|
আদালতের
নির্দেশঃ বোরকা পরতে বাধ্য করা যাবে না
সংলাপ
॥
দেশের
সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিসে মহিলাদের বোরকা পরতে এবং খেলাধুলা ও
সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশ নেয়া থেকে বিরত না রাখতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে
হাইকোর্ট।
পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিসে মহিলাদের বোরকা পরতে এবং খেলাধুলা ও
সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না মর্মে কারণ
দর্শাতে রুল জারি করেছে আদালত।
এ
সংক্রান্ত প্রকাশিত একটি রিপোর্ট আদালতের দৃষ্টিতে আনলে বিচারপতি এ এইচ এম
শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি শেখ মোঃ জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ
স্বপ্রণোদিত হয়ে (স্যুয়োমোটো) গত রোববার এই আদেশ দেন।
আদালতের আদেশে মহিলাদের বোরকা পরা বাধ্যতামূলক করায় নাটোরের সরকারি রানী
ভবানী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হককে আগামী ২৬ আগস্ট সশরীরে আদালতে
হাজিরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ওইদিন
আদালতে হাজির হয়ে তার অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া
তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
রুলের
জবাব দিতে শিক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব, মহিলা ও
শিশুবিষয়ক সচিব এবং নাটোরের সরকারি রানী ভবানী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষকে বলা
হয়েছে।
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে 'নাটোরের সরকারি রানী ভবানী মহিলা কলেজ, বোরকা
না পরলে আসতে মানা' শিরোনামে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই কলেজের প্রধান হিসেবে দুই মাস আগে মোজাম্মেল হক
নামে এক ব্যক্তি যোগ দেন।
তিনি
যোগদানের পর মেয়েদের বোরকা পরা বাধ্যতামূলক করে তাদের কোনো সাংস্কৃতিক
অনুষ্ঠান ও খেলাধুলায় অংশ নেয়া বন্ধ করেন।
বলা
হয়, মেয়েরা বোরকা না পরলে এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলাধুলায় অংশ নিলে
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রকাশিত রিপোর্টটি সুপ্রিমকোর্টের দুই আইনজীবী মাহবুব শফিক ও কে এম
হাফিজুল আলম জনস্বার্থে আদালতের দৃষ্টিতে আনেন।
পরে
আদালত এ বিষয়ে আদেশ ও রুল জারি করে।
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধোগতি!
সংলাপ
॥
র্যাংকিং এর দিক থেকে বিশ্বের পাঁচ হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেও স্থান হয়নি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের।
ইউরোপীয় একটি দেশের গবেষণা সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত সর্বশেষ গবেষণায়
'প্রকাশিত
এমন একটি তথ্য নিঃসন্দেহে বিচলিত করবে সংশ্লিষ্ট সকলকে।
স্পেনের
'কনসেজো
সুপোরিয়র ডি ইনভেষ্টিসিওন সিয়েন্টিফিকাস'
নামের
এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি নাকি ২০০৪ সাল থেকে বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে
গবেষণা করে আসছে বলে বিভিন্ন খবরে বলা হয়েছে।
গবেষণার উদ্দেশ্য বা এর ফলাফলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সংশয় বা প্রশ্ন যাই
থাকুক না কেন প্রকাশিত খবরটি যে আমাদের প্রচলিত ও আনুষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থার
জন্য ভয়াবহ উদ্বেগের কারণ তা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।
গবেষণায় আরো দেখানো হয়েছে,
বাংলাদেশের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় - ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়েরও নিচে
অবস্থান করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
২০১০
সালে প্রকাশিত গবেষণায় এর অবস্থান ৫,৫৩১তম।
২০০৯
সালে একই সংস্থার গবেষণায় এর অবস্থান ছিল ৪,৯৯২তম।
অর্থাৎ,
এক
বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৬০৯ ধাপ পিছিয়েছে বলে দেখানো হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের সর্বোচ্চ ও সেরা বিদ্যাপীঠ হিসেবে জেনে
প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হয়ে যারা এর ছাত্রত্ব ও ডিগ্রী অর্জন করেছে তাদের
কাছে এ এক বিরাট দুঃখজনক খবর।
শিক্ষাকে বাণিজ্যিক ব্যবসায়িক প্রতিপত্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যারা
কায়েমী স্বার্থ উদ্ধারে লিপ্ত তাদের জন্যে এ খবর খুশীর বার্তা নিয়ে আসতে
পারে।
দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষের জন্য এ খবর মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়।
এতে
করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি আরো চাঙ্গা হয়ে উঠবে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো,
কেন
এমন হবে?
ব্রিটিশ ও পাকিস্তান দু'দুটি
ঔপনিবেশিক আমলে যে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ও মর্যাদা ছিল বিশ্বের সেরা
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে তুলনীয় সেখানে আজ এমন অবস্থা কেন হলো?
বিশেষ করে গত বিশ বছর ধরে দেশে যেখানে সামরিক স্বৈরাচার নেই,
গণতান্ত্রিক পরিবেশ মোটামুটিভাবে বিরাজ করছে সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
ক্রমঃঅধপতন হচ্ছে কেন?
নাকি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে যারা শিক্ষাঙ্গনগুলোর ধারক-বাহক
হিসেবে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে আছেন তাদের মধ্যেই সমস্যা?
তারাই এর জন্য দায়ী?
এসব
প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতেই হবে।
কেননা,
যারা এদেশ ও জাতির শত্রু তারা কিন্তু কখনোই চায় না এদেশের শিক্ষাঙ্গনগুলো
ভালভাবে চলুক,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার মান ও মর্যাদা নিয়ে টিকে থাকুক।
এই
চক্রান্তের অংশ হিসেবেই প্রথমে এদেশের সরকারি প্রাথমিক-মাধ্যমিক ও উচ্চ
মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল-কলেজগুলোকে ধ্বংসের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এরই
অংশ হিসেবে গত ২০/২৫ বছরে সারা দেশে অসংখ্য কিন্ডারগার্টেন,
ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল,
মাদ্রাসা ও বেরসকারি উদ্যোগে স্কুল ও কলেজ গড়ে তোলা হয়েছে।
সরকারের মধ্যে যাদের দায়িত্ব ছিল বেসরকারি উদ্যোগগুলোর ভাল-মন্দ যাচাই করা
তারা নির্বিকার থেকেছে।
ফলে
সরকারি স্কুল-কলেজগুলোর বেশিরভাগই এখন নামে মাত্র টিকে আছে,
এগুলোর চাকরির স্থল হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে।
আর
ঐতিহ্যগতভাবে সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলোতে এক সময় যে সব নিবেদিত প্রাণ
শিক্ষক ছিলেন তারাও এখন নেই।
অধিকাংশই মৃত্যুবরণ করেছেন।
বিশেষ করে দেশ ভাগ ও
'৭১-এর
মুক্তিযুদ্ধের কারণে যেসব শিক্ষককে এদেশ হারিয়েছে তাদের স্থান পূরণ করার
মতো কোনো উদ্যোগই আজ পর্যন্ত নেয়া হয়নি।
ফলে
মফস্বলের গ্রাম ও শহর থেকে যে সব ছাত্র এক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে
ভর্তি হতো সে সংখ্যাটিও কমে গেছে আশংকাজনক হারে।
সব
সুবিধা এখন শহরে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের জন্য।
মেধাবী ও নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে যারা শিক্ষকতায় আসতে চাইতেন তাদের ব্যাপারেও
কারো দৃষ্টি ছিল না।
ফলে
দেখা যায় দেশের বেশির ভাগ স্কুল-কলেজে এখন ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রচুর,
শিক্ষকদের বেতনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আগের তুলনায় পর্যাপ্ত,
অযোগ্য অনেকে এমপিওভুক্ত হয়ে পেনশন-গ্র্যাচুইটি সুবিধাভোগী খাতায় নাম
লিখিয়েছেন কিন্তু যা নেই তা হচ্ছে নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও শিক্ষকতা।
শুধুই মাত্র চাকরি করা যে একজন শিক্ষকের কাজ নয় তা ভুলে যাওয়া হয়েছে।
আর
অনেক মেধাবী ও উচ্চশিক্ষিত যুবক অন্য উপায় না দেখে সরকারি প্রাথমিক ও
মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে শিক্ষক পদে চাকরিতে ঢুকে হীনমন্যতার শিকার হয়ে
নিজেদের মেধাকে নষ্ট করে দিচ্ছেন।
ফলশ্রুতিতে যা হবার তাই হয়েছে।
নৈতিকতা,
দেশপ্রেম ও চারিত্রিক দৃঢ়তাসম্পন্ন ছাত্র যুবক তৈরি হচ্ছে না,
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হওয়ার পর সেখানে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ও দলীয়
সংকীর্ণতার মধ্যে পড়ে আরো বেশি জটিলতার মধ্যে পড়ছে কোমলমতি ছেলেমেয়েরা,
সেশনজট তো আছেই।
ফলে
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে তাল মেলাতে পারছে না
এদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ,
এককালে যা পরিচিত ছিল
'প্রাচ্যের
অক্সফোর্ড'
নামে।
এছাড়া আজকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার জন্যে অনেক ক্ষেত্রে যেভাবে
নীতিবিবর্জিত প্রতিযোগিতা করতে হয় সত্যিকারের মেধাবী ও বিবেকবান ছাত্র-যুবক
তা থেকে নিজেদেরকে দূরে সরিয়ে রাখে।
এ
পরিস্থিতিতে অপেক্ষাকৃত কম মেধাবী ও সুযোগ সন্ধানীরা প্রতিযোগিতায় টিকে
গিয়ে প্রথম শ্রেণীর ডিগ্রী অর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের লোভনীয় চাকরির
প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
এসব
চাকরি প্রার্থী শেষ পর্যন্ত শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেলেও তাদের দ্বারা
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদানের গুণগত মান উন্নয়নে ভুমিকা পালনের কোনো সুযোগ
হয়ে উঠে না।
শিক্ষক হিসেবে নিজেদের ব্যক্তিক ও কায়েমী স্বার্থ উদ্ধারের দিকেই তাদের
ঝোঁকটা বেশি থাকে।
এভাবে সনাতনী স্কুল-কলেজগুলো থেকে
'ভাল'
ছাত্র যেমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসছে না তেমনি
'ভাল'
ছাত্র না পেয়ে অনেক গুণী শিক্ষক পাঠদান করা থেকে নিজেদেরকে সরিয়ে নিচ্ছেন।
এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ছেড়ে দেয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
তাই
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্রমেই র্যাংকিং এর দিক থেকে পিছিয়ে পড়ছে- এর কারণ
হিসেবে সংকীর্ণভাবে দেখার কোনো অবকাশ নেই।
এ
সমস্যাকে দেখতে হবে সারা দেশের শিক্ষাঙ্গনের দুরাবস্থার পরিণাম হিসেবে।
ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগতভাবে সারা দেশে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
'ভাল'
ছাত্র-ছাত্রী তৈরি করলেও কিন্তু একটি স্বাধীন দেশের আত্মমর্যাদাশীল ও
দেশপ্রেমিক নতুন প্রজন্ম তৈরির দিকে নজর তাদের তেমন নেই।
একটি বিশেষ শ্রেণী যার সাথে এদেশের মাটি-মানুষের সম্পর্কের গাঁথুনি খুবই
নড়বড়ে তৈরি করা সম্ভব।
এ
পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় সারা দেশের বৃহত্তর সংখ্যার যে সরকারি প্রাথমিক ও
মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো রয়েছে,
যাদের লক্ষ্য থাকে বড় হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার তাদেরকে যথার্থ অর্থে
গুণী ছাত্র হিসেবে তৈরি করা।
এই
লক্ষ্যে সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর সার্বিক উন্নতির দিকে
নজর দিতে সর্বাগ্রে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নীতিনির্ধারক ও
কর্মকর্তাদের দায়দায়িত্বই এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি।
ভারতের সবচেয়ে
সৎ প্রধানমন্ত্রী মনমোহন
সংলাপ
॥
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে সৎ
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিহিত করেছেন সে দেশের প্রখ্যাত লেখক ও কলামিস্ট
খুশবন্ত সিং।
কেবল সততায় নয়,
মনমোহনকে ভারতের ইতিহাসের সেরা প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন তি নি।
এমনকি দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর উপরেও তিনি স্থান দিয়েছেন
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে।
খুশবন্ত সিং ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক,
কলামিস্ট ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব।
তিনি মনমোহনের সততার উদাহরণ দিতে গিয়ে ব্যক্তিগত একটি অভিজ্ঞতার উল্লেখ
করেছেন।
১৯৯৯ সালে নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহারের জন্য মনমোহন তার জামাতাকে পাঠিয়ে
খুশবন্তের নিকট থেকে দুই লাখ রুপি ধার নিয়েছিলেন।
কিন্তু ভোটের পরদিন মনমোহন নিজে টাকাগুলো ফেরত দিতে আসেন সেগুলো
'খরচ
করার দরকার পড়েনি'
এই
বলে।
তিনি লিখেছেন,
নির্বাচনী প্রচারণায় ট্যাক্সি ভাড়ার টাকাও তার কাছে ছিল না।
অগণিত রাজনীতিককে খুব কাছে থেকে জানা ও চেনার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খুশবন্ত অন্য
কারো সঙ্গে মনমোহনের তুলনা করতে রাজি নন।
৯৫
বছর বয়সী এই লেখকের নতুন বইটির নাম
'অ্যাবসলিউট
খুশবন্ত : দ্য লো-ডাউন অন লাইফ,
ডেথ
অ্যান্ড মোস্ট থিংস ইন বিটুইন'।
লেখকের মতে,
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে মনমোহনের মতো সৎ ব্যক্তি এখনো কেউ আসীন হননি।
খুশবন্ত বলেছেন,
মনমোহনের খোলামেলা ও চমৎকার মন অন্যদের নিকট থেকে তাকে পৃথক করে রাখে।
তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি এত ক্ষমতার অধিকারী হয়েও স্বজনপ্রীতির ধারে
কাছেও যাননি।
কেউই এই অভিযোগ তুলতে পারবেন না যে,
মনমোহন তার কোনো আত্মীয় কিংবা স্বজনকে অনৈতিক সুবিধা দিয়েছেন।
লেখক বলেছেন,
'অথচ
নেহেরু কিংবা ইন্দিরা গান্ধী এই ত্রুটির ঊর্ধ্বে উঠতে পারেননি।'
ভারতের অর্থনীতিকে বর্তমান পর্যায়ে নিয়ে আসার সবচে বড় কৃতিত্ব তিনি
মনমোহনকে দিয়েছেন।
অর্থনৈতিক বিকাশে চীন
জয়ন্ত ॥
তিনদশক ধরে চমকপ্রদ অর্থনৈতিক বিকাশের ধারায় চীন এবছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক
জাপানকে পিছনে ফেলে বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি হিসাবে স্বীকৃত
হয়েছে।
এই
ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে গত ১৬ই আগস্ট।
এখন
চীনের আগে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
বেশ
কিছুদিন ধরেই অর্থনীতিবিদদের ধারণা চীন দৃঢ় পদক্ষেপে শীর্ষস্থানের দিকে
এগোচ্ছে।
চীনের
এই সাফল্যের যে দৃঢ়ভিত্তি আছে তা এখন চীনের অতি বড় নিন্দুকেরাও স্বীকার করছে।
এখন
এই নতুন অর্থনৈতিক ধারা আগের চেয়ে নিশ্চয় বেশি সমীহ করে চলবে।
এবছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে জাপানের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) পরিমাণ
ছিল ১.২৮ ট্রিলিয়ন ডলার।
সেই
তুলনায় চীনের জিডিপি-র আয়তন ১.৩৩ ট্রিলিয়ন ডলার।
ওই
ত্রৈমাসিকে জাপানের অর্থনীতির বিকাশ ঘটেছে ০.৪ শতাংশ হারে।
এত
খারাপ ফলাফল অবশ্য জাপানের কাছে অবিশ্বাস্য।
তারা
ভাবতেই পারেনি তাদের অর্থনীতির হাল এত খারাপ।
সে
কারণেই ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা,
চীন
এবছরের পুরো সময়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকবে এবং আরো উন্নতি করবে।
তবে
চীনের জনসংখ্যার দিকটিও খেয়াল করা উচিত।
তাই
চীনের মাথাপিছু জিডিপি কিন্তু জাপানের এক দশমাংশেরও কম।
পাশাপাশি অনস্বীকার্য,
গত
তিন দশক ধরে চীন দুরন্ত গতিতে অগ্রগতি ঘটিয়েছে।
যা
এখনও অব্যাহত।
তাছাড়া বিশ্বশক্তির বিন্যাসের ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন ঘটছে তা বুঝতে কষ্ট হয় না।
২০০৯ সালে আমেরিকার মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৪ ট্রিলিয়ন ডলার।
মাত্র ৫ বছর আগে চীনের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল জাপানের অর্ধেক,
অর্থাৎ ২.৩ ট্রিলিয়ন ডলার।
শিল্প-বাণিজ্যের আন্তর্জাতিক বিকাশের ক্ষেত্রে চীন এখন একটি বড় শক্তি।
২০০৮ সালে বেজিংয়ে ওলিম্পিকের আসর বসিয়ে চীন দুনিয়ার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা
অর্জন করেছিল।
যখন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় গোষ্ঠী অর্থনৈতিক সঙ্কটের ধাক্কায় জেরবার,
তখন
এই উত্থান নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
সদ্য সাফল্যের পরে চীন কিন্তু আত্মম্ভরিতা প্রকাশ করেনি।
সে
জানে তার কোথায় শক্তি,
কোথায় দুর্বলতা।
চীন
তার বিকাশের প্রক্রিয়ার গুণমান সম্পর্কে সতর্ক।
চীনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের উদ্বেগের একটি বিষয় হলো,
অর্থনৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারের উপরে নির্ভরতা।
ফলে
সে দেশকে সব সময় সজাগ থাকতে হয়।
তাছাড়া এই ধরনের নজরকাড়া উন্নতির ফলে চীন অনেক দেশের কাছে ঈর্ষার পাত্র হয়ে
পড়ছে।
প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিগুলো এই সুযোগে নানাভাবে বিদ্বেষ ছড়াতে পারে।
কারণ তারা কোনো সমাজতান্ত্রিক দেশের সাফল্য সহ্য করতে পারে না।
এর
পিছনে আছে রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত শত্রুতা।
চীন
বরাবরই যুক্তিনির্ভর পথে চলে।
তাই
এখন তারা ঘরোয়া বাজারের উপরেও গুরুত্ব দিচ্ছে।
২০০৮ সালের ১৮ই ডিসেম্বর এক ভাষণে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয়
কমিটির সাধারণ সম্পাদক হু জিনতাও এক ভাষণে যা বলেছিলেন তা আজও প্রাসঙ্গিক-
'৩০
বছর ধরে আমরা অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছি।
কিন্তু আমাদের লক্ষ্যের তুলনায় এবং মানুষের আশার তুলনায় আমাদের
আত্মসন্তুষ্টির কোনো কারণ নেই।'
ত্রাণ
নিয়ে পাকি রাজনৈতিক সংকীর্ণতা
শফিকুল ইসলাম
॥
বন্যা
ত্রাণে ভারতের দেয়া ত্রাণ সাহায্য প্রত্যাখ্যান করলে তা হবে সংকীর্ণ
মানসিকতার পরিচয়।
এই
মন্তব্য করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি।
বন্যাবিধ্বস্ত পাকিস্তানকে ত্রাণ হিসাবে ভারতের দেয়া ৫০ লক্ষ মার্কিন ডলার
নেয়া উচিত হয়েছে কি না,
তা
নিয়ে পাকিস্তানে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক।
কিছু
পাক রাজনীতিক ধুয়ো তুলেছেন,
ভারতের দেয়া ত্রাণ পাকিস্তানের নেয়া মোটেই উচিত হয়নি।
এ
ব্যাপারে মুখ খুলে সাংবাদিকদের গিলানি বলেন,
ভারতীয় ত্রাণ নেয়ার বিরোধীদের আমি প্রশ্ন করতে চাই,
কোন
যুক্তিতে আমরা নয়াদিল্লির সাহায্য ফিরিয়ে দেব?
ভারতের দেয়া ত্রাণ ফিরিয়ে দিলে তা হবে নীচ মানসিকতার পরিচায়ক।
ত্রাণ
গ্রহণ করার এই পদক্ষেপ কুটনৈতিক স্তরে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে বলেও
মন্তব্য করেন গিলানি।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল(এন) চেয়ারম্যান রাজা জাফর উল
হক বলেছেন,
আমেরিকার নির্দেশেই পাকিস্তান ভারতের দেয়া ত্রাণ গ্রহণ করেছে।
বিদেশমন্ত্রী শাহ্ মাহমুদ কুরেশি একথা জনসমক্ষে স্বীকারও করেছেন।
এহেন
সমালোচনার জবাবে গিলানি অবশ্য বলেছেন,
যখন
আমরা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার কথা বলছি,
তখন
কী করে ওদের দেয়া সাহায্য প্রত্যাখ্যান করা সম্ভব?
সেটা
যথেষ্ট স্ববিরোধী পদক্ষেপ হবে না! আমেরিকা সফররত কুরেশি মনে করিয়ে দিয়েছেন,
এর
আগেও বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ভারত ও পাকিস্তান পরস্পরের পাশে দাঁড়িয়েছে।
তবে
ভারতীয় ত্রাণ স্বীকারের সিদ্ধান্ত নিতে এত দেরি হল কেন,
এই
প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যেতে চান কুরেশি।
ভারত ও পাকিস্তানের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বও সব সন্দেহ ও ঘৃণা
দূরে সরিয়ে রেখে বন্যাবিধ্বস্ত মানুষের ত্রাণে সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান
জানিয়েছেন।
এদের মধ্যে আছেন প্রাক্তন ভারতীয় ও পাকিস্তানি বিদেশ সচিবরাও।
গোটা বিশ্ব থেকে পাকিস্তানকে ত্রাণ দেয়ার ব্যাপারে দারুণ সাড়া মিলছে।
এখনও পর্যন্ত ৫০ লক্ষ মার্কিন ডলার সাহায্য নানা প্রান্ত থেকে এসেছে
পাকিস্তানে।
এর
মধ্যেই নিষিদ্ধ ঘোষিত লস্কর-ই-তৈইবার প্রকাশ্য সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়া দাবি
করেছে,
ব্রিটেনে বসবাসকারী মুসলমানরা তাদের হাতে বন্যা ত্রাণে প্রচুর টাকা তুলে
দিচ্ছেন।
এই
পরিপ্রেক্ষিতেই মার্কিন সেনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির চেয়ারম্যান জন কেরি
হুঁশিয়ারি দিয়েছেন,
পাকিস্তানের এই বন্যাবিধ্বস্ত পরিস্থিতির ফায়দা তুলতে পারে জঙ্গি সংগঠনগুলো।
তারা মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
পাশাপাশি পাকিস্তানের বন্যাকবলিত এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে দেশের সরকার
সম্পর্কে ক্ষোভ ধুমায়িত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষক হাসান
আসকারি।
তারা প্রয়োজনীয় ত্রাণ পাচ্ছেন না।
দীর্ঘ সময় ধরে এই ক্ষোভ থাকলে সন্ত্রাসবাদীরা তার সুযোগ নিতে পারে বলেও মনে
করছেন তিনি।
আরো
নানা আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যেমন পাকিস্তান বড় ধরনের সামাজিক বিদ্রোহের মুখে পড়তে পারে বলে কেউ কেউ মনে
করছেন।
ওবামার আফগান যুদ্ধ
সংলাপ
॥
গত
মে মাসের শেষ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের করদাতারা এক লক্ষ কোটি ডলার ব্যয়
করেছে আফগানিস্তান এবং ইরাক যুদ্ধের পেছনে।
আফগান
যুদ্ধ ৯ বছর ধরে চলছে।
মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর কাছে এটি সবচেয়ে বেশি সময়ের জন্য সামরিক হস্তক্ষেপ।
এই
যুদ্ধে তিন হাজার মার্কিন সেনা মারা গিয়েছে।
ন্যাটোর বাহিনীর ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটি আরো বেশি।
এ
ছাড়া আফগান এবং পাকিস্তানি নিহত নাগরিকের সংখ্যা অগণিত।
ইরাক
যুদ্ধেও রক্তপাত ঘটেছে ব্যাপক।
আর
প্রাণহানি প্রধানত ইরাকের অভ্যন্তরেই বেশি ঘটেছে।
ইরাক
এবং আফগানিস্তানের রাজনৈতিক বাস্তবতা খুবই বিশৃঙ্খলাপূর্ণ।
ইরাকে
নির্বাচনে এক ঝুলন্ত পার্লামেন্ট তৈরি হয়েছে,
যার
কোনো কার্যকরী ভুমিকা নেই।
এ
ধরনের পরিস্থিতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণকে আরো শক্তিশালী করছে।
দুর্বল ইরাকি রাজনৈতিক ব্যবস্থা এর দ্রুত পরিবর্তনের ফলে স্থিতিশীল হতে পারছে
না।
আফগানিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ভয়াবহ।
রাষ্ট্রপতি তার প্রাসাদ থেকে সরকার চালান বিভিন্ন উপজাতি গোষ্ঠীর নেতৃত্বের
সহায়তায় এবং সব সময় তার মাথা নত থাকে মার্কিন জেনারেলদের অভিবাদন জানানোর
জন্য।
দাস
ভাবাপন্ন রাজনৈতিক অভিজাতরা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে এবং তাদের ব্যাংক
অ্যাকাউন্ট এত মোটা করছে যা কাবুলকে শীঘ্রই উড়িয়ে দেয়ার জন্য এক ঝড়ের
পুর্বাভাস দিচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার
'যুদ্ধ'
কারো
জন্য বয়ে আনছে না,
যুদ্ধ
পরিস্থিতি রোধ করার কোনো প্রতিশ্রুতিও শোনা যাচ্ছে না।
২০০৮
সালে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে ওবামা বাগদাদের বহুজাতিক বাহিনীর সদর
দপ্তরগুলো পরিদর্শনে গিয়েছিলেন।
সেখানে জেনারেল ডেভিড পেত্রাউসের মার্কিন অভিযানের অল্প কিছু নিদর্শন
পরিদর্শনে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী আহ্বান জানান,
ওবামা
এবং পেত্রাউস তর্কযুদ্ধ লিপ্ত হয়ে পড়েন।
যেন
একজন রাজনীতিবিদ আশাবাদী জেনারেলকে প্রশ্ন করে যাচ্ছেন।
ওবামা
পেত্রাউসের ২০০৭ সালের
'সার্জ'
নীতির
বিরোধিতা করেন এবং ঘোষণা করেন যে,
তিনি
যদি নির্বাচিত হন তা হলে ২০১২ সালের মধ্যে ইরাক থেকে মার্কিন সৈন্য
প্রত্যাহার করা হবে।
মার্কিন প্রশাসন থেকেই পেত্রাউসের
'সার্জ'
নীতি
নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল এবং এ জেনারেল তখন প্রত্যাহারের সময়সীমা নিয়ে
বিব্রত ছিলেন।
তিনি
সংহত অবস্থাকে নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন।
পেত্রাউস তার সামরিক বাহিনীর জীবনে একটি ডক্টরাল থিসিস রচনা করেছিলেন,
যার
শিরোনাম ছিল মার্কিন সেনাবাহিনী এবং ভিয়েত নামের শিক্ষা।
পেত্রাউসের
'সার্জে'
তিনটি পদ্ধতি ছিল।
প্রথমটি ছিল সুন্নি সম্প্রদায়ের বিদ্রোহীদের মার্কিন ডলারের মাধ্যমে কিনে
নেয়া।
তারা অর্থ পেয়ে খুশি হয়েছিলেন এবং মেসোপটেমিয়ার অনেক আল-কায়েদার
সন্ত্রাসবাদী এই দিকে চলে এসেছিল।
তাদের নতুন সংগঠনগুলো সুন্নিদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো,
ছোট
ছোট বিশেষ বাহিনী পাঠিয়ে বিদ্রোহীদের অনুসরণ করা এবং আবু মুসাব
জারকোয়ারিদের মতো বিদ্রোহীদের হত্যা করা।
তৃতীয় পদ্ধতি হলো,
একটি বিদ্রোহ দমনমূলক মতবাদ তৈরি করা,
যার
মাধ্যমে একটি বেসরকারি সশস্ত্র বাহিনী গঠন করা হবে এবং তারা বিভিন্ন জনবহুল
কেন্দ্র ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড (শিক্ষা,
স্বাস্থ্য,
কৃষি) পরিচালনা করবে।
এই
তিনটি পদ্ধতি ইরাকে হিংসা হ্রাস করতে সক্ষম হয়েছিল।
ইরাক এবং আফগানিস্তানে আগ্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী এবং এর রাজনৈতিক নেতারা
'সার্জ'কে
বিজয় হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।
এটি
মার্কিন বাহিনীর নৈতিক মনোবল দারুণভাবে বৃদ্ধি করেছিল।
পেত্রাউসের গ্রহণযোগ্যতা আরো বৃদ্ধি পায়।
রাষ্ট্রপতি পদে জয়ী হওয়ার পর ওবামা মার্কিন নীতিকে ঢেলে সাজান।
তিনি ইরাক যুদ্ধের বিরোধিতা করেন এবং সেখান থেকে কয়েক বছরের মধ্যে সৈন্য
প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেন।
তার
শাসনকালেই ২০০৯ সালে
'সার্জ'কে
সংস্কার করা হয়।
পেত্রাউস তখন ইরাক থেকে চলে গেছেন এবং ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধ পরিচালনার
সামগ্রিক নেতৃত্ব গ্রহণ করেন (সেন্টোকম প্রধানের দায়িত্ব নেন)।
ওবামা ইরাক যুদ্ধকে ভুল যুদ্ধ হিসেবে আখ্যা দেন।
ওবামার জন্য সঠিক যুদ্ধ হলো আফগানিস্তান।
এখানে আল-কায়েদা তার অভিযান পরিচালিত করছে এবং তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের কথা জোরেশোরে বলা হয়নি।
তবে
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ যুদ্ধ অব্যাহত রাখার কথা ঘোষণা
করেছেন।
কিন্তু তিনি এর তীব্রতা হ্রাসের পক্ষপাতী।
তিনি একমাত্র চিহ্নিত আল-কায়েদা স্থাপনার ওপর আক্রমণের নির্দেশ দিয়েছেন।
অপর
পক্ষে পেত্রাউস এবং ম্যাকক্রিস্টাল আফগানিস্তানে
'সার্জ'কে
অনুসরণ করার এবং সৈন্য বৃদ্ধি করার পক্ষপাতী।
হোয়াইট হাউস এবং সামরিক বাহিনীর মধ্যে মতবিরোধ খুব তীব্র।
ম্যাকক্রিস্টালের নিজস্ব শক্তিশালী দৃষ্টিভঙ্গি আছে,
তার
এই দৃষ্টিভঙ্গি সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়।
তিনি আরো সৈন্য চান,
না
হলে তিনি ব্যর্থ হওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।
ওবামা প্রশাসন এই গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করে।
কিন্তু ম্যাকক্রিস্টাল লন্ডনে বাইডেনের প্রকাশ্য সমালোচনা করেন।
ওবামা প্রকাশ্য ম্যাকক্রিস্টালকে তিরস্কার করেছেন।
আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে
'সার্জ'
প্রযোজ্য হবে না।
কেন
না আফগানিস্তান ইরাক নয়।
আফগান উপজাতি নেতাদের কিনে ফেলা এত সহজ হবে না এবং তালিবানকেও জনবিচ্ছিন্ন
করা যাবে না।
তারা বিদেশি যোদ্ধাও নয়।
এখানে একজন নাগরিককে হত্যা মানে ১০ জন শত্রু তৈরি করা।
এখানে গুপ্তহত্যার পথ নিলে তা হবে চরম ভুল।
এখানে
'সার্জে'র
একটি পদক্ষেপ অনুসরণ করা যায়,
তা
হলো আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে রাষ্ট্র গঠন বা রাষ্ট্রের সংস্কার করা।
মাজারেহ প্রচারণা এজন্য জনসংযোগের দিক থেকে সফল হয়েছে;
কিন্তু তা আবার কৌশলগত ভাবে ব্যর্থ।
এর
মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে তালিবানদের সামরিক উৎস ধ্বংস করা খুব সহজ নয়।
এর
মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে তালিবানদের সামরিক উৎস ধ্বংস করা খুব সহজ নয়।
কিছু অঞ্চল তালিবানমুক্ত করতে গিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনী গণহত্যা চালিয়েছে -
এটা কোনো যুদ্ধরত নেতৃত্বের জন্য রুচিকর নয়।
নেপালে প্রধানমন্ত্রীত্ব সংকট
মাসুম
॥
এবারও নেপালের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হল শীর্ষ মাওবাদী নেতা
প্রচণ্ডর।
এই
নিয়ে পাঁচবার তিনি অসফল হলেন।
প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে হেরেছেন প্রচণ্ডের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নেপালি
কংগ্রেসের নেতা রামচন্দ্র পৌড়িয়ালও।
নেপালের জনপ্রতিনিধিরা দু'জনকেই
প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এর
ফলে কোনও সরকারের অস্তিত্ব না থাকায় নেপালের সংকট আরো গভীর হল।
পার্লামেন্টের ৫৬৩ জন সদস্য প্রধানমন্ত্রী বাছাইয়ের ভোটে অংশগ্রহণ করেন।
আগেই এই নির্বাচনে নিরপেক্ষ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সিপিএন-ইউএমএল এবং
ভারতীয় বংশোদ্ভূত মদেশীয় গোষ্ঠীর রাজনৈতিক দলগুলো।
তারা ভোট প্রক্রিয়ায় যোগ দেয়নি।
গত
২১ জুলাই প্রথম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হয়।
তারপর থেকে ভোট গ্রহণ চলছে।
কিন্তু প্রচণ্ড বা পৌড়িয়ালের কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্থাৎ ৩০১টি ভোট পাননি।
এদিন মাওবাদী সুপ্রিমো পান ২৪৬টি ভোট।
১১১
জন জনপ্রতিনিধি তার বিরুদ্ধে ভোট দেন।
পৌড়িয়াল এদিন পান ১২৪টি ভোট।
ভয়াবহ
যানজটে অচল রাজধানী
সংলাপ
॥
রাজধানীতে শুরু হয়েছে ভয়াবহ যানজট।
পাশাপাশি ভ্যাপসা গরম ও যানবাহন সংকটে জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে।
যানজটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে নগরবাসী।
সকালে কর্মস্থলে যেতে এবং বিকালে বাসায় ফিরতে নগরীর বিভিন্ন বাস স্টপেজে
কর্মজীবী মানুষদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা।
অনেক ক্ষেত্রেই যাত্রীরা বাস ছেড়ে পায়ে হেঁটে দূর-দূরান্তে রওনা দেন।
বিকালে ইফতারির সময় হয়ে আসছে দেখে পায়ে হেঁটে বাসায় ফিরছে হাজারো মানুষ।
পুলিশের এতো আয়োজন থাকতেও নগরজীবন অচল হয়ে গেছে যানজটে।
সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত শেওড়াপাড়া,
আসাদগেট,
ফার্মগেট,
কাওরানবাজার,
বাংলামটর,
শাহবাগ,
মালিবাগ,
রামপুরা,
বাড্ডা,
তেজগাঁও,
পল্টন,
নবাবপুর,
উত্তরা,
গুলশান,
কাকলী,
যাত্রাবাড়ী,
কলাবাগান ও সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকা যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে।
যানজট ছড়িয়ে পড়ে পাড়া-মহল্লার অলিগলিতেও।
দুপুরের পর তা প্রকট আকার ধারণ করে।
বিশেষ করে দুপুর তিনটার পড়ে যানজটে নাকাল হয়ে পড়ে নগরবাসী।
কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে পরিবহন সংকট।
বাসে ওঠার উপায় নেই।
দুপুরের পরপর অধিকাংশ লোকাল বাস সিটিং বাসে পরিণত করা হয়।
সিএনজি-অটোরিকশা মিটারে চলে না।
তাই
বাধ্য হয়ে বাদুর ঝোলা,
কখনোবা দীর্ঘপথ হেঁটেই বাসায় ফিরতে হয় যাত্রীদের।
দুপুর থেকে সায়েদাবাদ,
যাত্রাবাড়ী,
খিলগাঁও,
মিরপুর,
শ্যামলী,
বনানী,
কাকলি,
গুলশান ও এয়ারপোর্ট রোডে অসহনীয় যানজট সৃষ্টি হয়।
বিশেষ করে ফার্মগেট ও পল্টন এলাকায় অসহনীয় যানজট থাকে।
প্রচণ্ড গরমে বাসের মধ্যে আটকে থাকতে হয় বাসযাত্রীদের।
মহাখালী,
গাবতলী,
সায়েদাবাদ,
মতিঝিলের শাপলা চত্বরের আশপাশ,
গুলিস্তান,
দৈনিক বাংলার মোড়,
পল্টন,
নিউমার্কেট,
শাহবাগ,
বাংলামোটর,
সোনারগাঁও হোটেলের আশপাশ এলাকা,
মালিবাগ,
মৌচাক,
মগবাজার এলাকায় সারাদিনই লেগে থাকে যানজট।
সকাল থেকেই এই মোড়গুলোতে যানজটের জট বাড়তে থাকে।
মহানগরীর যানজট কমাতে রমজানের প্রথম দিন থেকেই কিছু নিয়মকানুন চালু করে
ট্রাফিক পুলিশ।
মহানগরীর ১৩টি পয়েন্টে চালু করা হয় ফোর লেন পদ্ধতি।
নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করতে বাড়ানো হয় পুলিশের তৎপরতা।
যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং বন্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়
মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে।
কিন্তু শত আয়োজনেও কোন দৃশ্যমান পরিবর্তন নেই যানজটে।
পুলিশ কমিশনার একেএম শহীদুল হক বলেন,
যানজটমুক্ত মেগাসিটির জন্য সিটির মোট আয়তনের ২০ শতাংশ সড়ক থাকা প্রয়োজন।
ঢাকা শহরে মাত্র সাত ভাগেরও কম সড়ক রয়েছে।
এছাড়া অনিয়ন্ত্রিত এবং অপরিকল্পিতভাবে প্রাইভেট গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দেয়ার
কারণে শহরের যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
প্রতিদিন নতুন গাড়ি শহরে চলাচল শুরু করলেও সড়ক চওড়া করার ব্যাপারে কোন
পদক্ষেপ না থাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
|