|
তালিবানের সঙ্গে
আমেরিকা
সংলাপ
॥
শেষ
পর্যন্ত তালিবানের সঙ্গে আলোচনায় বসল মার্কিন প্রশাসন।
সম্প্রতি কাতারে তালিবান প্রতিনিধিদের সঙ্গে একদফা আলোচনা হয়েছে মার্কিন
সরকারি অফিসারদের।
তালিবানের যে সদস্যরা আমেরিকার গুয়ানতানামো দ্বীপে বন্দি রয়েছে মূলত তাদের
মুক্তির বিষয়টিই এই আলোচনায় অগ্রাধিকার পেয়েছে।
তবে
এই আলোচনা প্রসঙ্গে নীরব থাকার কৌশল নিয়েছে পাকিস্তান।
এক
প্রাক্তন তালিবান সদস্যকে উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে,
তালিবানের চার থেকে আটজন প্রতিনিধি ওই আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তান থেকে
কাতারে যায়।
এই
আলোচনাকে মূলত আস্থাবর্ধক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে উভয় পক্ষ।
তবে
গুয়ানতানামোর বন্দিদের সম্ভাব্য মুক্তির বিষয়টিও এই আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব
পেয়েছে।
জানা
গিয়েছে,
জঙ্গি
সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে তালিবান নেতা মোলস্না মোহাম্মদ ওমরের এক প্রাক্তন
সচিব যেমন ছিলেন,
তেমনই
ছিলেন তালিবান সরকারের বেশ কয়েকজন প্রাক্তন অফিসারও।
মৌলবি
কোয়ালামুদ্দিন নামে তালিবান সরকারের এক প্রাক্তন মন্ত্রী জানিয়েছেন,
এই
মুহূর্তে কোনও শাস্তি হচ্ছে না।
একমাত্র গুয়ানতানামোর বন্দিদের মুক্তির বিষয়টি নিয়েই আলোচনা হয়েছে।
বিষয়টি এখনও আলোচনার স্তরেই রয়েছে।
তবে
তারা চান এই আলোচনার মাধ্যমে একটা বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করতে।
যে
সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনায় বসতে পারে দুই পক্ষ।
আমেরিকা ও তালিবানের এই আলোচনার বিষয়ে এবার পাকিস্তান এক রকম মুখে কুলুপ এঁটে
রয়েছে।
অতীতে
এই আলোচনায় তালিবানের অংশ নেয়ার বিষয়ে পাকিস্তানের তীব্র আপত্তি ছিল।
কিন্তু এবার তারা সেই অবস্থান থেকে সরে এসে তালিবান প্রতিনিধিদের কাতারে
যাওয়ার ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতা করেছে।
পাকিস্তানের এই অবস্থান তাদেরও অবাক করেছে বলে তালিবান প্রতিনিধি দলের এক
সদস্য জানিয়েছেন।
তালিবান সরকারের প্রাক্তন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী আরশালা রহমানি জানিয়েছেন,
এই
বার্তার মাধ্যমে পাকিস্তান এই আলোচনার বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছে।
এই
আলোচনায় নিশ্চিতভাবেই পাকিস্তানের সমর্থন রয়েছে।
সে
কারণেই তারা আমাদের
সাহায্য করেছে।
তারা
যদি আমাদের সমর্থন না করতো সে ক্ষেত্রে তারা কাতারগামী তালিবান প্রতিনিধিদের
গ্রেপ্তার করতে পারত।
অন্যদিকে নিউইয়র্ক টাইমস আরও জানিয়েছে,
এই
আলোচনায় সরাসরি যুক্ত নয় আফগানিস্তান সরকার।
প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় আফগান সরকার তাদের হতাশাও প্রকাশ করেছে।
আফগান
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,
এই
আলোচনার বিষয়ে আমেরিকা তাদের কিছুই জানায়নি।
যদিও
তালিবানদের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল যে,
তারা
কাতারে একটি রাজনৈতিক অফিস খুলতে চায়।
সেখানেই তারা মার্কিন সরকারের সঙ্গে কথা বলতে চায়।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে নিযুক্ত বিশেষ মার্কিন আধিকারিক মার্ক গ্রসম্যান
জানিয়েছেন,
গুয়ানতানামোতে বন্দি তালিবান জঙ্গিদের মুক্তির বিষয়ে ওবামা প্রশাসন এখনও কোনও
সিদ্ধান্ত নেয়নি।
কারণ
এটা সেদেশের আইনি বিষয়।
যদিও
মার্কিন প্রশাসনিক সূত্রে স্পষ্টই ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে যে,
গ্রসম্যান সম্প্রতি তালিবান প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হয়েছেন।
এমনকি
কাতার যাওয়ার আগে এবং পরে তিনি আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে
দুদুবার কথাও বলেছেন।
তবে
বন্দিমুক্তির বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে ওবামা প্রশাসন অবশ্যই
মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবে।
আদৌ
যদি কোনও বন্দিকে মুক্তি দেয়া হয় সে ক্ষেত্রে তাকে কাতারে নিয়ে গিয়ে গৃহবন্দি
করে রাখা হবে বলে জানা গিয়েছে। |