|
আমেরিকার পরিবর্তন ভাবনা
॥
সংলাপ প্রতিবেদক
॥
৫
নভেম্বর
২০০৮,
ডেমোক্র্যাটদের স্লোগান ছিল 'চেঞ্জ উই নিড'।
আমেরিকার মানুষ ৪
নভেম্বর
২০০৮,
এর মধ্যরাতে জানিয়ে দিল 'চেঞ্জ উই ডিড'।
ইতিহাস গড়ল মার্কিনিরা।
২০০৮-এ হোয়াইট হাউসে পা দিলো কৃষ্ণাঙ্গ বারাক ওবামা।
রচিত
হবে ইতিহাস।
ওবামার জয় সম্পর্কে বলা যায়, 'ওয়ান স্মল ভিকট্রি ফর ডেমোক্র্যাটস, বাট আ
জায়ান্ট স্টেপ ফর হিউম্যান রেস।'
নিছক তথ্যের খাতিরে বলতে হয়, ওবামা আমেরিকার ৪৪তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত
হয়েছেন।
হোয়াইট হাউসে পা দেবেন
২০ জানুয়ারি ২০০৯।
আর
তার পেছনে মজুত থাকবে কংগ্রেসের দুই সভাতেই ডেমোক্র্যাটদের
সংখ্যাগরিষ্ঠতা।
ফল
ঘোষণার পর আমেরিকার প্রথম আফ্রো-আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হাজার হাজার সমর্থকদের
সমাবেশে বললেন,
'আজকের রাতটা বিজয়োৎসবের'।
কাল
থেকে শুরু আমাদের জীবনের কঠিনতম দুটো যুদ্ধ।
আমরা
যখন উৎসব করছি, আমাদের সাহসী সহ-নাগরিকেরা প্রাণ হাতের মুঠোয় নিয়ে ইরাকের
মরুভূমিতে, আফগানিস্তানের পাহাড়ে ঘুমহীন রাত কাটাচ্ছে।
এদের
দেশে ফেরাতে হবে।
প্রথম
যুদ্ধটা যে আমেরিকার ইরাক ও আফগান নীতির বদল, বোঝা গেল।
দ্বিতীয় যুদ্ধটা শতাব্দীর সবচেয়ে উদ্বেগজনক অর্থনৈতিক সঙ্কটের বিরুদ্ধে।
ওমাবার ভাষায়, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে, নতুন স্কুল করতে হবে, হুমকির
মোকাবিলা করতে হবে, খারাপ হওয়া সর্ম্পকগুলো মেরামত করতে হবে।
ভারতের সঙ্গে সুসর্ম্পক যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, প্রথম দিনই জানিয়ে দিলেন
নতুন প্রেসিডেন্ট।
বললেন,
এই অনিশ্চিত বিশ্বে ভারতের সঙ্গে সুসর্ম্পক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
গান্ধীজির প্রসঙ্গে বললেন,
'তিনি আমার প্রেরণা।
তার
তাৎপর্য আন্তর্জাতিক।
লক্ষ
লক্ষ মানুষ তার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েছে'।
ওবামার জয় ঘোষিত হওয়ার পর আকাশ জুড়ে তারকা-নক্ষত্র চোখের জলের মতো চিকচিক
করছিল।
সাদা-কালোর মিলিত আনন্দাশ্রু।
এভাবে
সাদা-কালোর ভেদ ভুলে আমেরিকা কি আনন্দে কোনও দিন ভেসেছে?
এ-ও
এক বিরাট বদল।
মানবিক যাত্রাপথে এক বিরাট লাভ।
সাধারণ ঘরের ছেলে ওবামা।
সেই
ছেলে আজ পৃথিবীর সব থেকে বড় রাষ্ট্রের প্রধান।
এ
দেশে মাত্র ১৩ কী ১৪ শতাংশ কালো।
ওবামা
সাধারণ ভোট পেয়েছেন
৫২ শতাংশের ওপর।
তিনি
যে সাদাদের সমর্থন বিপুল ভাবে পেয়েছে, হিসেবই তা বলে দিচ্ছে।
প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যাককেইন পেয়েছে ৪৭ শতাংশ।
ওবামা
ইলেক্টোরাল কলেজের ভোট পেয়েছে ৩৪৯টি।
ম্যাককেইন মাত্র ১৬৩।
২০০৪-এর নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী জর্জ বুশ পেয়েছিলেন
৫০.৭ শতাংশ,
আর ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী জন কেরি ৪৮.৩ শতাংশ।
ইলেক্টোরাল কলেজের আবশ্যিক ন্যূনতম ২৭০টির চেয়ে ১৬টি ভোট বেশি পেয়েছিলেন
বুশ।
তা-ও
ফ্লোরিডায় কারচুপি করে।
এবার
বড় বড় রাজ্য জিতে নিয়েছে ওবামা।
রিপাবলিকানদের দুর্গ জিতেছে।
বারাক
ওবামা নামের মাঝে আছে 'হুসেন'।
সেই
'হুসেন' ইস্যু তৈরি করার চেষ্টা করেছিলো রিপাবলিকানরা।
হল না।
ওবামাকে ভোট দিয়েছে সেই অ্যান নি'ন কুপার, বয়স ১০৬।
তার
যৌবনে এই আফ্রো-মার্কিন মহিলা ভোটাধিকার পায়নি।
আজ
তিনি দেখলেন কালো মানুষ আমেরিকার মসনদে।
ভোট
দিয়েছেন
ওবামাকেই।
জীবনের শেষ ভোটটি প্রিয় নাতি ওবামাকে দিয়ে গেছে সদ্য প্রয়াত দিদিমা মেডেলিন
ডানহাম।
২৭
অক্টোবর হাওয়াইয়ে পোস্টাল ভোট দেন তিনি।
মনে
পড়ছে মার্টিন লুথার কিংয়ের কথা।
শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গের বিভেদ ঘোচাতে গিয়ে ঘাতকের হাতে প্রাণ দিয়েছিলেন।
কিন্তু তার আগে তিনি যে কাজ করেছিলেন, তাতে আমেরিকার মানুষের মন টলেছিল।
তিনি
বলেছিলেন, 'আই হ্যাভ আ ড্রিম'।
আজ
ওবামার মধ্যে দিয়ে সেই
স্বপ্ন
সত্যি
করলো আমেরিকাবাসী।
মনে
পড়ে আব্রাহাম লিঙ্কনের কথাও।
শ্বেতাঙ্গ ছিলেন।
কিন্তু সামাজিক অধিকারের লড়াই লড়তে গিয়ে দাসত্ব প্রথা ঘুচিয়েছিলো।
লড়েছিলেন
কালোদের প্রতিভূ হয়ে।
রোজা
পার্কস কালো হয়েও একজন সাদাকে দেখে বাসের আসন ছাড়েননি।
তার
এই 'অশিষ্টাচার' সাদাদের বিরুদ্ধে কালোদের প্রতিবাদ হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল।
ওবামা
হয়ত তাদের স্তরের নেতা এখনও হতে পারেনি, কিন্তু কালো চীনা, বাঙালি,
হিসপ্যানিক-এরকম নানা জাতের মানুষের সমর্থন পেয়েছে।
তার
সঙ্গে সাদাদের হৃদয়।
রাত
১১টায়, তখনও চার বড় রাজ্যের গণনা বাকি, সবাই বুঝে গেছে এবার ওয়াশিংটন ডিসি-র
সব থেকে মর্যাদাসম্পন্ন সাদা বাড়িতে ঢুকছে ওবামা।
সঙ্গে
আমেরিকার ফার্স্ট লেডি মিশেল।
ওবামা
রসিকতা করে বললেন,
হোয়াইট হাউসে আর একজন নতুন অতিথি ঢুকবে, সে আমাদের ছোট্ট কুকুর।
রাতেই
অভিনন্দন জানালো প্রেসিডেন্ট বুশ।
ফোনে।
বললেন,
'নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট, আপনাকে অভিনন্দন।
কী
ভয়ঙ্কর রাতে কাটালেন আপনি, আপনার পরিবার ও সমর্থকেরা।
লরা
এবং আমি আপনার স্ত্রীকেও অভিনন্দন জানাই।
কথা
দিচ্ছি, ক্ষমতা হস্তান্তরে কোনও সমস্যা হবে না।
সময়-সুযোগ করে একদিন হোয়াইট হাউসে আসুন।'
অভিনন্দন এল হিলারি ক্লিন্টনের কাছ থেকেও।
হিলারিকে হারায়েই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হন ওবামা।
মাঝরাতে গণনাকেন্দ্রে বা টেলিভিশনে যারা ওবামার জেতার খবর পাচ্ছিলো, তারা
উৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছিলো।
এক-এক
রাজ্য থেকে খবর আসছে আর ততো হুল্লোড়ে মেতেছে আমেরিকাবাসী।
মানুষের গায়ের রং কী, তার জন্ম সাধারণ ঘরে, না রুপোর চামচ নিয়ে, তা এবার
অন্তত ভাবেনি আমেরিকাবাসী।
আজ
যেন মনে হয় এই আমেরিকা ইরাকের যুদ্ধের আমেরিকা নয়, ভিয়েতনাম যুদ্ধের আমেরিকা
নয়, তেল নিয়ে বিরোধ বাধানোর আমেরিকা নয়।
বুশের
মন্দা অর্থনীতি, তার প্রশাসন আমেরিকার গায়ে কালি লাগিয়েছিল।
এখন
দেখা যাক ওবামা কী করেন।
ভারত
অন্তত তাকিয়ে থাকবে ওবামার দিকে।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সঙ্গেই ভোট হয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের দুই সভার-হাউস
অব রিপ্রেজেন্টেটিভস-এর সব আসনে, সেনেটের এক তৃতীয়াংশ আসনে।
দেখা যাচ্ছে, দুই সভাতেই এবার ডেমোক্র্যাটরা গরিষ্ঠ।
১৯৯৩-৯৪-এ ক্লিনটন জমানার পর এই প্রথম।
তাদের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রেখেছে।
হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ডেমোক্র্যাটরা জিতেছে ২৫২ আসনে, রিপাবলিকানরা
১৭২ আসনে।
১০০
আসনের সেনেটে ডেমোক্র্যাটরা পেয়েছে এখনও পর্যন্ত ৫৬টি, রিপাবলিকানরা ৪০টি।
যুদ্ধাপরাধীরা দিশেহারা
॥
সাগর
॥
'আম্মু তুমি পাকিস্তানে যেও না।
ওরা
খুবই খারাপ।
একাত্তরে ওরা আমাদের মেরেছিল - অনেক মানুষ মেরেছিল।
তুমি
পাকিস্তানে যাবে না আম্মু, কিছুতেই- যাবে না' - এই ছিল একটি শিশুর দাবি এবং
জেদ।
মাত্র
সাত বছর বয়সী শিশু কন্যার চাপাচাপিতে মায়ের পাকিস্তান যাত্রার ফ্লাইটে সে
যাত্রা বাতিল করতে হয়েছিল।
বাস্তব এই ঘটনাটি ঘটেছিল এদেশেরই একজন উদীয়মান নারী সাংবাদিকের জীবনে।
কর্মরত এই সাংবাদিক সার্কভুক্ত দেশসমূহের সাংবাদিকদের একটি সম্মেলনে যোগ
দেয়ার জন্য পাকিস্তানে যাওয়ার কথা ছিল।
পরে
অবশ্য মেয়েকে বুঝিয়ে রাজী করিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল তরুণ ওই রিপোর্টার।
তাও
একথা বলে যে তিনি পাকিস্তানে গিয়ে পাকিস্তানীদের সাবধান হওয়ার জন্য বলবেন ওরা
যেন ভবিষ্যতে আর কাউকে না মারে।
এবং
তখনই জেদী মেয়েকে রাজী করানো সম্ভব হয়েছিল তার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে।
১৯৭১
সালের নরহত্যাযজ্ঞ, পশ্চিম পাকিস্তানীদের অবিশ্বাস্য বর্বরতা যারা দেখে
প্রত্যক্ষ করেছিল তাদের স্মৃতিতে প্রোজ্জ্বল সে বিভীষিকার স্মৃতি।
যারা
দেখেনি অথচ জেনেছে শুনে কিংবা ইতিহাস পড়ে তারাও শিউরে উঠে সেই নৃশংসতার দৃশ্য
কল্পনা করে।
ছোট্ট
শিশু দীপ্তির মনেও সে কাহিনী পড়ে আর টিভির পর্দায় দেখে যে ঘৃণার সৃষ্টি
হয়েছিল তাই তাকে অজান্তেই তাড়িত করেছে মাকে পাকিস্তানে যেতে বাধা দিতে।
'৭১
এই বর্বরতা এই পৈশাচিকতা এ প্রজন্মের শিশুকে নাড়া দিলেও, দেশের কোটি কোটি
মানুষকে ভারাক্রান্ত করলেও নিষ্ঠুর পরিহাস হচ্ছে তা রাষ্ট্রের অতীত বর্তমান
নীতি নির্ধারকদের মনকে ছুঁতে পারেনি।
ফলে
স্বাধীনতার
৩৭
বছরেও এদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়নি, করা যায়নি, করেনি সাবেক-বর্তমান কোনো
শাসকেরা।
অথচ
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়া জরুরি এবং তা মানবতাকে প্রতিহত করার জন্য,
যুদ্ধাপরাধের পুনরাবৃত্তির পথ বন্ধ করার জন্য।
এদেশের শাসকেরা, দায়িত্ববানরা কাজটি বছরের পর বছর উপেক্ষা করে গেলেও সময় বসে
নেই নিশ্চুপ হয়ে।
'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই' আওয়াজ আজ তাই মানুষের ভেতর থেকে বেরিয়ে পড়েছে
কণ্ঠে, সভা-সমাবেশে উচ্চকিত হয়ে।
ক্রমশই তা হয়ে উঠছে গগন বিদারী শ্লোগানে।
যার
নেতৃত্ব দিচ্ছে ১৯৭১ সালের মহান
স্বাধীনতা
যুদ্ধে রণাঙ্গনে নেতৃত্বদানকারী বীর যোদ্ধারা।
সেক্টর কমান্ডারের উদ্যোগে গড়া সংগঠন 'সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম'।
কিন্তু শ্লোগান, বক্তৃতা দাবিনামাই কি যথেষ্ট?
এসব
তো কম বেশি আগেও ছিল - গত তিন দশক ধরেই।
শ্লোগান, বক্তৃতা, সভা-সমাবেশে পরিবেশ তৈরি হয় - কিন্তু ঘটনাটি ঘটে উপযুক্ত
কর্মে যাকে বলে 'অ্যাকশন'।
সমাজে
প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি বাঙালিকে নিজ নিজ শ্রেণী-পেশার অবস্থান থেকেই দরকার
যুদ্ধাপরাধীদের প্রতিরোধ-নির্মূলে এগিয়ে আসা, ভূমিকা রাখা নিজেদের মতো করে।
সাংবাদিক সংবাদপত্র সর্বোপরি সংবাদ মাধ্যম সমাজ ও রাষ্ট্রের আর সব উপাদানের
মধ্যে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষভাবে ক্ষমতাধর।
প্রশ্ন হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধীদের মোকাবিলায়-নির্মূলে সাংবাদিকদের কি কোনো
কার্যকর ভূমিকা থাকতে পারে না?
অবশ্যই পারে এবং সংবাদ মাধ্যমগুলো যা পারে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ খুবই
প্রয়োজনীয়-জরুরিও বটে।
আর
সেটি হচ্ছে সংবাদমাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীকে কোনো খবর না ছাপানো-যুদ্ধাপরাধীদের
ছবি না ছাপানো, বৈদ্যুতিন মাধ্যমে ওদের খবর ও ছবি না দেখানো।
একজন
ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধীদের 'নিউজ কভার' করার জন্য একজন দেশপ্রেমিক সাংবাদিক ছুটছেন
এটাও লজ্জাজনক, অবমাননাকর।
স্বাধীন
এই
দেশটিতে
স্বাধীনতার
সুফল
ভোগকারী কোনো সংবাদ মাধ্যম
স্বাধীনতা
বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের খবর প্রকাশ প্রচার করবে এটা প্রকারান্তরে
স্বাধীনতা
যুদ্ধের শহীদদের অসম্মান করার নামান্তর-খোদ
স্বাধীনতার
চেতনাকে অবমাননা করার সামিল।
সাপ্তাহিক বর্তমান সংলাপ যুদ্ধাপরাধীদের এর খবর ও ছবি পাতায় স্থান না দেয়ার
যে নীতি গ্রহণ ও লালন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, অন্যান্য সংবাদ
মাধ্যমগুলো তার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করা কি সম্ভব নয়।
মুক্তিযুদ্ধ ও
স্বাধীনতার
উপর
পবিত্র আমানত হেফাজত করার জন্য জাতির কাছে আর কি কিছু আছে?
এর
বাস্তবায়নেও উদ্যোগী ভূমিকা রাখতে পারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অনুষ্ঠানে
নেতৃত্বদানকারী 'সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম'।
ফোরাম সংবাদ মাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক, সম্পাদক ও মালিকদের সঙ্গে
পর্যায়ক্রমে বৈঠক, এর বাস্তবায়নে মতবিনিময় সভার আয়োজন করতে পারে - যার
মধ্যে দিয়ে সৃষ্টি হবে ঐক্যমত।
সংবাদ মাধ্যম থেকে চিরতরে অপসারিত হবে যুদ্ধপরাধীদের কুৎসিত মুখ,
পাপ-সংলাপ, নাপাক-চেহারা চিরতরে।
গঙ্গা ভারতের জাতীয় নদী
॥
শাওন
॥
গঙ্গাকে দেশের জাতীয় নদী, বলে ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয়
সরকার।
দূষণ
ও অন্যান্য সমস্যা থেকে গঙ্গাকে সুরক্ষিত রাখতে তৈরি হবে উচ্চ পর্যায়ের এক
কর্তৃপক্ষ- গঙ্গা রিভার বেসিন অথরিটি।
এর
মাথায় থাকবেন
স্বয়ং
প্রধানমন্ত্রী।
ভারতের উত্তরাখণ্ড থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত যে-সব রাজ্যের ওপর দিয়ে
গঙ্গা বয়ে গেছে, সেই রাজ্যগুলির মূখ্যমন্ত্রীরা থাকবেন সদস্য হিসেবে।
সমপ্রতি গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান পর্যালোচনার জন্য জলসম্পদ, নগরোন্নয়ন এবং
পরিবেশ ও বন দপ্তরের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
সেখানেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
ঠিক
হয়, একটি সামগ্রিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
আলাদা করে ভিন্ন শহরে দূষণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিয়ে আর চলবে না।
গোটা নদীকে একটি পরিবেশগত সত্তা হিসেবে দেখতে হবে।
সেই
অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতেই গঙ্গা নদী অববাহিকা কর্তৃপক্ষ গড়া হবে।
এর
খুঁটিনাটি সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মূখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক হবে।
দু'মাসের মধ্যেই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করে ফেলতে বলেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং নদী সংরক্ষণে যে-সব সংস্থা এখন কাজ করছে, সেগুলিকে এই
কর্তৃপক্ষের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
ভারতরত্ন
॥
বন্যা
॥
'ভারতরত্ন' সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন পণ্ডিত ভীমসেন গুরুরাজ যোশি (৮৬)।
ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে এক বার্তায় মার্গ সঙ্গীতের কিরানা ঘরানার এই
কিংবদন্তি শিল্পীকে দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান প্রদানের কথা জানানো
হয়েছে।
ভীমসেন যোশি পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন ১৯৭২ সালে।
এরপর হন পদ্মভূষণ এবং পদ্মবিভূষণ।
কর্ণাটকের গাদগ জেলার ছোট্ট শহর গাদগ।
সেখানেই জন্ম ভীমসেন যোশির।
সোয়াই গন্ধর্ব তার গুরু ছিলেন।
সেই
গুরুর স্মৃতিতে ফি বছর পুনেতে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের আসর বসান তিনি।
'কর্ণাটকরত্ন' ভীমসনের ৭ বছর আগে 'ভারতরত্ন' দেয়া হয়েছিল সুরের জগতের আর এক
দিকপাল উস্তাদ বিসমিল্লা খানকে।
পৃথিবীতে
লাদেনের ছেলে আশ্রয় পাচ্ছে না
॥
সংলাপ প্রতিবেদক
॥
মধ্যপ্রাচ্যে
তার প্রাণ সংশয় আছে।
এই কারণ
দেখিয়ে স্পেনে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিল ওসামা বিন লাদেনের ছেলে ওমর (২৭) এবং
তার ইংরেজ পত্নী জাইনা আলসাবা বিন লাদেন (৫২)।
সেই
অনুরোধ খারিজ করে তাদের মিশরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল স্পেন সরকার।
কিন্তু
আল কায়েদা প্রধানের পুত্রকে মিশরে ঢুকতে দিতেই রাজি হয়নি সেদেশের সরকার।
কায়রো
বিমানবন্দর থেকেই ওই দম্পতিকে পত্রপাঠ বিদায় করে দেয়া হয়েছে।
কায়রো বিমান
বন্দরে সংবাদ সংস্থাকে টেলিফোনে জাইনা জানিয়েছে,
স্পেন
সরকার বলেছিল,
কায়রোতে তারা সুরক্ষিত।
কিন্তু
এখানে পা দেয়া মাত্রই মিসর সরকার তাদের ফেরত পাঠিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করল।
মিশরে
তাদের যাবতীয় সম্পত্তি রয়েছে।
অথচ
তারা কিছুই পাবে না! এমনকী ক্রেডিট কার্ডও নয়।
কায়রোতে তাদের থাকতে কোনও অসুবিধা হবে না বলে,
স্পেন
সরকার তাদের আশ্বস্ত করেছিল।
স্বামীকে নিয়ে জাইনা কোন দেশে পাড়ি দিচ্ছে তা এখনও খোলাখুলি বলেনি ওসামা
বিন লাদেনের পুত্রবধূ।
প্র বা হ
সাংস্কৃতিক যুদ্ধের ডাক
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস-বায়নে সাংস্কৃতিক যুদ্ধের ডাক দিয়েছে সম্মিলিত
সাংস্কৃতিক জোট।
শিল্পী,
শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক নেতারা বলেছেন,
এই
যুদ্ধে নির্ধারিত হবে আগামী দিনের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার
অসামপ্রদায়িক গণতান্ত্রিক পরিচয়ে এগিয়ে যাবে,
নাকি
মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জঙ্গি ধর্মান্ধদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।
প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে প্রতিহত করতে প্রথমেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত
করার দাবি জানানো হয়েছে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সুস্পষ্ট অঙ্গীকার দাবি করে
নেতারা বলেছেন,
শুধু
মুখে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে আর পার পাওয়া যাবে না।
যুদ্ধাপরাধীদের নির্বাচন মনোনয়ন দেবেন না,
ক্ষমতায় গেলে তাদের বিচার করবেন - এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাংস্কৃতিক কর্মী কনভেনশন থেকে এসব ঘোষণা ও দাবি
উত্থাপন করা হয়েছে।
একই
সঙ্গে যারা যুদ্ধাপরাধীদের মনোনয়ন দেবে তাদের বিরোধিতা করারও ঘোষণা দেওয়া
হয়েছে।
সমপ্রতি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণের শিরিশতলায় সাংস্কৃতিক কর্মী
কনভেনশনের উদ্বোধন করা হয়।
এরপর
কনভেনশনের প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয় শাহবাগ পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান
স্মৃতি মিলনায়তনে।
সাংস্কৃতিক অধিকার,
একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার,
সামপ্রদায়িক মৌলবাদী শক্তির প্রতিরোধ এবং জনগণের গণতান্ত্রিক ও মানবিক অধিকার
রক্ষায় দেশব্যাপী গণজাগরণের লক্ষ্যে এ সাংস্কৃতিক কনভেনশন আহ্বান করা হয়।
'সংস্কৃতির
অধিকার রক্ষায় এসো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়'
স্লোগান আয়োজিত এ কনভেনশনে ঢাকার সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধি ছাড়াও
বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিরা যোগ দেন।
কনভেনশনের উদ্বোধন করেন জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসিরউদ্দিন ইউসুফের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ইমিরেটাস ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী,
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন শিল্পী রফিকুন নবী,
সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী লে. জে. (অব.) হারুণ অর রশিদ ও
অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন জোটের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কুদ্দুছ।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক হাসান আরিফ।
অধ্যাপক কবীর চৌধুরী বলেন,
বিগত
৫০ বছরের অভিযাত্রায় সাংস্কৃতিক আন্দোলন প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছে।
বড়
শক্তি হচ্ছে আমাদের অসামপ্রদায়িক সাংস্কৃতিক চেতনা।
এ
জাতির সবচেয়ে বড় শত্রু জঙ্গি ধর্মান্ধ মৌলবাদ।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জঘন্যতম এ শত্রুকে বিনাশ করতে না পারলে গণতন্ত্র
বাধামুক্ত হবে না।
এদের
বিনাশ করতে আমাদের অস্ত্র হচ্ছে বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যলালিত সংস্কৃতি।
তিনি
বলেন,
বড়
শত্রু মৌলবাদকে ধ্বংস করতে এবং বড় শক্তি অসামপ্রদায়িক সংস্কৃতিকে রক্ষায়
সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হতে হবে।
মৌলবাদের মতো দারিদ্র্যও আমাদের বড় শত্রু।
দারিদ্র্যকে ধ্বংস করে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার পথকেও প্রশস- করতে হবে।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন,
দেশে
জঙ্গিবাদের উত্থানে রাষ্ট্রের সমর্থন আছে।
যখন
যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে তারা মৌলবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে।
মৌলবাদকে আন্তর্জাতিকভাবে উত্তেজিত করা হচ্ছে।
বুশ
যখন ক্রুসেডের ডাক দেন তখন তালেবানরা জিহাদের ডাক দেয়।
সবই
পুঁজিবাদী ষড়যন্ত্র।
পুঁজিবাদী শক্তির উদ্দেশ্য মানুষের মুক্তি ও গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত হতে না
দেওয়া।
মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াই মানে পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই।
পুঁজিবাদ রেখে মৌলবাদের বিনাশ কিংবা মানুষের মুক্তি সম্ভব নয়।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি করে তিনি বলেন,
মুক্তিযুদ্ধের পরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে না পারাটা আমাদের ব্যর্থতা।
নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বলেন,
গণতন্ত্র ছাড়া রাষ্ট্র মৃত।
তবে
সেই গণতন্ত্র কার হাতে থাকবে সে সিদ্ধান্ত জনগণকে নিতে হবে।
তিনি
বলেন,
সাংস্কৃতিক শক্তিতে বলীয়ান হয়ে এগিয়ে গেলে আমাদের পরাজিত হওয়ার সুযোগ নেই।
লে.
জে. (অব.) হারুণ অর রশিদ বলেন,
সামপ্রদায়িকতাকে আমরা পাকিস্তান আমলে কবর দিয়েছি।
কিন্তু স্বাধীন দেশে তা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
এখন
আমাদের সামনে একটাই চ্যালেঞ্জ- মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তি ক্ষমতায় আসবে অথবা
নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
পরাজিতরা ক্ষমতায় এলে আমাদের মরণ হবে।
বেলুন
উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধন শেষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহীদ মিনার থেকে বেরিয়ে টিএসসি চত্বরে
এসে শেষ হয়।
বিকেলে শহীদ মিনারের মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।
এতে
আবৃত্তি করেন রফিকুল ইসলাম,
মাসকুর এ সাত্তার কল্লোল,
মাহিদুল ইসলাম,
ঝর্ণা
সরকার ও নায়লা তারান্নুম চৌধুরী কাকলী।
আবৃত্তি আলেখ্য পরিবেশন করে কথা ও স্বরকল্পনা।
গণসঙ্গীত পরিবেশন করে ঋষিজ,
ক্রানি-,
বহ্নিশিখা ও দৃষ্টি।
পথনাটক মঞ্চস'
করে
আরণ্যক।
কনভেনশনের ঘোষণায় অবিলম্বে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার,
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন ও জাতিসংঘের কাছে আবেদন প্রেরণ,
ঘোষিত
সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান,
গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা অব্যাহত রাখা,
ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা,
সামরিক শাসকসহ অগণতান্ত্রিক সরকারগুলোর শাসনামলের শ্বেতপত্র প্রকাশ,
তেল-গ্যাস-কয়লাসহ জাতীয় সম্পদ রক্ষা,
বিমানবন্দর চত্বরে মানসম্মত লালন ভাস্কর্য স্থাপন,
সাংস্কৃতিক খাতে বাজেট বৃদ্ধি,
শিল্পকলা একাডেমী,
বাংলা
একাডেমী,
শিশু
একাডেমীকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান ইত্যাদি দাবিনামা উত্থাপন করা হয়।
ওবামা বাইডেন
মাত্র
৪ বছর আগে ধূমকেতুর মতোই বারাক হুসেন ওবামার উত্থান আমেরিকার জাতীয় রাজনীতিতে।
২০০৪
সালে ডেমোক্র্যাট দলের জাতীয় কনভেনশনে নজর কেড়েছিল তার মূল ভাষণ।
সে
বছরই ইলিনয়ের সেনেটর নির্বাচিত হন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম,
কৃষ্ণাঙ্গ বর্তমান প্রেসিডেন্ট।
ভাষাণ
শুনে কে বলবে একটা সময় মারিজুয়ানার নেশা থেকে নানা বদভ্যাসে বখে গিয়েছিলেন
আজকের ফার্স্ট বয়।
তার
ধারালো,
ঝকঝকে
বাচনভঙ্গি প্রথম থেকেই টেনেছে তরুণ-তরুণীদের।
ওবামার সব থেকে বড় সমর্থক এই প্রজন্মই।
এর
ওপর প্রচারমাধ্যম হিসেবে ইন্টারনেটের নিপুণ ব্যবহার তাকে করে তুলেছে ২১ শতকের
আদর্শ প্রার্থী।
হোয়াইট হাউস দখলের লড়াইয়ে প্রায় ২ বছরের দীর্ঘ প্রচারে ওবামার মূল ঝোঁক ছিল
ওয়াশিংটনের চিরাচরিত রীতির পরিবর্তন এবং জাতীয় স্বার্থে গোটা আমেরিকাকে
মতাদর্শ,
সামাজিক,
জাতি
ও বর্ণ বিভাজনের উর্ধ্বে উঠে আসার ডাক।
বলেছিলেন,
'উদার
আমেরিকা ও রক্ষণশীল আমেরিকা বলে কিছু হয় না।
একটাই
দেশ,
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।'
ওবামার বাবা কেনিয়া থেকে পড়তে এসেছিলেন হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ে।
সেখানেই কানসাসের মেয়ে অ্যান ডানহামের সঙ্গে আলাপ ও প্রেম।
বারাক
ওবামার জন্ম হনলুলুতে,
১৯৬১
সালের ৪ আগস্ট।
২
বছরের মাথায় বিবাহবিচ্ছেদ করে বারাক হুসেন ওবামা সিনিয়র ফিরে যান কেনিয়ায়।
আলাদা
সংসার পাতেন।
ছোট্ট
ওবামা থাকে মায়ের সঙ্গেই।
১০
বছর বয়সে মাত্র একবারই জ্ঞানত বাবাকে দেখেছিল ওবামা।
১৯৮২
সালে দুর্ঘটনায় বাবার মৃত্যু হলে প্রথম কেনিয়া যান।
ওবামার ৬ বছর বয়সে অ্যান দ্বিতীয় বিবাহ করেন ইন্দোনেশিয়ার তেল ব্যবসায়ী লোলো
সোয়েতোরোকে।
৪ বছর
জাকার্তায় কাটিয়ে ওবামা ফিরে যান হাওয়াইয়ে,
দাদামশাইয়ের কাছে।
লস
এঞ্জেলেসের অক্সিডেন্টাল কালেজ,
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও হার্ভার্ড
'ল
স্কুলে পড়াশোনার শেষে ওবামা নিউ ইয়র্কের একটি আর্থিক সংস্থায় লেখক হিসেবে যোগ
দেন।
পরে
পেশা হয় আইন।
আফ্রিকান-আমেরিকানদের সামাজিক স্বার্থরক্ষার কাজে জড়িয়ে পড়েন।
শুরু
হয় শিকাগোর দরিদ্র কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য সমাজসেবা।
এরই
মধ্যে ১৯৯২ সালে বিয়ে করেন মিশেলকে।
দুই
কন্যা মালিয়া অ্যান ( জন্ম ১৯৯৮) ও সাশা (জন্ম ২০০১)।
২০০৭
সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ইলিনয়ের সিপ্রংফিল্ডের ওল্ড স্টেট ক্যাপিটলে দাঁড়িয়ে
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে সামিল হওয়ার প্রথম ঘোষণাটি বিশেষজ্ঞদের মতে ছিল
প্রতীকী।
ঠিক
সেখান থেকেই,
১৮৫৮
সালে বিখ্যাত
'হাউস
ডিভাইডেড'
ভাষণ
দিয়েছিলেন আব্রাহাম লিঙ্কন।
বুশের
হাতে ভাঙাচোরা,
নড়বড়ে
আমেরিকাকে নতুন করে গড়ে তোলার শপথেই সাদা বাড়ির দখল নিলেন ষোড়শ প্রেসিডেন্টের
৪৪তম উত্তরসূরি।
তবে,
ওবামার কথা বলতে গেলে অবশ্যই বলতে হবে তার ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কথা।
৩৬
বছর ধরে মার্কিন সেনেট সদস্য ভারতবন্ধু বাইডেন (৬৬) বিদেশনীতিতে ধুরন্ধর।
পেশায়
রাজনৈতিক নেতা ও আইনজীবী বাইডেনের পূর্বপুরুষরা আইরিশ।
খুব
ছোটবেলাতেই পারিবারিক আর্থিক বিপর্যয়ের ছায়া নেমে এসেছিল বাইডেনের ওপর।
নিম্নবিত্ত শ্রমিক শ্রেণীভুক্ত পরিবারে বাইডেনই প্রথম কলেজের চৌকাঠ পেরোন।
নিজেও
জীবনধারণের জন্য নানারকম বিচিত্র কাজ করেছেন।
মাত্র
২৯ বছর বয়স থেকে মার্কিন সেনেটের সদস্য বাইডেন সামলেছেন নানা প্রশাসনিক
গুরুদায়িত্ব।
সেনেটের বিদেশ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ভারত-মার্কিন পরমাণু চুক্তি রূপায়ণে
অগ্রণী ভূমিকা নেন।
অত্যন্ত উদারপন্থী হিসেবে সেনেটের স্বীকৃতি পেয়েছেন ওবামা,
বাইডেন দু'জনেই।
রাজকীয় সংবর্ধনা
বি সি
সি আইয়ের পক্ষ থেকে অনিল কুম্বলে,
শচীন
তেন্ডুলকর,
ভি ভি
এস লক্ষ্ণণ ও সৌরভ গাঙ্গুলিকে রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হল।
শচীন
বাদে বাকি তিন ক্রিকেটারকে রুপোর থালা দেওয়া হলেও,
শচীনকে দেওয়া হয় হীরক খচিত ৭০ গ্রাম সোনার ব্যাট-বল।
শচীনের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বোর্ড সচিব এন শ্রীনিবাসন।
আর
সৌরভকে সংবর্ধিত করেন বোর্ড সভাপতি শশাঙ্ক মনোহর।
রাজকীয় এই সংবর্ধনাটি দেওয়া হয় বিদর্ভ স্টেডিয়ামের ব্যাঙ্কোয়েট হলে।
উপস্থিত ছিলেন বোর্ড কর্তারা।
ছিলেন
জাতীয় দলের নির্বাচকরা।
অনুষ্ঠানের শেষ মুহূর্তে আসেন সুনীল গাভাসকর।
সৌরভের সঙ্গে এসেছিলেন স্ত্রী ডোনা ও কন্যা সানা।
শচীন,
কুম্বলের পরিবারও উপস্থিত ছিল।
লক্ষ্ণণের বাবা-মা সাক্ষী ছিলেন এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের।
তিন
ক্রিকেটারের রাজ্য থেকে কর্তারা উপস্থিত থাকলেও,
সি এ
বি থেকে কেউ ছিলেন না।
বোর্ডের পক্ষ থেকে জগমোহন ডালমিয়াকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি আসেননি।
তবে
সি এ বি-র প্রাক্তন যুগ্মসচিব সমর পালকে এদিনের অনুষ্ঠানে দেখা গেছে।
সৌরভকে সংবর্ধনা দেওয়ার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বোর্ড সচিব শশাঙ্ক মনোহর।
তিনি
বলেন, 'সৌরভকে
মিস করব।
ও
অনেক বড় মাপের ক্রিকেটার।'
সৌরভ
অবশ্য অন্য ক্রিকেটারদের মতো আবেগে গা ভাসাননি।
সংক্ষিপ্ত ভাসনে সৌরভ বলেন,
'ভালো
লাগছে এই অনুষ্ঠানে এসে।
শচীন,
কুম্বলের সঙ্গে আমার বহু দিনের পরিচয়।
আমরা
একসঙ্গে বহু বছর খেলছি।
প্রথম
আলাপ হয়েছিল অনূর্ধ্ব-১৫ দলে খেলার সময়।'
জীবনের চল্লিশতম টেস্ট শতরান করার খুশিতে মজেছিলেন শচীন।
তিনি
বলেন, 'আমার
ক্রিকেট জীবনে বোর্ড অনেক কিছু দিয়েছে।
বিভিন্ন সময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।'
সৌরভ
ও কুম্বলের অবসর প্রসঙ্গে শচীন বলেন,
'অনিল
আর সৌরভ আমাদের দলের
অন্তরাত্মা।
দুরন্ত ক্রিকেটার।
ওরা
চলে গেলেও আমাদের মধ্যে থেকে যাবে।
অনিলের সঙ্গে যখন আমার প্রথম আলাপ হয়,
তখন
ওকে ব্যাটসম্যান হিসেবে চিনতাম।
শুনেছিলাম একটু আধটু বলও করে।
কিন্তু আজ ভাবলে অবাক লাগে,
সেই
ক্রিকেটারটি ছ'শো
উইকেটের মালিক।
ওর
মতো ক্রিকেটারের সঙ্গে খেলতে পেরে আমি গর্বিত।
কুম্বলের পারফরম্যান্সকে আমি সম্মান করি। |