|
খাবারে বিষ
মেশানো
সংলাপ
॥
ক্ষমতাসীনকে
নিঃশব্দে হত্যা করে শাসনব্যবস্থাকে টালমাটাল করা?
উচ্চ পদাধিকারী এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিকেশ করার প্রবণতা?
শাসনক্ষমতা নিরঙ্কুশ করার জন্য তাবৎ প্রতিস্পর্ধীদের পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়া?
এ
স ব
কিছুরই এককালীন সহজ মাধ্যম হল - খাবারে বিষ মেশানো! খ্রিষ্টপূর্ব কাল থেকে
সেদিনের মোগল সাম্রাজ্য - ক্ষমতা দখলের লোভ আর রাজত্ব ধ্বংসের অন্যতম পন্থা
হিসেবে খাবারে বিষ মিশিয়ে দেয়ার নজির ভুরি ভুরি।
প্রচীন
তথা মধ্যযুগীয় ওই অপরাধ কৌশলকে এবার রাজনীতিক ও সন্ত্রাসবাদীরাও হাতিয়ার করে
নিচ্ছে।
পড়শী
দেশে সম্প্রতি আয়োজিত সমস্ত রাজ্য পুলিশের কর্তাদের দুদিনের সম্মেলনে ভিআইপি
সিকিউরিটি সংক্রান্ত আলোচনায় ভারতের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা এজেন্সীগুলো এই
বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে।
বলা
হয়েছে,
ভিআইপি-দের বিপদ শুধুমাত্র গুলিবিদ্ধ হওয়া অথবা বোমা বিস্ফোরণের আশঙ্কাতেই
আটকে নেই।
তারা খবর
পেয়েছে উগ্রবাদী ক্ষমতালোভী সংগঠনগুলো এবার কৌশলে মন্ত্রী ও প্রথম সারির
রাজনৈতিক নেতাসহ অতি গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকদের খাবারে বিষ মিশিয়ে হত্যার
চক্রান্ত আঁটছে।
তাই
প্রতিটি রাজ্যের পুলিশকে ভিআইপি-দের খাবারের বিষয়েও কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে।
মিশরের রানি
ক্লিওপেট্রার মৃত্যু দুই সাপের কামড়ে হয়েছে বলে প্রচারিত হলেও পরবর্তীকালে
বিতর্ক তৈরি হয় এবং দাবি করা হয় ওষুধ হিসাবে খাবারে বিষ মিশিয়েই তাকে হত্যা
করা হয়েছিল।
আলেকজান্দ্রিয়া থেকে ভারত।
১৫৩০
অথবা ১৫৩১ সালে প্রথম মোগল সম্রাট বাবরের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরেও সেই খাবারে
বিষক্রিযার সন্দেহ ঘনীভূত হয়েছিল।
এখানেই
শেষ নয়।
যুবরাজ
সেলিমের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর শেষ চার বছরে সম্রাট আকবরের
স্বাস্থ্যের ক্রমেই ভেঙে পড়া এবং শেষে ১৬০৫ সালে তার মৃত্যুর পিছনেও অনেক
ইতিহাসবিদ ধীরগতিতে খাবারে বিষক্রিয়ার কারণ খুঁজেছেন।
আর
আওরাঙ্গজেবের পর মোগল সাম্রাজ্যে সিংহাসন পাওয়ার প্রতিযোগিতায় একে অন্যকে
বিষ দেয়ার অভিযোগের কথা বলে শেষ করা যায় না।
সুতরাং
সেই পুরানো প্রবণতা এখনও রয়েছে বিশেষকরে বাংলাদেশে।
কিন্তু
বাংলাদেশে তা তলিয়ে দেখা হয়নি এবং এখনও হচ্ছে না।
যে কোন
মৃত্যুর পিছনে খাবার বিষ ছিল কিনা তা পরীক্ষা করার দরকার এবং বর্তমান
সরকারের বলিষ্ঠ ভূমিকা নিয়ে ওই খাবার ও মৃত্যু পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা
সময়ের দাবী।
এ
বিষয়ে গণসচেতনতা গড়ে তোলার জন্য মানবাধিকার সংস্থাসমূহসহ সকল
সরকারি-বেসরকারি সংস্থাকে এগিয়ে আসতে হবে।
মনে
রাখতে হবে সাবধানের ঘরে মার নেই।
|