বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান মতে,
গত অর্থবছরের জুলাই-মে’র
তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি প্রায় ২ শতাংশ কমেছে।
(জুলাই-জুন)
রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ।
গত মে (এগারো) মাসে ছিল ১৫ শতাংশ।
জুলাই-মার্চ (নয়) মাসে এ হার ছিল ১৯ দশমিক ১৯ শতাংশ।
সূত্র জানায়,
একমাসের ব্যবধানে শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত্ব চার ব্যাংকেই রেমিট্যান্সের
পরিমাণ কমেছে প্রায় এক কোটি মার্কিন ডলার।
জুনে ব্যাংক চারটিতে এসেছে ২৫ কোটি ৪০ লাখ ৪০ হাজার ডলার,
একই অবস্থা বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর।
মে মাসে ১৩ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আনলেও জুনে এসেছে ১২ কোটি ৮৬
লাখ ডলার।
গত ১২ মাসে (জুলাই-জুন) প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ প্রায়
১১শ’
কোটি মার্কিন ডলার।
গত অর্থ বছরের শেষে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলেও গত
মাসে (জুন) কিছুটা ভাটা পড়েছে।
গত মাসে রেমিটেন্স এসেছে ৮৭ কোটি মার্কিন ডলার।
বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমিক কম রপ্তানি হওয়া,
কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হওয়া এবং সর্বোপরি দক্ষ জনশক্তি বিদেশে না
পাঠানোর কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের
সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে,
২০০৮-২০০৯ অর্থ বছরের মোট ১২ মাসে রেমিটেন্স এসেছে ৯৬৮ কোটি ৯২ লাখ
ডলার এবং ২০০৯-২০১০ অর্থ বছরের রেমিটেন্স এসেছে ১ হাজার ৯৭ কোটি ৩২ লাখ
মার্কিন ডলার।
গত অর্থ বছর ও এর আগের অর্থ বছরের তুলনায় প্রায় ১২৯ কোটি মার্কিন ডলার
রেমিটেন্স বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিমাসের মতো গত মাসেও সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স সংগ্রহ করেছে ইসলামি
ব্যাংক।
ব্যাংকটি গত মাসে ২৪ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিটেন্স
সংগ্রহ করেছে।
এর পর দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক।
ব্যাংকটি গত জুন মাসে রেমিটেন্স সরবরাহ করেছে প্রায় ১১ কোটি মার্কিন
ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক এক কর্মকর্তা বলেন,
মধ্যপ্রাচ্য থেকে নানা কারণে শ্রমিক ফিরে আসছে।
যে হারে ফিরে আসছে,
সেই হারে যাচ্ছে না।
এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিটেন্স প্রবাহের হার ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়,
জুনে প্রবাসীরা রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন ৮৭ কোটি ৭৯ লাখ মার্কিন ডলার।
গত বছরে একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি ৯১ লাখ ডলার।
চলতি বছরের মে মাসে ছিল ৯০ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
এপ্রিলে ছিল ৯২ কোটি ২১ লাখ ৬০ হাজার ডলার।
মার্চে ছিল ৯৫ কোটি ৬৪ লাখ ৯০ হাজার ডলার।
গত মাসেও সর্বোচ্চ ২৪ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিটেন্স এসেছে
ইসলামি ব্যাংকের মাধ্যমে।
সূত্র জানায়,
গত অর্থ বছরের মে মাস পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছে মধ্যপ্রাচ্য
থেকে,
যার পরিমাণ ৬৬৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলার।
এর মধ্যে বেশি এসেছে সৌদি আরব থেকে,
যার পরিমাণ ৩১৫ কোটি ১১ লাখ ডলার।
তারপর এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে যার পরিমাণ ১৭৩ কোটি ২৪ লাখ ডলার।
এছাড়া পৃথিবীর অন্যান্য দেশে থেকে এসেছে ৩৪৫ কোটি ৯৯ লাখ ডলার।
যার মধ্যে বেশি এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
এর পরিমাণ ১৩২ কোটি ৬৪ লাখ ডলার।
পরের অবস্থানে রয়েছে,
যুক্তরাজ্য,
সেখান থেকে এসেছে ৭৬ কোটি ৫৫ লাখ ডলার এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে
মালয়েশিয়া,
সেখান থেকে এসেছে ৩৫ কোটি ৪৬ লাখ ডলার।
অন্য এক সূত্র জানায়,
২০০৭ ও ২০০৮ সালে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রপ্তানির পরিমাণ ছিল
যথাক্রমে ৮ লাখ ৩২ হাজার ৬০৯ জন এবং ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৫৫ জন।
২০০৯ সালে তার পরিমাণ কমে এসে দাঁড়ায় ৪ লাখ ৫৭ হাজার ২৭৮ জনে।
মাত্র ১ বছরেই এর পরিমাণ কমেছে ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৭৮৭ জন।
এছাড়া চলতি বছর এপ্রিল মাস পর্যন্ত মোট জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে ১ লাখ ৩৪
হাজার ১৯৭ জন।