মোবাইল ফোন বিকিরণে মানুষের পঙ্গুত্ব বাড়ছে

 

সংলাপ

 

অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় রেডিও বিকিরণ ছড়ায় এমন অসংখ্য নিম্নমানের মোবাইল ফোনে ক্রমশ ছেয়ে যাচ্ছে বাজার'ব্রান্ডেড' মোবাইল সেটগুলির তুলনায় অনেক কম দামে যত্রতত্র বিক্রি হওয়া এই সব মোবাইল সেট ব্যবহারের ফলে শুধু যে এদেশে অদূর ভবিষ্যতে মস্তিষ্কের ক্যানসার বা মস্তিষ্কে টিবি-এর মতো মারণ রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে তাই নয়, এর ফলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতাও দ্রুত কমতে থাকবে বলে চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের অভিমতকমে যাবে স্মৃতিশক্তি মহামারীর মতো দেখা দিতে পারে 'অ্যালজাইমার্স' জাতীয় মস্তিষ্কের ব্যাধিএছাড়া সারা দিন ধরে মাথা ধরা, বিরক্তিভাব, খিটখিটে মেজাজ এসব তো আছেইশুধু মোবাইল ফোন ব্যবহার করার সময় নয়, উচ্চ বিকিরণ ক্ষমতাসম্পন্ন ওই সব মোবাইল সেট শরীরের সংস্পর্শে রাখলেও নানা ধরনের শারীরিক ক্ষতির কারণ হতে পারে প্যান্টের পকেটে যারা রাখেন সেই সব পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতার সমস্যা হতে পারেকোন নামী সংস্থার ছাপ মারা নয়, নেহাতই অনামী এই মোবাইল সেটগুলি বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে ঢুকে পড়ছে মূলত সিঙ্গাপুর থেকেচীন ও তাইওয়ানের এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী এই সব অননুমোদিত স্পেসিফিকেশনের মোবাইল সেটগুলি তৈরি করে আন্তর্জাতিক বাজারে চালান দিচ্ছে আশঙ্কার কথা, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ওই সব মোবাইল ফোনের শুধুমাত্র 'চিপস' নামক মূল যন্ত্রাংশটি আমদানি করেও সস্তায় অনামী হ্যান্ডসেট তৈরি করারও বেশ কিছু কোম্পানিও গড়ে উঠেছে সারা এশিয়া জুড়েআমরা অনেকেই জানি যে, মোবাইল ফোন ব্যবহার করার সময়েই ব্যবহারকারীর শরীরে 'রেডিও ওয়েভ' বা বেতার তরঙ্গের বিকিরণ প্রবেশ করেএর ফলে শরীরের ক্ষতি হয়কিন্তু ক্ষতির পরিমাণ যথাসম্ভব কম রেখে মোবাইল ফোনে সর্বোচ্চ বিকিরণ ক্ষমতা কতটা রাখা যাবে তার জন্য একটি 'আন্তর্জাতিক গাইডলাইন' ঠিক করে দেয়া আছেসমস্ত মোবাইল সেটা প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলোকে ওই নির্দেশিকা মেনে হ্যান্ডসেট তৈরি করতে বলা হয়যদিও তা ঠিকঠাকভাবে মানা হচ্ছে কিনা, দেখার জন্য বাংলাদেশে কোনও পরিকাঠামো নেইবিদেশ থেকে আমদানি করা মোবাইল সেটের ওপর এই বিধি বলবৎ করার মতো কোনও আইনই নেই আমাদের দেশেশুধু আইনি প্রশ্ন নয়, এদেশে গ্রাম-শহরের বিস্তীর্ণ বাজারে দৈনিক বিক্রি হওয়া লক্ষ লক্ষ মোবাইল সেটের বিকিরণ মাত্রা পরীক্ষা করার মতো কোনও ব্যবস্থাও নেই সরকারের হাতেমোবাইল হ্যান্ডসেটের বিকিরণ মাত্রা পরিমাপ করার জন্য যে আন্তর্জাতিক বিধি রয়েছে তার নাম 'স্পেসিফিক অ্যাবজরপশান রেটস' (এসএআর) এটি প্রকৃত পক্ষে একটি একক, যা দিয়ে বোঝানো হয় একটি নির্দিষ্ট সময়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর শরীরে কতটা বেতার তরঙ্গ প্রবেশ করলোএই বিকিরণের সর্বোচ্চ মাত্রা নির্ধারণের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক সংস্থার নাম- ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অন নন আয়োনাইজিং রেডিয়েশন প্রোটেকশন (আইসিএসআইআরপি)'এস এ আর' মাপা হয় প্রতি কিলোগ্রাম পিছু ওয়াটের ভিত্তিতে'এস এ আর' যত বেশি হবে বিকিরণের মাত্রাও তত বাড়বেআই সি এন আই আর পি-র নির্দেশ হল, কোনও মোবাইল হ্যান্ডসেট এর 'এস এ আর'-এর মাত্রা যেন কেজি পিছু ১ ওয়াটের বেশি না হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, রাশিয়া, জার্মানি, ব্রিটেন, ফ্রান্সের মতো বিশ্বের উন্নত দেশগুলিতে এই বিধি কঠোরভাবে মানা হয়নামী কোম্পানির হ্যান্ডসেটগুলি সাধারণত ওই আন্তর্জাতিক মান বজার রেখেই তৈরি হয় বলে ধরে নেয়া হয়যদিও এ ব্যাপারে তদারকির ব্যবস্থা নেইকিন্তু মুশকিল হল, অনামী কোম্পানিগুলির 'আনব্র্যান্ডেড' সেটগুলি নিয়েতাই আমরা মনে করি বাংলাদেশ সরকার এখনই এ ব্যাপারে রক্ষাকবচ তৈরি করুক যাতে অতি উচ্চক্ষমতার 'এসএআর' সম্পন্ন ও মানবদেহের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর বিদেশি মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানি বন্ধ করা যায়