মার্কিনী ফাঁদে ভারত

 

ইশা

 

এমাসেই পরমাণু নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ওবামার সঙ্গে আলোচনা করতে ওয়াশিংটন যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং তার আগে সংসদে পরমাণু চুল্লি দায়বদ্ধতা বিলটি পাশ করানো খুবই জরুরি ছিল সংসদে পাশ হওয়া বিলটি ওবামার হাতে তুলে দিতে পারলে ওবামা নিশ্চয়ই খুশি হতেন এবং ভারত-মার্কিন পরমাণু চুক্তি রূপায়ণের কাজে আর এক ধাপ এগিয়ে যেতো ওই বিল পাশ করতে চেষ্টায় কোনো ফাঁক রাখেননি ভারতে প্রধানমন্ত্রী কিন্তু বাধ সেধেছে বামপন্থীরা মার্কিন চুল্লি বিক্রেতাদের স্বার্থে নির্লজ্জভাবে তৈরি বিলটির ধারা-উপধারা তুলে বামপন্থীরা এত জোরালো প্রচার চালিয়েছে যে, কংগ্রেসের মনমোহনরা বিলটি প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হন এই অবস্থায় তড়িঘড়ি উঠে পড়ে লাগেন পরমাণু জ্বালানির পুনঃপ্রক্রিয়করণ সংক্রান্ত সমঝোতায় এব্যাপারে চুক্তি না হলে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে তাই ওয়াশিংটনের কাছে দাসখত দিয়ে সমঝোতা করতেও দ্বিধা করেনি মনমোহনের সরকার পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আমেরিকা নানা শর্তের জালে ভারতকে বন্দী করার ব্যবস্থা করেছে আর মনমোহন সিংরা অসহায়ভাবে মাথা নত করে মেনে নিচ্ছেন ওবামাদের যাবতীয় শর্ত অর্থাৎ তথাকথিত পরমাণু নবজাগরণ তথা পরমাণু বিদ্যুতে ভারতকে ভরিয়ে দেবার স্বপ্নের কথা বলে ইউপিএ সরকার পরমাণু ক্ষেত্রে ভারতের স্বাধীনতা ও স্বনির্ভরতাকে আমেরিকার কাছে সঁপে দিচ্ছেন এবং আগামীদিনে এই ক্ষেত্রে ভারতকে পুরোপুরি মার্কিন মুখাপেক্ষী হয়ে থাকার ব্যবস্থা করছেন

যে সমঝোতাপত্র সঙ্গে করে মনমোহন সিং ওবামার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন তাতে মার্কিন অনুমতি ছাড়া পরমাণু জ্বালানির পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের কাজ ভারত করতে পারবে না যেসব শর্ত মনমোহনরা মাথা নিচু করে মানতে চলেছেন তা হলো দেশের বর্তমান কোন কেন্দ্রে পরমাণু পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ করা যাবে না করতে হলে নতুন পরমাণু শক্তিকেন্দ্র বানিয়ে তবেই করতে হবে মার্কিন চুল্লি কেনার ব্যবস্থা প্রথমেই পাকা করা হয়েছে পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের সুযোগ দেয়া হলেও সেই সুযোগ যে-কোনো সময় কেড়ে নেবার একতরফা মার্কিন অধিকার মেনে নিতে হচ্ছে ভারতকে আমেরিকার পছন্দ বা কথামতো কাজ না হলে আমেরিকা এই একতরফা ক্ষমতার জোরে ভারতকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে আমেরিকার পছন্দ বা কথামতো কাজ না হলে আমেরিকা এই একতরফা ক্ষমতার জোরে ভারতকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে আগের চুক্তির শর্ত ছিল পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার নজরদারিতে থাকবে এখন নতুন শর্ত চেপেছে মার্কিন পরামর্শ ও নজরদারি বাধ্যতামূলক করতে হবে অর্থাৎ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ কোথায় কিভাবে হবে তার জন্য মার্কিন পরামর্শ নিতে হবে মার্কিন প্রতিনিধিদের নজরদারির আওতায় সমস্ত পরমাণু শক্তিকেন্দ্রকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এত কিছুর পরও সমঝোতাপত্র চূড়ান্ত হবে না যদি ভারত পরমাণু অস্ত্র প্রসাররোধে লিখিত প্রতিশ্রুতি না দেয় অর্থাৎ ভারতকে লিখিতভাবে জানাতে হবে, ভারত আর পরমাণু পরীক্ষা করবে না এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আনা পরমাণু জ্বালানি সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহার করবে না অর্থাৎ মার্কিন কূটচালের ফাঁদে পুরোপুরি আঁটকে মনমোহনসিং ভারত-মার্কিন চুক্তি কার্যকর করতে ওয়াশিংটন পাড়ি দিচ্ছেন বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা