বাংলাদেশের
গণমাধ্যমে ভাষা ও সংস্কৃতির বিকৃতি ঘটছে।
এহেন
পরিস্থিতি থেকে ঐতিহ্যমন্ডিত বাঙালি সংস্কৃতিকে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে
প্রবাসী বাঙালিদেরকে আরো সজাগ হতে হবে।
এ
ব্যাপারে জাতীয়ভিত্তিক মাধ্যম গুলোর কর্মকর্তাগণের দায়িত্ব অপরিসীম।
বিদেশী
সংস্কৃতি অবলম্বনে যে সব নাটক অথবা চলচ্চিত্র তৈরি হচ্ছে সে সবে বাঙালি
সংস্কৃতির পরিপূরক তেমন কিছু পাওয়া যাচ্ছে না।
অনেক
অনুষ্ঠানেই নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতিকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে।
স্যাটেলাইট টিভিগুলোতে প্রচারিত অধিকাংশ নাটকে ভাষার বিকৃতি ঘটছে প্রায়
সময়ই।
বাংলাদেশের সব ক'টি
জেলা ও উপজেলাতে সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চার স্বার্থে শিল্পকলা একাডেমির
নিজস্ব অডিটরিয়াম প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের তরফ থেকে নেয়া
হয়েছে।
ইতোমধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প পেশ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিকভাবে বাঙালিদের ভাবমূর্তি বিপন্ন করার ঘটনা ঘটছে।
একাত্তরের চেতনায় প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া সময়ের দাবি।
প্রবাসীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আন্তর্জাতিকভাবে বাঙালিদের ভাবমূর্তি আবারো
সুসহংত হবে।
বিশ্বের যেসব শহরে বাঙালিরা বাস করছেন সেখানে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র
প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা সরকারকে নিতে হবে।
বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সমাজকে বাংলাদেশ
সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে এ উদ্যোগের প্রয়োজন জরুরি।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিও এ ব্যাপারে যাবতীয় সহায়তা দিয়ে যাক এটাই জাতির
প্রত্যাশা।
বাংলাদেশে
মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুজ্জ্বল রেখে যাবতীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করতে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।
নতুন
প্রজন্মকে বাঙালি সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ত রাখতে এবং মুক্তিযুদ্ধের
সত্যিকারের ইতিহাস অবহিত করতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিকেও বিভিন্ন
কর্মসূচী নিতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করতে সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভূমিকা কতটা জোরদার ছিল
তা আজ সর্বজনবিদিত।
সে
বিষয়টি স্মরণে রেখে বাংলাদেশের শিল্পীদের বর্তমানে আরো অগ্রণী ভূমিকা নিতে
হবে এবং সরকারী সহায়তার পরিমাণ আরো বাড়াতে হবে।
ভাষা আন্দোলন
থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে প্রবাসীদের
সক্রিয় অবিস্মরণীয় ভূমিকা যেমন চিরজাগ্রত রয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাসে,
তেমনিভাবে
এখনও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে সচল রাখতে,
বিশেষ করে
আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে মহিমান্বিত করতে প্রতিটি প্রবাসীর
ভূমিকা অনাদিকাল স্মরণীয় করে রাখতে প্রবাসীরা সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিকৃতি
ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধ থাকুক এবং বেশি লাভবান হোক মাতৃভূমি- এটাই প্রবাসীদের কাছে
গণমানুষের প্রত্যাশা।