সৌদি
আরবে মানবাধিকার লঙ্ঘন বাড়ছে ফলে ইসলামী মূল্যবোধ কমছে।
একজন সৌদি রাজকুমারি অভিযোগ করেছেন,
তার
দেশ দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে,
দারিদ্র বেড়েছে এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।
লন্ডনে বসবাসরত প্রিন্সেস বাসমা বিনতে সৌদ বিন আব্দুর আজিজ ব্রিটিশ
গণমাধ্যমকে বলেছেন,
সৌদি আরবে যা ঘটছে সে ব্যাপারে তিনি আর চুপচাপ থাকবেন না।
তিনি সৌদি সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন,
ক্ষমতাসীন রাজ পরিবার ক্ষমতা ও সম্পদ কুক্ষিগত করে রেখেছে এবং সাধারণ
জনগণকে রাষ্ট্রীয় সম্পদের খুব কম অংশই ভোগ করতে দেয়া হচ্ছে।
প্রিন্সেস বাসমা বলেন,
সৌদি আরবে রাজ পরিবারের ২০০০ সদস্য রয়েছে যারা সমস্ত সম্পদের মালিক।
এদের কাছেই সব সম্পদ ও ক্ষমতা কুক্ষিগত।
দেশের কোন নাগরিক এ ব্যাপারে প্রতিবাদী শব্দ উচ্চারণ করার সাহস পায় না।
কারণ,
সমালোচনা করলে তাদের যতটুকু ভোগ করতে দেয়া হয়েছে,
তাও
কেড়ে নেয়া হবে।
সৌদি বাদশাহ আব্দুল্লাহর ভাতিজি বাসমা বিনতে সৌদ বলেন,
আপনি যদি দারিদ্রের কারণে চুরি করেন,
তবে
আপনার হাত কেটে ফেলা হবে।
কিন্তু আপনি যদি কোটিপতি হন,
তবে
আপনাকে কেউ কিছুই বলবে না।
রাজ
পরিবারের সদস্যদের সাত খুন মাফ করে দেয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
৪৭
বছর বয়সী এ সমাজকর্মী আরো বলেন,
আমাদের দেশে এমন অনেক মন্ত্রী রয়েছেন যারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন
করেন না।
কারণ,
সেখানে কোন কাজের জন্যই জবাবদিহীতার কোন বালাই নেই।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন
সংস্থা বহুবার সৌদি সরকারকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করেছে।
সৌদি আরব বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে মহিলাদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা
আরোপ করা হয়েছে।
সৌদি আইনে মহিলাদের গাড়ি চালাতে বাধা নেই বরং ওহাবি আলেমরা ধর্মীয় ফতোয়ার
মাধ্যমে তাদর গাড়ি চালানোর ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছেন।
এ
ছাড়া,
কোন
সৌদি নারীকে বিদেশে সফরে যাওয়ার আগে পিতা,
স্বামী,
ভাই
বা ছেলের লিখিত অনুমতি নিতে হয়।
চাকুরি করতে চাইলে এমনকি শারিরীক চিকিৎসার জন্য অস্ত্রোপচারের আগেও
নারীদেরকে তাদের কোন পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি নিতে হয়।