ইন্দিরা ভবনে নজরুল একাডেমি গড়ার ব্যাপারে তাদের আপত্তি নেই।
তবে কবির জন্মভিটে তথা গ্রামের সার্বিক উন্নয়নের দিকেও সরকার নজর ফেরাক,
এমনই দাবি কাজী নজরুল ইসলামের পরিবার তথা ওপার বাংলার বর্ধমানের
চুরুলিয়ার বাসিন্দাদের।
১৯৫৮ সালের ১২ এপ্রিল চুরুলিয়ায় কবির জন্মভিটেতে পরিবার ও গ্রামের
লোকেরাই গড়ে তোলেন নজরুল একাডেমি।
অদূরেই কবি-জায়া প্রমীলা কাজীর সমাধিস্থল।
পাশে রাখা হয়েছে বাংলাদেশে কবির সমাধিস্থল থেকে আনা মাটি।
সামান্য দূরে বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে এক হালে গড়া যুব আবাস।
চুরুলিয়ার নজরুল একাডেমির সম্পাদক,
কবির ভাইপো মজাহার হোসেনের খেদ,
গত পঞ্চাশ বছর ধরে যখনই যে সরকার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে,
তাদের কাছে যথাযথ মর্যাদা ও উন্নয়নের দাবি জানানো হয়েছে।
কংগ্রেস-তৃণমূল জোট ক্ষমতায় আসার পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ও
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর কাছেও তারা ২৫ দফা দাবি জানান।
আগের দাবিগুলোর সঙ্গে এ বার যোগ হয়েছে চুরুলিয়ায় নজরুলের নামে
বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার দাবিও।
মজাহার বলেন,
সম্প্রতি রাজ্যের শিক্ষা দফতরের তরফে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
তাতে বলা হয়েছে,
একাডেমি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদেরই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো তৈরি করে
নিতে হবে।
পরিকাঠামো বলতে কী বলা হচ্ছে,
তা জানতে আমরা ফের চিঠি পাঠিয়েছি।
কবির পরিবারের আরও দাবি,
জন্মভিটেকে হেরিটেজ ঘোষণা করা হোক।
চুরুলিয়া গ্রামকে আদর্শ গ্রাম এবং সেখানে নজরুল গবেষণাকেন্দ্র গড়ার দাবিও
জানিয়েছেন তারা।
মজাহার জানান,
১৯৯৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী,
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রমোদ মহাজন এবং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়
চুরুলিয়ায় আসেন।
উন্নয়নের জন্য এক কোটি ২৫ লক্ষ টাকা অনুদানও ঘোষণা করেছিলেন তারা।
মজাহারের খেদ,
সেই টাকা আমরা এখনও পাইনি।
তার আর্জি,
সরকার যেখানে চাইছে,
সেখানেই নজরুল একাডেমি হোক।
কিন্তু চুরুলিয়ার দাবিকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হোক।
চুরুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত দীর্ঘদিনই সিপিএমের দখলে।
রাজনৈতিক ফারাক সত্ত্বেও পঞ্চায়েত প্রধান অমিতাভ বন্দোপাধ্যায় বলেন,
নজরুলকে নিয়ে রাজ্য সরকার যে কাজ করতে চাইছে,
তা গর্বের ব্যাপার।
তবে এখানে যুব আবাসটির উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা হোক।
তিনি জানান,
মে মাসে নজরুল উৎসবের সময়ে নানা জায়গা থেকে লোকজন আসেন।
একান্ত বাধ্য হয়েই তারা ওই আবাসে থাকেন।
নজরুলের নামাঙ্কিত স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে কোনও চিকিৎসক নেই।
জামুড়িয়া বস্নক তৃণমূল সভাপতি পূর্ণশশী রায়ের কথায়,
আমরা চাই,
চুরুলিয়ায় একটি সংগ্রহশালা হোক।
এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত করা হোক।
কংগ্রেসের বর্ধমান জেলা (শিল্পাঞ্চল) সম্পাদক তরুণ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন,
ইন্দিরা ভবনের নাম অক্ষত থাকুক।
সেই সঙ্গে সরকার চুরুলিয়ার দিকে নজর দিক।