শুদ্ধ সংগীত চর্চা প্রয়োজন

 

সংলাপ

 

ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী এই কথাটা বিশ্বে কম্পিউটার ও মুঠোফোন আবিষ্কারের পর হতে অধিক প্রচলিতবিশেষ করে মুঠোফোন সমগ্র বিশ্বের তথ্য মাধ্যমকেই সহজে মুঠোয় নিয়ে এসেছেদেশে মুঠোফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যাও এখন অগননদেশের মুঠোফোন ব্যবসায়ীরা ইদানিং, হিন্দী, ইংরেজী ও বাংলা সিনেমার গানের পাশাপাশি শ্রোতাদের রুচিবোধের কথা বিবেচনা করে নজরুল, রবীন্দ্র ও লালন সংগীতের বিভিন্ন জনপ্রিয় গানগুলোকে মুঠোফোনের রিংটোন হিসেবে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছে গ্রাহকদের ব্যবহারের জন্য গ্রাহকরাও দেদারছে তা ব্যবহার করছেশুধু সংগীত শিল্পীর কন্ঠেই নয়, যন্ত্র সংগীতের সুরেও রিংটোন হিসেবে বাজছে এসব সংগীতকিন্তু মুঠোফোনে ব্যবহৃত এসব সংগীত কতটা শুদ্ধ সুর তথা ঐ সংগীতের মূল সুরকে অনুসরণ করে তৈরি তা বাজারে ছড়িয়ে দেবার পূর্বে মুঠোফোন ব্যবসায়ীদের ভেবে দেখা প্রয়োজনযেমন ইদানিং একটি মুঠোফোন প্রতিষ্ঠান তাদের ফোনে রিংটোন হিসেবে বাজারে ছেড়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরে ব্যবহৃত জনপ্রিয় গান শুভ রমযানের ঐ রোযার শেষে এলো খুশি ঈদ'নজরুল সংগীত শ্রোতামাত্রই এই রিংটোনে গানটি শুনে মর্মাহত হবেন এর প্রকৃত সুর হতে সরে গিয়ে নতুন সুরের শ্রুতিকটু ব্যবহারেশুধু নজরুল সংগীতই নয়, রবীন্দ্র, লালন, দেশাত্মবোধক ও আবহমান গ্রামবাংলার অনেক জনপ্রিয় গানের সুর আজকাল আধুনিক ব্যান্ড ও যন্ত্রসংগীতের ছোঁয়ায় পরিবর্তন করা হচ্ছেদেশে শুদ্ধ সংগীত চর্চা ও শ্রবণের অভ্যাস এখন অনেক কমে গেছে এখন সময় এসেছে নতুন করে সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটানো

দেশে শুদ্ধ সংগীত চর্চার প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরে গত ২২ ও ২৩ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ছায়ানট আয়োজিত দুই দিন ব্যাপী শুদ্ধ সংগীত উৎসব ছায়ানটের নিয়মিত শিল্পীবৃন্দ ছাড়াও দেশের অনেক নামকরা শিল্পী এ অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ২৯-৩০ ডিসেম্বর, ২০১১ বঙ্গবন্ধু  আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র ঢাকায় সহস্র কন্ঠে গানের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত হলো রবীন্দ্র-উৎসবঃ সুরের ধারা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেন -গত ১৫ বছরে ভারতের চেয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আশ্চর্যজনক অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কালের প্রগতির সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে রবীন্দ্রনাথের ভাবনা দেশের গণমাধ্যমগুলো তার এই উদ্ধৃতি গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করে অনুষ্ঠানে এক হাজার শিল্পীর একত্রে রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন ছাড়াও দেশের নামকরা শিল্পীবৃন্দ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিল্পীর সমন্বয়ে গঠিত রবীন্দ্র সংগীত দল গান্ধর্বলোক অর্কেস্ট্রা' পরিবেশিত যন্ত্র রবীন্দ্রসংগীতের সুরের পরিবেশনা ছিল উল্লেখযোগ্যদেশে শুদ্ধ সংগীত চর্চা ও শ্রবণের অভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত প্রয়োজন ও সময়োপযোগী

সময় ও গতির সাথে পাল্লা দিয়ে মানুষকে ছুটতে হচ্ছে আপন বেগে কিন্তু কোন মানুষই তার সৃজনশীলতা ও রুচিবোধ প্রকাশে নিজস্বতা পরিহার করে মেকি ও কৃত্রিম আচরণ অনুকরণের মাধ্যমে বড় হতে পারেনা বাংলা সংস্কৃতি ও সংগীত বাঙালির প্রাণকেউই শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চার বাইরে গিয়ে আধুনিক খাঁটি বাঙালি হয়ে উঠতে পারে না বাংলা ও বাঙালির পরিচয় তার নিজস্ব সংস্কৃতি ধারণ ও লালনে শুদ্ধ সংগীত চর্চা ও অনুশীলন আজ তাই বেশি প্রয়োজন

 

পাটচাষী ও পাটশিল্পের করুণ অবস্থা

 

সংলাপ

 

সোনালি আঁশ নামে খ্যাত পাট বাংলাদেশের গর্ব কৃষকের নির্ভরশীল বন্ধু ভারত বিভাজনের পর ভারত ও পাকিস্তান নামের দু'টি রাষ্ট্র সৃষ্টি হলে আজকের বাংলাদেশকে পূর্ব বাংলা (পরে পূর্ব পাকিস্তান) নামে অভিহিত করা হতো পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না কিন্তু এ দেশের পাট বিক্রি করে প্রচুর অর্থ উপার্জিত হয়েছিল পাটের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছিল কোরিয়ার যুদ্ধজনিত কারণে অবশ্য এই বিপুল অর্থের সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তান ব্যবহার করার সুযোগ পায় ১৯৫০ সালে সরকার কয়েকটি পাটকল এ দেশে প্রতিষ্ঠিত করে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পাট জন্মে প্রচুর এবং পাটশিল্প অল্প সময়ের মধ্যে অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী হয়ে ওঠে এবং বলাবাহুল্য, বিদেশে পাট রফতানির আয় পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়

১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের নাম হল বাংলাদেশ পাকিস্তানের একাংশ হিসেবে নয় স্বাধীন সার্বভৌম একটি রাষ্ট্র হিসেবে এর জন্ম হল পুরনো দেশ নতুন বাংলাদেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বাঙালিদের স্বপ্ন যেন সার্থকতার পথে ধাবিত হল এ সময় ৭৭টি রাষ্ট্রীয় পাটকল ছিল সরকারের নীতি অনুসারে এগুলো জাতীয়করণ করা হল কিন্তু কেবল পাটশিল্প নয়, ব্যাংক, বীমা, ইন্স্যুরেন্স, শত্রু সম্পত্তি জাতীয়করণ করা হল বস্ত্রশিল্প ও চিনি শিল্পও বাদ গেল না এটি সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে করা হয় ২৫ মার্চ ১৯৭২ সালে পরিত্যক্ত সম্পত্তি অর্ডার' জারি করা হয় এবং এর বলেই পাট, বস্ত্রশিল্প, চিনি শিল্প, ব্যাংক, বীমা, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি জাতীয়করণ করা হল এবং এ কাজে ৮০-৮৫ ভাগ শিল্প, ব্যাংক ও ইন্স্যুরেন্স ব্যবসা সরকারের অধীনে আনা হল ৬৭টি পাটকল নিয়ে জুট মিল কর্পোরেশন সৃষ্টি হল কিন্তু এসব মিল পরিচালনার জন্য যাদের নিযুক্ত করা হল তাদের চরিত্র ছিল না উপরন্তু যেসব বাঙালি মালিক ছিল তাদের বলা হল মিলগুলোর দায়িত্ব নিতে অন্যান্য মিলে দলীয় অযোগ্য লোকদের নিয়োগ দেয়া হল ফলে জাতীয় সম্পত্তির লুটপাট হল

দুর্ভাগ্যের বিষয়, যে কোন কারণেই হোক ১৯৭২-৭৪ পর্যন্ত পাটকল ও পাটের গুদামে আগুন লাগানো হয়েছিল ফলে এ খাতে আর্থিক ক্ষতি- জুট মার্কেটিং কর্পোরেশন ও জুট ট্রেডিং কর্পোরেশনের ব্যাপক লোকসান হল

ইতিমধ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে শেখ মুজিবের পর মোশতাক সাহেব এসেছেন তারপর সিপাহি-জনতা অভ্যুত্থানে ক্ষমতায় এলেন জিয়াউর রহমান তার শাসনামলে- ১৯৮০'র দিকে ব্যক্তিমালিকানায় দেয়া হল প্রায় অর্ধেক মিল পাট শিল্পের দিকে নেক নজর পড়ল বিশ্বব্যাংকের বিশ্বব্যাংক ও সরকারের মধ্যে একটি চুক্তি হল ১৯৮৪ সালে- তখন এইচএম এরশাদের রাজত্ব এটির উদ্দেশ্য ছিল পাটশিল্পের সংস্কার কোটি কোটি ডলার ঋণ দিল বিশ্বব্যাংক কিন্তু শ্রমিক, মিল, কলকারখানার কোন উন্নতি হল না একের পর এক পাটকল বন্ধ হয়ে যেতে লাগল শ্রমিকদের বেতন বাকি পড়ল শ্রমিক ছাঁটাই শুরু হল রাষ্ট্রায়ত্ত মিলগুলোর বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাংকের জিহাদের মূল কারণ এর ধ্বংসসাধন ১৮ মাস সরকারি ভর্তুকি বাঁচালে যমুনা ব্রিজ তৈরি করা সহজ হবে (The Jute Worker’s Dilemma Akram Hosen Mamun The Star, 2 Dec. 2011)

সবচেয়ে ক্ষতিকর ঘটনাটি ঘটল ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক ও সরকার জুট মিলগুলো সংস্কারের জন্য একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হল, যার নাম জুট সেক্টর অ্যাডজাস্টম্যান্ট ক্রেডিট' এর লক্ষ্য ছিল মিলগুলোর আধুনিকায়ন শ্রমিকদের কল্যাণে শ্রমিকদের সঙ্গে অকল্যাণমূলক আচরণ করা হল একটার পর একটা পাটকল বন্ধ করে দেয়া হল- এগুলো রাষ্ট্রায়ত্ত মিল; পাটকলের লুমের সংখ্যা কমিয়ে দেয়া হল আর যেসব মিল চালু ছিল, সেখানে শ্রমিক ছাঁটাই করা হল সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ঘটনা হচ্ছে আদমজী জুট মিল বন্ধ করা ২০০২ সালের ঘটনা কারণ? লোকসান ফলে পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বৃহৎ মিলটি বন্ধ হয়ে গেল তারপর বন্ধ হতে থাকল খুলনা ও সিরাজগঞ্জের মিলগুলো

এখন এই ২০১১-তে এসে পাটশিল্প তলানিতে ঠেকেছে সরকার পরিবর্তনে এর কোন উন্নতি হয়নি যে সর্বনাশ হয়েছে বিএনপি আমলে, সে সর্বনাশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও সংঘটিত হচ্ছে অবশ্য পাটমন্ত্রী বলেছেন, সংবাদপত্রে লেখা হয়েছে এ বছর পাটের দাম কমে গেছে কিন্তু পাটের দাম কমেনি, কমেছে নিম্নমানের পাটের দাম তিনি আরও বলেছেন, কৃষকরা পাটে আগুন জ্বেলে দিয়েছে দাম কম বলে- সংবাদপত্রের এ কথা মিথ্যা কারণ, কৃষকের ঘরে পাট জমা নেই পাট যা মজুদ আছে তার পুরোটাই মজুদদারদের কাছে পাটের দাম কম সংবাদপত্রে লেখার ফলে বিদেশে বিক্রির জন্য পাটের বেশি দাম চাওয়া যায় না- এমন অদ্ভুত কথাও মন্ত্রী বলেছেন তিনি আরও বলেছেন, ১৯৮২ সাল থেকে এখানে কোন বিনিয়োগই ছিল না বিজেএমসির প্রশাসন বিসিএস ক্যাডারদের দ্বারা চলতে পারে কিন্তু এ ব্যবসা কখনই চলতে পারে না আর তাই এখানে অভিজ্ঞতাসম্পন্নদের অবসরে চলে যাওয়া ধরে রাখা হয়েছে তিনি দাবি করেন পাট খাতে সরকারের লোকসান থাকত ৪০০ কোটি টাকা আর এখন লোকসান কাটিয়ে উঠে লাভ হচ্ছে ২২ কোটি টাকা। (যায়যায়দিন, ১৫/১২/২০১১) বাংলাদেশ বহুদিন থেকে ভারতে পাটসুতা রফতানি করে আসছে কিন্তু এর ওপর ভারত ৪ ভাগ কাউন্টার ভেলিং শুল্ক আরোপ করেছে ফলে ভারতে বাংলাদেশের পাটের বাজার সংকুচিত হয়েছে

বলা বাহুল্য, বাংলাদেশে উৎপাদিত পাটপণ্যের ৯০ ভাগ রফতানির ওপর নির্ভরশীল কিন্তু অর্থনৈতিক মন্দা, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা, মুদ্রাস্ফীতি আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে উপরন্তু রফতানি মূল্য কমে গেছে এছাড়া অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকের সুদের হার, শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, পরিবহন ব্যয় ও যন্ত্রাংশের মূল্য ইত্যাদি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে পাটপণ্যের উৎপাদন ব্যয় অত্যধিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে সে অনুপাতে রফতানি মূল্য বৃদ্ধি না পাওয়ায় পাটকলগুলো বর্তমানে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তারল্য সংকটে পড়েছে। [পাটের আন্তর্জাতিক বাজার রক্ষা জরুরি হয়ে পড়েছে- মোহাম্মদ শামস উজ জোয়া (বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান), আমার দেশ, ১২/১২/২০১১] যা হোক, সরকারি অর্থসহায়তায় সরকারি জুট মিলগুলো- খুলনা ও সিরাজগঞ্জের কওমি পাটকল উৎপাদন শুরু করেছে এবং পাটের মূল্য বাড়ায় খুলনার জুট মিলগুলো ৪২ লাখ কুইন্টাল পাট কিনেছে (১ কু: = ২ মণের ওপর) এটা ২০১০-এর ঘটনা কিন্তু এ বছর খুলনা এলাকায় পাট চাষীদের অবস্থা খারাপ ফলে একজন চাষী বলেছে, আমি আর জীবনে পাট চাষ করব না

দুর্ভাগ্যজনক বিষয়টি হচ্ছে, যারা রক্ত পানি করে পাট চাষ করে তারা সঠিক মূল্য পায় না ফড়িয়ারা কম মূল্যে পাট কিনে জমা রাখে এবং পরে চড়া দামে বিক্রি করে মজার ব্যাপার হচ্ছে, সরকারের একটি আইন আছে Jute Packaging Act, 2010. এতে বলা হয়েছে, খাদ্যদ্রব্যের বা ফসলের এবং কৃষিজাত অন্যান্য ফসল ব্যবহার করতে হবে পাটের প্যাকেজিং উপকরণ দিয়ে কিন্তু বিজেএমসি পাট স্যাক নিয়ে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাজারে এমন কান্ড  ঘটিয়েছে যাতে আইনটি ব্যবহার করা হয় না

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেছেন, পাট ও পাটশিল্পের অবস্থা ভালো পত্রপত্রিকার সংবাদ পরিবেশনায় পাটের দাম কমে গেছে আশ্চর্য হয়ে বলতে ইচ্ছে হয়, সাংবাদিকরা কি দেশের শত্রু, সোনালি আঁশের বিরুদ্ধে লিখে পাট ও পাট শিল্পকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবে? প্রকৃত সত্য, আর দশটা খাতে যেমন অযোগ্যতা ও অকর্মণ্যতা দেদীপ্যমান, তেমনি এক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য ল্লেখ্য, অভিযোগ আছে নতুন চালু করা মিলগুলোতে যেভাবে লোক নিয়োগ করা হয়েছে, তাতে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির দৃষ্টান্ত রয়েছে অতীতের মতো এখানেও দুটি বৃহৎ দলের ক্যাডার গ্রুপ রয়েছে শ্রমিকদের মধ্যে তারা ট্রেড ইউনিয়নের নামে কর্মতৎপরতা চালায় অথচ পাট চাষীদের কত স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশে সে স্বপ্ন তাদের ভেঙে গেছে স্বাধীনতার পর থেকে সব সরকারই এমন নীতি অবলম্বন করেছে, যা পাট শিল্পকে অনিশ্চিত ও ধ্বংসের পথে নিয়ে গেছে বলা বাহুল্য, অযোগ্য পরিচালনায় পাট শিল্পের বহু মিলের মৃত্যু হয়েছে এবং অসংখ্য চাষী ও শ্রমিকের জীবন-জীবিকায় কালোরাত নেমে এসেছে প্রয়োজন সুষ্ঠু নীতিনির্ধারণ দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন যথাযথ অর্থ মঞ্জুরি প্রয়োজন আন্তর্জাতিক বাজার তৈরি মোহাম্মদ শামস উজ জোয়া (বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান) সরকারের কাছে ১২টি সুপারিশ করেছেন, তার মধ্যে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো- ১. এ বছর পাটের মূল্য পারস্পরিক সমাধানের মাধ্যমে সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে বাংলাদেশে পাট চাষের এলাকা বিস্তৃত হওয়ায় পাট চাষীদের স্বার্থ রক্ষার্থে তাদের Price Protection দিতে হবে ২. পাটপণ্যের বহুমুখী উৎপাদন ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে অবিভক্ত ভারতের পাটকল ছিল মূলত পশ্চিমবঙ্গে পাট চাষ হতো পূর্ববাংলায়, আজকের বাংলাদেশে সেই ভারত পাট উৎপাদনে অবিশ্বাস্য কর্মতৎপরতা দেখিয়েছে আর আমাদের সোনালি আঁশ, পাট, বিভাগোত্তর পূর্ববাংলায় (আজকের বাংলাদেশ) যথার্থ সোনার ডিম প্রসব করেছিল পাকিস্তানের আয়ের প্রধান উৎস ছিল পাট তাই আজ স্বাধীন বাংলাদেশে সরকার একটু তৎপর হলেই সেই গৌরবময় অতীতকে বর্তমানে টেনে আনা যায় পাট ও বস্ত্রমন্ত্রীকে অনুরোধ, সমস্যার গভীরে প্রবেশ করুন; তাহলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এই বস্তুটি যারা গায়ের রক্ত ও ঘাম দিয়ে উৎপাদন করে,    তাদের স্বার্থ রক্ষা করুন অযথা অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে লাভ নেই

 

চীনে ৫০০ কিলোমিটার গতিবেগের ট্রেন

 

সংলাপ

 

চীন তাদের উদ্ভাবিত একটি নতুন দ্রুতগামী ট্রেনের পরীক্ষা চালিয়েছে এই সপ্তাহের প্রথম দিকে চালানো পরীক্ষায় ট্রেনটি ঘণ্টায় প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দুরত্ব অতিক্রম করে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম সোমবার এ তথ্য জানায় উচ্চগতির ট্রেন নির্মাণে চীনের উচ্চাভিলাষী প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এই ট্রেনটির উদ্ভাবন দেশটিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা যদিও দেশটিতে দ্রুত গতির ট্রেন চলাচলের নেটওয়ার্কে বেশকিছু সমস্যা এখনও লক্ষ্য করা যায় নতুন এই ট্রেনটি চীনের সবচেয়ে বড় ট্রেন প্রস্তুতকারক কোম্পানি সিএসআরের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে বলে জানা যায় ট্রেনটির নকশা পরিকল্পনা করার সময় চীনের প্রাচীন কালের একটি তলোয়ারের নমুনাকে অনুসরণ করা হয় বলে জানায় চীনের বার্তা সংস্থা এই ট্রেনটি চীনের বর্তমান উচ্চগতির রেলওয়ে ব্যবস্থায় নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে জানায় সংবাদ সংস্থাটি তবে নিকট ভবিষ্যতে চীনে এর থেকে বেশি গতিসম্পন্ন ট্রেনের প্রয়োজন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিএসআর এর চেয়ারম্যান জাও জিয়াওগাং বেইজিং এর একটি সংবাদ সংস্থাকে তিনি বলেন তাদের বর্তমান উদ্দেশ্য হল রেলওয়ে পরিবহন ব্যবস্থায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান বছরটিতে চীনের রেলওয়ে পরিসেবাখাত কঠিন সময় অতিক্রম করেছে চীনে এই বছরের জুলাইয়ে দু'টি উচ্চগতির ট্রেনের সংঘর্ষের ফলে ৪০ জন মানুষ নিহত এবং বহু লোক আহত হয় এরপর থেকে চীনে নতুন করে উচ্চগতির ট্রেন নির্মাণ বন্ধ ছিল এছাড়া গত ফেব্রম্নয়ারিতে দেশের উচ্চপ্রযুক্তির দ্রুতগতি সম্পন্ন ট্রেন নির্মাণ শিল্পের পথিকৃত হিসেবে বিবেচিত চীনের রেলমন্ত্রী লিউ ঝি জুন দুর্নীতির অভিযোগে তার পদ থেকে অপসারিত হন যদিও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনও আদালতে উত্থাপন করা হয়নি

 

ব্রিটেনে হালাল মাংস নিয়ে ফের বিতর্ক

 

সংলাপ

 

ব্রিটেনের ওয়েস্টমিনিস্টারের বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টে হালাল মাংস (মুসলিম রীতি অনুযায়ী জবাই করা পশুর মাংস) সরবরাহের খবর প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে তবে মুসলিম সংসদ সদস্য ও উচ্চকক্ষের সদস্যরা বলেছেন, তাদের জন্য হালাল মাংস সরবরাহের কোনো ব্যবস্থা নেই কারণ ইসলামী রীতি অনুযায়ী জবাই করা পশুর মাংস তাদের অমুসলিম কলিগদের পছন্দ নয় তবে এ খবরে পার্লামেন্টের কিছু সদস্য ড়্গোভ প্রকাশ করেছেন কারণ তার প্রাসাদের অন্তত ২৩টি রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফেতে যে মাংস খেয়েছেন, তা হালাল বলে নিশ্চিত হয়েছেন রদারহামের লর্ড আহমেদ বলেছেন, আমি মনে করি, বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে আমার মনে হয়, হালাল খাবারের সুযোগ থাকা উচিত উলেস্নখ্য, ২০১০ সাল সানডে মেইলের খবরে বলা হয়, গ্রাহকদের অজানেত্মই ওয়েস্টমিনিস্টারের বিভিন্ন স্কুল, হাসপাতাল এবং রেস্টুরেন্টে হালাল মাংস সরবরাহ করা হচ্ছে

ওয়েটরোজ, মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার, সেইন্সবুরি, টেসকো, সমারফিল্ড এবং কো-অপ'র মতো সুপারমার্কেটগুলোতে ভোক্তাদের না জানিয়েই হালাল মাংস স্টক করা হয় বলে ওই খবরে বলা হয় এছাড়া ডমিনাসের পিৎজা, পিৎজা হাট, কেএফসি, ন্যান্দোস এবং সাবওয়ে'র মতো ফাস্টফুডের দোকানগুলোতে খরিদ্দারদের না বলে হালাল মাংস সরবরাহ করা হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয় ইংল্যান্ডের চার্চের সদস্যরা বলেছেন, হালাল মাংস সরবরাহের মাধ্যমে গোটা ব্রিটেনে ইসলামিক শরিয়া আইন ছড়ানো হচ্ছে ব্রিটেনের হাউজ অব লর্ডস এবং হাউজ অব কমন্স'র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের রেস্টুরেন্টে এ ধরনের মাংস সরবরাহ করা হয় না চার্চ অব ইংল্যান্ডের সদস্য অ্যালিসন রউফ বলেন, পার্লামেন্ট সদস্যরা হালাল মাংস সরবরাহের অনুমোদন দেয় তিনি এ ঘটনার সমালোচনা করেন

 

সব ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাবে ইরান

 

সংলাপ

 

উপসাগরীয় এলাকায় নৌমহড়া চালানো-সংক্রান্ত প্রতিবেদন অস্বীকার করেছে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ নৌকমান্ডার তবে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সব ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাবে ইরান মাহমুদ মৌসাভি নামের ওই নৌকমান্ডার ইরানের ইংরেজি ভাষার প্রেস টিভিকে বলেছেন, ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সব ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া চালানো হবে' মৌসাভি বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতে ভূমি থেকে সমুদ্রে, সমুদ্র থেকে সমুদ্রে, ভূমি থেকে আকাশে এবং কাঁধে বহনযোগ্য সব ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করা হবে' তবে গত শনিবার ইরানের আধাসরকারি ফার নিউজ, প্রেস টিভি ও রাষ্ট্রীয় ইরনা নিউজ জানায়, উপসাগরীয় এলাকায় নৌমহড়া চালানোর সময় দূরপালার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে তেহরান ফার নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, ‘পারস্য উপসাগরে ইরান দূরপালার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে' পরমাণু ইস্যুতে ইরানের তেল রফতানির ওপর অবরোধ আরোপের হুমকি দেয় পশ্চিমারা এর পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়ার পাল্টা হুমকি দেয় একইসঙ্গে যেকোন বিদেশী হামলা প্রতিরোধে তেহরানের সক্ষমতা প্রমাণে শনিবার উপসাগরীয় এলাকায় ১০ দিনের নৌমহড়া শুরু করে ইরান এদিকে, ইরানের অপর একটি আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, পরমাণু আলোচনা শুরু করার জন্য তেহরানের পরমাণু মধ্যস্থতাকারীরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে একটি চিঠি লিখবে

 

কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাবে ২০১২ সাল

 

সংলাপ

 

বিশ্বে আরো অর্থনৈতিক দুর্ভোগের দোলাচলে ২০১২ সাল কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই যাবে বলে সতর্ক করেছেন ইউরোপীয় নেতারা অনেক অর্থনীতিবিদই নতুন বছরে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা করছেন আর ইউরোজোনও এখনো ঋণ সংকট কাটাতে লড়ে যাচ্ছে নতুন বছর উপলড়্গ্যে দেয়া বার্তায় ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মারকেল বলেন, কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মধ্যে পড়েছে ইউরোপ তবে ইউরোপ ধীরে ধীরে ঋণ সংকট কাটিয়ে উঠছে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, তুলনামূলকভাবে জার্মানির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভাল হলেও আগামী বছর (২০১২) সন্দেহাতীতভাবে ২০১১ সালের চেয়ে কঠিন হবে তিনি আরো বলেন, এ থেকে (ঋণ সংকট) বের হতে বিপত্তির মধ্য দিয়ে আরো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে তবে এ পথের শেষে ইউরোপ আগের মতো শক্ত অবস্থানে ফিরে যাবে ওদিকে, সংকট এখনও কাটেনি বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি আর ইতালির প্রেসিডেন্ট জর্জিও নাপোলিতানো আরো বেশি ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি বলেন, তরুণদের ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে আমাদের ত্যাগ করতে হবে আর এ লক্ষ্য ও প্রতিশ্রম্নতি আমরা এড়াতে পারবো না তিনি আরো বলেন, ইতালিকে অর্থনৈতিক ধ্বংসের মুখ থেকে ফেরাতে জনগণকে যে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে তা বৃথা যাবে না- বিশেষ করে অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করলে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ইউরোপীয় দেশগুলোর সরকার ব্যয় কমাতে বাধ্য হওয়ায় প্রবৃদ্ধি স্থবির হয়ে পড়েছে বিবিসি'র এক জরিপে দেখা গেছে, ২০১২ সালের প্রথমার্ধেই ইউরোপ আবার মন্দায় পড়তে পারে বলে শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন সেইসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় অর্থনীতির দেশগুলো ধারের টাকা শোধ দিতে পারবে না বলেও ধারণা করা হচ্ছে

 

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান

 

 

সংলাপ

 

 

উত্তর কোরিয়ার প্রয়াত রাষ্ট্রনায়ক কিম জং ইলের পুত্র কিম জং উনকে তাদের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ঘোষণা করা হল কিম জং ইলের স্মরণে অনুষ্ঠিত এক বিরাট জনসভায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার অলিন্দে বসবাসকারী নেতারা এই ঘোষণা করেন

গ্রান্ড পিপলস স্টাডি হাউসের বারান্দায় নত মস্তকে দাঁড়িয়ে কিম জং উন তার পিতার স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার প্রতি জনতার বিপুল সমর্থন লক্ষ্য করেন উনের পরণে ছিল ধূসর রঙের ওভারকোট

উনের প্রতি জনতার এই বিপুল সমর্থন প্রমাণ করেছে গত ১৭ ডিসেম্বর কিম জং ইলের মৃত্যুর পর পার্টি ও সেনাকর্তারা উনের প্রতি পূর্ণ আস্থা এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে

পিয়ংইয়ংয়ের প্রাণকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে উন যখন তার প্রতি জনতার বিপুল সমর্থন লক্ষ্য করছিলেন তখন গ্রান্ড স্টাডি সেন্টারের বারান্দায় উনের পাশে ছিলেন পার্টি ও সেনা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্তারা ছিলেন উনের ছোট বোন কিম কিয়ং হুই ও তার স্বামী জ্যাং সং থাকে শেষোক্ত দুজনেই তাদের ছোট্ট ভাইপোর অভিভাবক হিসেবে কাজ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে উন বয়সে তরুণ তার কম বয়স ও অনভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তা হল, পরমাণু শক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক শিবিরের উলটো দিকে এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় দাঁড়িয়ে যে দেশ তাকে নেতৃত্ব দিতে কতটা সক্ষম হবেন এই তরুণ!

দেশের প্রাণকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে উত্তর কোরিয়ার সংসদ সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেমব্লির প্রেসিডেন্ট অব প্রেসিডিয়াম কিম ইয়ং ন্যাম ঘোষণা করেন, শ্রদ্ধেয় কিম জং উন আমাদের দল, সেনা ও দেশের সর্বোচ্চ নেতা উনি কিম জং ইলের আদর্শ, নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা, চরিত্র ও সাহসের যথার্থ উত্তরাধিকারী

 

মৌলবাদ থেকে ধর্মীয় সংশোধনবাদ বনাম

অর্থনৈতিক আধিপত্যবাদের নৈরাজ্য - (৬)

 

 খালেদ মতিন

 

(পূর্ব প্রকাশের পর)

এরই মধ্যে তাদের সমাজ মনস্কতা কোন আলো থেকে অন্ধকারে নিড়্গিপ্ত হয়েছে, কে জানে? তুর্কি ভাষায়, আতাতুর্ক কথার অর্থ নাকি তুর্কিদের জাতির পিতা কিন্তু জাতীয়তাবাদী নেতাদের বক্তৃতা-বক্তব্য, জাতির জীবনে স্থায়ী ফলোদয় ঘটায় কতটুকু? প্রায় তিরিশ বছর আগে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে, জাতীয়তাবাদী নেতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রবর্তিত চারনীতির মধ্যে, ধর্মনিরপেক্ষতা ছিল অন্যতম তিরিশ বছর পর, সে আদর্শের কি পরিণাম? আফগানিস্তানে রুশ সমাজ অস্ত্র বিরোধী জিহাদের অবসান হল এখন সেখানে কোন্‌ জেহাদ? সৌদিআরব, ওমান, জর্দান, কাতার, প্রভৃতি আরববিশ্ব, রাজতন্ত্র ও মৌলবাদের যৌথশাসনে পরিচালিত অথচ আরব জাতীয়তাবাদের ন্যূনতম আদর্শের প্রমাণও তারা দিতে পারে না এ সুযোগেই, মার্কিন মদদপুষ্ট ইসরাইল আরবদের উপর ঝেঁকে বসেছে তারপরও নিজেদের মধ্যে আত্মকলহ এক দশক আগে, উপসাগরীয় যুদ্ধে, এর চরম বিস্ফোরণ এ সুযোগে, মার্কিন নৌবহর ঘাঁটি গেড়েছে ওমান উপসাগরে বস্তুত: মুসলিম বিশ্বের কূপমন্ডুক ধর্মীয় নীতি তাদের আত্মবিনাশ ডেকে এনেছে এদের একশ্রেণীর মানুষ, কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত বিধিবিধান, আক্ষরিক অর্থেই, আত্মবিশ্বাস প্রয়োগ করতে চায় অন্যান্য ধর্মে এরই যুগোপযোগী সংশোধন সম্ভব হয়েছে ইসলামে নয় মুসলিম রাষ্ট্রসমূহে, এখন তিনশ্রেণীর মানুষ রয়েছে

১) একদল মনেপ্রাণে মৌলবাদী আদশে বিশ্বাসী ২) মৌখিকভাবে এমনটি বললেও, তাদের নিজেদের পোশাক-আশাক, চাল-চলন কোন কিছুতেই এর সমর্থন মিলে না এরা দেশজ রাজনীতিতে, ধর্মভীরু অজ্ঞ জনগণকে ধোঁকা দিয়ে, ক্ষমতাদখলের স্বার্থেই এমনটি করে বর্তমানে, বাংলাদেশ, পাকিস্তানের মত দেশগুলোতে এ রাজনীতিরই জয়জয়কার এটি রীতিমত ধর্মপ্রষ্টতা ও ভন্ডামি ৩) ধর্মনিরপেক্ষ, প্রগতিবাদী আদর্শের সমর্থক একটি গোষ্ঠীও, এসব দেশে, দুর্লক্ষ্য নয় এমনকি, ক্ষমতাসীনতাও কখনো কখনো তাদের দ্বারা সম্ভব হচ্ছে

যেভাবেই বিবেচনা করা হোক, মৌলবাদ ও ধর্মীয় সংশোধনবাদ এর কোনটিই ধর্মীয় প্রভাবকে রাষ্ট্রনীতিতে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে না এ দুয়ের ব্যবধানটি মাত্রাগত প্রথমটি কোন অবস্থায়ই যুগের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে না দ্বিতীয়টি সে নিয়ম রক্ষা করে

অথচ রাজতান্ত্রিক আমল থেকেই, ধর্মপ্রভাবাশ্রিত রাষ্ট্রশাসন ব্যবস্থা, বুর্জোয়া পূঁজিবাদী শাসনের রক্ষাকবজ রূপে কাজ করেছে এখনো করছে মার্কিন নেতৃত্বে, পূঁজিবাদী বিশ্ব, মুসলিম বলয়ে, বিশেষভাবে ধর্মকে ব্যবহার করে এবং অন্যত্র অন্যান্য কূটকৌশল খাটিয়ে তার পূঁজিবাদী আগ্রাসন ব্যবস্থাকে ক্রমেই সুসমৃদ্ধ করছে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে, দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে ভিয়েতনামে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধাবস্থা, লাওসকম্বোডিয়াতে  সমাজতান্ত্রিক আদর্শে, উগ্রপন্থী ও মধ্যপন্থীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্ব, পানামায় গণতন্ত্র বিপন্নতার অজুহাতে তার সার্বভৌমত্বের উপর হস্তক্ষেপ করে, অবৈধ মাদক ব্যবসার খোঁড়া অজুহাতে রাষ্ট্রপ্রধান নরিয়েগাকে বন্দী করে মার্কিন কারাগারে নিক্ষেপ- এমন সব যুগাদর্শ বহির্ভূত, বীভৎস সব কর্মকা-ের সে হোতা সঙ্গে রয়েছে তার কিছু দৃশ্য ও অদৃশ্য সহযোগী

দেশে দেশে, মানুষের অজ্ঞতা, অশিক্ষা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অভাব এবং বিশেষত: ধর্মীয় মৌলবাদাশ্রিত কূপমন্ডুকতা, এমনকি ধর্মীয় সংশোধনবাদী নিয়মের সীমাবদ্ধতা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পূঁজিবাদী বিশ্বের প্রভাব বলয়কে লাগামহীন পাগলা ঘোড়ার মত, পৃথিবীর উত্তর থেকে দড়্গিণ ও পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত, যেখানেই সামান্য ছিদ্রান্বেষণের সুযোগ পেয়েছে, ছুটিয়ে চলেছে কোথাও যুযুধাম দুইপক্ষের কাছে অস্ত্র বিক্রয়, কখনো বিনিয়োগ, মুক্তবাজার অর্থনীতির অসম প্রতিযোগিতার যাঁতাকলে নিবিষ্টতা, দেশজ শিল্পায়ন ও উৎপাদনশীলতার সম্পূর্ণ রুদ্ধ করে, বুর্জোয়া পূঁজিবাদী বিশ্বের আদিঅন্ত বিকাশ ও পরিপুষ্টতা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক আধিপত্যবাদের নৈরাজ্য। (সমাপ্ত)

 

১৯৭১'এর গণমাধ্যম পরিস্থিতিঃ সংবাদপত্র - (২১)

 

(পূর্ব প্রকাশের পর)

শেখ উল্লাস ॥ 

 

ভুলবেন না, এদেশ আপনার আমার সকলের এ যুদ্ধ আমাদের সকলের স্বাধীন বাংলাদেশ ও বাঙারি জাতির অস্তিত্ব নির্ভর করছে আমাদের সকলের সক্রিয় সহযোগিতার উপর

ভবিষ্যত আমাদেরঃ কোন অস্ত্রের দ্বারা যুদ্ধে জয় লাভ করা যায় না আলজিরিয়াতে পরাজিত হয়েছে ফরাসীরা ভিয়েতনামে পরাজয়ের পথে প্রবল পরাক্রান্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক চেতনাসম্পন্ন একটি সুসংগঠিত জাতির কাছে কোন শক্তি  দাঁড়াতে পারে না

বিশ্ব জনমত আজ আমাদের পক্ষে আমরা আজ একা নই সমস্ত বিশ্বের শুভেচ্ছাকে সাথে নিয়ে আমরা জয়ী হব আমাদের সংগ্রামে। -জয় বাংলা

মানবতার ক্রন্দনরোলে কাঁপছে আল্লাহর অংশ কিন্তু কুম্ভকর্নদের ঘুম ভাঙবে কবে? শীর্ষক এক নিবন্ধে বলা হয়

-থোক থোক রক্তের উপর প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে স্বাধীন গণপ্রজাতান্ত্রিক বাংলাদেশ এই শিশুও নবগঠিত রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য, নির্মূল করার জন্য নরঘাতক জঙ্গী ইয়াহিয়া লেলিয়ে দিয়েছে তাকে হায়েনাদের সবুজ বাংলার শ্যামলা প্রান্তরে চলছে নির্বিচারে গণহত্যা, শিশু, নারী, বৃদ্ধ, যুবক-যুবতী কোন ভেদাভেদ নেই

তাব লীলায় ধ্বংস করছে সভ্যতাঃ পীঠস্থান শিক্ষাস্থানকে, মাজিয়ে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে মসজিদ মন্দির, জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে অর্থনৈতিক বুনিয়াদ, শিল্প-কারখানা, বিপনীকেন্দ্র আর এই বর্বর নাৎসি হামলার মর্মন্তুদ ঘটনাকে চাপা দেয়ার জন্য বুদ্ধিজীবী এবং সাংবাদিকদের করছে নিধন, ভস্ম করে দিয়েছে স্বাধীন সংবাদপত্র অফিসগুলো

সারা বাংলাদেশ আজ রণক্ষেত্র বাংলার মাঠে জ্বলছে আগুন বাতাসে তার রূঢ়তা, আকাশ অন্ধকারাচ্ছন্ন, আঃ চারদিকে ভীত, বিহবল ও আতঙ্কগ্রস্ত অসহায় মানুষের চিৎকারে বাংলাদেশ হয়ে পড়েছে প্রেতপুরী মানবতার এহেন অবমাননায় আল্লাহর আরশ হয়তো থর থর করে কাঁপছে - কিন্তু বিশ্বমানবতার এবং শান্তির সোল এজেন্ট জাতিসংঘের বৃহৎ রাষ্ট্রবর্গের ঘুম ভাঙছে না, বিবেক দংশিত হচ্ছে না

ডথান্ট সাহেব কি জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদের কথা ভুলে গিয়েছেন

মার্কিন সরকারের জেনে রাখা উচিত বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ তাদের অস্তিত্ব বজায় রাখার প্রয়োজনেই আজ মরণপন যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে মাঝখানে মার্কিন সরনের বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের পদ অবলম্বন না করে চিরকালের জন্য তাদের বন্ধুত্ব হারালেন-এই আমাদের দুঃখ

পাকিস্তানের জনসংখ্যার শতকরা ছাপ্পান্ন জনের বাস বাংলাদেশে ভৌগোলিক দিক থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের দূরত্ব বাংশত মাইল মর্ধবর্তী স্থানে ভারত অবস্থিত ভাষা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধন এবং আচার অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী এবং তথাকথিত পাকিস্তান সংহতির নামে বিগত তেইশ বছরে দড়্গিণ পাকিস্তানীরা বাংলাদেশকে শোষণ করেছে, গণতন্ত্রের গলা টিপে হত্যা করে রাজনৈতিক অধিকারটুকুও ছিনিয়ে নিয়েছে

৫৪ হাজার বর্গমাইল ভূমিকে তারা তাদের বাজারে পরিণত করে অতএব অর্থনৈতিক মুক্তি, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ও মানবিক মূল্যায়নের এই সংগ্রামকে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন বলে অভিহিত করা যায় না। ....

বাংলাদেশ যখন ইয়াহিয়া হায়নাদের ছোবলে ক্ষতবিক্ষত তখন রেডক্রস এগিয়ে এসেছিলো আর্তের সেবায়, কিন্তু সামরিক জানত্মা যেহেতু বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেননি সেহেতু তারা মানবতার সেবা করতে নিরস্ত রয়েছেন তা নিরস্ত রয়েছেন বলে জঙ্গীচক্রের মানব নিধনযজ্ঞ বন্ধ হয়নি বন্ধ হয়নি মানবতার ক্রন্দন প্রশ্ন রয়ে যায় রেডক্রসের দায়িত্ব কি শেষ হয়ে গিয়েছে?

মানবতার এই অবমাননা ও বৃহৎ শক্তি বর্গের এই ন্যাক্কারজনক পলায়নী মনোভাবের মধ্যেও সাড়ে সাত কোটি নিরস্ত্র নিরন্ন মানুষের যন্ত্রণা চিৎকারে সাহায্যের হস্ত প্রসারিত করে যারা নজির স্থাপন করেছেন, তারা হলেন বুদ্ধ, গান্ধী, নেহেরু, রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের মানব প্রেমিকতার আশীর্বাদপুষ্ট মহামানবের মিলন ক্ষেত্র ভারবতবর্ষ আর মহামতী লেলিনের আদর্শে পরিচালিত সোভিয়েত রাশিয়া বিশ্ব-মানব প্রেমিকরা এ দুটি রাষ্ট্রকে জানাচ্ছে প্রীতিসিক্ত সালাম।  ২৬ মে, ১৯৭১, ‘সাপ্তাহিক জয় বাংলা'র প্রথম পৃষ্ঠায় শেখ মুজিবের তিনটি বাণী তুলে ধরা হয়। (চলবে)

 

কোনও ধর্মকে প্রাধান্য দেয়া যাবে না - অমর্ত্য সেন

 

 

সংলাপ

 

নোবেলজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি চারটিতার মধ্যে অন্যতম হলো ধর্মনিরপেক্ষতা।  আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার সেকুলারিজমের সঙ্গে ইউরোপের মিল নেইতিনি বলেন, রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব সব ধর্মকে সমান গুরুত্ব দেওয়াকোনও ধর্মকে প্রাধান্য বা বিশেষ গুরুত্ব দেয়া যাবে নাএতে বিভেদ বাড়েতিনি বলেন, ইউরোপ-আমেরিকায় অসাম্প্রদায়িকতার ধরন ভিন্ন বলে তাদের ওখানে ঝগড়া-বিবাদ হয়কিন্তু বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় এর ধরন ভিন্নতরফলে এ অঞ্চলে ঝগড়া হয় নাগত শুক্রবার জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪০ বছর- একাত্তরের ভাবকল্প ও চার দশকের যাত্রা স্মারক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়াগল (সিপিডি), আইন ও সালিশ কেন্দ্র, প্রথম আলো এবং দ্য ডেইলি স্টার বাংলাদেশকে যারা এক সময় তলাবিহীন ঝুড়ি বলত, তারা আজ বাংলাদেশকে আদর্শ হিসেবে মানেএটা বাংলাদেশের বড় অর্জন অমর্ত্য সেন বলেন, পৃথিবীতে বাংলাদেশের সম্মান অনেক বেড়েছে

তবে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নারীর অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে হবেআর জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে হবেরাখতে হবে বলিষ্ঠ ভূমিকাকারণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীদের আরো বেশি সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক অমর্ত্য সেনতিনি বলেন, নারীর অংশগ্রহণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এগিয়ে চলেছে বিভিন্ন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ অনেক বেড়েছেবিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে নারীদের যে ভূমিকা রয়েছে তা বেশি করে প্রকাশ করা উচিত

অধ্যাপক অমর্ত্য সেন বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় অনেক কিছুই জানা যেতো না যা এখন সম্ভব মুক্তিবাহিনী এই যুদ্ধে জিতলোকী সামরিক কৌশলে জেতা হলো তা আলোচনা করা দরকার

 

আমেরিকা যুদ্ধ করে কেন?

 

সংলাপ

 

এখন থেকে কুড়ি বছর আগে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্ত হয়েছিলযার দুই বছর আগে বার্লিন ওয়াল ভেঙে ফেলতে দিয়েছিল সোভিয়েতঠান্ডা যুদ্ধ জিতেছিলো আমেরিকাসেই থেকে সামরিক শক্তির দিক থেকে সারা দুনিয়ায় আমেরিকার জুড়ি দ্বিতীয়টি নেই আমেরিকার পাইলটদের জন্য সম্মানসূচক খেতাব এইস' পেতে হলে যে পাঁচটি সুরক্ষা কৌশল জানতে হয়, সেটি দেখানোরও কোনো সুযোগ নেইকারণ, কোনো শত্রু বিমান আমেরিকার জেট বিমানের কাছে আসছে- এমন ঘটনা বিরল আমেরিকার নৌযুদ্ধের জাহাজ বহর এতো বিশাল যে, দুনিয়ার অন্য সাতটি দেশের জাহাজ বহর একসাথে হলেও তা আমেরিকার জাহাজ বহরের চেয়ে অনেক ছোটো হবে আমেরিকার বাইরে অন্য যে দুটি স্থলবাহিনী আছে দুনিয়ায়- সেই বৃটিশ ও ফরাসি সেনাবাহিনী একসাথে হলে তা আমেরিকার সবচেয়ে ছোটো সমর-শাখা মেরিন বাহিনীর চেয়ে অনেক ছোটো হবেঠান্ডা যুদ্ধ জিতে যে বহুল কথিত শান্তি' জিতেছিলো আমেরিকা, এই অদ্বিতীয় সমরশক্তির বদলে আমেরিকা কি সেই শান্তির সুফল তুলতে পারছে? এই সমরশক্তির বলে আমেরিকা কি আজ আগের চেয়ে শান্তিপূর্ণভাবে তার ইচ্ছা চরিতার্থ করতে পারছে দুনিয়া জুড়ে? অনেকের কাছে এ প্রশ্নের জবাব হলো হ্যাঁ'তারা বলেন, যুদ্ধ জিনিসটাই সেকেলে হয়ে গেছেকিন্তু এ জবাবটি সত্যের চেয়ে যত দূরে, তত দূরে আর কিছু নেইগত ২০টি বছর আমেরিকার মোট ইতিহাসের মাত্র দশ' শতাংশকিন্তু পুরো ইতিহাসে দেশটি যত যুদ্ধ করেছে, তার ২৫ শতাংশই করেছে এ ২০ বছরে১৮১৫ সালে নেপোলিয়নকে পরাজিত করার এবং সোভিয়েত বিলুপ্ত হবার পর পরাশক্তিগুলো প্রতি ছয় বছরে গড়ে একটি করে যুদ্ধ করেছেআর দুনিয়ার একক পরাশক্তি হবার পর থেকে আজ পর্যন্ত আমেরিকা তার জীবনের আর্ধেকখানিই কাটিয়েছে যুদ্ধ করে, ২২ বছরে ১২টি যুদ্ধে নিজেদের দাবি মেনে না নেয়ায় অনেক দেশের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে আমেরিকাএ যুদ্ধগুলো হচ্ছে কুয়েত (১৯৯১), কসোভো (১৯৯৯), আফগানিস্তান (২০০১-বর্তমান পর্যন্ত) ও ইরাক (২০০৩-বর্তমান পর্যন্ত) আমেরিকার সামরিক হুমকিতে সস্নাবোদান মিলোসোভিচ গুটিয়ে যাননি, তালিবানরা হাল ছেড়ে দেয়নি কিংবা সাদ্দাম সটকে পড়েননিঅথচ সোভিয়েত ইউনিয়ন বরাবরই আমেরিকার হুমকিকে সিরিয়াসভাবে নিতোপ্রচুর শক্তিসামর্থ্য থাকলেও সোভিয়েত পশ্চিম বার্লিনের দখল নেয়নি কিংবা কিউবা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র থেকে নিজের ক্ষেপনাস্ত্র সরিয়ে নিয়েছিল আমেরিকার হুমকিতে সোভিয়েত ভালস্নুক যেখানে আমেরিকার হুমকিতে সাবধান হয়ে যেতো, সেখানে এখনকার দ্বিতীয় সারির শক্তিগুলো কেনো থোড়াই কেয়ার করছে? এর দুটো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়১. আমেরিকা সামরিকভাবে খুব বেশি ছড়িয়ে পড়েছে২. সোভিয়েতরা শয়তানি' শক্তি হলেও যুক্তিবোধসম্পন্ন ছিল আর আজকের শত্রুরা যুক্তিবোধহীন আমেরিকার ইয়েল ইউনিভার্সিটির পলিটিকাল সায়েন্স বিভাগের অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর নুনো মন্টেইরো বলছেন, দুটো মতই ভুলনুনো ব্যাখ্যা দিচ্ছেন এভাবে: প্রথমত, আমেরিকার মাত্রাতিরিক্ত সমরশক্তি কিংবা দুনিয়াজোড়া সমরশক্তির ছড়িয়ে যাওয়াটাকে শত্রম্নরা যদি দুর্বলতা হিসেবে দেখে তবে তা সঠিক নাকারণ যখন আফগানিস্তানে আমেরিকা যুদ্ধরত- ঠিক একই সময়ে আমেরিকা পারমাণবিক শক্তি নেই এমন আরো একটা দেশকে চরমভাবে ধ্বংস করে দিতে পারেতারপরও আমেরিকার ক্ষতি হবে সামান্যই দ্বিতীয়ত, আগের শত্রুদের চেয়ে আমেরিকার এখনকার শত্রুরা মোটেও কম যুক্তিবোধসম্পন্ন নয়কিন্তু ক্রুশ্চেভ ও তার আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে থামিয়ে রাখতে পেরেছিলো যে আমেরিকা, সেই আমেরিকা কেনো উত্তর কোরিয়ার সেকেলে সব যুদ্ধাস্ত্র থামিয়ে দিতে পারছে না? ইরানের কথা না হয় নাই বলা হলোতবে কি আমেরিকার হুমকি'র মধ্যে সমস্যা? হুমকি কি অকার্যকর হয়ে গেছে? না ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিমান সামরিক বাহিনী নিয়ে আমেরিকার হুমকি এখনো ভয়াবহ রকম সাচ্চা হুমকিতার চেয়েও বড় কথা হলো, অন্য কোনো পরাশক্তি না থাকার কারণে দুনিয়ায় আমেরিকার হাত লম্বা হয়ে গেছেযেমনটি জানান দিয়েছিলেন পরাজিত ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারিক আজিজ উপসাগরীয় যুদ্ধে ইরাকের শোচনীয় পরাজয়ের পর তিনি বলেছিলেন, আমাদের এখন আর পৃষ্ঠপোষক নাই সোভিয়েতরা যদি এখনো আমাদের পৃষ্ঠপোষক থাকতো, তবে এমনটা ঘটতো না

ফলে আমেরিকার হুমকি দুর্বল কিংবা শত্রুরা যুক্তিবোধহীন; এটা সত্য নয়ঘটনা হচ্ছে, ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময় দুপক্ষের শক্তির ভারসাম্যে- ধ্বংস ও ধ্বংস করার ক্ষমতার ভারসাম্যে শান্তি রক্ষা হতোকোনো ধরনের উস্কানি ছাড়াই আমেরিকার তরফে আক্রমণ অকল্পনীয় ছিলকারণ সেটা চূড়ান্তভাবে আমেরিকাও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতো কিন্তু এখন সোভিয়েত রাশিয়া নাইআমেরিকার এখনকার শত্রুরা এতই কম শক্তিসম্পন্ন যে তারা এমনকি ওয়াশিংটনের দাবি মেনে নিতেও অসহায় বোধ করেতারা জানে যে, আমেরিকা সিদ্ধান্ত নিলেই একটা দেশ ধ্বংস করে দিতে পারেফলে তারা আমেরিকার কোনো দাবিই মেনে নিতে চায় না (যেমন পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করা), কারণ দাবি মেনে নিলে তারা আরো দুর্বল হয়ে যাবেএকারণেই ঠান্ডা যুদ্ধের পর এ পর্যন্ত এত এত গরম' যুদ্ধে জড়িয়েছে আমেরিকা