ধাতুর
এই খাঁচা তৈরির সময় তার কদরই বুঝেনি প্যারিসের মানুষ।
অথচ
আজ আইফেল টাওয়ার প্যারিসের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে গোটা বিশ্বে পরিচিত।
এবার ১২৫ বছর পূর্ণ করল এই টাওয়ার।
১৮৮৭ সালের ২৬ জানুয়ারি আইফেল টাওয়ার চালু হয়েছিল।
শহরের মানুষ বিরক্ত হয়ে বলেছিলেন,
প্যারিসের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে গেল।
বিশিষ্ট জনরা গর্জে উঠেছিলেন,
এ
যেন এক দৈত্য - শহরের লজ্জা।
এমনকি কমিটি গঠন করে রীতিমতো আইফেল টাওয়ার হটাও আন্দোলন শুরু হয়ে গিয়েছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফরাসি সেনাবাহিনী নাৎসিদের অপব্যবহার রুখতে
টাওয়ারের অংশ বিশেষ ভেঙে ফেলার কথা ভেবেছিল।
তারপর হিটলার স্বয়ং আইফেল টাওয়ার ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছিলেন,
যদিও তা অমান্য করা হয়েছিল।
ফরাসি বিপস্নবের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সে সময়ে শহরে বসেছিল আন্তর্জাতিক
প্রদর্শনীর আসর।
এই
ঘটনাকে স্মরণীয় করে তুলতে গড়ে তোলা হয়েছিল এই টাওয়ার।
১৮৮৭ থেকে ১৮৮৯ দুই বছর লেগেছিল টাওয়ারটি তৈরি করতে।
এত
কান্ড করে তৈরি করে চট করে আবার তা খুলে না নিয়ে পরিকল্পনা ছিল,
মেলা শেষ হওয়ার কুড়ি বছর পর সেটি খুলে নেয়া হবে।
কিন্তু সেই পরিকল্পনা আর কার্যকর হয়নি।
কারণ ততদিনে আইফেল টাওয়ারের খ্যাতি গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।
দলে
দলে পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন এই আয়রন লেডিকে দেখতে যা ততদিনে আইফেল
টাওয়ারের ডাকনাম হয়ে গেছে।
আশেপাশের দোকানে বিক্রি হচ্ছে আইফেল টাওয়ারের ক্ষুদ্র সংস্করণ।
কবি,
সাহিত্যিক,
গায়ক,
চলচ্চিত্র নির্মাতারা এই টাওয়ার দেখে প্রেরণা পেতে শুরু করেছেন।
এই
সব কান্ডকারখানা
দেখে প্যারিসের মানুষ অবাক।
অবাক স্বয়ং গুস্তাভ আইফেলও যিনি এই টাওয়ারের স্থপতি।
উদ্বোধনের দিন ফরাসি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার সময় তিনি ভাবতেই পারেননি যে,
তার
এই সৃষ্টি অমর হয়ে থাকবে।
মনে
রাখতে হবে,
সেই
যুগে প্রায় তিনশ মিটার লম্বা এই টাওয়ার ছিল গোটা বিশ্বের মানুষের তৈরি
সবচেয়ে উঁচু কোন সৃষ্টি।
১৯৫৭ সালে একটি অ্যান্টেনা বসানোর পর উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ৩২৪ মিটার।
৭৩০০ টন ইস্পাত দিয়ে তৈরি হয়েছে এই টাওয়ার।
টেলিগ্রাফ ও রেডিও সংকেত পাঠানোর কাজেও ব্যবহার করা হয়েছে এই টাওয়ারকে।
১৯২১ সালে ফ্রান্সের প্রথম পাবলিক রেডিও সম্প্রচারও শুরু হয়েছে সেখান থেকে।
এখন
সূর্যাস্তের
পর থেকে প্রতি ঘন্টায় ৫ মিনিট করে আলোর সাজে সেজে ওঠে তুর দিফেল।
প্রায় ২০০০০ বাল্বের সেই আলোর ছটা অপরূপ এক দৃশ্য উপহার দেয়।
আইফেল টাওয়ারকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনার অভাব নেই।
পর্যটকদের ঢলও কমার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
আইফেল টাওয়ার ফ্রান্সকে এনে দেয় অসংখ্য বিদেশী পর্যটক।