উত্তরা তৃতীয় ফেজ থেকে পল্লবী
হয়ে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর,
রোকেয়া সরণি,
ফার্মগেট,
দোয়েল চত্বর হয়ে প্রেসক্লাব থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত এ রুট
নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ রুটে মোট ১৫টি বিরতির স্থান থাকবে।
মেট্রোরেল প্রকল্পের পুরো ব্যয় মেটানো হবে জাইকার সহজ শর্তের ঋণ দিয়ে।
রাজধানীর দুঃসহ যানজট নিয়ন্ত্রণে মেট্রোরেল হতে পারে বড় আশীর্বাদ।
মেট্রোরেল রুট চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ইতোমধ্যে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে
প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
অযাচিত মতবিরোধের মধ্যে গত বছর সেপ্টেম্বরে জাইকা সদর দফতরের পরিচালক
তোমোহিদে ইচিগুচির নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সরকারের
কাছে দ্রুত মতামত দেয়ার অনুরোধ জানায়।
রুট নির্ধারণ নিয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় বিপত্তিতে পড়লে প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা ২৬ অক্টোবর সংসদে মেট্রোরেলের রুট পরিবর্তন করা হবে না বলে
জানান।
২০০৫ সালে মহানগরীতে তিনটি রুটে প্রায় ৫৮ কিলোমিটার মেট্রোরেল পথ
নির্মাণের জরিপ কাজ শেষ করে জাইকা।
এর মধ্যে এমআরটি-৬ প্রকল্পটি সর্বাধিক গুরুত্ব পায়।
এমআরটি-৬ এর আওতায় ২০ কিলোমিটার রেললাইনে মোট স্টেশন হবে ১৫টি।
ল্যান্ডিং স্টেশনের আওতা হবে এক বর্গকিলোমিটার।
মেট্রোরেল ঘণ্টায় ৬০/৮০ হাজার যাত্রী বহন করতে পারবে।
পরিসংখ্যান বলছে,
প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ১৩৬ জন মানুষ ঢাকায় আসে।
ঢাকার বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় দুই কোটি।
সরকারি হিসেবে জনসংখ্যা বাড়ছে ১ দশমিক ৪০ শতাংশ হারে।
কিন্তু রাজধানী বাড়ছে ৬ শতাংশ হারে।
এ বৃদ্ধির হার অব্যাহত থাকলে ১০ বছর পর রাজধানীতে জনসংখ্যা দাঁড়াবে ৩
কোটি ২০ লাখ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
উড়াল সড়ক ও মেট্রোরেলের মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে রাজধানীতে
বসবাস পুরোপুরি অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
জাপানী রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রী বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার
উন্নয়নে জাপান সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ
জানান।
এ সময় তিনি ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে জাপান সরকারের সহায়তা চান।
বৈঠকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মেঘনা-গোমতী সেতুর মেরামত এবং দ্বিতীয়
মেঘনা-গোমতী সেতু নিয়ে আলোচনা হয়।
এ বিষয়ে জাপানের সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতির জন্য মন্ত্রী
রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ এবং প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে অনুরোধ করেন।
তিনি ঝুঁকিপূর্ণ মেঘনা সেতুর মেরামত এবং দ্বিতীয় মেঘনা সেতু নির্মাণে
জাপান সরকারের সহযোগিতা চান।
বৈঠকে জাপান সরকারের অর্থায়নে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের মাধ্যমে
বাস্তবায়নাধীন ইস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইম্প্রভমেন্ট প্রকল্প নিয়েও
আলোচনা হয়।
এ প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা।
জাইকা এ প্রকল্পে ৫ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দিচ্ছে।
বৈঠকে সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।