|
ভারতের চন্দ্র অভিযান
॥
সংলাপ প্রতিবেদক
॥
ভারতের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড থেকে গত
২২
অক্টোবর যখন 'পি এস এল ভি
সি-১১'
রকেটটি সাফল্যের সঙ্গে উৎক্ষিপ্ত হয়েছিল, তখন আনন্দে উদ্বেল হয়ে উঠেছিল
প্রত্যেক ভারতবাসী।
ভারতীয় বিজ্ঞানের ইতিহাসে নিঃসন্দেহে সেটি ছিল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।
স্বাধীনতারপ্রাপ্তির
মাত্র
৬১ বছরের
মধ্যে
তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এতটা
অগ্রগতি ঘটিয়ে চাঁদে মনুষ্যবিহীন অনুসন্ধানী যন্ত্র
চন্দ্রযান-১
পাঠাতে সক্ষম হবে, এটা নিশ্চয়ই গোট উপমহাদেশে তথা পৃথিবীকেই চমৎকৃত করেছে।
মহাকাশে কক্ষপথে বিপুল গতিতে পরিক্রমাশীল পৃথিবী থেকে রকেট পাঠিয়ে সেটিকে আরও
একটি বিপুর গতিতে পরিক্রমণশীল জ্যোতিষ্ক চাঁদের কক্ষপথে স্থাপন করা অত্যন্ত
দুরূহ কাজ।
অঙ্কের সামান্য গোলমালে, সংকেত পাঠাবার সময়ে সামান্য এদিক-ওদিক চন্দ্রযানবাহী
রকেট লক্ষ্যবস্তুর বহু দূর দিয়ে চলে গিয়ে মহাকাশে হারিয়ে যেতে পারত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের চন্দ্রাভিযানের প্রাথমিক পর্বে
এমন বহু ঘটনা ঘটেছে।
২২
অক্টোবরের পর প্রহর গুনছিলো ভারতীয় বিজ্ঞানীরা।
উৎক্ষেপণের
১৭ দিন বাদে ৮ নভেম্বর
অবশেষে এল সেই সোনালি মুহূর্ত।
ইসরোর
মুখপাত্র জানালেন,চন্দ্রযান-১
সাফল্যের সঙ্গে প্রাথমিক কক্ষপথে স্থাপিত হয়ে চাঁদের চারদিকে ঘুরতে শুরু
করেছে।
এই
কক্ষপথটি অবশ্য প্রচণ্ড উৎকেন্দ্রিক।
চন্দ্রযান চাঁদের নিকটতম দূরত্বে যখন যাচ্ছে তখন চাঁদের সঙ্গে দূরত্ব
দাঁড়াচ্ছে
৫০০
কিলোমিটার।
আবার
সর্বাধিক দূরত্ব দাঁড়াচ্ছে
৭৫০০
কিলোমিটার।
চন্দ্রযানের সঙ্গে থাকা থার্স্ট ইঞ্জিন ব্যবহার করে এই উৎকেন্দ্রিকতা ধীরে
ধীরে কমিয়ে আনা হবে পাঁচটি ধাপে।
দ্বিতীয় কক্ষপথে নিকটতম ও দূরতম দূরত্ব হবে যথাক্রমে
১২৫ কিলোমিটার ও ৭৫০০
কিলোমিটার।
তৃতীয়
কক্ষপথে তা দাঁড়াবে যথাক্রমে
১২৫
কিলোমিটার ও
২৫০
কিলোমিটার।
চতুর্থ কক্ষপথে তা হবে
১০০ কিলোমিটার ও ২৫০
কিলোমিটার।
পঞ্চম
ও চূড়ান্ত কক্ষপথটি হবে নিখুঁত বৃত্তাকার।
চন্দ্রপৃষ্ঠের ঠিক
১০০
কিলোমিটার ওপর থেকে চন্দ্রযান বৃত্তাকারে চন্দ্র-পরিক্রমা শুরু করবে।
এই
কক্ষপথটি হবে পোলার অরবিট-অর্থাৎ চাঁদের উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর ওপর দিয়ে
চন্দ্রযান উপগ্রহটির চারপাশে ঘুরতে থাকবে।
এর
আগে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ
৬৭ বার
চাঁদে
অভিযান চালিয়েছে।
তার
অনেকগুলিই সফল হয়নি।
চন্দ্রযান-১
হল
৬৮তম
অভিযান।
সোভিয়াত ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান ও ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি
ছাড়া আর কোনও দেশ চাঁদে অভিযান চালাতে পারেনি।
ভারত
পরিণত হল চন্দ্রাভিযানকারী ষষ্ঠ দেশ।
ভারতীয় বিজ্ঞানী ও
প্রযুক্তিবিদদের
আরও
একটি কৃতিত্ব হল তারা সম্পূর্ণ ভারতীয় প্রযুক্তিতে এই অভিযান চালিয়েছে।
চন্দ্রযান-১
যে
রকেটে চেপে পৃথিবীর অভিকর্ষ কাটিয়ে মহাকাশে গিয়েছিল, সেই পোলার স্যাটেলাইট
লঞ্চ ভেহিকেল (পি এস এল ভি) সম্পূর্ণ ভারতীয়
প্রযুক্তিতে
তৈরি।
প্রকল্পের খরচও অন্যান্য দেশের তুলনায় কম।
এখনও
পর্যন্ত
চন্দ্রযান-১
প্রকল্পে খরচ হয়েছে
৮
কোটি
মার্কিন ডলার।
গত
বছর চীন ও জাপানের চন্দ্রাভিযানে খরচ হয়েছিল যথাক্রমে
১৬.৯০
কোটি ডলার এবং
২৬
কোটি
ডলার।
আমেরিকার আগামী চন্দ্রাভিযানের সম্ভাব্য খরচ ধরা হয়েছে
৪৬
কোটি ডলার।
কাজেই, বহু দিক দিয়েই ভারতীয় বিজ্ঞানী
প্রযুক্তিবিদরা
যে
অন্যান্য দেশকে টেক্কা দিয়েছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
বৃত্তাকার কক্ষপথে স্থাপিত হওয়ার পর
চন্দ্রযান-১
চালাবে চাঁদের ত্রিমাত্রিক ছবি তোলা এবং নানান খনিজ সন্ধানের কাজ।
এই
অভিযানের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হবে পরবর্তী প্রকল্প
চন্দ্রযান-২,
যা
২০১০ সালে
রূপায়িত হবে।
২০১৫
সালে চাঁদে মানুষ পাঠাবার পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের।
একই
সঙ্গে শুরু হবে ভারতের মঙ্গল অভিযান।
|