ্যদ্রব্য তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষাবিহীন অবস্থায় ছাড়করণের দাবি জানিয়েছেন।
এ
পরিপ্রেক্ষিতে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার,
অস্ট্রেলিয়ার ট্রেড কমিশনের কান্ট্রি ম্যানেজার এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান
বিদেশ প্রাইভেট লিমিটেড পৃথকভাবে ৬টি চিঠি সরকারের কাছে পাঠায়।
তারা
আমদানি নীতিতে সংশ্লিষ্ট ধারার পরিবর্তনের জন্যও চাপ দিচ্ছে।
অস্ট্রেলীয়
কর্তৃপক্ষ ও তাদের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর এ কার্যক্রম খুবই উদ্বেগজনক ও
অনৈতিক।
অস্ট্রেলিয়াসহ ধণাঢ্য উন্নত দেশগুলো যেখানে তাদের দেশে পাঠানো খাদ্যদ্রব্যসহ
যে কোন পণ্যের মান নিয়ে এক ইঞ্চিও ছাড় দেয় না কিংবা আপস করে না,
সেখানে তারা কোন যুক্তিতে বাংলাদেশকে তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা ছাড়াই খাদ্যদ্রব্য
গ্রহণের জন্য চাপ দিচ্ছে?
তাদের দেশের জন্য আমদানিতে যে বিধি শতকরা একশ ভাগ অনড় থাকে সে বিধিটি তারা
বাংলাদেশকে অগ্রাহ্য করতে বলছে এটা দেশটির একটি নীতিহীন অবস্থান।
তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা ছাড়া খাদ্যদ্রব্য আমদানির প্রশ্নে সরকারকে আইনসঙ্গত ও
কঠোর অবস্থান রাখতে হবে।
আমদানিনীতিতে তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষায় বিধি বাতিল করার তো প্রশ্নই ওঠে না,
উপরন্তু এ বিধিতে অটল থেকে অস্ট্রেলিয়া কিংবা অন্য যে কোন দেশের খাদ্যদ্রব্য
আমদানির বিষয়ে সরকার তথা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে।
অস্ট্রেলীয় হাইকমিশনার তাদের ইতিহাসে খাদ্যে তেজস্ক্রিয়তার কোন তথ্য নেই বলে
যে প্রত্যয়ন দিচ্ছে তার নিশ্চয়তা আমরা পরীক্ষা না করে কীভাবে পাব?
আমাদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেছেন,
'নানা
কারণে'
তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা ছাড়া অস্ট্রেলীয় ও নিউজিল্যান্ডের পণ্য আমদানির ছাড়
দেয়া হচ্ছে।
আমরা এই
'নানা
কারণটা'
বুঝতে পারি না।
কিন্তু
এই নানা কারণের গহ্বর থেকেও তো আমাদের উঠে আসতে হবে।
প্রয়োজন
কোন আইন মানে না।
কথাটাও
সত্য।
কিন্তু
এখন সময় এসেছে আমাদের প্রয়োজনটাকে সেই ফরমেটের মধ্যে ফেলতে হবে।
যা আইনকে
মেনে চলবে।
যে কোন
দেশে উৎপন্ন দুধ,
দুগ্ধজাত খাদ্য,
ভোজ্যতেল ও অন্য খাদ্যসামগ্রী আমদানির ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা
বাধ্যতামূলক করা হয়েছে আমাদের আমদানিনীতিতে।
ওই
আদেশের ধারা ১৫-এর উপধারায় বলা হয়েছে,
বিএসটিআই বা বিসিএসআইআরের পরীক্ষা ছাড়া খাদ্যদ্রব্য খালাস করলে শুল্ক আইনে
আমদানিকারকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড থেকে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা সরকার নেবে সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।
আমাদের
বিশ্বাস,
সরকার যদি এ ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে তাহলে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড
হোক,
আর যেই হোক,
তারা তাদের অনৈতিক ভূমিকা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হবে।
কর্ণফুলী নদী
দখল
চট্টগ্রামের
কর্ণফুলী নদী দখল,
ভরাট,
স্থাপনা নির্মাণসহ কার্যক্রম আগামী তিন মাসের জন্য বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে
হাইকোর্ট।
পাশপাশি
নদীর প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে চট্টগ্রাম ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে
আগামী ছয় মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
হিউম্যান
রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে
বিচারপতি এ.এইচ.এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের গত ১৮
জুলাই রবিবার এ আদেশ দেন।
আদেশে
নদী রক্ষা এবং নদীর অভ্যন্তরে স্থাপিত সকল স্থাপনা অপসারণের জন্য কেন নির্দেশ
দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে
জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রিট
আবেদনে পরিকল্পনা কমিশন,
পরিবেশ অধিদপ্তর,
ভূমি মন্ত্রণালয়,
অর্থ মন্ত্রণালয়,
স্থানীয় সরকার সচিব,
পানি সম্পদ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়,
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন,
বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান,
জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনারকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটকারী পক্ষের
আইনজীবী মনজিল মোরশেদ শুনানিতে বলেন,
পরিবেশ আইন,
জলাধার আইন ২০০০ স্পষ্টভাবে বলা আছে বড় ধরনের পরিবর্তন করা যাবে না।
নদীর
প্রকৃত অবস্থা রক্ষাবেক্ষণ করতে হবে।
অথচ
কর্ণফুলী নদী অব্যাহতভাবে দখল করা হচ্ছে এবং স্থাপনা নির্মাণও অব্যাহত রয়েছে।
আইনে
বিধিনিষেধ থাকার পরও বিবাদীরা এ বিষয়ে কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।
আইনজীবী
মনজিল মোরশেদ আদালতকে আরও বলেন,
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী দখল,
মাটি ভরাট ও নদীর অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে।
সংবাদপত্রে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশিতও হয়েছে।
এভাবে
দখল হতে থাকলে ওই নদীর অস্তিত্ব থাকবে না।
এর ফলে
চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর প্রভাব বিরূপ পড়বে এবং অর্থনৈতিকভাবে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত
হবে।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস এন্ড পিচ ফর বাংলাদেশের পক্ষে আইনজীবী
আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী ও আইনজীবী সরোয়ার আকন্দ চৌধুরী এ রিট দায়ের করেন।
রিট
আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরশেদ।
শাহ্ জালাল
বিমানবন্দর!
শাহজালাল
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত ১ জুন ১১শ'
সশস্ত্র পুলিশকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেয়া হয়।
এরপর
থেকে তারা পর্যায়ক্রমে নিশ্ছিদ্র নি রাপত্তা
বলয় গড়ে তোলেন।
দায়িত্ব
পাওয়ার পর পর ভিডিও ফুটেজ ও কমান্ডো ফোর্সের তৎপরতায় একের পর এক চোরাচালানী
চক্র ধরা পড়ে।
এতে
দীর্ঘদিন থেকে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক চোরাচালানী চক্র কোণঠাসা হয়ে পড়ে।
এরপর
চক্রটি প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় নানা কৌশলে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নড়বড়ে করার
উদ্দেশ্যে সেখানে আনসার মোতায়েন করার চেষ্টা করছে।
বিমানবন্দরসমূহের নিরাপত্তা নিয়ে গত ১৯ জুলাই সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
সম্মেলন কক্ষে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে যে ষড়যন্ত্র চলছে তা
নিয়ে আলোচনা হয় এ সভায়।
অপরাধ
বিশেষজ্ঞদের মতে,
বিমানবন্দরে আনসার মোতায়েন করার অর্থ হলো পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ধ্বংস করার
ষড়যন্ত্র।
এছাড়াও
বিমানবন্দরে সশস্ত্র পুলিশকে ঠেকাতে চোরাচালানিদের সহযোগিতাকারী দুর্নীতিবাজ
কর্মচারীরা নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে।
এ নিয়ে
পুলিশের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
তারা
বিষয়টি নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা শুরু করছেন।
গোয়েন্দা সংস্থা
সূত্র জানায়,
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের অন্যান্য বিমানবন্দরে আগে আনসার ও
দু'তিন
জন আর্মড পুলিশ দিয়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করা হতো।
এ নিয়ে
সরকারের দশম গোয়েন্দা সংস্থার সভায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা
আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র পুলিশ ব্যাটালিয়ন
মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে সব বিমানবন্দরে যেকোন ধরনের নাশকতা,
জঙ্গি হামলা,
বিমান ছিনতাই,
প্রতিরোধসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সব
বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব আর্মড পুলিশকে দেয়া হয়।
এ আদেশ
পাওয়ার পর পর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে একজন সিনিয়র এসপি,
একজন অতিরিক্ত এসপি,
১৪ জন এএসপির তত্ত্বাবধানে ১১শ'
সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করার কথা হয়।
তাদের
বিমান হাইজ্যাক ঠেকাতে কমান্ডো প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
তারা
সফলভাবে কার্যক্রম শুরু করার পর বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিছুটা
উন্নতি হয়।
কমে যায়
যাত্রী হয়রানি,
লাগেজ টানা পার্টির দৌরাত্ম্য,
দফায় দফায় চোরাচালানি।
এছাড়া
মুদ্রা পাচারকারীদের ভিডিও ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করা হয়।
গত ১৩
জুলাই চোরাচালানি কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে সিভিল এভিয়েশনের ২ জন
নিরাপত্তা কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।
অন্য
পলাতক ২ জনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খুঁজতে থাকে।
এ ধরপাকড়
কার্যক্রম সফল হওয়ার শুরুতে সিভিল এভিয়েশনের সরকারবিরোধী দুর্নীতিবাজ
কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আর্মড পুলিশকে ঠেকাতে একটি কমিটি গঠন করে।
তারা
আর্মড পুলিশের কার্যক্রমকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
সেখানে
তারা প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় আর্মড পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্য
দ্বারা নিরাপত্তা দেয়ার জন্য প্রস্তাব করে।
আনসার
মোতায়েনের জন্য সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে অতি উৎসাহীরা তৎপরতা শুরু করেছে।
গোয়েন্দা
সংস্থার মতে,
বিমানবন্দরে আনসার মোতায়েন করলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে যাবে।
সেখানে
আনসার ও সশস্ত্র পুলিশের দ্বৈত শাসনের কারণে দুর্নীতিবাজরা সুযোগ পেয়ে আবার
চোরাচালানি,
ঘুষ বাণিজ্য,
লাগেজ কাটা,
যাত্রী হয়রানিসহ সব ধরনের অপরাধের সুযোগ পাবে।
সূত্র
জানায়,
আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিরোধী ৪০ জন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ একটি সেমিনারে বলেন,
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অব্যাহত সন্ত্রাসী প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ অত্যন্ত
ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সহিংসতা এবং সন্ত্রাসবাদে গবেষণা
কেন্দ্রের প্রধান জন হ্যারিসন তার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণে আশঙ্কা প্রকাশ করে
বলেন,
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি যে কোন মুহূর্তে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী
গোষ্ঠীর টার্গেটে পরিণত হতে পারে।
তিনি
শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার সুপারিশ করেছেন।
চোরাচালানি চক্র এতই শক্তিশালী যে তারা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্যের
ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়,
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক মানের
নিরাপত্তা নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
জরুরি
সভায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়াও বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থাকবেন
বলে জানা গেছে।
গত ১৯
জুলাই সোমবার বিকেল ৩টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
লন্ডনে মহতী
আয়োজন ভন্ডুল হলো
দলীয় ও রাজনৈতিক
দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে উশৃঙ্খল আচরণের কারণে শেষ পর্যন্ত ভন্ডুল হয়ে গেল বিলেতের
খ্যাতনামা লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স-এর সেমিনারটি।
এক
শ্রেণীর রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর অসংযত আচরণের মাধ্যমে লন্ডনের মত স্থানেও দেশের
সুনাম ভূলুণ্ঠিত করার অপচেষ্টা চলছে।
এর পেছনে
রয়েছে প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক মহলের সরাসরি ইন্ধন ও উৎসাহ।
মর্যাদাবান
লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স-এর ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টারে গত ১৬ জুলাই বিকালে
'বাংলাদেশের
গণতন্ত্র,
সুশাসন,
মানবাধিকার ও রাজনৈতিক দলের ভূমিকা'
শীর্ষক সেমিনারের উদ্যোক্তা ছিল ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন।
ব্রিটিশ
পার্লামেন্টের সর্বদলীয় মানবাধিকার গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান লর্ড এ্যাভরি শেষ
পর্যন্ত মহতী এই সেমিনারের করুণ পরিণতি দেখে বিস্মিত হন এবং এক বিবৃতিতে
সহিংসতার জন্য সেমিনার ভন্ডুলকারীদের আইনের হাতে সোপর্দ করে ফৌজদারি ব্যবস্থা
নেয়ার আহ্বান জানান।
ঢাকায় প্রাপ্ত
খবরে জানা যায়,
বর্ষীয়ান ব্রিটিশ রাজনীতিক লর্ড এ্যাভরি ওই সেমিনারে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল।
কিন্তু
তিনি অসুস্থ থাকায় সভাপতিত্ব করার দায়িত্ব চাপে লর্ড সভার সদস্য ব্যারোনেস
পলা মঞ্জিলা উদ্দিন।
সেমিনারটি ছিল সর্বদলীয়।
বাংলাদেশ
সরকার তথা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকা থেকে বক্তব্য রাখতে যান
প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান এবং মহিলা ও শিশু
বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী।
লন্ডনে
বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. সাইদুর রহমান খান,
সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু এমপি ও সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি লন্ডনে
অবস্থান করায় প্রতিনিধি দলে যোগ দেন।
অন্যদিকে
বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে যান স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল
মঈন খান,
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ ও ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন অসীম।
এছাড়া
যুক্তরাজ্য বিএনপির উপদেষ্টা সুলতান শরীফ,
ব্যারিস্টার নোরা শরীফ,
ব্রিটিশ হাউজ অব কমন্স,
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য,
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল,
হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি,
গবেষক বিশেষজ্ঞ যোগ দেন আলোচিত এই সেমিনারে।
যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি কমরউদ্দিন তার একদল অনুসারী নিয়ে সেমিনারে যান।
উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী ও সমর্থক সেমিনারে হাজির হন।
ব্যারোনেস পলা
মঞ্জিলা উদ্দিনের সভাপতিত্বে নির্দিষ্ট সময়ে সেমিনার শুরু হলে প্রথমে
বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. সাইদুর রহমান খান নির্দিষ্ট সাত মিনিট বক্তব্য
রাখেন।
তিনি
সরকারের অর্জিত সাফল্য তুলে ধরেন এবং সহনশীলতা ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ
করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
এরপর
বিএনপির কমর উদ্দিন বক্তব্য রাখেন।
তখন পুরো
হলে ছিল নিরবতা।
তার
নির্বিঘ্ন বক্তৃতা শেষ হবার পরই সুযোগ দেয়া হয় যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের
উপদেষ্টা সুলতান শরীফকে।
তার
বক্তব্যের শুরুতেই উপস্থিত বিএনপি-জামায়াতের সমর্থকরা বাধা দেয় ও উচ্চস্বরে
হট্টগোল শুরু করেন।
সভাপতি
ব্যারোনেস পলা সেমিনারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন।
এরপর
বিএনপি-জামায়াত সমর্থকরা চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু করে।
এর ফলে
উপস্থিত যুবলীগ কর্মী বাদশার মাথায় চেয়ারের আঘাত লাগে।
তাকে পরে
হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং মাথায় ছয়টি সেলাই করা হয়।
চেয়ার
ছোঁড়াছুঁড়িতে সেমিনার হলটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
ব্যারোনেস পলা পুলিশ ডাকতে বাধ্য হন।
এক
পর্যায়ে সেমিনারটি পণ্ড হয়ে যায়।
ব্যারোনেস বালা বলেন,
সরকারি দলের নেতা বক্তব্য রাখার সময় বিরোধি দল যেভাবে হট্টগোল করেছে তা
নজিরবিহীন।
এ জন্যই
সেমিনারটি করা গেল না।
এ ধরনের
সেমিনারে সব দলের নেতা-কর্মীদেরই সহনশীল হওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে
সেমিনারের উদ্যোক্তা লর্ড এ্যাভরি সেদিন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
বিকালে
তিনি সেমিনারের অপ্রীতিকর ঘটনা জানতে পারেন ও অনুতপ্ত হন।
পরে এক
বিবৃতিতে বলেন,
''বিএনপি'র
পক্ষ থেকে প্রথম বক্তব্য শান্তিপূর্ণভাবে সবাই শোনেন।
কিন্তু
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রথম বক্তা বক্তব্য শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই বাধা
দেয়া শুরু হয় এবং সেই বাধা ক্রমে দৈহিক শক্তি প্রয়োগে রূপ নেয়।
সেমিনারে
উপস্থিত বিএনপি'র
সমর্থকগণ চেয়ার ছোঁড়া শুরু করেন।
সভাপতি
পলা উদ্দিন (যিনি আমার অনুপস্থিতিতে সভাপতিত্ব করছিলেন) তখন পুলিশ ডাকেন।
পুরো
সভাটি বাংলা টিভিতে ধারণ করা হচ্ছিল।
যে-ই
সহিংসতা শুরু করে থাকুক না কেন,
তাকে শনাক্ত করে ফৌজদারী আদালতে সমর্পণ করা সম্ভব।
এ বিষয়টি সকলেই
অনুধাবন করবেন যে,
সরকার ও বিরোধী দল যদি কোন অভিন্ন ইস্যুতে লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স এ
সঠিকভাবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে না পারে,
তাহলে স্বদেশে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার ক্ষেত্রে আশাবাদী হওয়ার খুব
সম্ভাবনা থাকে না।
সরকারি
নীতির যৌক্তিক সমালোচনায় সংসদে অংশগ্রহণ না করে বরং সংসদ বয়কট করে বিরোধী দল
বিএনপি রাজপথে আন্দোলন,
হরতাল ইত্যাদি কর্মসূচি দিচ্ছে।
বাংলাদেশের সামনে যে সকল গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রয়েছে যেমন সন্ত্রাসবাদের
অব্যাহত হুমকি,
১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার,
১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের সরকারি অঙ্গীকার,
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় বিপুল জনগোষ্ঠীর বাস্তচ্যুতিসহ অন্যান্য
চ্যালেঞ্জিং ইস্যু প্রভৃতি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জনগণের সমন্বিত প্রয়াস খুবই
জরুরি।”
সুন্দরবনে
করিডোর গড়ছে মাওবাদীরা
অস্ত্র এবং
আশ্রয় পেতে ভারতের মাওবাদীরা বাংলাদেশের নিষিদ্ধ দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে
দুই বাংলার সুন্দরবনে করিডোর গছে।
চেষ্টা
চালাচ্ছে বাংলাদেশের জনযুদ্ধ গোষ্ঠী এবং সর্বহারা পার্টির মত নিষিদ্ধ
দলগুলোকে এক ছাতার তলায় এনে গঙ্গা-পদ্মার ব-দ্বীপ এবং দ্বীপাঞ্চলে আধিপত্য
বাড়ানোর।
বাংলাদেশের নিষিদ্ধ সর্বহারা এবং পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি ভেঙে গড়ে ওঠা
লাল পতাকা ও জনযুদ্ধ গোষ্ঠীর সঙ্গে মাওবাদীদের যোগাযোগ গড়ে ওঠায় ঢাকা এবং
দিল্লীর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমানভাবে উদ্বিগ্ন।
কেন হঠাৎ
পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তের জেলা নদীয়ার পর মুর্শিদাবাদেও মাওবাদীরা সক্রিয় হচ্ছে?
গোয়েন্দাদের কাছে খবর,
চেষ্টা চলছে বাংলাদেশকে করিডোর করে দক্ষিণ এশিয়ার কাম্পুচিয়া,
থাইল্যাড়ন্ড এমনকি ফিলিপাইনের অন্য মাওবাদী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগসূত্র আরো
বাড়ানোর।
তাই দুই
২৪ পরগণাতেও মাওবাদীরা সক্রিয় হচ্ছে।
সীমান্তের ওপারে সুন্দরবন সংলগ্ন গঙ্গা-পদ্মার ব-দ্বীপের খুলনা,
যশোর,
বাগেরহাট,
বরিশাল,
সাতক্ষীরা,
পিরোজপুর,
মাগুরা এবং মুর্শিদাবাদ সংলগ্ন কুষ্টিয়া,
চুয়াডাঙ্গা জেলায় যথেষ্ট সক্রিয় আছে লাল পতাকা ও জনযুদ্ধ গোষ্ঠী।
মুর্শিদাবাদ থেকে অনায়াসে কুষ্টিয়া,
সিরাজগঞ্জ হয়ে যাওয়া যেতে পারে আসামে।
আর
সুন্দরবন এলাকা দিয়ে মিয়ানমারে।
মংলা বন্দরেও
সর্বহারা এবং জনযুদ্ধ গোষ্ঠীর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।
ফলে
ভারতের মাওবাদীরা তাড়া খেয়ে দ্রুত সীমান্ত পার হয়ে ওই সমস্ত গোষ্ঠীর সহায়তায়
মংলা বন্দর এলাকা থেকে সমুদ্র পথে দেশের বাইরে চলে যেতে পারে।
ওই পথ
দিয়ে সহজে অস্ত্র আনাও সম্ভব।
এমনই
আশঙ্কা করছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
গোয়েন্দা সূত্রে
আরো খবর,
এখানে ধরপাকড় হলে বাংলাদেশে গিয়ে যাতে আশ্রয় পাওয়া যায় তার একটা পাকা
ব্যবস্থা করতে চাইছে মাওবাদীরা।
সেখানকার
নিষিদ্ধ গোষ্ঠীগুলোর সহায়তায় কোন মতে একবার বাংলাদেশে ঢুকতে পারলে অতি সহজে
উত্তর-পূর্ব ভারত কিংবা মিয়ানমার হয়ে চলে যাওয়া যেতে পারে চীনে।
তাই
বাংলাদেশে র্যাবের অভিযানের সময় সর্বহারা বা জনযুদ্ধ গোষ্ঠীর সদস্যরা এসে
আশ্রয় পাচ্ছে মুর্শিদাবাদে মাওবাদীদের ডেরায়।
অভিনেতা বুলবুল
আর নেই
বিশিষ্ট
চলচ্চিত্র শিল্পী বুলবুল আহমেদ (৭০) ইন্তেকাল করেছেন।
(ইন্নালিল্লাহেঃরাজিউন)।
গত ১৪
জুলাই বুধবার রাতে গুলশানের নিকেতনের বাসভবনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্কয়ার
হসপিটালে আনার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি
স্ত্রী,
২
কন্যা এবং এক ছেলে,
আত্মীয়-স্বজন,
অসংখ্য বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাঙক্ষী রেখে গেছেন।
এই
প্রবীণ বিশিষ্ট শিল্পীর মৃত্যুর খবরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।
খবর পেয়ে
অনেকে হাসপাতাল ও তার বাসভবনে ছুটে যান।
অনেক দিন
ধরেই বুলবুল আহমেদ হৃদরোগ,
উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।
বুলবুল আহমেদের
নামাজে জানাজা ১৬ জুলাই শুক্রবার বাদ জুমা অনুষ্ঠিত হয়।
তার এক
মেয়ে ও ছেলে দেশের বাইরে থাকায় তার দাফন শুক্রবার হয়।
আজিমপুর
কবরস্থানে মরহুমকে বাবা-মায়ের পাশে সমাহিত করা হয়।
লাশ
স্কয়ার হসপিটালের হিমঘরে রাখা হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান প্রখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেতা বুলবুল আহমেদের
মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন,
বুলবুল আহমেদ অভিনয় জগতে অতুলনীয় প্রতিভা ছিলেন।
দেশে
সুস্থ চলচ্চিত্র বিকাশে তিনি অনেক অবদান রেখেছেন।
প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা তার শোক বার্তায় বলেন,
বুলবুল আহমেদের মৃত্যুতে দেশ একজন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র শিল্পীকে হারালো,
যা জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
তিনি
মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের
প্রতি সমবেদনা জানান।
বেগম
খালেদা জিয়া বলেন,
বুলবুল আহমেদের মতো একজন সৃজনশীল অভিনেতার পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া দেশের অভিনয়
শিল্পী সমাজের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
তথ্যমন্ত্রী
বলেন,
এ
অভিনেতার মৃত্যুতে জাতি একজন একনিষ্ঠ চিত্রাভিনেতাকে হারালো।
'ইয়ে
করে বিয়ে'
দিয়ে এই শিল্পীর চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের শুরু।
'রাজলক্ষ্মী
শ্রীকান্ত'
ছবি দিয়ে তিনি পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
এছাড়া
নাটকে জহির রায়হানের
'বরফ
গলা নদী',
সমরেশ বসুর
'ইডিয়ট',
হুমায়ূন আহমেদের
'এইসব
দিনরাত্রি'
প্রভৃতি নাটকে তার অভিনয় দর্শকের হৃদয়ে চিরভাস্বর হয়ে আছেন।
তিনি
চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
বাংলাদেশ
চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পুরস্কারেও
ভূষিত হন তিনি।
গাছ চিন্তা করতে
পারে
এবং মনেও রাখতে পারে
গাছেরও যে
অনুভূতি আছে,
স্পর্শে সাড়া দেয় এই তথ্যটি আবিষ্কার করেছিলেন স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু।
কিন্তু
সামপ্রতিক এক গবেষণায় পোল্যান্ডের গবেষকরা জানিয়েছেন যে,
গাছ চিন্তা করতে এবং মনে রাখতেও পারে।
গাছ আলোর
মধ্যে থাকা তথ্য মনে রাখে এবং চিন্তা করে।
আলোর
তীব্রতা এবং ধরণ বিষয়ের তথ্য গাছের এক পাতা থেকে আরেক পাতায় একই পথে
স্থানান্তরিত হয়।
আর এই
পদ্ধতি মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের মতোই।
গবেষকরা
জানিয়েছেন,
আলোর 'ইলেকট্রো
কেমিক্যাল সিগন্যালস'
কোষের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।
আর এই
কোষগুলোই গাছের স্নায়ু হিসেবে কাজ করে।
গবেষকরা
ফ্লুরোসেন্স ইমেজিং ব্যবহার করে পর্যবেক্ষণ করেছেন,
গাছ সাড়াও দেয়।
গাছের যে
কোনো একটি পাতায় আলো পড়লেই পুরো গাছটিই সাড়া দেয়।
আর এই
সাড়া দেবার প্রক্রিয়াটির ফলে,
রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে।
আর এতে
আলো সরিয়ে অন্ধকার করা হলেও এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে।
গবেষকরা
জানিয়েছেন,
আলোয় সৃষ্ট এ প্রক্রিয়াটি অন্ধকারেও চলে,
কারণ পুরো প্রক্রিয়াটিই গাছের স্মরণ থাকে বলেই।
আলোয় যে
তথ্য এনকোডেড করে রাখে সেটিই অন্ধকারে মনে রেখে কাজ চালাতে পারে গাছ।
গবেষকরা
জানিয়েছেন,
গাছের গোড়াতে আলো ফেলে দেখেছেন গাছের উপরের অংশেও কাজ চলে।
গাছের
নার্ভাস সিস্টেম নিয়ে গবেষণা করছেন পোল্যান্ডের ওয়ারশ ইউনিভার্সিটি অফ লাইফ
সায়েন্স এর গবেষক স্টেনিসল কারপিনাস্কি।
তিনি
গবেষণার বিষয়টি জানিয়েছেন চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগে অনুষ্ঠিত সোসাইটি ফর
এক্সপেরিমেন্টাল বায়োলজি-এর বার্ষিক সভায়।
কম্পিউটার
ক্রেতার চেহারা দেখে বলে দেবে সে কি চায়
ধরুন,
আপনি একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে গেলেন,
কিছুই চাইতে হলো না আপনি যা কিনতে গেছেন,
সেলসম্যান চেহারা দেখেই ঠিক তাই ধরিয়ে দিচ্ছে আপনাকে।
যেন
কতদিনের চেনা,
জানে আপনার পছন্দ-অছন্দের সবকিছু।
কত ভালোই
না হতো তাহলে।
অনেকটা
স্বপ্নের মতোই মনে হচ্ছে,
তাই না।
তবে সে
স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চলেছেন গবেষকরা।
তবে এই
জন্য সেলসম্যানদের থট রিডার হতে হচ্ছে না।
কম্পিউটারই বলে দেবে ক্রেতার ধরন-ধারণ।
এমনই
একটি সফটওয়্যার তৈরির পরিকল্পনা করছেন গবেষকরা।
ক্রেতারা কি চান,
কিসে তাদের পছন্দ,
কিসে অপছন্দ-এ সব নিয়ে গবেষণা হচ্ছে বিস্তর।
তাগিদটা
তাদেরই,
যারা পণ্য তৈরি করছেন।
লক্ষ্য
বাজারে পণ্যের চাহিদা কেমন হবে,
তা আগেভাগেই যাচাই করা।
গবেষকরা
যে সফটওয়্যার তৈরিতে হাত দিয়েছেন,
তা নির্দিষ্ট দোকানে একজন ক্রেতা কি কিনলেন,
কি চাইলেন,
এসবের পাশাপাশি ক্রেতার চেহারাও মনে রাখবে।
পরে যখন
একই ব্যক্তি ওই দোকানে কিছু কিনতে যাবেন,
তখন জানিয়ে দেবে তার পছন্দের তালিকা।
এই
সফটওয়্যারটি কাজের জন্য একটি ক্যামেরাও লাগবে।
ক্রেতার
মুখের ছবি সংরক্ষিত থাকবে তথ্য ভান্ডারে।
তথ্য
প্রযুক্তির এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রাইনার স্টিফেলহাগেণ বলেন,
''আমরা
এখন কাজ করছি সফটওয়্যারটি আরো সংবেদনশীল করতে।''
মুখের ছবি তোলার পাশাপাশি ক্রেতা নড়াচড়াও নিখুঁতভাবে ধারণ করে রাখবে এটি।
স্টিফেলহাগেণ বলেন,
''ক্রেতা
হাত নাড়লেন কীভাবে শুধু তাই নয়,
হাতটি কোন পণ্যের দিকে যাচ্ছে,
তাও ধারণ করা থাকবে।''
নির্দিষ্ট ব্যক্তির তথ্য সংরক্ষণের এই প্রক্রিয়া নিয়ে যারা শঙ্কিত,
তাদের আশ্বস্ত করেছেন গবেষকরা।
বলেছেন,
এই তথ্য ভান্ডারে কারো নাম থাকবে না।
হয়তো
সংখ্যা দিয়েই চিহ্নিত হবেন ক্রেতা।
গবেষকরা
আশা করছেন,
নতুন এই সফটওয়্যারটি নিয়ে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই আগ্রহী হবে।
তারা একই
সঙ্গে জানিয়েছেন,
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বিমানবন্দরগুলোতেও এর ব্যবহার করা যাবে।
আফগানিস্তানে ৮
মার্কিন
ও
৪ ব্রিটিশ সৈন্য নিহত
আফগানিস্তানে গত
১৪ জুলাই বুধবার পর্যন্ত ২ দিনে পৃথক হামলায় ১২ ন্যাটো সৈন্য নিহত হয়েছে।
এদের
মধ্যে ৮ জন মার্কিন এবং ৪ জন ব্রিটিশ সৈন্য।
ন্যাটোর
নেতৃত্বাধীন ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স ফোর্স আইএসএফ মার্কিন
৮ সৈন্যের নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এদের
মধ্যে ৫ জন ১৪ জুলাই বুধবার আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে একজন বোমা হামলায় এবং
বাকিরা অন্যান্য স্থানে নিহত হয়।
এদিকে
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়,
হেলমান্দ প্রদেশের সাঙ্গিন জেলায় টহলদানকালে আফগান সৈন্যদের গুলিতে ৪ ব্রিটিশ
সৈন্য নিহত হয়।
অপরদিকে
তালেবান মুখপাত্র কারি ইউসুফ আহমেদি বুধবার টেলিফোনে এ হামলার দায়-দায়িত্ব
স্বীকার করেন।
তিনি
অবশ্য এ হামলায় ১৩ বিদেশি সৈন্য নিহত হওয়ার কথা বলেন।
উল্লেখ্য,
আফগানিস্তানে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর ১ লাখ ৫০ হাজার সেনা তালেবান বিরোধী
যুদ্ধে নিয়োজিত আছে।
শুধু গত
জুন মাসে বিভিন্ন হামলায় ৬০ জন মার্কিন সৈন্য নিহত হয়।
এ ছাড়া
চলতি মাসে যৌথবাহিনীর নিহত ৪৫ জনের মধ্যে ৩৪ জনই হচ্ছে মার্কিন সেনা।
শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানের বাইরের ছাত্রনেতারাই
মূলত নৈরাজ্য
সৃষ্টির জন্য দায়ী
শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানের বাইরের ছাত্র সংগঠনগুলোই মূলত নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য দায়ী।
শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানের ছাত্রনেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন ওয়ার্ড,
থানা,
জেলা ইউনিট নেতাদের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকেই অস্ত্র ও পেশি ছাত্ররাজনীতির
সৃষ্টি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে,
আগে ছাত্রনেতারা ছাত্রদের কথা,
দেশ ও সমাজের উন্নয়নের কথা ভাবতেন।
তখন
ছাত্ররাজনীতি ছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক।
এখন
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরেও ছাত্ররাজনীতির ইউনিট থাকায় ছাত্রনেতারা রাজনৈতিক
দলের লেজুড়বৃত্তি,
টেন্ডারবাজি,
চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িয়ে গেছেন।
শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানের বাইরের ছাত্রনেতারা অধিকাংশই প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।
ব্যবসা
ছাড়াও নিজস্ব এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন তারা।
তাদের
কার্যক্রম শুধু টেন্ডারবাজিতেই সীমাবদ্ধ নয়।
অভিযোগ
রয়েছে,
ঢাকা শহরের বেশিরভাগ অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে ছাত্রনেতারা জড়িত।
ছাত্রলীগ
ছাত্রদল কেউই এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই।
বিএনপির
নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পাঁচ বছর ধরেই চলছিল তাদের অব্যাহত সন্ত্রাস,
বন্দুকযুদ্ধ,
অপহরণ,
হত্যা,
চাঁদাবাজি ও জবরদখল।
ওয়ান
ইলেভেনের ও মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর কিছুদিন ছাত্রদল চুপ থাকলেও
বর্তমানে আবারো সক্রিয় হয়ে ওঠে বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে।
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি।
সমপ্রতি
ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী,
অছাত্র ও ঠিকাদারদের পদ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দেশে
ছাত্ররাজনীতিকে কলুষিত করার পেছনে কে বা কারা দায়ী,
এটি একটা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বায়ান্নর
ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে,
আইয়ুববিরোধী আন্দোলন,
স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশের ছাত্ররা সব সময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল।
এসবই ছিল
বাংলাদেশের ছাত্রআন্দোলনের গৌরবময় অধ্যায়।
কারো ভ্রুকুটির
কাছে মাথানত করার কোনো প্রয়াস তাদের কখনোই ছিল না।
বিশেষজ্ঞদের মতে,
নব্বইয়ের গণআন্দোলনের পর থেকে ছাত্ররাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে ভাটা শুরু
হয়।
অতীত
ঐতিহ্য ধরে রাখার পরিবর্তে ছাত্রনেতারা জড়িয়ে পড়েন দলীয় লেজুড়বৃত্তিতে।
ছাত্ররাজনীতি পরিণত হয় দলের লাঠিয়াল বাহিনীতে।
দলীয়
লেজুড়বৃত্তি,
টেন্ডারবাজি,
অস্ত্র ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপতৎপরতার সঙ্গে ছাত্রনেতারা জড়িয়ে পড়েন।
ছাত্ররাজনীতির নামে পদ বা পদবি,
এখন এক বিরাট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত।
শিক্ষা
প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে পদাধিকারী ছাত্রনেতাদের অনেক ক্ষমতা।
টেন্ডার
নিয়ন্ত্রণ,
নির্মাণ কাজ নিয়ন্ত্রণ,
ভর্তি নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কর্মকাণ্ড তারা নিয়ন্ত্রণ
করে।
মূলত এসব
কাজেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রনেতা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরের
ছাত্রনেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশের
ছাত্ররাজনীতি মূলত আবর্তিত হয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজকে ঘিরে এবং সেখানে
ক্ষমতাসীন দল ও প্রধান বিরোধী দলের একচ্ছত্র প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়।
অভিযোগ
রয়েছে,
ছাত্ররাজনীতিতে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের শিক্ষার মান উল্লেখ করার মতো নয়,
নিজ সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো সম্পর্কে তারা অনভিজ্ঞ,
সর্বোপরি তাদের অনেকেই সন্ত্রাসী কাজকর্মের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
আবার
আঞ্চলিক ছাত্ররাজনীতিতে অছাত্রের সংখ্যাই বেশি।
প্রভূত্ব
বিস্তার,
চাঁদাবাজি ও মাস্তানি সুবিধার জন্য অছাত্র এবং সন্ত্রাসীরা নেতৃত্বের
পুরোভাগে থেকে কলকাঠি নাড়ছে।
জন্মদিনে
ম্যাণ্ডেলা শিশুদের সান্নিধ্যে
বর্ণবাদ বিরোধী
অবিসংবাদিত নেতা দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার ৯২ তম
জন্মদিন ছিল গত ১৮ জুলাই রবিবার।
ম্যান্ডেলার পরিবার পালন করেছে তার জন্মদিন আর দক্ষিণ আফ্রিকা এবং বাকি বিশ্ব
পালন করেছে
'আন্তর্জাতিক
ম্যান্ডেলা দিবস'।
নেলসন
ম্যান্ডেলার সম্মানে এখন থেকে প্রতিবছর গোটা বিশ্ব পালন করবে এই দিবসটি।
শিশুদের
নিকট অতি প্রিয় ম্যান্ডেলা গত ১৮ জুলাই রবিবার সময় কাটিয়েছেন গ্রাম্য শিশুদের
সঙ্গে।
ম্যান্ডেলা তার দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যে গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং তার
সন্নিকটে যে গ্রামে বেড়ে উঠেছিলেন সেই দুটি গ্রামের শিশুদের উড়িয়ে আনা হয় এই
নেতাকে জন্মদিনে সময় দিতে।
অপরদিকে,
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ বিশ্বনেতারা আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেলা দিবস
উপলক্ষ্যে সম্মান ও শুভকামনা জানিয়েছেন এই অবিসংবাদিত নেতাকে।
দক্ষিণ
আফ্রিকায় শান্তি ও স্বাধীনতা আনার ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রাখার জন্য জাতিসংঘ
সাধারণ পরিষদ গত বছর ১০ নভেম্বর ঘোষণা দেয় যে,
প্রতিবছর ১৮ জুলাই আন্তর্জাতিক নেলসন ম্যান্ডেলা দিবস পালন করা হবে।
গত ১৮
জুলাই বিশ্বজুড়ে বিপুল উৎসাহে প্রথমবার পালন করা হয় দিবসটি।
৯২ তম জন্মদিন
পালনের জন্য একদিন আগেই দুটি গ্রাম থেকে ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ৯২ জন শিশুকে
বিমানে করে আনা হয় জোহানেসবার্গে ম্যান্ডেলার বাড়িতে।
শিশুরা
'হ্যাপি
বার্থডে'
জানায় তাকে।
এছাড়া
সমস্বরে আরো একটি জন্মদিনের গান গেয়ে তাকে শুভকামনা জানায়।
সাথে ছিল
তার নাতি-নাতনিরাও।
ম্যান্ডেলা জানিয়েছেন,
তিনি শিশুদের সান্নিধ্য ভালোবাসেন।
অপরদিকে,
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক বিবৃতিতে বলেন
'আমি
মার্কিন জনগণের সঙ্গেই আন্তর্জাতিক নেলসন ম্যান্ডেলা দিবস উদযাপনে শরিক হতে
চাই।
মার্কিন
জনগণের পক্ষে তাকে শুভকামনা জানাচ্ছি।
তার
ব্যতিক্রমী দূরদৃষ্টি,
নেতৃত্ব,
স্পৃহা,
সহিষ্ণুতা,
ভ্রাতৃত্ববোধ আমাদের যে অনুপ্রেরণা যোগায় তার জন্য অসীম কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
তিনি
কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার নয়,
বিশ্ববাসীর নেতা হয়েই থাকবেন আজীবন।'
মার্কিন
প্রেসিডেন্ট ছাড়াও অন্য দেশের নেতারা ম্যান্ডেলাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
জাতিসংঘও
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে পালন করে দিবসটি।
বহু দেশে
দিবসটি উপলক্ষে নানারকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
হলিউডের
৩০ জন প্রখ্যাত তারকা মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে ম্যান্ডেলাকে শুভেচ্ছা জানান।
ফুটবলভক্ত ম্যান্ডেলার সম্মানে অনেক স্থানে আয়োজন করা হয় প্রীতি ফুটবল
ম্যাচের।
এভাবে
উৎসব আর উদযাপনে কেটে গেছে দিনটি।
এক কথায়
বলা যায়,
দিবসটি ছিল ম্যান্ডেলাময়।
জামায়াতের
রাজনীতি সাংবিধানিকভাবে
নিষিদ্ধ করা হবে
আইন প্রতিমন্ত্রী
চলতি বছরের
মধ্যে গ্রেফতারকৃত যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির মঞ্চে দাঁড় করানো হবে বলে জানিয়েছেন
আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম।
একই
সঙ্গে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিলসংক্রান্ত উচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়নের
মাধ্যমে দেশে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হবে বলে
জানান তিনি।
সম্প্রতি
জাতীয় প্রেসক্লাবে
'যুদ্ধাপরাধীদের
বিচার দ্রুত বাস্তবায়ন,
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও বিরোধী দলের ভূমিকা'
শীর্ষক এক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
যুদ্ধাপরাধ ও
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে আইন প্রতিমন্ত্রী বলেন,
"শীঘ্রই
চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ঘাতকদের বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা হবে।
কোনভাবেই
এর থেকে পিছু হটবে না সরকার।
তদন্তকাজ
শেষ হলে বিচারকাজ দ্রুত এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও
বলেন,
চলতি বছরের মধ্যেই চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম শেষ করা হবে।"
চিহ্নিত
যে কয়জন যুদ্ধাপরাধীকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি তাদেরও যে কোন সময় গ্রেফতারের
ইঙ্গিত দেন তিনি।
বিচারের
ক্ষেত্রে তাদেরও একই পরিণতি হবে।
আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হবে উল্লেখ করে তিনি
বলেন, "এ
বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হবে না।"
কামরুল ইসলাম
বলেন, "সুপ্রীমকোর্টের
নির্দেশনা অনুযায়ী পঞ্চম সংশোধনী সংক্রান্ত রায় বাস্তবায়ন করে সংবিধান
সংশোধনের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হবে।
জামায়াতে
ইসলামী দেশে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়ে দেশে অসংখ্য জঙ্গি সংগঠন সৃষ্টি করেছে।
দেশকে
আফগানিস্তান বানাতে চেয়েছে।
তাদের
রাজনীতি বন্ধ হলে এসব চক্রান্ত বন্ধ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আইন
প্রতিমন্ত্রী জানান,
সংবিধান সংশোধনে সংসদে বিল আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে
সর্বদলীয় কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন এ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে দেশ ১৯৭২ সালের
সংবিধানে ফিরে যাবে।
যুদ্ধাপরাধের
বিচারে বিএনপির ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন আইন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি
বলেন,
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ৩৯ বছর বিলম্ব হওয়ার জন্য একমাত্র দায়ী হচ্ছেন জিয়াউর
রহমান।
এখন তাঁর
দল 'যুদ্ধাপরাধী'দের
রক্ষা করতে মাঠে নেমেছে।
বিচার
বানচাল করতে নানা ষড়যন্ত্র করছে।
কিন্তু
এতে লাভ হবে না।
কারণ
বিরোধী দলের দৌড়ের সীমা সরকারের জানা আছে।
বিভিন্ন অজুহাতে
যারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় তাদের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে কামরুল
ইসলাম বলেন,
বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী যে দলর যত বড় নেতা হোক তাকে ছাড় দেয়া হবে না।
যুদ্ধাপরাধীদের গ্রেফতারের পাশাপাশি কয়েক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীকেও গ্রেফতার
করা হয়েছে।
এ রকম
আরও অনেকে গ্রেফতার হবে।
অধ্যাপক নজরুল
ইসলাম বলেন,
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি দেশের নবীন-প্রবীণ সকল মানুষের প্রাণের দাবিতে
পরিণত হয়েছে।
সভাপতির
বক্তব্যে অধ্যাপক আবুল বারকাত বলেন,
বিশ্বের দরবারে নিজেদের সভ্য জাতি হিসেবে পরিচয় দিতে
'৭১
সালের মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড জড়িতদের বিচার সম্পন্ন করতে হবে রাষ্ট্রকে।
তাছাড়া এ
বিচার সম্পন্ন করবে বলে সরকার জনগণের কাছ থেকে ভোট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে।
(দেশ-বিদেশের
বিভিন্ন পত্রিকা হতে সংগৃহীত) |