ভারত-চীন
সম্পর্ক উন্নয়নে প্রয়াস আবার বাধাগ্রস্থ হলো।
ভারত-চীন প্রতিরক্ষা আলোচনা বিনিময়ে জুলাইয়ে বেজিং যাওয়ার কথা ছিল
সেনাবাহিনীর উত্তরাঞ্চলের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল বি এস জাসয়ালের।
কিন্তু
চীন তার সফরে সম্মতি দেয়নি।
কারণ,
চীনের বক্তব্য,
জাসয়াল
'বিতর্কিত'
জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দা।
ক্ষুব্ধ ভারত।
দু'দেশের
সম্পর্কহানি না ঘটলেও,
কূটনৈতিক
ক্ষেত্রে এ এক কালো মেঘ।
এর
প্রতিবাদে ভারত চীনা সেনা অফিসারদের দিল্লি সফর বাতিল করে দিয়েছে।
দিল্লিতে চীনের রাষ্টদূত চাং ইয়াংকে বিদেশ মন্ত্রকে পাঠিয়ে ভারতের ক্ষোভের
কথা জানানো হয়েছে।
গত
জানুয়ারি ভারত-চীন দু'দেশই
সম্মত হয়েছিল দু'দেশের
জেনারেল পর্যায়ের অফিসারদের পারস্পারিক সফরে।
দু'দেশের
বার্ষিক প্রতিরক্ষা আলোচনার এটা একটা পদক্ষেপ।
কিন্তু
চীন যখনই জানতে পারে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাসয়াল যাবেন,
তখনই আপত্তি
তোলে।
চীন
জানায় জাসয়াল কাশ্মীরের মানুষ।
বিশ্বের ওই অঞ্চলের মানুষজনকে চীন আলাদারকম ভিসা দেয়।
এ কথা
জানিয়ে চীন সরকার লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাসয়ালের বদলে অন্য কোনো সেনা
অফিসারকে পাঠাতে বলে।
ক্ষুব্ধ ভারত চীনা অফিসারের ভারত সফর বাতিল করে দেয়।
পাকিস্তানের কাশ্মীর নীতিকে মদদ দিয়ে কিছুদিন ধরেই চীন জম্মু-কাশ্মীরের
বাসিন্দাদের চীন সফরের আবেদনে ভারতীয় পাসপোর্টে ভিসা ছাপ দিচ্ছে না।
ভিসা
দিচ্ছে আলাদা একটা কাগজে।
কিন্তু
আলাদা কাগজে ওই ভিসা নিয়ে ভারতের কোনও বিমানবন্দরে গেলে অভিবাসন বিভাগের
অফিসাররা তা গ্রহণ করছেন না।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাসয়াল জানিয়েছেন,
তাকে বলা
হয়েছে তার চীন সফর স্থগিত করা হয়েছে।
এর
বেশি কিছু তাকে জানানো হয়নি।
হায়দরাবাদে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনি এ বিষয়ে বলেছেন,
এতে দু'দেশের
প্রতিরক্ষা সমঝোতা বাতিল হবে না।
চীনের
সঙ্গে ভারতে সমঝোতা দৃঢ়ই।
কিন্তু
মাঝে মাঝে কিছু সমস্যা হয়।
এর
বেশি কিছু বলেননি তিনি।
তবে
জানিয়েছেন,
ভারতের
উদ্বেগের বিষয়গুলিও চীনকে বুঝতে হবে।
ভারতের
বিদেশ রাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণীত কাউর অবশ্য সংসদ চত্বরে এ নিয়ে বলেছেন,
ভারত কড়া
মনোভাবই দিখাচ্ছে।
দিল্লিতে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের একটি পাঠ্যসূচিতে এ অংশগ্রহণ করার কথা
ছিল চীন সেনা অফিসারদের।
ভারত
চীন সেনা অফিসারদের এ সফর বাতিল করে দিয়েছে।
চীনকে
বুঝিয়ে দিতে হবে এ ব্যাপারে ভারতের অসন্তোষ।
বেজিংকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে হবে জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
কংগ্রেস মুখপাত্র মণীশ তিওয়ারী বলছেন,
যদি এরকম কোনও
একতরফা সম্পর্ক লঙ্ঘনের ঘটনা চীন ঘটায়,
তবে ভারতের
উচিত আপন স্বার্থে অটল থাকা।
দু'দেশের
সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে পারস্পারিক মর্যাদারক্ষা,
পরস্পরের
উদ্বেগের বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দিতেই হবে।