প্রবাহ

 

ফাতেমা তুজ জোহরা ॥

 

 

 

আসাদের খুনে রাঙা গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালন

 

গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তকরবীর মতো কিংবা সুর্যাস্তের জ্বলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট উড়ছে হাওয়ায় নীলিমায় ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের নায়ক শহীদ আসাদের রক্তাক্ত জামার চিত্র আসাদের শার্ট কবিতায় এভাবেই তুলে ধরেন কবি শামসুর রহমান

২৪ জানুয়ারিমহান গণ-অভ্যুত্থান দিবস১৯৬৯ সালে পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে মুক্তিকামী নিপীড়িত জনগণের পক্ষে ছাত্র সমাজের ১১ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে ঊনসত্তরের ওই গণ-অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়ঊনসত্তর সালের ২০ জানুয়ারি গণ-অভ্যুত্থানের নায়ক শহীদ আসাদের আত্মদানের পর সর্বস্তরের দেশপ্রেমিক জনগণের অংশগ্রহণে ২৪ জানুয়ারি অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থান সৃষ্টি হয়এদিন পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারায় দশম শ্রেণীর ছাত্র মতিউর রহমানআসাদের মৃত্যুর পর মতিউরের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আন্দোলন আরও বেগবান হয়ে ওঠেবাংলায় গড়ে ওঠা আন্দোলন এই দিনে অভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছিল

১৯৬৮ সালের নভেম্বরে ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে সূত্রপাত হওয়া আন্দোলন ক্রমশ আইয়ুবের পতনকে কেন্দ্র করে এগোতে থাকেনানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে ঊনসত্তরের ৪ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ এবং মতিয়া গ্রুপ) ও পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ নেতারা ছাত্র সংগ্রাম কমিটি গঠন করে এবং এগারো দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেএর মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত আঞ্চলিক স্বায়ত্ত্বশাসন সম্পর্কিত ছয় দফার সঙ্গে ছাত্র সমস্যাকেন্দ্রিক দাবি দাওয়া এবং কৃষক ও শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদসহ (ডাকসু) ছাত্র সংগ্রাম কমিটির পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা আন্দোলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন

এগারো দফা ঘোষিত হওয়ার পরপরই ৮ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ ও মোজাফ্‌ফর ন্যাপসহ আটটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয় ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন কমিটিতারা ফেডারেল পার্লামেন্টারি পদ্ধতির সরকার, প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচন, জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার এবং শেখ মুজিবুর রহমানসহ সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি দাবি করে এবং দাবিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণ-আন্দোলন জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেয়যদিও তখন ডাকভুক্ত উগ্র ডানপন্থী কয়েকটি সংগঠন ছাত্র সংগ্রাম কমিটির দেয়া এগারো দফা দাবিকে সমর্থন করতে অস্বীকৃতি জানায়তা স্বত্ত্বেও এগারো দফার চেতনা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে নিবিড়ভাবে

গণ-আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পুলিশ ও ইপিআর বাহিনীর নির্যাতন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্রতা লঙ্ঘনের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম কমিটি কর্মসূচি প্রতিহত করতে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিলসহ রাজপথে পা বাড়ালে পুলিশ হামলা চালায়এদিন  মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্র ইউনিয়নের নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান মৃত্যুবরণ করলে গণজাগরণের বিস্ফোরণ ঘটেদাবানলের মতো আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে

আসাদের মৃত্যুকে উপলক্ষ করে গণজোয়ার গণ-অভ্যুত্থানের স্তরে উন্নীত হয়আসাদ হয়ে ওঠেন নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মূর্তপ্রতীক

আসাদের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অসংখ্য শোক মিছিল বের হয়শহীদ আসাদ হত্যা প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশাল মিছিল বের হয়ঢাকা শহর প্রদক্ষিণ করার সময় সাধারণ মানুষ, নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাই মিছিলে যোগ দেনচার মাইল লম্বা সেই মিছিল ছিল ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ মিছিলশোক মিছিল শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়মিছিল দেখে শামসুর রহমান আসাদের শার্ট অমর কবিতা লিখেন

২৪ জানুয়ারি আবার পুলিশের গুলিতে দশম শ্রেণীর ছাত্র মতিউর এবং ছুরিকাঘাতে রুস্তম নিহত হলে তীব্র আন্দোলনের মুখে ঢাকার পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়সংগ্রামী জনতা সচিবালয়ের দেয়াল ভেঙে আগুন লাগিয়ে দেয়আগুন দেয়া হয় আইয়ুব-মোনায়েম  চক্রের দালাল মন্ত্রী-এমপিদের বাড়িঘরে, এমনকি দৈনিক পাকিস্তান ও পাকিস্তান অবজারভার পত্রিকা দুটিতেও।  এমনকি দৈনিক পাকিস্তান ও পাকিস্তান অবজারভার পত্রিকায়ও আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়জনগণ আইয়ুব গেটের নাম পরিবর্তন করে রাখে আসাদ গেট

বিক্ষুব্ধ জনতা মুক্তির মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সোচ্চার হয়ে ওঠেপরবর্তী সময় থেকে ২৪ জানুয়ারি গণ-অভ্যুত্থান দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে

গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেয়ার ফলে পাকিস্তানি আমলা, পুলিশ ও মিলিটারি সম্পর্কে জনসাধারণের মাঝে যে ভীতি ছিল, তা অনেকটা হ্রাস পায়এ ছাড়া গ্রাম ও শহরাঞ্চলে শ্রেণী চেতনার উন্মেষ ঘটে এবং শ্রেণীসংগ্রামের আংশিক বিকাশ সাধিত হয়পাশাপাশি ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পায়, যা একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করার মতো পরিপুষ্ট হয়ে ওঠে

 

স্বশিক্ষিত বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন

 

স্বশিক্ষিত বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, তৃণমূল পর্যায়ের স্বশিক্ষিত বিজ্ঞানীদের জন্য সরকার, সমাজ ও বিত্তবানরা দায় অনুভব করলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হতে পারেসামান্য প্রণোদনা বা সমর্থন যোগালে তারা সমাজ দেশ বা রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশাল অবদান রাখতে সক্ষম

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, কিন্তু সৃষ্টির নেশায় নিয়োজিত থাকেন তৃণমূল পর্যায়ের এমন কয়েকজন বিজ্ঞানীর উদ্ভাবনকে তুলে ধরতে গত শুক্রবার থেকে দুই দিনব্যাপী ভিন্ন রকম এ মেলার আয়োজন করেছে জনবিজ্ঞান ফাউন্ডেশনঢাকার ফার্মগেটস্থ বিএআরসি মিলনায়তনে শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৪০ জন স্বশিক্ষিত বিজ্ঞানী তাদের চমকপ্রদ উদ্ভাবন উপস্থাপন করেনসকাল ১১টা থেকে মেলার কার্যক্রম শুরু হলেও প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যের মাধ্যমে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চলে

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা কবি বেলাল মোহাম্মদ বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে অস্বচ্ছলতার মাঝেও অপরিসীম মনোবল নিয়ে কৃষি, শিক্ষা, ভেষজ ওষুধ, পরিবেশ, নানাবিধ সুলভ ও উন্নত প্রযুক্তিতে তারা নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেনতৃণমূল পর্যায়ের এসব উদ্ভাবকরা দেশের গর্ব প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পেয়েও অনেকে যা করতে পারেননি এসব অপ্রাতিষ্ঠানিক ও স্বশিক্ষিত বিজ্ঞানীরা অনেক কিছুই করেছেনএখন প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতার

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ের অপ্রাতিষ্ঠানিক এবং স্বশিক্ষিত বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনে প্রমাণিত হয়েছে, কোনো কিছু আবিষ্কারের জন্য বড় ডিগ্রির প্রয়োজন হয় নাতিনি প্রান্তিক পর্যায়ের এসব বিজ্ঞানীদের প্রদর্শনী দেখে অভিভূত হয়ে বলেন, এসব বিজ্ঞানীদের সরকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তোলার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করবো

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বুয়েটের অধ্যাপক ড. আলী আসগর বলেন, এদের ডিগ্রি নেই, কিন্তু আবিষ্কারের নেশা আছে অপ্রাতিষ্ঠানিক এসব বিজ্ঞানীরা মুক্তভাবে কাজ করতে করতে একসময় চমকপ্রদ কিছু উদ্ভাবন হয়ে যায়তিনি সরকারকে এসব বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনের স্বীকৃতি দিতে আহ্বান জানান

বগুড়া আরডিএর মহাপরিচালক এম এ মতিন বলেন, লোকজ বিজ্ঞানীদের এসব উদ্ভাবনে সরকারিভাবে পৃষ্টপোষকতা প্রয়োজন আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে যেনো এদের আবিষ্কার চাপা পড়ে না থাকেকবি ও গবেষক ফজলুর রহমান রিপন বলেন, প্রয়োজনীয় প্রেরণা ও সহায়তার অভাবে এসব স্বশিক্ষিত বিজ্ঞানীরা হতোদ্যম হয়ে এক সময় হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে উদ্ভাবনী কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেনতাই রাষ্ট্রকে এদের উদ্ভাবন তুলে ধরতে দায়িত্ব নিতে হবে

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থিম পেপার উপস্থাপনের বিষয় ছিল ‘জনমুখী বিজ্ঞান : প্রতিবন্ধকতা ও উত্তোরণের উপায়থিম পেপার উপস্থাপনকালে পেশাদার বিজ্ঞান বক্তা ও বিজ্ঞান লেখক আসিফ বলেন, মানুষ দুভাবে শিখতে পারেআমরা যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছি, তার মাধ্যমে আর দ্বিতীয়তঃ প্রকৃতি থেকে সরাসরিএ উদ্ভাবন মেলায় উদ্ভাবকদের অনেকেই প্রকৃতি থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বশিক্ষায় উদ্ভাবন করেছেনকাজেই এসব উদ্ভাবকদের উৎসাহ দিতে সরকার ও বিত্তবানরা যেনো দায় অনুভব করেন জনবিজ্ঞান ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারী আইয়ূব হোসেন এ মেলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের এসব বিজ্ঞানীদের মূল ধারায় নিয়ে আসতে এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে দিতে উদ্ভাবন মেলার আয়োজনশনিবার উদ্ভাবন মেলার দ্বিতীয় দিনেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৪০ জন স্বশিক্ষিত বিজ্ঞানী তাদের চমকপ্রদ উদ্ভাবন উপস্থাপন  করবেন

শনিবার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিএআরসির নির্বাহী পরিচালক ড. ওয়াইস কবিরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ময়মনসিংহের কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবক কেনু মিস্ত্রীবিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রিব এর নির্বাহী পরিচালক ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, পিকেএসএফর চেয়ারপার্সন ড. কাজী খলিকুজ্জামান, এফবিসিআইর সভাপতি একে আজাদ, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সভাপতি নুরুল আমিন, র‌্যাংগস গ্রুপের সভাপতি আমানুল্লাহ চৌধুরী, এপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মনজুর এলাহী

সমাপনী অনুষ্ঠানে থিম পেপার উপস্থাপনের বিষয় স্বশিক্ষিত বিজ্ঞানীদের প্যাটেন্ট রাইটআফরোজা অভির সঞ্চালনায় থিম পেপার পাঠ করবেন গবেষক নাসিমুল হাসান দিপুদ্বিতীয় এ উদ্ভাবন মেলার আহবায়ক হাবিবুর রহমান। 

শুক্রবার ফার্মগেটস্থ বিএআরসি মিলনায়তনে এ উদ্ভাবন মেলায় কিশোরগঞ্জের হাবিব প্রদর্শন করেন মাত্র ৩ লাখ টাকায় নির্মিত এয়ার কপ্টার, নারায়ণগঞ্জের আজাদ রহমান দেখান তার উদ্ভাবিত বহুমুখী ভাসমান সেতু, মাত্র এক লাখ টাকায় কিভাবে কমিউনিটি রেডিও স্থাপন সম্ভব তা দেখিয়েছেন টাঙ্গাইলে রামপ্রসাদ দাস, গাড়ি চুরি রোধ সহজ প্রযুক্তিতে কিভাবে করা যায় তা তুলে ধরেছেন মেহেরপুরের নুরুল ইসলাম পবন

 

লঞ্চ রুটের রোটেশন প্রথা

 

যাত্রীদের জিম্মি করে লঞ্চ মালিকদের অতি মুনাফার জন্য সৃষ্ট বরিশাল-ঢাকা রুটের লঞ্চের রোটেশন প্রথা অবশেষে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছেএকটানা ৬ বছর পর লঞ্চ মালিকদের সিন্ডিকেট ব্যবসা রোটেশন প্রথা থেকে বরিশালের লঞ্চযাত্রীরা অভিশপ্ত রোটেশন প্রথা থেকে মুক্ত হলোসমপ্রতি ঢাকায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় বরিশালের সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরণের রোটেশন প্রথাবিরোধী অনড় অবস্থানের কারণে লঞ্চমালিকরা শেষ পর্যন্ত রোটেশন প্রথা বাতিল করতে সম্মত হনগত সপ্তাহ থেকে বরিশাল-ঢাকাসহ দক্ষিণাঞ্চলের ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনার নৌপথে রোটেশন ছাড়াই লঞ্চ চলাচল করবেচলতি মাসের মধ্যে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সবগুলো রুট থেকে রোটেশন প্রথা বাতিল করা হবেনৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, লঞ্চমালিক সমিতি এবং বরিশালের নাগরিক প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় সভায় সভাপতিত্ব করেন নৌপরিবহন মন্ত্রী মো. শাজাহান খান

ঢাকার সভায় উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত সভা চলেরোটেশন প্রথা বাতিলের ফলে আজ থেকে ঢাকা ও বরিশাল উভয় প্রান্ত থেকে প্রতিদিন ৫টি করে লঞ্চ চলাচল করবেভোলা ও পটুয়াখালী রুটেও প্রতিদিন চলবে ৩টি করে লঞ্চএছাড়া রোটেশন ছাড়া লঞ্চ চলাচল করলে মালিকদের লোকসান হয় কিনা- তা যাচাই করার জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. আলাউদ্দিনকে প্রধান করে ১০ সদস্যবিশিষ্ট এক কমিটি গঠন করা হয় ত্রিপক্ষীয় এই সভায় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুস, মনিরুল ইসলাম মনি ও গোলাম কিবরিয়া টিপু, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আ. মান্নান হাওলাদার, লঞ্চমালিক সমিতির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মাহবুবউদ্দিন আহম্মেদ (বীরবিক্রম), বরিশাল জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল প্রমুখ উল্লেখ্য, ২০০৫ সনে চারদলীয় সরকারের আমলে তারেক জিয়ার ব্যবসায়িক পার্টনার বিতর্কিত ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের নেতৃত্বে লঞ্চমালিকদের সংগঠন যাত্রীদের জিম্মি করে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে রোটেশন প্রথা চালু করেফলে এ রুটের উভয় প্রান্ত থেকে প্রতিদিন ৬টি করে লঞ্চ চলার নিয়ম থাকলেও চালানো হতো মাত্র ৩টি করে লঞ্চ

 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিকেন্দ্রীকরণ

 

নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু প্রতীক্ষিত বিকেন্দ্রীকরণ কার্যক্রম সারাদেশের আড়াই হাজার কলেজের সাড়ে ১২ লাখ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বিড়ম্বনা আর হয়রানি লাঘবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হলো বিভাগীয় আঞ্চলিক কেন্দ্রেরগত শুক্রবার খুলনা আঞ্চলিক কেন্দ্রে স্ব স্ব অঞ্চলের পরীক্ষকদের হাতে ২০১০ সালের ডিগ্রী (পাস) পরীক্ষার খাতা বিতরণের মধ্য দিয়ে ছয় আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রথম যুগান্তকারী এই কাজ শুরু হয়েছে পর্যায়ক্রমে এই ছয়টিই হবে আলাদা আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়চলতি সপ্তাহে থেকেই শুরু হবে রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল ও সিলেট আঞ্চলিক কেন্দ্রের কার্যক্রম চট্টগ্রামে এখনও বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়নিআহ্বান করা হয়েছে দরপত্রবাড়ি পাওয়া গেলেই দ্রুত এই কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হবেএর ফলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হয়রানি ও দুর্ভোগ কমবেভর্তি, ফরম পূরণ, খাতা বিতরণ, জমাসহ গুরুত্বপূর্ণ কোন কাজেই কাউকে গাজীপুরের মূল ক্যাম্পাসে আসতে হবে না

জাতীয় শিক্ষানীতি ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের বহু বছরের দাবির আলোকেই ১২ লাখ শিক্ষক, শিক্ষার্থী আর তাদের অভিভাবকদের হয়রানি ও বিড়ম্বনা লাঘবে ঢাকা বাদে ছয় বিভাগীয় শহরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হলো ছয় আঞ্চলিক কেন্দ্র সারাদেশের আড়াই হাজার কলেজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তযার ১২ লাখ শিক্ষার্থীকে গাজীপুরের একটি ক্যাম্পাস থেকে দেখভাল করা কষ্টসাধ্যবহু বছর থেকেই বলা হচ্ছে, বিকেন্দ্রীকরণ করা হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে গতি আসবেতবে আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলো যেন নামে না হয় কিংবা এ সব কেন্দ্র অর্থ অপচয় ও দুর্নীতি বাড়ানোর সুযোগ না পায় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানোও হচ্ছে সব সময়এ সকল বিষয় মাথায় রেখেই বিশাল এই কাজ শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাজানা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, দেশের যে কোন স্থানে আঞ্চলিক কেন্দ্র বা ক্যাম্পাস স্থাপন করা যাবেতবে গত দেড় যুগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিকেন্দ্রীকরণ হয়২০০৯ সালে অনিয়ম, দুর্নীতি, সেশনজটসহ নানা সঙ্কটে জর্জরিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়টি ভেঙ্গে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকারজাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় থেকে কলেজগুলো ছয়টি বিভাগীয় শহরে ছয়টি সরকারী বা স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে ছেড়ে দেয়ার লক্ষ্যে ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়ওই কমিটি তখন যে চারটি বিকল্পের প্রস্তাব দিয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম ছিল বিশ্ববিদ্যালয়টি বিকেন্দ্রীকরণ করাএরই ধারাবাহিকতায় গত বছর পাস হয় জাতীয় শিক্ষানীতিযেখানে স্পষ্ট বলা আছে বিকেন্দ্রীকরণ করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে ছয় আঞ্চলিক কেন্দ্রে ভাগ করার কথা নীতিমালায় প্রতিটিকে ক্ষমতা দেয়ার কথাও আছে যেগুলো এক পর্যায়ে হবে ছয়টি পৃথক সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়এরপর সিন্ডিকেটে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিকেন্দ্রীকরণের সিদ্ধান্ত হয়এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) তোফায়েল আহমদ চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত বছর ২১ মার্চ উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ১ মে থেকে বাড়ি ভাড়া করার সিদ্ধান্ত হয়েছেবাড়ি ভাড়া করার পাশাপাশি দ্রুত প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র কেনা এবং আঞ্চলিক ক্যাম্পাসের কার্যক্রম শুরুর প্রয়োজনে আপাতত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান জনবল দিয়ে ওই সব কেন্দ্রে পদায়ন কাজ শুরু হয়পরে জনবল কাঠামো অনুযায়ী লোকবল নিয়োগ দেয়া হবেআঞলিক কেন্দ্রের কর্মপরিধি সম্পর্কে জানা গেছে, ফল প্রকাশ, সনদ বা নম্বরপত্র দেয়া, সংশোধনসহ অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজ কেন্দ্রগুলো মাধ্যম হিসেবে কাজ করবেযেমন কোন শিক্ষার্থী নম্বর সংশোধন করতে চাইলে তা কেন্দ্রে জানাতে পারবে, কেন্দ্র সেটি পাঠাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাজীপুর) বিশ্ববিদ্যালয় তা ঠিক করে আবার কেন্দ্রে পাঠাবেকেন্দ্র থেকেই ওই শিক্ষার্থী হাতে পাবেনপ্রতিটি আঞ্চলিক কার্যালয়ে একজন পরিচালক থাকবেনতাঁর অধীন কাজ করবেন ৮৪ জনপ্রত্যেক কেন্দ্রে থাকবেন একজন করে উপ-কলেজ পরিদর্শক, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, উপ রেজিস্টার (প্রশাসন ও শিক্ষা) এবং উপ-পরিচালক (অর্থ ও হিসাব)তাঁদের অধীনে থাকবেন একজন করে সহকারীএ ছাড়া থাকছেন শাখা কর্মকর্তাসহ প্রয়োজনীয় জনবল

তবে জনবল নিয়োগে এখনই নতুন নিয়োগ দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষতাই মূল ক্যাম্পাস থেকেই জনবল পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রেএখন পর্যন্ত ভাড়া করা হয়েছে পাঁচটি বাড়িরাজশাহী কেন্দ্রের জন্য মাসিক ২৫ হাজার টাকায় ভাড়া করা হচ্ছে রাজশাহী-ঢাকা সড়কের একটি দোতলা বাড়িরংপুর সদরের জিএল রায় সড়কে মাসে ৩৯ হাজার টাকায় একটি তিন তলা বাড়িতে হবে রংপুর আঞ্চলিক কেন্দ্রমাসে ৬০ হাজার টাকায় খুলনা সদরের খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বরাদ্দ করা সোনাডাঙ্গা (দ্বিতীয়) আবাসিক এলাকার একটি চার তলা ভবনে হবে খুলনা কার্যালয়বরিশালে সিএ্যান্ডবি সড়কের পাশে ছায়াবীথিতে তিন তলা ভবনের দুটি তলায় হবে বরিশাল কেন্দ্রবাড়ি ভাড়া মাসিক ২০ হাজার টাকাসিলেট কেন্দ্র কার্যালয়ের জন্য মাসে ২২ হাজার টাকায় ভাড়া করা হচ্ছে পাঠানটুলার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলা

জানতে চাইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য তোফায়েল আহমদ চৌধুরী জনকন্ঠকে বলেন, পাঁচটি শহরে বাড়ি ভাড়া করা হয়েছেখুলনা কেন্দ্রের কাজ শুরু হলোদ্রুত সকল কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হবেএর ফলে ভর্তি ও পরীক্ষাগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবেবাকি সব কাজ করবে কেন্দ্রগুলোতিনি বলেন, এর ফলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমবেতাদের গাজীপুর আসার প্রয়োজন পড়বে না বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ একে যুগান্তকারী কাজ অভিহিত করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছা আজ প্রতিফলিত হচ্ছেএর মাধ্যমে ১২ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের দুর্ভোগ কমবেতাদের গাজীপুর আসার প্রয়োজন পড়বে নাতিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রগুলো ভালভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে সেগুলো এক সময় হবে আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়উদ্যোগকে অসাধারণ অভিহিত করলেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বদরুজ্জামানতিনি জানান, সারাদেশের আড়াই হাজার কলেজের সাড়ে ১২ লাখ শিক্ষ-শিক্ষার্থীর বিড়ম্বনা আর হয়রানি লাঘবে যাত্রা শুরু হলো বিভাগীয় আঞ্চলিক কেন্দ্রেরগত শুক্রবার খুলনা আঞ্চলিক কেন্দ্রে স্ব স্ব অঞ্চলের পরীক্ষকদের হাতে ২০১০ সালে ডিগ্রী (পাস) পরীক্ষার খাতা বিতরণের মধ্য দিয়ে যুগান্তকারী এই কাজ শুরু হয়েছে

 

পদ্মা সেতু সমাচার

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হলে সরকার তাদের তহবিল নেবে নাআর বিশ্বব্যাংক বলেছে, দুর্নীতি প্রমাণের জন্য তারা কানাডার পুলিশের তদন্তের অপেক্ষায় আছেতদন্ত রিপোর্ট পেলে তবেই পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত তারা নেবে

এদিকে ২৭ জানুয়ারি শেষ হয়ে যাচ্ছে পদ্মা সেতুর জন্য দেয়া বিশ্বব্যাংকের ঋণের কার্যকারিতাএর মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ইতোমধ্যে আবেদন করে রেখেছে সরকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, ওয়াশিংটন ঋণের মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছেএ সংক্রান্ত চিঠিও পাঠানো হয়েছে

ঋণের মেয়াদ বাড়ানো হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) ১৯তম জাতীয় সম্মেলন ও ৩৫ তম কাউন্সিল অধিবেশনে পদ্মা সেতু নিয়ে আবারও কথা বলেছেনতিনি বলেন, মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে আমরা মিথ্যা অভিযোগে মোড়ানো কোনো তহবিল গ্রহণ করতে পারি নাশেখ হাসিনা আরও বলেন, এই বিশাল প্রকল্পের ব্যাপারে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরপরই সরকার তা তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) অনুরোধ করেকিন্তু দুদক এখনো এই প্রকল্পে কোনো প্রকার অনিয়ম খুঁজে পায়নি

সূত্র জানায়, দুদকের তদন্ত এখনো শেষ না হলেও সরকারি সংবাদ সংস্থা গত সপ্তাহে এ-সংক্রান্ত একটি সংবাদ পরিবেশন করেছেওই সংবাদে বলা হয়েছে, দুদক পদ্মা সেতু নিয়ে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি খুঁজে পায়নিএমনকি দুর্নীতির জন্য অভিযুক্ত সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাকোরও কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নিএরপর অবশ্য দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান তাঁদের তদন্ত শেষ হয়নি বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন

বিশ্বব্যাংকের বক্তব্য : বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালেন গোল্ডস্টেইন গত বৃহস্পতিবার পদ্মা সেতুর সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে একটি লিখিত বক্তব্য দিয়েছেনবিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে এই বক্তব্য দেয়া হয়তিনি বলেন, কানাডার আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বর্তমানে পদ্মা সেতুর দুর্নীতি ও জালিয়াতি নিয়ে তদন্ত পরিচালনা করছেএ অবস্থায় ১২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ এগিয়ে নেয়া হবে কিনা, সে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে কানাডার ওই তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য বিশ্বব্যাংকের অপেক্ষা করার প্রয়োজন রয়েছে

অ্যালেন এই তদন্তকাজ দ্রুত করার জন্য বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনকে কানাডা সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দিয়েছেনতিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাংকও এ নিয়ে তদন্ত করছেএসব তদন্তে দুর্নীতি ও জালিয়াতির জন্য দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে

পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে দুই ধরনের দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছেএর মধ্যে তদারকে প্রাক-নির্বাচনী তালিকায় থাকা কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিন গ্রুপের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেঅন্যতম অভিযোগ হচ্ছে এসএনসি-লাভালিনকে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে কাজ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে বাংলাদেশের একাধিক কর্মকর্তা কোম্পানিটির কাছে কমিশন চানপরামর্শক হিসেবে কাজ পাওয়ার পর এই কাজের বিনিময়ে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা থেকে একটি অংশই কমিশন হিসেবে চাওয়া হয়এ বিষয়ে কোম্পানি সম্মত হলে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতাও হয়এ নিয়েই কানাডার পুলিশ তদন্ত করছে

এর বাইরে বিশ্বব্যাংক তাদের নিজস্ব যে তদন্ত প্রতিবেদন সরকারকে দিয়েছে, তাতে বলা আছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিভিন্ন কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য ঘুষ বা কমিশন চেয়েছেন সৈয়দ আবুল হোসেনের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সাকো ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিরাসৈয়দ আবুল হোসেনের নাম ব্যবহার করে অর্থ চাওয়া হয়েছেকমিশন দিলে কাজ পেতে যোগাযোগমন্ত্রী নিজেই সহায়তা করবেন বলেও আশ্বাস দেয়া হয়

এ অবস্থায় গত বছরের অক্টোবরে পদ্মা সেতুতে ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দিয়েছিল প্রধান দাতা বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং জাপানের ঋণদান সংস্থা জাইকাএই অভিযোগ ওঠার পর যোগাযোগমন্ত্রী পদে রদবদলও করা হয়সূত্র জানায়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসএনসি-লাভালিনকে কালো তালিকাভুক্ত করে অন্যদের মধ্য থেকে পরামর্শক নিয়োগের দরপত্র চূড়ান্ত করার জন্য বিশ্বব্যাংককে লিখিত   প্রস্তাব দেয়া হয়েছিলতবে বিশ্বব্যাংক এই প্রস্তাব গ্রহণ করেনিএ কারণেই বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর গত বৃহস্পতিবার কেবল তদন্ত শেষ হলেই কালো তালিকাভুক্ত করার কথা আবারও বলেছেন

এর ফলে সামগ্রিকভাবে পদ্মা সেতু নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো রয়ে গেলতবে ঋণের কার্যকারিতার মেয়াদ বাড়ানোর কারণে কিছুটা আশাবাদী হওয়ার সুযোগ আছে বলেও মনে করছেন ইআরডির কর্মকর্তারাতবে সবকিছুই নির্ভর করছে কানাডার তদন্ত এবং এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর

 

কফি পানে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে

 

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছেন গবেষকরাসমপ্রতি গবেষকরা এক গবেষণায় দেখতে পান কফি পান করলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমেবিশেষ করে যারা টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তাদের জন্য কফি একটি প্রতিরোধকারী ওষুধ হতে পারেগবেষণাটি করেন চীনের হুয়াজং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির একদল গবেষকগবেষক দলের প্রধান কুন হুয়াং বলেন, কফিতে এমন তিনটি উপাদান থাকে, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়এ তিনটি উপাদান হল-ক্যাফেইন, ক্যাফেইন অ্যাসিড ও ক্লোরোজেনিক অ্যাসিডএগুলো ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষকে ধ্বংস হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেবিশেষ করে ক্লোরোজেনিক উপাদানটি এ কাজে বেশ পটুএকই গবেষক দল এর আগে এক গবেষণায় বলেন, যারা দিনে চার কাপ কিংবা তার বেশি কফি পান করেন তাদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমকিন্তু সেবার এ তিনটি উপাদান পাওয়ার কথা বলা হয়নিজার্নাল অব অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড কেমিস্ট্রিতে এই গবেষণা ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে

 

পাঁচ অপশক্তির টার্গেট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

 

অপশক্তির হিংস্র থাবায় আবারো আক্রমণের শিকার হতে পারেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসম্প্রতি গোয়েন্দারা এ ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেনএকাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কা করা হয়েছে বলে জানা গেছে গোয়েন্দাদের মতে, শেখ হাসিনা পাঁচ অপশক্তির আক্রমণের শিকার হতে পারেন

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা গোয়েন্দাদের এই আশঙ্কাকে একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন নারাজনৈতিক মহল মনে করছেন, আসলে বুলেট তাড়া করে ফিরছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকেবিডিআর বিদ্রোহ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ের ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থন এ ধরনের আলামতকেই স্পষ্ট করে বলে মনে করছেন তারাগোয়েন্দা সূত্র অনুযায়ী, হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ শাখা (হুজিবি), বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিরা, যুদ্ধাপরাধী চক্র, হিযবুত তাহরীর ও ভারতের উগ্র সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী তাদের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের জন্য গণতন্ত্রের পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে প্রধান প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখছেতাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের আক্রমণের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেনগোয়েন্দা তথ্য মতে, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন হুজিবির অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে হত্যা করাআফগান ফেরত মুজাহিদদের এ সংগঠনটি ২০০০ সাল থেকে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করে আসছেশেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে হত্যার জন্য বিভিন্ন সময়ে এরা ৮টি হামলা পরিচালনা করেছেহত্যা করেছে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়াকেসংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আব্দুস সালাম, মুফতি আব্দুল হান্নান, সাব্বির, মুহিবুর রহমান, আব্দুর রউফ, আবু তাহের, শেখ ফরিদ, ইয়াহিয়াসহ বেশ কয়েকজন কারাগারে থাকলেও মুফতি আব্দুল হাই, মুফতি শফিকুর রহমান, আবু বকরের মতো বিপজ্জনক নেতারা এখনো বাইরে রয়েছেনতাদের অপতৎপরতাও থেমে নেই

বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনি ফ্রিডম পার্টির প্রতিষ্ঠাতা কর্নেল রশীদ ও মেজর ডালিম দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছেসূত্র মতে, এই দুই খুনি বিএনপি-জামাত জোটের কট্টর কিছু নেতা ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইসলামী দলের সঙ্গে নিয়মিত সম্পর্ক রাখছে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করতে পারে এমন আরেকটি গোষ্ঠী হচ্ছে যুদ্ধাপরাধী চক্র যাদের পালের গোদারা এখন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোবহুমুখী, বিসস্তৃত এবং সুদূর প্রসারী ষড়যন্ত্রকারী যুদ্ধাপরাধীরা শুধু প্রধানমন্ত্রীকে চিরতরে সরিয়ে দেয়ার চক্রান্ত করেই বসে নেইএরা বিদেশে সরকারবিরোধী নানা প্রচারণাও চালাচ্ছে এবং কূটনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগ সরকারকে বিচ্ছিন্ন করার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দারা বাংলাদেশে নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীর কর্মকা-কে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ভয়াবহ হুমকি হিসেবে দেখছেন গোয়েন্দারাউগ্র ভারতবিরোধিতার পাশাপাশি বিভিন্নভাবে দেশের সেনাবাহিনী ও বিজিবির মধ্যে নানারকম উস্কানিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে এই সংগঠনটিএকাধিক দেশের গোয়েন্দা সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত সংগঠনটি দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর পরিবার থেকে আসা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আকৃষ্ট করেছেনিষিদ্ধ হওয়ার পরও সংগঠনটি সভা-সমাবেশ অব্যাহত রেখেছেব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পর হিযবুত তাহরীর সরকারবিরোধী কর্মসূচির প্রচুর লিফলেট উদ্ধার করেছেন গোয়েন্দারা

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, শুধু দেশে নয়, প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের কিছু উগ্রবাদী সন্ত্রাসীরও টার্গেটে পরিণত হয়েছেন শেখ হাসিনা বাংলাদেশে লুকিয়ে থাকা উলফা নেতাদের গ্রেপ্তার করে তাদের দেশে পাঠানো, বাংলাদেশকে তাদের অভয়ারণ্যে পরিণত না হতে দেয়ায় বর্তমান সরকারের ওপর নাখোশ হয়েছে ভারতের সন্ত্রাসবাদী হিসেবে পরিচিত এসব উলফা নেতারাউলফার শীর্ষ নেতা অরবিন্দ রাজখোয়াসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তারের পর ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে কারাবন্দী উলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকেও ভারতের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছেএই দলের সামরিক শাখার প্রধান পরেশ বড়ুয়া একটি প্রতিবেশী দেশে অবস্থান করছে বলে গোয়েন্দারা নিশ্চিতপরেশ বড়ুয়াসহ উলফার বেশ কয়েকজন নেতার পরিবার এখনো বাংলাদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছেতাদের প্রধান লক্ষ্য আওয়ামী লীগবিরোধী বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠীকে আর্থিক সহায়তা দেয়া এবং দলটির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা

ক্ষমতা গ্রহণের কিছু দিন পর থেকে বিভিন্ন আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করে আসছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাসাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শামসুল হক টুকুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে বলে একাধিকবার মন্তব্য করেছেনশেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাসিম বলেন, এ অপশক্তি যখন যেভাবে ও যেখানে সুযোগ পাবে, সেখানেই শেখ হাসিনাকে হত্যা ও আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার প্রচেষ্টা চালাবেদেশকে এগিয়ে নেয়া এবং গণতন্ত্র ও আইনের শাসন রক্ষার পাশাপাশি শেখ হাসিনাকে রক্ষা করাও সকলের নৈতিক দায়িত্বতিনি অভিযোগ করেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার আগে পঁচাত্তরেও নানাভাবে ষড়যন্ত্র করে ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়েছিলসে চেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছেদেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে শেখ হাসিনাকে হত্যার ক্ষেত্র প্রস্তুতের ষড়যন্ত্র চলছে

রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বারবার হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছেতাকে নিরাপত্তা দেয়া সরকারের পবিত্র দায়িত্বতাকে নিরাপদ রাখা যেমন দলের দায়িত্ব তেমনি দেশের জনগণেরও দায়বদ্ধতা রয়েছেসবাই মিলেই তাকে রক্ষা করতে হবেতবে এ ধরনের কথা বলে জনমনে ভীতি সঞ্চার না করে শেখ হাসিনার নিরাপত্তা আরো জোরদার করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরতিনি বলেন, গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হানতে, আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে, প্রগতিশীল উন্নয়নকে স্থবির করতে অপশক্তিরা বারবারই শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছেকিন্তু ক্ষমতায় থেকে আমাদের এ সমস্ত দায়িত্বহীন বক্তব্য না দিয়ে আমাদের উচিত তার নিরাপত্তা আরো জোরদার করাদলের ঐক্য ধরে রাখা এবং প্রত্যেকের আরো দায়িত্বশীল আচরণ করা

 

এক বছরে বিদেশ থেকে ফিরে এসেছে ৩৯ হাজার বাংলাদেশী

 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে গত এক বছরে আউটপাস নিয়ে ফিরে এসেছেন ৩৯ হাজার বাংলাদেশীএদের কেউ কেউ জেনেশুনেই অবৈধভাবে বিদেশ গিয়েছিলেনআবার কেউ কেউ প্রতারণার শিকার হয়েতবে বিদেশে থাকা অবস্থায় কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকায় আউটপাস দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্র জানায়, অবৈধ হয়ে যাওয়ায় ২০১১ সালে ৩৯ হাজার ৮৭ জন বাংলাদেশী ফিরে এসেছেনএদের সবাই অবৈধভাবে বিদেশে অবস্থান করছিলেন পাসপোর্টও ছিল না এসব বাংলাদেশীরআউটপাস নিয়ে সবচেয়ে বেশি ফিরে এসেছে ফেব্রম্নয়ারি মাসেওই মাসে ৫ হাজার ৭৮৯ জন বাংলাদেশী আউটপাস নিয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হনসবচেয়ে কম এসেছে নভেম্বর মাসে, ১ হাজার ৫৯৮ জনএছাড়া জানুয়ারি মাসে ২ হাজার ৩০১ জন, মার্চে ৩ হাজার ৯৭৯ জন, এপ্রিলে ৪ হাজার ৩১৪ জন, মে মাসে ৪ হাজার ৬০৩ জন, জুনে ৪ হাজার ২১৯ জন, জুলাই মাসে ২ হাজার ৬৮৮ জন, আগস্টে ২ হাজার ৭২৯ জন, সেপ্টেম্বরে ২ হাজার ২৪৪ জন, অক্টোবরে ১ হাজার ৭১৩ জন এবং সর্বশেষ গত মাসে ২ হাজার ৯১০ বাংলাদেশী আউটপাস নিয়ে ফিরে আসেনআউটপাস নিয়ে এভাবে ফিরে আসার ফলে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছেবিষয়টি শ্রমবাজারের জন্যও নেতিবাচক বলে মনে করেন জনশক্তি রপ্তানিকারকরাএ প্রসঙ্গে জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সমিতি বায়রার সভাপতি মোঃ আবুল বাশার বলেন, জনশক্তি রপ্তানিতে বাংলাদেশের অনেক সাফল্য থাকলেও আউটপাসের কারণে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছেবাংলাদেশ থেকে যাতে অবৈধভাবে কেউ বিদেশে যেতে না পারে সেজন্য সরকারকে আরো উদ্যোগী হতে হবে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন চেকপয়েন্ট আরো শক্তিশালী হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত বছর ৩৯ হাজারের বেশি বাংলাদেশী আউটপাস নিয়ে ফিরে এলেও গত চার বছরের মধ্যে তা ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক কমগত চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশী আউটপাস নিয়ে ফিরে আসে ২০০৯ সালেওই বছর ৭২ হাজার ২১০ জন আউটপাস নিয়ে ফিরে আসেএছাড়া ২০০৮ সালে ৫৪ হাজার ১৬৩ জন এবং ২০১০ সালে ৪৩ হাজার ৫০৩ জন বিদেশ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হন

যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে জনশক্তি রপ্তানিকারক, বিএমইটি ও ইমিগ্রেশন পুলিশসহ সরকারের লোকজনই জড়িতএকটি চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছেন বিদেশ যেতে ইচ্ছুক কর্মীরাতাদের অনেকেই বিদেশে যাবার ক্ষেত্রে প্রতারণার শিকার হচ্ছেনপ্রতারণা ঠেকাতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আরো তৎপর হতে হবে বলে মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা

প্রসঙ্গত, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের দু বছর বাদ দিলে গত ৩৫ বছরের মধ্যে গত বছরই (২০১১ সাল) সবচেয়ে বেশি জনশক্তি রপ্তানি হয়েছেগত বছর ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৬২ জন কর্মী বিদেশ গেছেনএর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গেছেন সংযুক্ত আরব-আমিরাতে, ২ লাখ ৮২ হাজার ৭৩৯ জন

  (দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্রিকা হতে সংগৃহীত)