|
তুমি তোমার প্রতিটি কর্মের
মধ্যে সত্যকে অন্বেষণ করো তাহলে তোমার ইবাদতের দ্বার খুলে যাবে।
- সূফী সাধক আবু আলী
আক্তার উদ্দীন |
ত্রুটিপূর্ণ আচার-আচরণ বর্জন
করে ভদ্র আচরণ করতে হবে।
- সূফী সাধক আনোয়ারুল
হক |
বৈদ্যুতিন ও মুদ্রণ মাধ্যমকে চিন্তা করতে হবে
নামের আগে
'মাওলানা'
লেখা কুরআন অনুমোদিত কিনা!
॥
সংলাপ প্রতিবেদক
॥
কোটিরও বেশি মুসলমান এবং লাখ লাখ মসজিদ-মাদ্রাসা-ইমামের দেশ আমাদের বাংলাদেশ।
বছর
কয়েক আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ম্যারি অ্যান পিটার্সের কাছ থেকে মডারেট মুসলিম
কান্ট্রি'র
স্বীকৃতিপ্রাপ্ত
তৎকালীন জোট সরকারের শাসনাধীনে বাংলাদেশই একটি ক্ষেত্র যেখানে ইসলাম ধর্মের
নাম করে সব কিছু করা সম্ভব হচ্ছে।
ইসলাম
(যার অর্থ শান্তি) আরবী শব্দ।
বর্তমানে বাংলাদেশে বহুল ব্যবহৃত নামের আগে
'মাওলানা'
(যা
কুরআনে আল্লাহ্র একটি গুণবাচক নাম হিসেবে ব্যবহৃত)।
এই
দুই আরবী শব্দের অপব্যবহার বাংলাদেশে অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শান্তি, মঙ্গল ও মানবতার শত্রুদের নামের আগেও এসব পবিত্র
শব্দের ব্যবহার করা হচ্ছে।
পবিত্র শান্তি (ইসলাম) ধর্ম নিয়ে ধর্মব্যবসায়ীদের তান্ডব
সালে
প্রত্যক্ষ করা গেলেও
৯
মাসের
রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ওদের পতন হয়েছিলো এবং বাঙালি জাতি একটি অসাম্প্রদায়িক
স্বাধীন
বাংলাদেশ অর্জন করেছিলো।
কিন্তু বছরের মাথায় সে অর্জন আজ ভূলুন্ঠিত এবং পরাজিত সেই সব ধর্মব্যবসায়ীরা
পবিত্র ইসলাম এবং এমনকি মহান আল্লাহ্র গুণবাচক
'মাওলানা'
নামকেও ব্যবহার করে কুরআনকে অবমাননা করতে দ্বিধাবোধ করছে না।
'মাওলানা'
(অভিভাবক) আল্লাহ্রই একটি নাম গুণবাচক, যার অর্থ মানবজাতি বা মানবগোষ্ঠীর
অভিভাবক হিসেবে।
যিনি
মানবগোষ্ঠীকে পথনির্দেশের দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
পবিত্র কুরআনে
'মাওলানা'
শব্দটির উল্লেখ আছে সূরা বাকারা'র
শেষ বাক্যাংশটুকুতে ( আল্লাহ্র কাছে প্রার্থনাকালে যা বেশির ভাগ সময়ে পাঠ
করা হয়ে থাকে)।
আয়াতটুকু হচ্ছে-
'রাব্বানা
ওয়ালা তুহাম্মিলনা মালাতাকাতা লানাবিহী, ওয়া'
ফু
আন্না, ওয়াগফিরলানা, ওয়ারহামনা, আনতা মাওলানা ফাআন সুরনা আ'লাল
কাউমিল কাফেরীন'।
অর্থাৎ ওহে
আমাদের রব|
আমাদের উপর ওই বোঝা অর্পন করিও না যাহা বহন করার শক্তি আমাদের নাই; এবং
আমাদের পাপ মোচন করো, ক্ষমা করো এবং আমাদের উপর রহম করো।
তুমি
আমাদের অভিভাবক।
সুতরাং আমাদেরকে সাহায্য করো কাফেরদের বিরুদ্ধে।'
প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এখানে আল্লাহ্র একটি নাম হিসেবেই
'মাওলানা'
শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।
কিন্তু বাংলা একাডেমি নামের জাতীয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রকাশিত
'সহজ
বাংলা অভিধান'-এ
'মাওলানা'
বা 'মৌলানা'
শব্দটির যে অর্থ দেখানো হয়েছে তা বাঙালি জাতি ও ধর্মীয় চিন্তাশীলদের জন্য
রীতিমতো উদ্বেগের ব্যাপার।
এ
অভিধানটিতে
'মওলা'
শব্দের অর্থ প্রভু বা আল্লাহ্ দেখানো হলেও
'মাওলানা'
বলা
হয়েছে- যিনি মুসলিম ধর্মশাস্ত্রে বা আরবীতে পন্ডিত!
'মওলা'
থেকে
'মাওলানা'
শব্দের এ জাতীয় অর্থ দাঁড় করানোর পিছনে সংশ্লিষ্ট তথাকথিত পন্ডিতদের
অজ্ঞতা নাকি মার্কিন-সৌদি সাম্রাজ্যবাদের আশীর্বাদপুষ্ট
ধর্মব্যবসায়ীদেরকে তিন যুগ ধরে খুশি করার বা প্রশ্রয় দেয়ার প্রয়াস,
তা অবশ্যই ভেবে দেখার সময় এসেছে।
এই
লেখার বিরুদ্ধে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাঠে নামার সময় এসেছে।
এছাড়াও এ দেশে বহুল প্রচলিত
'খোদা
হাফেজ'
(ফার্সী)-কে
এইসব ধর্মব্যবসায়ীরা
'আল্লাহ্
হাফেজ'
(আরবী)
বানিয়েছে এবং ফতোয়া দিয়ে চালুও করেছে সওয়াবের কথা বলে।
কিন্তু কোন্ সওয়াব ও কেমন সওয়াব তা তারা বলতে পারে না।
এটা
আরবী ভাষা প্রীতি, না সৌদি প্রীতি, না এর পিছনে কোনো সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র
আছে তাও ইসলামী চিন্তাবিদদের ভেবে দেখার সময় এসেছে।
বাঙালি সংস্কৃতির সাথে যেটা মিশে গেছে তার পরিবর্তনে আরবী শব্দ আনার এত ঘটা
কেন? সরকারি সংস্থাগুলোতে ইদানিং আরবী শব্দ বেশি চালু দেখা যায়, বিশেষ করে
ধর্মান্ধ ও ধর্মভীরুদের মধ্যে।
বস্তুবাদী, পুঁজিবাদী এবং সর্বোপরি মার্কিন প্রভাবিত এসব শিক্ষার নামে
অশিক্ষা-কুশিক্ষার কারণেই দেশের অনেক পত্র-পত্রিকা, টিভি চ্যানেল এমনকি
দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী গণমাধ্যম রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ
টেলিভিশনে
স্বীকৃত
যুদ্ধাপরাধী রাজনৈতিক নেতা ও ধর্মব্যবসায়ীদের নামের আগে
'মাওলানা'
শব্দটির যাচ্ছেতাই ব্যবহার হতে দেখা যায়।
যে
ব্যক্তিটি
'৭১
সালে মুক্তিযুদ্ধকালে সাত কোটি বাঙালি জনতার
স্বার্থের
বিরুদ্ধে গিয়ে তথাকথিত ইসলামী সংগঠনের নামে পাকিস্তানী সৈন্যদের পরিচালিত
গণহত্যায় সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে এবং রাজাকার হিসেবে সারাদেশের
শান্তিপ্রিয় মানুষের কাছে পরিচিতি পেয়েছে এবং
'৭১-এর
কৃতকর্মের জন্য যাদের এখনো বিচার হয়নি এবং যারা জাতির কাছে আজও কোনো ক্ষমা
প্রার্থনাও করেনি, তাদের নামের আগে
'মাওলানা'
শব্দটির ব্যবহার এবং গণমাধ্যমগুলোর অজ্ঞানতার কারণে প্রচারের মানসিকতা
থেকেই বোঝা যায় মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর ইসলামকে আজ বাংলাদেশে কোথায় নিয়ে যাওয়া
হয়েছে।
বিশ্বের ভারত ও পাকিস্তান ছাড়া আর কোনো
দেশে 'মাওলানা'
শব্দের এমন অপব্যবহার হয়েছে কিনা আমাদের জানা নেই।
যুদ্ধ করে
স্বাধীনতা
অর্জনকারী বাঙালি জাতির জন্য এর চেয়ে বড় দুর্দিন আর কি হতে পারে?
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এই ধর্ম
ব্যবসায়ী ও ধর্মজীবীদের কবল থেকে মুক্তি পেতে বাঙালি জাতি আজ দিন গুনছে।
তাই
চিন্তাশীল ব্যক্তিত্বরা বলেন
-বাঙালির
মুক্তিযুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি'!!!
মিথ্যা প্রতিহত হলে জয় সুনিশ্চিত
॥
আবু নাঈম
॥
*
তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ো না; আর জেনেশুনে সত্য গোপন করো না।
(২:৪২)
*
তোমরা অভাবগ্রস্তদের অন্নদানে পরস্পরকে উৎসাহিত করো না, আর তোমরা
উত্তরাধিকারীদের জন্য রেখে যাওয়া ধনসম্পদ পুরো খেয়ে ফেলো; আর তোমরা ধনসম্পদ
বড় বেশি ভালোবাসো; না, এ সঙ্গত নয়।
(৮৯:১৫-২১
আল্ কুরআন)
আর
একটা নৈতিক পরাজয় মেনে নিতে হবে যুদ্ধাপরাধীদেরকে।
মিথ্যাচার আর ধর্মীয় নামাবলী গায়ে দিয়ে যতই
মুক্তিযোদ্ধাদেরকে
বিভ্রান্তিকর অবস্থায় ফেলে দিয়ে সামপ্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ানো হচ্ছিলো, তার
বিষাক্ত ঘ্রাণ টের পেয়ে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম আবার বুঝিয়ে
দিলো - আমরা বাঙালি।'
৪ নভেম্বর
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউটে তাদের প্রতিনিধি সম্মেলনে
স্বতঃস্ফূর্ততা
দেখে মনে হয়েছে এ যেন
১৯৭১
সনে জেগে ওঠা বাঙালি।
এরাইতো জয়
বাংলা ধ্বনি তুলে
স্বাধীন
বাংলাদেশ এনেছে।
এরাইতো আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি'..... কে জাতীয় সঙ্গীত করেছে
এবং বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছে- 'বাঙালি একটা জাতি যার শিকড়ের সন্ধানে গেলে
দেখতে পাওয়া যায় তিন হাজার বছরের পুরনো শিকড় যা দিনে দিনে আরো পরিপুষ্ট
হচ্ছে।'
যে 'জয় বাংলা' ধ্বনি বাংলাদেশ আনলো তা কি বাঙালিকে ভুলিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র
চলছে (?) নাকি তাকে বিকৃত করতে করতে সাম্প্রদায়িকতার
রূপ দেয়া হচ্ছে (?)।
যেটাই করার চেষ্টা করা হোক, তা যে কাজে লাগছে না, তা ক্ষমতালোভী রাজনীতিকরা
তিলে তিলে টের পাচ্ছে।
বাঙালি
৩৭
বছরে বুঝেছে বাঙালি জাতিসত্তাকে কিভাবে সামপ্রদায়িক করা হয়েছে রাষ্ট্রীয়
অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে, যার ধারাবাহিকতা আজও চলছে।
বাঙালি জাতি বুঝতে পেরেছে তার জাতিসত্তাকে সাম্প্রদায়িকতা
দিয়ে অবমাননা করতে রাজনীতিকরা ষড়যন্ত্র করছে এবং উঠে পড়ে লেগেছে
মধ্যপ্রাচ্যের সংস্কৃতি আমদানী করে ধর্মভীরু সাধারণ মানুষকে সামপ্রদায়িক
করার জন্য।
শান্তির বাহক বাঙালির কানে কানে এ বার্তা পৌঁছে দিয়েছে - তাই বাংলাদেশের
ঘরে ঘরে সাজো সাজো রবে বাঙালিদের ঘুম ভেঙ্গে যাচ্ছে এবং যুদ্ধাপরাধীদের
সাবধান করে বলে দিচ্ছে- 'তোমাদের সময় শেষ।
আমরা বাঙালি ছিলাম - আছি - থাকবো।'
এ এক নতুন আহ্বান - জয়ধ্বনি করার।
বাংলার আকাশে বাতাসে নতুনের কেতন উড়তে শুরু করেছে।
ওই
প্রতিনিধি সম্মেলন জাতিকে যেন সাবধান করে বললো - 'তোমরা ভুলে যেও না তোমরা
বাঙালি।
দীর্ঘ তিন হাজার বছর ধরে 'শান্তি'কে ধারণ করে লালন করে চলেছো।
তার
আবার নতুন রূপ দিতে হবে সত্য প্রতিষ্ঠিত করে।'
সাম্প্রদায়িকতার
রূপ দেশবাসী প্রত্যাখ্যান করেছে।
রাজনীতিকরা সাবধান, এখনো সময় আছে-' শিকড়ের সন্ধান করে তাকে লালন-পালন করো,
যাতে বাঙালি চেতনার ছত্রছায়ায় জাতি শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং প্রগতির
দিকে এগিয়ে যেতে পারে সত্যকে আঁকড়ে ধরে।
ক্ষমতার লোভে সত্যকে অসত্য দিয়ে চাপা রাখতে পারবে না, জাতীয় চেতনার উন্মেষ
ঘটাও।
নিজস্ব জাতিসত্তাকে আঁকড়ে ধরে প্রগতির পথে এগিয়ে যাও - জয় তোমাদের
সুনিশ্চিত।
জয়
বাংলা।'
জনগণ সত্যের উপলব্ধি চায়
॥
আফরোজা রত্না
॥
''যদি
তুমি কোন সমপ্রদায়ের বিশ্বাসভঙ্গের আশঙ্কা কর তবে তুমিও একইভাবে ছুঁড়ে ফেলে
দাও তাদের অঙ্গীকারকে।
আল্লাহ্ তো বিশ্বাসভঙ্গকারীদেরকে ভালবাসেন না।''
(সুরা আনফালঃ আয়াত
৫৮)
বাংলাদেশের অস্থির অবস্থার জন্য যারা দায়ী, তাদেরকে বর্জন করা জরুরি হয়ে
পড়েছে।
সাধারণ জনগণের সময় আসছে রুখে দাঁড়ানোর, নয়তো অনেক দেরী হয়ে যাবে সামাল দিতে।
সামাজিক অস্থিরতা পলে পলে সবকিছু একে একে গ্রাস করছে।
গ্রাসমুক্তি করতে হলে চাই- আত্মোপলব্ধি।
দেশের নিয়ন্ত্রণ এক শ্রেণীর অসাধু চক্রের হাতে চলে যাচ্ছে।
অনিয়মকে নিয়ম হিসেবে চালু করতে এরা তৎপর।
ঘুষ, দুর্নীতি, পেশী
শক্তির
প্রয়োগ, অপপ্রচার, মিথ্যাচার সবকিছুই ধর্মের আবরণে ঢেকে সাধারণ জনগণকে
নির্বিচারে অত্যাচার করে গেলেও বলার কিছু নেই।
বলতে গেলেই বিপদ, ঘাড়ের ওপর নেমে আসছে অপমৃত্যু।
তরতাজা জ্যান্ত মানুষকে নিমেষেই লাশ বানানোর নীতির প্রচলন অতীতেও করেছে এবং
এখনও করার ষড়যন্ত্র করছে এই অসাধু চক্র।
থামানোর চিন্তা মাথায় আসার আগেই নিভে যাচ্ছে অনেক প্রতিবাদী মানুষের জীবন
প্রদীপ।
অন্যভাবে বললে, নিভিয়ে দেয়া হচ্ছে জীবন স্পন্দন।
অসহনীয় বিশৃঙ্খলা ভাব ছড়িয়ে যাচ্ছে সব জায়গায়।
সবাই ছুটছে, কেউ প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে, কেউ বা পেট ভরানো রুজি রোজগারে,
নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমেনি।
আমাদের সম্পদের অযাচিত অপচয় নিকট ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের আকাল ডেকে আনবে
তা নিশ্চিত।
এত
চাপ সহ্য করা কঠিন।
নুন
আনতে পান্তা ফুরালে, ঋণের বোঝার ছল করে বছর বছর কর বাড়ানো, নিত্যপ্রয়োজনীয়
জিনিসের দাম বাড়ানো, এতসব করলে দেশ বাঁচাতে দেশকেই বন্ধক দিতে হবে।
শত
আক্ষেপ হা হুতাশেও যাদের মন গলে না, তারাই তো এদেশের রাজনীতি করতে পারবে।
কেননা সব শুনলে বর্তে যাবে কাজের দায়, পারলে গদি যাবে, না পারলে নিন্দে
হবে, জনগণ আর ভোট দেবে না।
আমাদের দেশে আইনকানুন থাকলেও তার প্রয়োগ নেই।
প্রয়োগ নেই বললে ভুল হবে।
আছে, তা শুধু কাগজে কাগজে অর্থাৎ কাগজ তৈরি শুধু কাগজের বিনিময়।
ঘুষ
বলা মহা অন্যায়।
এতো
বড়দের খাবার তাই ছোটরা জানতে পারে না।
আর
যে যতবড় নির্লজ্জ সে ততবড় বুলি আউড়ে যায়।
সংসদে যাবার পাঁয়তারা করে
ব্যক্তিস্বার্থে,
জনগণের সেবা করার জন্য নয়।
আর
যে দায়ভার গ্রহণ করে, তা বেতন ভাতা নিশ্চিত করার জন্য।
কোনো সমস্যার সুষ্ঠু
সমাধান নিশ্চিত করার নাম নেই।
এমনকি লোক লজ্জায় পদত্যাগ করে দায় থেকে অব্যাহতি নেয়াটাও গর্হিত কাজ বলে
প্রচার করেন।
দেশের সব খাতেই দেখাশোনার শপথ নিয়ে থাকেন রাজনীতিকরা।
সুশাসন নিশ্চিত করতে বাহিনী তলব করলে সব সহজ সরল হয়ে যায়! সৈনিকের গান
পয়েন্টে সব ছেড়ে এরাই আবার চরম বিনয়ী কর্মঠ দায়িত্ববান হয়ে ওঠে কিভাবে?
দেশের জনগণ এত ধাপ্পাবাজি বোঝে না।
তারা চায় নিরাপত্তা, তা দিতে হবে সরকারকেই।
সত্যকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একটু একটু করে কাছে টানলে শান্তি পাবে দেশ, খুলবে
নতুন পথ।
সত্য সম্পর্কে আল-কুরআনে বর্ণিত আছে-
"বলো,
আমার প্রতিপালক লক্ষ্য করেন, অলেক্ষ্যের সবকিছুই তাঁর জানা।
বলো, সত্য এসেছে ও অসত্য অন্তর্ধান করেছে এবং তা আর ফিরবে না।
(সূরা
সাবাঃ আয়াত
৪৮-৪৯)।'
আগুন জ্বলছে দার্জিলিং পাহাড়ে
॥
মাসুম
॥
আগুন
জ্বলছে ওপার বাংলার দার্জিলিং পাহাড়ে।
গত
শতকের শেষভাগে সুবাস ঘিসিং যে আগুন জ্বেলেছিল, একবিংশ শতকের প্রথম দশকে তা
জ্বলছে দাউ দাউ করে।
এর
পরিসমাপ্তি কবে তা কেউ জানে না।
অথচ
একটা সময় এই দার্জিলিং ছিল অত্যন্ত শান্ত একটি পাহাড়ি গ্রাম।
মাত্র
পৌনে দু'শো বছর আগে সেই গ্রামের জনসংখ্যা ছিল মাত্র
১০০।
এই যে
দার্জিলিং আজ জনবহুল পাহাড়ি শহর, যা আজ একটি পৃথক রাজ্যের দাবি নিয়ে উপস্থিত,
তা এক সময় ছিল সিকিম রাজ্যের অধীন একটি গহন অরণ্য।
ইতিহাস বলছে, দার্জিলিং ছিল সিকিমের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সিকিম
এবং দার্জিলিংয়ের আদি বাসিন্দা লেপচারা।
লেপচাদের বিশ্বাস, সিকিম তাদের আদি বাসভূমি।
কিন্তু সেখানে লেপচারা কবে, কীভাবে এল, তার গ্রহণযোগ্য কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে
অনুমান করা হয়, পঞ্চদশ শতকে সিকিমে লেপচা সভ্যতার সূচনা।
এই
দার্জিলিং পাহাড়েও জনবসতির সূচনা হয়েছিল লেপচাদের দিয়েই।
পূর্ব
নেপালের
লিম্বু
জনগোষ্ঠীর সঙ্গে এই লেপচাদের অবাধ মেলামেশা ছিল।
তাদের
মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কও ছিল।
দার্জিলিংয়ের সূচনা থেকেই যে এখানে লেপচাদের প্রভাব ছিল, তার প্রমাণ পাওয়া
যায় স্থান নামেও।
পরবর্তীকালে নতুন নতুন জনপদ সৃষ্টি হয়েছে, সে সব জায়গায়ও লেপচা নামের আধিক্য
রয়েছে।
যেমন
লেপচা জগৎ, লোপচু, লেবং, পেশক ইত্যাদি।
দার্জিলিং নামের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে লেপচা সংস্কৃতি।
দার্জিলিং কথার অর্থ বজ্রভূমি।
অবশ্য
তিব্বতি ভাষায় এর অর্থ বুদ্ধদেবের সিংহাসন।
আবার
মহাকাল পাহাড়কে লেপচারা দোর্জে বিহার বলত।
ষোড়শ
শতকে সিকিমে তিব্বতিদের অনুপ্রবেশ ঘটে।
তারপর
থেকেই লেপচা সংস্কৃতি ক্রমাগত হারিয়ে যেতে থাকে।
দার্জিলিংয়েও তিব্বতিদের অনুপ্রবেশ হয়েছিল ইংরেজরা আসার অনেক আগেই।
দার্জিলিং এবং কার্শিয়াং ছিল সিকিমের অংশ।
আর
ভুটানের রাজাকে যুদ্ধে হারিয়ে কালিম্পং দখল করেছিল সিকিম।
আদিতে
গোটা পাহাড় জুড়েই ছিল লেপচা ভাষার চল।
পরবর্তীকালে নেপালি ভাষা নেপালের পূর্বাঞ্চল থেকে সিকিম পর্যন্ত প্রসারিত
হয়েছিল।
এখন
নেপালি
স্বীকৃত
ভাষা
হলেও দার্জিলিং হস্তান্তরের পর সালে ইংরেজদের ঘোষণাপত্রের অন্যতম ভাষা ছিল
লেপচা, নেপালি নয়।
১৮৫০
সালে দার্জিলিংয়ে প্রথম যে স্কুল স্থাপিত হয়েছিল তাও ছিল লেপচা ভাষার।
অর্থাৎ তখনও এই অঞ্চলে নেপালিদের কোনও বাড়বাড়ন্ত ছিল না।
আধুনিক দার্জিলিং আবিষ্কারের কৃতিত্ব কিন্তু অবশ্যই ইংরেজদের।
তখন
এদেশে ইংরেজ শাসন পুরোপুরি কায়েম হলেও পার্বত্য এলাকায় তার কোনও প্রভাব ছিল
না।
অথচ
কলকাতা ছিল ইংরেজদের রাজধানী।
আন্তো নামে একটি জায়গার দখল নিয়ে তৎকালীন সিকিম ও নেপাল রাজের মধ্যে যে
বিরোধ ছিল, তা মেটানোর ভার পড়েছিল ইংরেজদের হাতে।
সেই
সময় মেজর জি এ লয়েড এবং জি ডব্লু গ্র্যান্ট নামে দুই ইংরেজ কর্তা আন্তো
যাওয়ার পথে দার্জিলিং গিয়েছিল।
জায়গাটি দেখে তাদের পছন্দ হওয়ায় লয়েড সেখানেই ইংরেজ কর্তাদের জন্য
স্বাস্থ্যনিবাস
করার
প্রস্তাব দিয়েছিল।
সেদিক
থেকেই এই দুই ইংরেজ-ই দার্জিলিংয়ে প্রথম পদার্পণ করেছিল।
সালে
সিকিম রাজ চোগিয়ালের কাছ থেকে এখানে
স্বাস্থ্যনিবাস
করার
অনুমতি পায় ইংরেজরা।
দার্জিলিংয়ে পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্য হিসাবে গড়ে তোলার দাবি নিয়ে যখন তোলপাড়
হচ্ছে তখন প্রশ্ন উঠতেই পারে দার্জিলিংয়ের আদি বাসিন্দা যদি লেপচারা, তাহলে
গোর্খাল্যান্ডের দাবি কেন? আদি বাসিন্দা তো গোর্খা বা নেপালি নয়? এখানকার আদি
বাসিন্দা লেপচারা হলেও তারা সংখ্যায় ছিল অতি নগণ্য।
১৮৩৫
সালে
ইংরেজরা যখন সিকিম-রাজ্যের কাছে দার্জিলিংয়ে
স্বাস্থ্যনিবাস
গড়ার
সম্মতি চায়, তখন সেখানকার জনসংখ্যা ছিল মাত্র
১০০।
এরপর সিকিম রাজ্যের কাছ থেকে দার্জিলিং হস্তগত করার পরই প্রয়োজন পড়ল নির্মাণ
শ্রমিকের।
বাড়ি
তৈরি, রাস্তাঘাট তৈরি করতে তখন সিকিম থেকে কোনও শ্রমিক আনা সম্ভব ছিল না।
সেই
প্রথম ইংরেজরা পূর্ব নেপাল থেকে নেপালি শ্রমিক আনা শুরু করল এবং তারপরই চতুর
ইংরেজরা গোর্খাদের এনে সশস্ত্র বাহিনী গঠন করে।
সেই
আসা শুরু গোর্খাদের।
তারপর
থেকে ক্রমাগত গোর্খা বা নেপালিদের সংখ্যা বেড়েছে।
একটি
হিসাবে দেখা যায়,
১৮৫০
সাল নাগাদ দার্জিলিংয়ের জনসংখ্যা ছিল
হাজারের
মতো।
তার
সিংহভাগই নেপালি।
তারপর
থেকে দ্রুত দার্জিলিংয়ের গুরুত্ব বেড়েছে, একই সঙ্গে বেড়েছে জনসংখ্যাও।
১৮৬৯ সাল
থেকে
১৯০১ সাল
পর্যন্ত দার্জিলিংয়ে জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় আটগুণ।
এই
জনসংখ্যার অর্ধেকই এসেছে নেপাল থেকে।
অনেকের ধারণা, জি এন এল এফ সুপ্রিমো সুবাস ঘিসিং প্রথম গোর্খাল্যান্ডের দাবি
তুলেছে।
আদতে
কিন্তু তা নয়।
বরং
বলা যায়, গত শতকের একেবারে গোড়া থেকেই দার্জিলিং পাহাড়বাসীর মধ্যে এই দাবি
জোরালো হয়ে উঠেছিল।
ইংরেজ
চা বাগিচার মালিকরা পৃথক রাজ্যের দাবি তুলেছিল।
১৯০৭
সালে
প্রথম তারাই পৃথক রাজ্যের দাবি তোলে।
তারপর
থেকে প্রায় প্রতি আট-দশ বছর অন্তর অন্তর একবার করে এই দাবি উঠেছে।
১৯২১ সালে
গোর্খালিগের জন্মের পরও এই একই দাবি ওঠে।
স্বাধীনতার
আগে
দার্জিলিংয়ে গোর্খাদের জন্য পৃথক গোর্খাস্থানের দাবি তুলেছিল এরাজ্যের
কমিউনিস্টরাও।
এমনকী
স্বাধীনতার
পরও
বিভিন্ন সময়ে একই দাবি উঠেছে।
কিন্তু কোনও দিনই পাহাড়ে এই দাবি নিয়ে এভাবে আগুন জ্বলেনি, যে আগুন জ্বেলেছিল
সুবাস ঘিসিং।
গোর্খাদের অধিকার রক্ষায় সেনাবাহিনী ফেরত সুবাস ঘিসিং বিভিন্ন সংগঠনের
ছত্রছায়ায় আন্দোলন চালাতে গিয়েছিল কিন্তু পারেনি।
শেষ
পর্যন্ত
১৯৭৯
সাল থেকে এই দাবি নিয়ে জোরদার আন্দোলন শুরু করে।
১৯৮০
সালের এপ্রিল
তিনি
জন্ম দেন জি এন এল এফ-এর।
'৮৬
সাল থেকে শুরু হয় সশস্ত্র আন্দোলন।
অবশেষে
'৮৮
সালের ২২
আগস্ট
দার্জিলিং গোর্খা পার্বত্য পরিষদ গঠনের মধ্যে দিয়ে ভয়ংকর সেই আন্দোলন তখনকার
মতো থেমে যায়।
কিন্তু ভবি তো ভোলার নয়।
প্রায়
১৫
বছর সুবাস ঘিসিং ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও যখন পাহাড়ের মানুষের জন্য কিছু করতে
পারলো না, তখন বুঝলো, পাহাড়বাসী তাঁকে সহজে ছেড়ে দেবে না।
তাই
আবার সেই গোর্খাল্যান্ডের দাবিটিকেই ঝাঁপি খুলে বের করে আনলো
২০০৫ সালের ৫
জানুয়ারি।
বন্ধ
হয়ে গেল পার্বত্য পরিষদের নির্বাচন।
রাজ্য
এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনার পর অবশেষে
২০০৬ সালের ৬
ডিসেম্বর
পাহাড়ের জন্য ষষ্ঠ তফসিলের
স্বীকৃতি
নিয়ে
ত্রিপাক্ষিক চুক্তি করলো।
কিন্তু তাতে কী পাহাড়ের মানুষের মন গলে? না তা হল না।
পাহাড়বাসী ষষ্ঠ তফসিল চায় না, তারা চায় আলাদা গোর্খাল্যান্ড।
তাই
একদা ঘিসিংয়ের শিষ্য বিমল গুরুং আবার শুরু করলো সেই একই আন্দোলন।
২০০৭ সালের ৭
অক্টোবর
তিনি তৈরি করলেন নতুন দল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা।
সেই
মোর্চার আন্দোলনে দাপটে ঘিসিং নিজেই এখন পাহাড়ছাড়া।
আর
কোনও দিন তিনি ফিরতে পারবেন কি না তা জানা নেই কারোও।
সন্ত্রাস পথ খুঁজছে
॥
জিতু
॥
রাজনৈতিক অরাজকতার পরও গণতন্ত্রের চারাগাছটি এ দেশের মাটিতে ধীরে ধীরে শিকড়
মেলে ওঠার চেষ্টা করছে।
গণতান্ত্রিক পরিবেশ যতই বিকশিত হতে থাকবে, এ দেশে ধর্মান্ধ রাজনীতি বিকাশের
সম্ভাবনা ততই ক্ষীণ হয়ে আসবে।
আজ
পর্যন্ত গোঁড়ামি ও ধর্মান্ধতার রাজনীতি এবং ধর্মীয় সন্ত্রাস এ দেশে যতটা
প্রসার লাভ করেছে, সেটা সম্ভব হয়েছে শুধু এ দেশের গণতন্ত্রকে সঠিক গতিতে
বিকশিত করে তোলার ব্যাপারে গণতন্ত্র চর্চায় রাজনীতিকদের ব্যর্থতার জন্যই।
তাই
এটা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, একটা সুষ্ঠু
নির্বাচনে,
একটা আদর্শিক দল সরকার গঠন করবে।
সে
ক্ষেত্রে ধর্মান্ধতা ও গোঁড়ামিতে আক্রান্ত বা
সম্পৃক্ত দলগুলোর রাজনীতি শুধু গলাবাজি ও তর্জন-গর্জনেই
পর্যবসিত হবে।
বিগত
দুটো জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে এ কথাটি বেশ স্পষ্ট হয়েই ফুটে ওঠে।
১৯৯১ এর
জাতীয়
নির্বাচনে কোন্ দল ক্ষমতায় আসবে সে ব্যাপারটি সাধারণ জনগণের কাছে ততটা
স্পষ্ট ছিল না।
যেসব
অঞ্চলে ধর্মান্ধ রাজনৈতিক দলগুলো ধর্মের নাম করে জনপ্রিয় অবস্থানে ছিল
সেখানকার মানুষেরা ভেবেছিল যে, সারা দেশেই বুঝি তারা একই রকমভাবে জনপ্রিয়।
তাই
তাদের কাছে মনে হয়েছিল যে, ধর্মান্ধরাই হয়তো সরকার গঠন করবে।
জনগণের এই বিভ্রান্তির সুযোগ নিয়ে তাই '৯১-এর
জাতীয়
নির্বাচনে ধর্মান্ধ রাজনৈতিক দলগুলো বেশ কয়টি আসনে জয়লাভ করেছিল।
ধর্মান্ধ রাজনৈতিক দলগুলো এ কাজটি খুব সুষ্ঠুভাবে
করে আসছিল।
তারা বন্ধু সেজে, চারদলীয় ঐক্যজোট গঠন করে, বিএনপির ভিতরে চর-অনুচর ঢুকিয়ে
দিয়ে, তার প্রশংসা করে এবং দুর্বলতাগুলোর সুযোগ নিয়ে, তাকে খুব চালাকির
সাথে প্ররোচিত করে, নানান রকম কুটিল শলা-পরামর্শ দিয়ে, বিএনপিকে এমন একটা
রাজনৈতিক চোরাবালির মধ্যে ফেলে দিয়েছে, যার মধ্য থেকে উঠে আসা তার পক্ষে
প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে।
কিন্তু হঠাৎ করে বিএনপির অভ্যন্তরস্থ
মুক্তিযোদ্ধাদের
ঘুম
ভাঙ্গার ফলে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যে, বিএনপিকে এই মুহূর্তে আর
পরিপূর্ণভাবে ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছে না।
ফলে
যে পথ ধরে ধর্মান্ধ রাজনৈতিক দলগুলো এগিয়ে চলছিল, এখন থেকে সে পথ ধরে এগিয়ে
চলা তাদের পক্ষে আর লাভজনক হবে না।
কারণ জনগণের কাছে তাদের ধর্মীয় মুখোশ খুলে পড়েছে এমনকি বিএনপির কাছেও।
এখন
থেকে তাই তারা চেষ্টা করবে, এমন একটা অবস্থার সৃষ্টি করা, যার ফলে এ দেশের
বর্তমান পরিবেশ সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং এ দেশে নির্বাচন
অনুষ্ঠান প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এই
রকম একটা পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে তারা গোপনে সন্ত্রাসের পথ ধরে এ দেশের
মানুষকে শঙ্কিত করে শাসনযন্ত্র দখল করতে পারবে।
এই
ধরনের সন্ত্রাসের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের জন্য এ দেশের ধর্মান্ধ রাজনৈতিক
দলগুলো বহুদিন ধরে তাদের কর্মীবাহিনীর একাংশকে দেশে এবং বিদেশে সামরিক
প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তুলেছে।
দেশে একটা অরাজকতাপূর্ণ আবহাওয়া সৃষ্টি করতে পারলেই তারা তাদের তথাকথিত
ধর্মীয় উন্মাদনার কায়দায় গণতন্ত্র ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে দেশবাসীর ওপর
চাপিয়ে দেয়ার প্রয়াস চালাবে 'একনায়কতন্ত্র'।
ভারতের চন্দ্র অভিযান
॥
সংলাপ প্রতিবেদক
॥
ভারতের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড থেকে গত
২২
অক্টোবর যখন 'পি এস এল ভি
সি-১১'
রকেটটি সাফল্যের সঙ্গে উৎক্ষিপ্ত হয়েছিল, তখন আনন্দে উদ্বেল হয়ে উঠেছিল
প্রত্যেক ভারতবাসী।
ভারতীয় বিজ্ঞানের ইতিহাসে নিঃসন্দেহে সেটি ছিল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।
স্বাধীনতারপ্রাপ্তির
মাত্র
৬১ বছরের
মধ্যে
তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এতটা
অগ্রগতি ঘটিয়ে চাঁদে মনুষ্যবিহীন অনুসন্ধানী যন্ত্র
চন্দ্রযান-১
পাঠাতে সক্ষম হবে, এটা নিশ্চয়ই গোট উপমহাদেশে তথা পৃথিবীকেই চমৎকৃত করেছে।
মহাকাশে কক্ষপথে বিপুল গতিতে পরিক্রমাশীল পৃথিবী থেকে রকেট পাঠিয়ে সেটিকে আরও
একটি বিপুর গতিতে পরিক্রমণশীল জ্যোতিষ্ক চাঁদের কক্ষপথে স্থাপন করা অত্যন্ত
দুরূহ কাজ।
অঙ্কের সামান্য গোলমালে, সংকেত পাঠাবার সময়ে সামান্য এদিক-ওদিক চন্দ্রযানবাহী
রকেট লক্ষ্যবস্তুর বহু দূর দিয়ে চলে গিয়ে মহাকাশে হারিয়ে যেতে পারত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের চন্দ্রাভিযানের প্রাথমিক পর্বে
এমন বহু ঘটনা ঘটেছে।
২২
অক্টোবরের পর প্রহর গুনছিলো ভারতীয় বিজ্ঞানীরা।
উৎক্ষেপণের
১৭ দিন বাদে ৮ নভেম্বর
অবশেষে এল সেই সোনালি মুহূর্ত।
ইসরোর
মুখপাত্র জানালেন,চন্দ্রযান-১
সাফল্যের সঙ্গে প্রাথমিক কক্ষপথে স্থাপিত হয়ে চাঁদের চারদিকে ঘুরতে শুরু
করেছে।
এই
কক্ষপথটি অবশ্য প্রচণ্ড উৎকেন্দ্রিক।
চন্দ্রযান চাঁদের নিকটতম দূরত্বে যখন যাচ্ছে তখন চাঁদের সঙ্গে দূরত্ব
দাঁড়াচ্ছে
৫০০
কিলোমিটার।
আবার
সর্বাধিক দূরত্ব দাঁড়াচ্ছে
৭৫০০
কিলোমিটার।
চন্দ্রযানের সঙ্গে থাকা থার্স্ট ইঞ্জিন ব্যবহার করে এই উৎকেন্দ্রিকতা ধীরে
ধীরে কমিয়ে আনা হবে পাঁচটি ধাপে।
দ্বিতীয় কক্ষপথে নিকটতম ও দূরতম দূরত্ব হবে যথাক্রমে
১২৫ কিলোমিটার ও ৭৫০০
কিলোমিটার।
তৃতীয়
কক্ষপথে তা দাঁড়াবে যথাক্রমে
১২৫
কিলোমিটার ও
২৫০
কিলোমিটার।
চতুর্থ কক্ষপথে তা হবে
১০০ কিলোমিটার ও ২৫০
কিলোমিটার।
পঞ্চম
ও চূড়ান্ত কক্ষপথটি হবে নিখুঁত বৃত্তাকার।
চন্দ্রপৃষ্ঠের ঠিক
১০০
কিলোমিটার ওপর থেকে চন্দ্রযান বৃত্তাকারে চন্দ্র-পরিক্রমা শুরু করবে।
এই
কক্ষপথটি হবে পোলার অরবিট-অর্থাৎ চাঁদের উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর ওপর দিয়ে
চন্দ্রযান উপগ্রহটির চারপাশে ঘুরতে থাকবে।
এর
আগে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ
৬৭ বার
চাঁদে
অভিযান চালিয়েছে।
তার
অনেকগুলিই সফল হয়নি।
চন্দ্রযান-১
হল
৬৮তম
অভিযান।
সোভিয়াত ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান ও ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি
ছাড়া আর কোনও দেশ চাঁদে অভিযান চালাতে পারেনি।
ভারত
পরিণত হল চন্দ্রাভিযানকারী ষষ্ঠ দেশ।
ভারতীয় বিজ্ঞানী ও
প্রযুক্তিবিদদের
আরও
একটি কৃতিত্ব হল তারা সম্পূর্ণ ভারতীয় প্রযুক্তিতে এই অভিযান চালিয়েছে।
চন্দ্রযান-১
যে
রকেটে চেপে পৃথিবীর অভিকর্ষ কাটিয়ে মহাকাশে গিয়েছিল, সেই পোলার স্যাটেলাইট
লঞ্চ ভেহিকেল (পি এস এল ভি) সম্পূর্ণ ভারতীয়
প্রযুক্তিতে
তৈরি।
প্রকল্পের খরচও অন্যান্য দেশের তুলনায় কম।
এখনও
পর্যন্ত
চন্দ্রযান-১
প্রকল্পে খরচ হয়েছে
৮
কোটি
মার্কিন ডলার।
গত
বছর চীন ও জাপানের চন্দ্রাভিযানে খরচ হয়েছিল যথাক্রমে
১৬.৯০
কোটি ডলার এবং
২৬
কোটি
ডলার।
আমেরিকার আগামী চন্দ্রাভিযানের সম্ভাব্য খরচ ধরা হয়েছে
৪৬
কোটি ডলার।
কাজেই, বহু দিক দিয়েই ভারতীয় বিজ্ঞানী
প্রযুক্তিবিদরা
যে
অন্যান্য দেশকে টেক্কা দিয়েছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
বৃত্তাকার কক্ষপথে স্থাপিত হওয়ার পর
চন্দ্রযান-১
|