প্রবাহ

 

ফাতেমা তুজ জোহরা ॥

 

 

 

মনিপুর স্কুলে বাণিজ্যনীতি ও অভিভাবকদের মানব বন্ধন

 

শিক্ষামন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও রাজধানীর শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অতিরিক্ত ছাত্রছাত্রী ভর্তি, কোচিং বাণিজ্য ও ইচ্ছেমতো ফি আদায় বন্ধ হচ্ছে নাসরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নামিদামি প্রতিষ্ঠানগুলো অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়েই যাচ্ছেতারা নিজেদের মতোই করছেন সবকিছুস্কুল ও কলেজ পরিচালনা পরিষদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন অভিভাবকরা

দুএকটি এমপিওভুক্ত স্কুল ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভর্তি নীতিমালা অনুসরণের ঘোষণা দিলেও বেশিরভাগ শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানই এর তোয়াক্কা করছে নাউল্টো শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে দুএকটি প্রতিষ্ঠান ও পরিচালনা পরিষদের কর্মকর্তারাএর পাল্টা জবাবও দিচ্ছেন সচেতন অভিভাবকরাফলে নৈরাজ্য মহামারী আকার ধারণ করছেকিন্তু নীরব নির্বিকার শিক্ষা প্রশাসনতবে অভিভাবকরা হাল ছাড়তে নারাজএরমধ্যে সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে রাজধানীর মিরপুরে মিরপুরস্থ মণিপুর উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন অভিভাবকরাকিন্তু প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের দাবি আমলেই নিচ্ছে না

সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষিত : গত সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সভায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ রাজধানীর শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, সবাইকে অবশ্যই ভর্তি নীতিমালা-২০১১ মানতে হবেযারা মানবে না তাদের এমপিও বন্ধ, প্রয়োজনে স্বীকৃতি বাতিল ও পাবলিক পরীক্ষার অংশগ্রহণ করতে দেয়া হবে নাকেউ ভর্তিতে অতিরিক্ত ফি কিংবা ডোনেশন নিলে তা ফেরত দিতে বাধ্য করা হবে

কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর এ নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিভিন্ন শ্রেণীর শিক্ষার্থীর ভর্তি ফি ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছেসরকারের নিয়মকানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ক্যামব্রিয়ান স্কুল প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি ফি নিচ্ছে এক লাখ ২৫ হাজার টাকা মাইলস্টোন স্কুল নিচ্ছে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকাএছাড়া রাজধানীর ১০/১২টি প্রতিষ্ঠান নীতিমালা লংঘন করে অতিরিক্ত ফি নিচ্ছেএসব প্রতিষ্ঠানের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড মনিটরিংও করছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়

অভিভাবক ফোরামের বক্তব্য : অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু সংবাদকে বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ভর্তি নীতিমালা মানতে বাধ্য করতে হবেপ্রয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদ ভেঙে দিতে হবে অধ্যক্ষদের অপসারণ করতে হবেকেবল নির্দেশনা জারি করে বসে থাকলেই হবে না

তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশি তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে নামতিঝিল আইডিয়াল স্কুল, ভিকারুননিসা নূন স্কুল এবং মণিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অনৈতিক কর্মকাণ্ড তদন্তে গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (মাধ্যমিক) সহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিলকিন্তু সে কমিটির প্রতিবেদন আজও প্রকাশ পায়নি

এমপি এবং প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি : কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বাধ্য করে রাস্তায় নামিয়ে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে মানববন্ধনের আয়োজন করায় স্থানীয় এমপি কামাল আহমেদ মজুমদার ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের অপসারণের দাবিতে গত শনিবার মিরপুরে মানববন্ধন করেছে মণিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাতারা অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি, ডোনেশনের নামে অতিরিক্ত ফি আদায়, কোচিং বাণিজ্য বন্ধেরও দাবি জানিয়েছেন

অভিভাবকরা বলেন, মণিপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রথম শ্রেণীর বাংলা ভার্সনে ভর্তি ফি নিচ্ছে ২৫ হাজার ৪৪০ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি ফি নিচ্ছে ৩২ হাজার ৩৫০ টাকাঅথচ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি নীতিমালায় ভর্তি ফি সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নেয়ার কথা বলা হয়েছে

অভিভাবক রেহানা জানান, আমরা অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেনের অপসারণ চাই দুর্নীতির কারণে আমরা তার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছিযেকোন অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে প্রতিষ্ঠান থেকে টিসি দিয়ে বের করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে, ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি এমন শিক্ষার্থীকেও দ্বিতীয় মেধাতালিকায় উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছেএছাড়া এক বছরেই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেয়া বেতন ও ফির প্রায় ৯ কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে

তারা বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষের এ অমানবিক আচরণ তাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছেঅবিলম্বে বাড়তি টাকা নেয়া বন্ধ এবং যাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেয়া হয়েছে তা ফেরত দেয়ার দাবি জানান তারাএক অভিভাবক বলেছেন, তার সন্তান দ্বিতীয় শ্রেণীতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেকিন্তু টাকা অনেক বেশি হওয়ায় ভর্তি করাতে পারছেন না

মিরপুর-২ নম্বরে স্কুলের মূল ভবনের সামনে সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এ মানববন্ধনে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক অংশ নেন মানববন্ধন চলাকালে স্কুলের ফটকের সামনে অবস্থান নেন বেশকিছু পুলিশএছাড়া স্কুলের আশপাশে বিভিন্ন জায়গায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়

 

নমনীয় হচ্ছে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল : নতুন ভর্তি নীতিমালা ও সরকারি পরিপত্র মেনে ছাত্রছাত্রী ভর্তি ও ফি আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষগত বৃহস্পতিবার অভিভাবক ও ভর্তিচ্ছুক অভিভাকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেপাশাপাশি এক সপ্তাহ স্কুলে কোচিং কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ

এ বিষয়ে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য ও মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদার সংবাদকে বলেছেন, আমরা অভিভাবকদের আশ্বস্ত করেছি- গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত ছাড়া অতিরিক্ত ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হবে নাকারণ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শাখায় ছাত্রছাত্রীর জায়গার সংকুলান হচ্ছে নাবাড়তি কিছু ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হলে তা গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত নিয়ে সবাইকে জানিয়ে করা হবে

 

জালিয়াত চক্র মন্ত্রণালয়ে!

 

সরকারের হাজার কোটি টাকার বাড়ির ফাইল প্রতিনিয়ত গায়েব হচ্ছেসরকারি সম্পত্তি দখলের কৌশল হিসেবে এক শ্রেণীর কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব সম্পত্তির ফাইল গায়েব করে দিচ্ছে একটি চক্রপরে তারা সম্পত্তির ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এর দাবিদার সেজে হাইকোর্টে রিট করছেআর এ রিটের বিপরীতে যখন সরকার সম্পত্তিগুলোর প্রয়োজনীয় ফাইল দাখিল করতে পারছে না, তখন রায় চলে যাচ্ছে ওই জালিয়াত চক্রের হাতেআর এটিকে পুঁজি করে তারা দখলে নিচ্ছে সরকারি হাজার কোটি টাকার সম্পত্তিসমপ্রতি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক তদন্তে এ ফাইল গায়েবের চিত্র ফুটে উঠেছেতদন্তে দেখা গেছে, সরকারি পরিত্যক্ত বাড়ি সংক্রান্ত মামলার ফাইলই বেশি গায়েব হয়েছেসমপ্রতি প্রায় ১০০ বাড়ির মামলা সংক্রান্ত ফাইলের খোঁজ মিলছে নাএর মধ্যে রয়েছে- মোহাম্মদপুরের হুমায়ুন রোডের বি ব্লকের ৬/২৪ নং বাড়ি, মোহাম্মদপুরের শাহজহান রোডের সি ব্লকের ২/২, মোহাম্মদপুরের বি ব্লকের হুমায়ুন রোডের ১/১৯, পল্লবীর ২৪/৪, ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকার ৪/এ, পল্লবীর ৩ নম্বর রোডের ৫ নম্বর বাড়ির ফাইলসরকার এ বাড়িগুলো নিয়ে মামলায় এগোতে পারছে না প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলা মোকাবেলার জন্য ফাইল আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর অফিসে পাঠানোর পর আর তার হদিস মিলছে নাতবে সলিসিটর অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক ফাইল তারা চেয়েও পাচ্ছে না মন্ত্রণালয়গুলোর কাছেতাদের কাছে যেসব ফাইল আসছে তা আবার ফেরত দেয়া হচ্ছেএর বেশিরভাগই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে গায়েব হচ্ছে বলে জানান সলিসিটর অফিসের এক কর্মকর্তা

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একধরনের জালিয়াত চক্র সরকারি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকা বের করছেপরে তারা ওই বাড়ি দখল করতে তাদের পক্ষে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করছেপাশাপাশি এ বাড়ি সংক্রান্ত যেসব মূল কাগজ সরকারের কাছে রয়েছে তা গায়েব করতে তারা সংশ্লিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করছেএভাবে সংশ্লিষ্ট শাখার দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে ফাইল গায়েব করে দিচ্ছে

এ ব্যাপারে গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব খন্দকার শওকত সমকালকে বলেন, যেসব বাড়ির ফাইল পাওয়া যাচ্ছে না সেগুলোর ব্যাপারে ভালো করে খোঁজ নেয়া হচ্ছেএটি না পেলে বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছেআর ফাইল গায়েবের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরও বের করতে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছেকারও বিরুদ্ধে ফাইল গায়েবের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ (৬)-এর মাধ্যমে দেশের প্রায় সাড়ে ১২ হাজার বাড়ি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়মূলত ওই সময় যেসব বাড়ির মালিকদের পাওয়া যায়নি এবং বাড়ির মালিক হিসেবে কেউ দাবি করেননি, সেসব বাড়িই পরিত্যক্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়পরে পরিত্যক্ত বাড়িগুলো বিভিন্ন মূল্যে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে বিক্রি করা হয়আবার নামমাত্র মূল্যে কাউকে দান করা হয়পরে আশির দশকে একটি গোষ্ঠী নিজেদের সরকারি কিছু বাড়ির দাবিদার হিসেবে ঘোষণা করেএমন পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ১৯৮৫ সালে পরিত্যক্ত সম্পত্তি আইন প্রণয়ন করেআইন অনুযায়ী পরিত্যক্ত সরকারি বাড়িগুলোর বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়গেজেট প্রকাশের পর আইন অনুযায়ী কোর্ট অব সেটেলমেন্ট স্থাপন করা হয়বলা হয়, পরিত্যক্ত বাড়িগুলোর কেউ দাবিদার হলে তিনি গেজেট প্রকাশের ১০৮ দিনের মধ্যে কোর্ট অব সেটেলমেন্টে মামলা করতে পারবেনএ আদালত তাদের মামলা বিবেচনায় এনে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত রায় দেবেন; কিন্তু ওই সময় কোর্ট অব সেটেলমেন্টে বাড়ির দাবিদার হিসেবে যেসব মামলা করা হয় তার বেশিরভাগই মিথ্যা বিবেচিত হয়পরে সরকারিভাবে যাদের কাছে পরিত্যক্ত বাড়ি বিক্রি করা হয় তাদের ডিমান্ড নোট দেয়া হয়; কিন্তু এসব বাড়ির দাবিদাররা সরকারের এ সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে বাড়ি দাবি করে সরকারের বিপক্ষে হাইকোর্টে রিট করেএর বেশিরভাগ মামলায় তারা হেরে যায় আবার কিছু মামলা এখনও চলমান; কিন্তু পরবর্তী সরকারের আমলে ক্ষমতা গ্রহণের পর এসব জালিয়াত চক্র বাড়ি স্থায়ীভাবে দখলে রাখার কৌশল নেয়তারা বিভিন্ন কর্মকর্তার যোগসাজশে ফাইল গায়েবের অভিযানে নামেএতে তারা অনেকটাই সফল হয়

আর ফাইল গায়েবের কারণে বর্তমানে শ খানেক পরিত্যক্ত বাড়ি এখন সরকারের হাতছাড়া হওয়ার জোগাড় হয়েছেএমন একটি মোহাম্মদপুরের হুমায়ুন রোডের বি বস্নকের ৬/২৪ নং বাড়িটি স্বাধীনতার পর সরকার এটিকে পরিত্যক্ত হিসেবে ঘোষণা করেপরে এক মুক্তিযোদ্ধার কাছে বিক্রির জন্য ডিমান্ড নোট দেয়া হয়; কিন্তু পরে জাল দলিল তৈরি করে বাড়িটি দখলে নেয় জনৈক ব্যক্তিতিনি বাড়িটি দীর্ঘদিন দখলে রেখেছেন, কিন্তু এ বাড়ি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ফাইল না থাকায় সরকারও এটির ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে পারছে নাফাইলটি কবে গায়েব হয়েছে তাও নির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়এমন আরেকটি বাড়ি মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের সি বস্নকের ২/২ নং বাড়িএ বাড়িটিরও ফাইল পাচ্ছে না সরকারেরফলে বাড়ি দুটি সরকারের হাতছাড়া হয়েছে

এ ছাড়া অনেক বাড়ি রয়েছে যার মামলা চলাকালেও ফাইল গায়েব হয়ে গেছেএমন একটি বাড়ি মোহাম্মদপুরের বি বস্নকে হুমায়ুন রোডের ১/১৯ স্বাধীনতার পর এ বাড়িটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সরকারপরে ১৯৭৩ সালে সরকার বাড়িটি শহীদ জহির রায়হানের স্ত্রী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সুমিতা দেবীকে ডিমান্ড নোট দেয়পরে বায়নাসূত্রে মালিক দাবিদার পারভেজ আলম নিম্ন আদালত থেকে রেজিস্ট্রি করে হাইকোর্ট বিভাগে রিট করেন সরকারপক্ষের অবহেলায় রায় তার পক্ষে যায়সুমিতা দেবীর মৃত্যুর পর মোহাম্মদপুরের সুরুজ মিয়া বাড়িটি জোর করে দখল করে নির্মাণ কাজ শুরু করেন মন্ত্রণালয় গত বছর তার নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপিল বিভাগে সিপিএলএ দায়ের করে; কিন্তু এখনও যখন আপিল বিভাগ থেকে বাড়িটির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে তা দাখিল করতে পারছে না সরকারএ ফাইলটিও গায়েব হয়ে গেছেফলে এ বাড়িটিও সরকারের হাতছাড়া হতে যাচ্ছে

 

পাথরের পালঙ্ক

 

কালো গ্রানাইট পাথরে তৈরি একটি খাট পরিব্রাজক হিসেবে স্বামী বিবেকানন্দ যখন দক্ষিণ ভারতে এসেছিলেন তখন কেরলে তৎকালীন দেশীয় রাজ্য ত্রিবাঙ্কুরে আতিথ্য গ্রহণ করেছিলেন সে সময়কার বিখ্যাত পণ্ডিত মনোনমনিয়াম সুন্দরম পিল্লাইয়ের গৃহেসেই ১৮৯২ সালে এই পণ্ডিতের গৃহে থাকার সময় বিবেকানন্দকে শুতে দেয়া হয়েছিল এই পাথরের পালঙ্কটিতে১১১ বছর ধরে সম্পদ হিসেবে ওই গ্রানাইট পালঙ্কটি যত্নে রেখে দিয়েছিলেন ওই পণ্ডিতের বংশধরেরাস্বামী বিবেকানন্দের সার্ধশতবর্ষ জন্ম দিবস উপলক্ষ্যে পাথরের এই পালঙ্কটি ওই পরিবার তুলে দিল ভারতীয় বিচার কেন্দ্রম নামে একটি সংস্কৃতি সংগঠনের হাতে উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণের জন্যপণ্ডিত পিল্লাইয়ের বংশধর পি এস রামস্বামী গত সোমবার ভারতীয় বিচার কেন্দ্রমের ডিরের পি পরমেশ্বনের হাতে পালঙ্কটির অধিকারপত্র তুলে দিয়েছেন১২ জানুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দের সার্ধশতবর্ষের জন্ম দিবসের আগের দিন ১১ জানুয়ারি কারাকুলাম শহরতলি থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে পাথরের পালঙ্কটি নিয়ে আসা হবে তিরুবনন্তপুরমে ভারতীয় বিচার কেন্দ্রমে বিবেকানন্দের ব্যবহৃত পাথরের খাটটির কথা সেভাবে কেউ জানতেন না১১১ বছর আগে ত্রিবাঙ্কুর সফরে বিবেকানন্দ চট্টম্পি স্বামীকাল, শ্রীনারায়ণগুরু-সহ সেকালের জ্ঞানী-গুণীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেনসখ্য গড়েছেনতবে কেরলের জাতপাত দেখে ব্যথিত ক্ষুব্ধ বিবেকানন্দ মন্তব্য করেছিলেন, তাঁর বিখ্যাত উক্তি, কেরল উন্মাদের আশ্রমকেরল থেকেই বিবেকানন্দ গিয়েছিলেন কন্যাকুমারীকায়

 

ভাড়া করা জমিতে

 

রাজধানী লাগোয়া নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজার উপজেলার পাল্লা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে দাঁড়ালেই দেখা যায় বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বড় বড় সাইনবোর্ডবেস্টওয়ে ইকো ভিলেজ, পূর্বাচল বেস্টওয়ে সিটি ইত্যাদিএসব সাইনবোর্ডে মন ভোলানো স্লোগান, আপনার সবুজ পৃথিবী, জীবনের প্রয়োজনেকৃষিজমি, জলাশয় বা খালের পাড় ঘেঁষে ইট-সুরকির খুঁটির ওপর বিশাল আকৃতির এসব সাইবোর্ড শোভা পাচ্ছেএকই রকম দৃশ্য দেখা যায় রূপগঞ্জের ছনপাড়া-মীরেরবাজার সড়কের স্বর্ণখালী বাজারের পাশে দাঁড়ালেসেখানে বেস্টওয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পূর্বাচল আমেরিকান সিটির অসংখ্য সাইনবোর্ডজলভূমির ভেতর বসানো এসব সাইনবোর্ড দেখে মনে হয়, এই বিস্তীর্ণ এলাকার সব জমির মালিক বুঝি এসব আবাসন প্রতিষ্ঠানইকিন্তু অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাস্তবতা ভিন্নভাড়া নিয়ে বা দু-তিন কাঠা জমি কিনে স্রেফ ওই জায়গার ওপরই বসানো হয়েছে এসব সাইনবোর্ডবাকি সব জমি স্থানীয় বাসিন্দাদেরঅন্যের জমিতে নিজেদের প্রকল্প জাহির করছে তারা

এভাবে কেবল সাইনবোর্ড বসিয়ে প্রকল্প এলাকার নানা ফিরিস্তি দিয়ে প্লট বিক্রি করে যাচ্ছেন ভুঁইফোঁড় অসাধু আবাসন ব্যবসায়ীরাসারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে এসব জায়গায় প্লট বুকিং দিয়ে সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসছে সাধারণ মানুষআদতেও প্লট পাবে কি না সেটাও অনিশ্চিত চোখধাঁধানো উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের কথা শুনিয়ে আসছে তারাঅথচ এসব প্রকল্পের কোনো বৈধ অনুমোদনই নেই

রাজউক বোর্ডের সদস্য (পরিকল্পনা) শেখ আবদুল মান্নান বলেন, এর আগে এ ধরনের বেশ কিছু অবৈধ প্রকল্পের সাইনবোর্ড উচ্ছেদ করা হয়েছে ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রকল্পের সাইনবোর্ড উচ্ছেদ করা হবেতিনি জানান, পূর্বাচল প্রকল্প এলাকার পাশ দিয়ে এ ধরনের বেশ কিছু নামসর্বস্ব প্রকল্প গজিয়ে উঠেছেএটা রাজউকেরও মাথায় আছে

পাঁচ বিঘাতে বেস্টওয়ের ১৫০০ বিঘার প্রকল্প : সমপ্রতি আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা নামসর্বস্ব আবাসন ব্যবসায়ীদের ছলচাতুরির নানা চিত্রআড়াই হাজারের পাল্লা মৌজার বাসিন্দারা জানায়, এখানে চাত্তার ভুঁইয়ার ছেলে এমদাদ ভুঁইয়ার কয়েক বিঘা জমি ছিলএমদাদ ভুঁইয়ার সঙ্গে বেস্টওয়ে প্রকল্প নিয়েছে- বেস্টওয়ে ভুঁইয়া ল্যান্ড ও  বেস্টওয়ে ইকো ভিলেজ নামেকয়েকশ বিঘা জমির জায়গায় জায়গায় দু-তিন কাঠা জমি কিনে বা দখল করে সেখানে এসব প্রকল্পের সাইনবোর্ড বসিয়েছে বেস্টওয়েকিছু নিরীহ লোকজনের জমিও দখল করেছে তারাজানা গেছে, সব মিলিয়ে তাদের এ প্রকল্পে জমির পরিমাণ  হবে ১৫ বিঘাঅথচ সেখানে তারা দেড় হাজার বিঘা জমিতে আবাসন প্রকল্পের কাগজপত্র দেখিয়ে সাধারণ গ্রাহকের কাছে জাহির করছেএই প্রকল্পে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, খেলার মাঠসহ উন্নত নাগরিক জীবনের সব কিছু যেন উপচে পড়বেআর এসব কথা বলে প্লটও বিক্রি করে চলেছে দেদারআছে কিস্তি ও এককালীন মূল্য পরিশোধের ব্যবস্থাআগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্লট বুঝিয়ে দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেয়া হচ্ছে

কিন্তু স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যে পরিমাণ জমিতে সাইবোর্ড দেখিয়ে প্লট বিক্রি করছে বেস্টওয়ে, এর এক আনার মালিকও বেস্টওয়ে নয়এসব জমি সাধারণ মানুষেরএ ধরনের একটি সাইনবোর্ডের নিচে দেখা গেল কৃষকদের ধান রোপণ করতেওই জমির মালিক স্থানীয় নজমুদ্দিন ভুঁইয়াতিনি বলেন, এই জমি আমারআর পাশে যে সাইনবোর্ডটা দেখছেন, এই দুই কাঠা কিনে সাইনবোর্ডটা বসিয়েছে ওরা

স্থানীয় বাসিন্দা ফকির আবদুল জব্বার শাহবাজ বলেন, পাল্লা মৌজার ১৪ ও ৬৮ নম্বর দাগের জমির মালিক আমিওই জমি বেস্টওয়ে দখল করে নিয়েছেআমি তিনটি উকিল নোটিশ পাঠিয়েছি

আসাদ আলী মোল্লা নামের আরেক বাসিন্দা জানান, ‘আমারও ৭৫ শতাংশ জমি ওইভাবে দখল করে নিয়েছেআগেও ওরা কিছু সম্পত্তি দখল করেছেকিন্তু গরিব মানুষরা সেটা বলতেও সাহস পায় নাএকইভাবে নূর ইসলামেরও কিছু জমি জোর করে দখল করেছে তারা

সিদ্দিক ভুঁইয়া বলেন, ওরা মাঝেমধ্যে স্থানীয় লোকজনকে জমি বেচার জন্য চাপ দেয় একপর্যায়ে অনেকে বাধ্য হয়আজিজুল ইসলাম নামের একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘এখানে বেস্টওয়ে ছাড়া কারো কাছে জমি বিক্রি করার উপায় নেইঅন্য কারো কাছে বিক্রি করলে ভূমি অফিস রেজিস্ট্রি করে দেয় নাভূমি অফিসের সঙ্গে ওরা যোগসাজশ করে রেখেছে একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে টাকার প্রয়োজনে ৩৮ শতাংশ জমি বিক্রি করেছি বিঘাপ্রতি মাত্র ১৫ লাখ টাকা দরেঅথচ এখানে এক বিঘা জমির দাম আছে ৮০ লাখ টাকা

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যেসব জায়গায় বেস্টওয়ে তাদের প্রকল্পের সাইবোর্ড বসিয়েছে, এই শুল্ক মৌসুমেও তার  অনেক স্থানে পানি রয়েছেএকটি খালের ভেতরও বসানো হয়েছে একাধিক সাইনবোর্ডফুল ফুটে থাকা শর্ষেক্ষেতেও রয়েছে অনেক সাইনবোর্ডস্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, এই এলাকার সব জমি বছরের সাত-আট মাস পানির নিচে থাকেবছরে একটা ফসল হয় বন্যাপ্রবণ এসব এলাকায় আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা জলাধার আইনের লঙ্ঘন

ভাড়া জমিতে পূর্বাচল আমেরিকান সিটি : রূপগঞ্জের প্রায় চার-পাঁচ হাজার একর জমির বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে পূর্বাচল ইউএস বাংলা অ্যাসেটস লিমিটেড নামের একটি নামসর্বস্ব আবাসন কোম্পানিকিন্তু ভাড়া নিয়ে জমির মালিকের সঙ্গে ঝগড়া হওয়ায় কিছু সাইনবোর্ডের নিচের দু-এক কাঠা কিনে নিয়েছে তারাকিন্তু এসবের আশপাশে রয়েছে আরো কিছু আবাসন প্রকল্পের সাইনবোর্ডপ্রতিটি সাইনবোর্ডই নিচু জমিতেবছরের আট মাস এসব জমি থাকে পানির নিচেএই শুল্ক মৌসুমে দু-একটি নৌকাও দেখা যায় শিশু-কিশোরদের মাছ ধরার দৃশ্যও দেখা গেছে

রূপগঞ্জের পুবেরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা গিয়াসউদ্দিন বলেন, আশপাশের জমিতে অন্তত ১০০ সাইনবোর্ড আছে আমেরিকান সিটির নামেঠিক যেটুকুর ওপর সাইনবোর্ড, ওই জমিটুকুই হয়তো তাদেরআগে ভাড়া নিয়ে সাইনবোর্ড বসাত, এখন হয়তো ওইটুকু কিনেছে

গুতুলিয়ার বাসিন্দা হারুন মিয়া বলেন, এসব একফসলি জমিতে আমেরিকান সিটির সাইনবোর্ড থাকলেও মালিক আশপাশের বাসিন্দারাঅথচ এসব জমিই ওরা ক্রেতাদের কাছে নিজেদের প্রকল্প এলাকা হিসেবে দেখাচ্ছে এবং বলছে আমেরিকান স্টাইলে এখানে সব কিছু হবে

ভোলাবোর আলমাস মোল্লা বলেন, একসময় একটা জমিতে সাইনবোর্ড বসানোর জন্য বছরে আমাকে পাঁচ হাজার টাকা ভাড়া দিত ওরাআমিও অনেককে এভাবে ভাড়া দেয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিকিন্তু কোম্পানির সঙ্গে ঝামেলা হওয়ায় এখন আমি আর এসবের মধ্যে নেই

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রূপগঞ্জের চরপাড়া এলাকায় একটি অফিসও করেছে আমেরিকান সিটিসেখানে গিয়ে কথা বলতেই নিরাপত্তাকর্মীরা বলেন, এখানে কেউ নেইঢাকার বারিধারায় তাদের অফিসে গেলে সেখান থেকে গাড়িতে করে নিয়ে এসে প্রকল্প এলাকা ঘুরিয়ে দেখিয়ে নিয়ে যাবেসেখানে যোগাযোগ করুন

বেস্টওয়ে গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেস্টওয়ে ফাউন্ডেশন লিমিটেডের ডেভেলপমেন্ট পার্টনার কামাল হোসেন বলেন, অনেকে অনেক কথা বলেকিন্তু আমাদের প্রকল্পে যদি প্লট নেন, তাহলে কেউ ঠকবে না, এটুকু শুধু বলতে পারি

ইউএস বাংলা অ্যাসেটস লিমিটেডের পূর্বাচল আমেরিকান সিটি প্রকল্পের নির্বাহী কর্মকর্তা (মার্কেটিং) মো. রনি বলেন, ‘অন্যদের মতো আমরা সাইনবোর্ড ব্যবহার করি নাওই প্রকল্পে আমাদের সাড়ে ছয় হাজার বিঘা জমি আছেযেকোনো এলাকায় একবারে তো বেশি জমি কেনা যায় নাযখন যেটুকু পাওয়া যায়, সেটা আমরা কিনে রাখছিপাশাপাশি প্রকল্পের কাজও চলছেবর্তমানে আমরা প্রতি কাঠা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দরে বিক্রি করছি

 

পৃথিবীর ছাদ

 

পামির মালভূমি বা যাকে পৃথিবীর ছাদ বলা হয় তা পুনরায় নিউক্লিয়া পদার্থবিদ্যা গবেষণার প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছেঠিক ৪০ বছর পূর্বে তাজিকিস্তানের পূর্বাঞ্চলে পামির-চাকালতাই নামে একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার তৈরী হয়েছিলএখানেই ১৯৯২ সাল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি গবেষণা চলানো হয়কিন্তু রাজনৈতিক ঘটনাবলী যেমন- সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন এবং তাজিকিস্তানে গৃহযুদ্ধের কারণে পরবর্তিতে গবেষণার কাজ বন্ধ হয়ে যায়তবে আশার কথা হচ্ছে, ২ বছর পূর্বে রুশি ও তাজিক পদার্থবিদদের কল্যাণে পুনরায় ওই গবেষণাগার প্রাণ ফিরে পেয়েছেপৃথিবীর ছাদ নিয়ে এখন ওই গবেষণা কেন্দ্রে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন

১৯৭২ সালে তাজিকিস্তানের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ী অঞ্চল মুরগাবস্কের পামির এলাকায় মহাকাশের সূক্ষ কণাদের মাঝে পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর পরীক্ষা চালানোর জন্য বিশাল একটি এলাকায় গবেষণাগার তৈরী হয়ওই সময়ই কেন্দ্রটি বৃহৎ এক্সরে ক্যামেরা যন্ত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল যা গবেষণা পরবর্তি ফলাফল লিপিবদ্ধ করার কাজে ব্যবহার হত মহাবিশ্বে ঘটে যাওয়া প্রশ্নের পরীক্ষা করতে মূলত এই কেন্দ্রে ইউরোপের মধ্যে সবার প্রথম বৃহৎ হার্ডন কোলাইডার স্থাপিত হয়এ বিষয়ে তাজিকিস্তান বিজ্ঞান একাডেমির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হাকিম আহামেদভ বলেন, বর্তমানে এই কেন্দ্র স্থাপিত সূক্ষ কণা থেকে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১২ ইলেকট্রন ভোল্ট বিদ্যুত শক্তি উৎপাদন করেমহাকাশ থেকে ওই সব কণা অনেক জোর গতিতে আসছে এবং উচ্চতায় এর শক্তি অনেক বেশী থাকেএর মানে হচ্ছে, উচ্চতা যত বেশী হবে ততই এর শক্তি বাড়বেবিশেষ ক্যামেরার সাহায্যে ওই কণার সর্বোচ্চ শক্তি অবস্থানগত দিক দিয়ে উঁচুতে থাকাকালিন রেকর্ড করা সম্ভব

সাদামাটা পামির-চাকালতাই গত ২০ বছরে বিশাল গবেষণা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেতবে সময়ের চাহিদা পূরণ করার তাগিদেই এই কেন্দ্রকে ঢেলে সাঁজানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছেএখনও অনেক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি কিনতে হবেপামিরের চমৎকার আবহাওয়া যা জ্যোতি-পদার্থবিদ্যা ও জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণার এক উত্তম স্থান তাজিকিস্তান বিজ্ঞান একাডেমির প্রেসিডেন্ট মামাদশো ইলোলোভ এ কথার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পামির-চাকালতাই একসাথেই বিজ্ঞানের বেশ কয়েকটি নতুন শাখার প্রাণ দিতে পারে

মহাকাশের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ এবং এ বিষয়ে পূর্বাভাস দেয়ার কাজ এই কেন্দ্র থেকেই করা সম্ভববিশেষ করে এই কেন্দ্রে এষ্ট্রো-বায়োলোজি ও মহাকাশ শক্তির ওপর গবেষণা পরিচালনার অনেক সুযোগ রয়েছেইলোলোভ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী ভবিষ্যতে পামিরের পাহাড়গুলোতে নতুন বিজ্ঞানের সূচনা হবে

রাশিয়া ও তাজিকিস্তান পামির-চাকালতাই কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতাতবে দুই পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তিপত্রে অন্যান্য দেশও যোগ দিতে পারবে এক্ষেত্রে বলা যেতে পারে সোভিয়েত ইউনিয়নের কথাওই সময় এ ধরনের গবেষণায় ব্রাজিল, পোল্যান্ড, জাপান ও বলিভিয়াসহ ৮টি দেশ অংশ নিয়েছিলতবে এখন পর্যন্ত পামিরে গবেষণা কাজে যোগ দেয়ার ইচ্ছা জানিয়েছে কাজাকিস্তান, বেলারুশ ও পোল্যান্ড

 

ইয়াবার সর্বনাশী থাবা

 

চমকে ওঠার মতো তথ্য-বাংলাদেশে ইয়াবা সেবনকারীর সংখ্যা ১৫ লাখেরও বেশিআরো আশঙ্কাজনক তথ্য হচ্ছে-এই সংখ্যা দিন দিন লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছেএকাধিক সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে নানা অপকৌশলে ইয়াবার ফাঁদে জড়িয়ে ফেলছে তরুণ-তরুণীদেরএদের একটি বড় অংশ অভিজাত ও ধণাঢ্য পরিবারের বখে যাওয়া ছেলেমেয়েএর মধ্যে রয়েছেন ইংরেজি মাধ্যমের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাওসরকারের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আর ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারাও এই ভয়াবহ অবস্থা নিয়ে শুধু উদ্বিগ্ন নন, রীতিমতো আতঙ্কগ্রস্ততাঁদের মতে, দ্রুত এই পরিস্থিতি প্রতিরোধ করা না গেলে দেশে ভয়াবহ মাদক বিপর্যয় দেখা দেবেপুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কিছু চিত্র দেখলেই ইয়াবার ভয়াল থাবা কতটা ছড়িয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ২০০৭ সালে ইয়াবা ট্যাবলেট আটক করেছিল ৪৮৩টি২০০৮ সালে আটক হয় আট হাজার ১৮৪টিতার পরের বছর চার হাজার ৫১টি২০১০ সালে হয় ১৪ হাজার ৪৫৮টি, আর গত বছর শুধু র‌্যাবের অভিযানেই প্রথম চার মাসে উদ্ধার হয়েছে ১৫ হাজার ৪৮১টিআইন প্রয়োগকারী সব সংস্থার হিসাব মেলালে তথ্যচিত্র আরো ভয়াবহচলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তিন লক্ষাধিক ইয়াবাসহ সহস্রাধিক ইয়াবা ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হয়েছেএর মধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে সাত শতাধিক এবং র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছে ৩৩৪ জনকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শতাধিক কোস্টগার্ড ও সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৭৮ হাজার ৭৪৫টি ইয়াবাসমপ্রতি মিয়ানমার থেকে জেলে সেজে সমুদ্র পথে ইয়াবা নিয়ে আসার সময় কোস্টগার্ডের হাতে আটক ছয় মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৬ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়

ইয়াবা কী : মেথামফিটামিন নামক এক ধরনের স্নায়ু উত্তেজক মাদকের সঙ্গে মরফিন কিংবা সিডেটিভ বা ট্র্যাংকুইলাইজার জাতীয় মাদক মিশিয়ে তৈরি হয় ককটেল জাতীয় এই ট্যাবলেটথাই শব্দ ইয়ার যার অর্থ উত্তেজক, আর বাহ যার অর্থ ওষুধএই দুটি শব্দের সংযোজন ঘটিয়েই এর নামকরণ করা হয়েছে ইয়াবাএর রং গোলাপি, লালচে, কমলা, সবুজাভ এবং সাদাও হয়ে থাকেআবার কোথাও কোথাও পাউডার আকারেও ইয়াবা মিলছে

কোথা থেকে আসে : বাংলাদেশে যে ইয়াবা পাওয়া যায় তার বেশির ভাগ আসছে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও চীন থেকেতবে সবচেয়ে বেশি আসছে মিয়ানমার থেকেটেকনাফের নাফ নদী পার হলেই ওপারে মিয়ানমারের মণ্ডু, আকিয়াব আর চুশিংচংনৌকায় ৩০ মিনিটের পথ স্থানীয়ভাবে অনুমতি নিয়ে ব্যবসায়ী পরিচয়ে যে কেউ অনায়াসে যাতায়াত করতে পারে টেকনাফ থেকে মণ্ডুমণ্ডু মিয়ানমারের সীমান্ত এবং বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবেই পরিচিত

যাত্রা শুরু যেভাবে : গোয়েন্দা সূত্রমতে, ১৯৯৭ সালের দিকে এক যুবক বয়সী সংসদ সদস্যের মাধ্যমেই মূলত এ দেশে ইয়াবা আসতে শুরু করেওই এমপি এবং তপন গাজী নামে তাঁর এক বন্ধু তাদের ঘনিষ্ঠ এক বিমানবালার মাধ্যমে ইয়াবা আনতেন ব্যাংকক আর সিঙ্গাপুর থেকেএগুলো তাঁরা তাঁদের বন্ধু মহলেই ব্যবহার করতেনবিক্রি হতো খুব কমএরপর বাণিজ্যিকভাবে আনা শুরু হয় ২০০০ সালের দিকেতবে তখন ক্রেতা ছিল অল্পদামও ছিল বেশিপ্রতিটি ট্যাবলেট দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতোবলা চলে, ২০০২-০৩ সাল থেকে মোটামুটি বাংলাদেশের বাজার দখল করতে শুরু করে ইয়াবাআর এই ইয়াবাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টেকনাফে গড়ে ওঠে একাধিক মাদক সিন্ডিকেটক্রমে সিন্ডিকেট ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে

হরেক নাম : সুগন্ধি হওয়ার কারণে অনেকে ইয়াবাকে ক্যান্ডি বলে ডাকেএর আরো নাম-চকলেট বা বাবা, গোলাপ, সুপার, চম্পা, চামেলী, আর-৭০, আর-৭৩ থাইল্যান্ডের তৈরি ইয়াবার এদেশীয় নাম গোলাপ এবং এর দামও বেশিবর্তমান প্রতিটি ইয়াবার বাজারদর ৬০০ থেকে ৭০০ টাকাআর অন্যগুলো ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা করেতবে এই দাম ওঠা-নামা করে

সেবনকারী কারা : বিদেশি অপসংস্কৃতির অনুসরণকারী তথাকথিত আধুনিক, উচ্চবিত্ত ও অতি উচ্চবিত্ত পরিবারের অভিভাবকদের বখে যাওয়া ছেলেমেয়েরাই মূলত ইয়াবার প্রধান ক্রেতাতবে ইয়াবার দাম কিছুটা কমে যাওয়া আর ফেনসিডিলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ পরিবারের অনেক ছেলেমেয়ে এখন ইয়াবা আসক্তিতে ঢুকে পড়ছে

কক্সবাজার সিন্ডিকেট : গোয়েন্দা সূত্রমতে, শুধু টেকনাফেই রয়েছে ইয়াবার ১৬টি সিন্ডিকেটতাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই বললেই চলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী যিনি রাজনৈতিকভাবেও প্রভাবশালী এবং (মূল বাড়ি টেকনাফ) তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি নেপথ্যে থেকে এই সিন্ডিকেটগুলো পরিচালনা করেনএই প্রভাবশালী ব্যক্তি টেকনাফে থেকে এবং সালাম নামে তারই আরেক ঘনিষ্ঠজন মিয়ানমারে থেকে দুই দেশের ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেমণ্ডুতে সালামের অন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও আছে, আর সেই ব্যবসার আড়ালেই সে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেগোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, টেকনাফে এসব সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব পর্যায়ের সদস্যরা হচ্ছে- জাকির হোসেন, করিম, রোহিঙ্গা লালু, রোহিঙ্গা শুক্কুর, নবী, জাফর মেম্বার, জবান আলী, নুরুল আলম ওরফে নুরু, হাসেম, মিলকি, লিটন, রফিক, তৈয়ব, হাসান, দিদার, মোস্তাক, ছিদ্দিক, শাহজাহান, জিয়াবুল, সাইফুল, গনি, শামসুল আলম মার্কিন, ইসমাইল, জুনিয়র সালাম, আবদুল্লাহ, জাহেদ, বোরহান, আলমগীর, শাহ আলম, বাহাদুর, আমিন, রমজান, গফুর ও শরিফএ ছাড়া বান্দরবানের নাইখংছড়ি হয়েও ইয়াবা বাংলাদেশে ঢুকছে

ঢাকা সিন্ডিকেট : ঢাকায় রয়েছে ইয়াবা ব্যবসার একাধিক গডফাদারএরা সবাই প্রভাবশালী এবং প্রচুর অর্থবিত্তের মালিকতবে সামাজিকভাবে এরা অন্য পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত এবং অনেকে সিআইপি পদমর্যাদারএদের অনেকে রাজনৈতিকভাবেও প্রতিষ্ঠিতকিন্তু পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ আর নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এরা সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়তবে এদের হয়ে যারা মাঠে সরবরাহ এবং তদারকির কাজ করছে, তারা কেউ কেউ ধরা পড়েতবে ধরা পড়লেও খুব বেশি দিন তাদের কারাগারে থাকতে হয় নাওই সব প্রভাবশালী নিজেদের স্বার্থেই এদের ছাড়িয়ে আনেএরা নিজেরাও ইয়াবা আসক্ত, নামকরা ব্যক্তিদের সন্তান ও প্রচুর অর্থবিত্তের মালিকএই চক্রের দলনেতা হিসেবে কাজ করছে সুমন ও জুয়েল নামে দুই যুবকএরা ধরা পড়েছে একাধিকবারকিন্তু আটকে রাখা সম্ভব হয়নি ওই প্রভাবশালী চক্রের কারণেঢাকায় এদের একাধিক বাড়ি ও গাড়ি আছেআরো আছে আল আমিন, ফয়সাল, শুভঙ্করসহ কয়েকজনরাজধানীর উত্তরা, নিকেতন, নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকা, গুলশানের ডিওএইচএস, বারিধারায় এদের প্রায় সবারই নিজস্ব বাড়ি আছে

গত ২৩ মে উত্তরার একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট থেকে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ১৮ হাজার ইয়াবাসহ শাকুর নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেতার কাছ থেকেও বের হয়ে এসেছে ঢাকাসহ সারা দেশের ইয়াবা নেটওয়ার্কের অনেক তথ্যসে নিজেই ঢাকায় প্রতি সপ্তাহে ২৫ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট সরবরাহ করত৫০ জন ইয়াবা ব্যবসায়ীর নাম পরিচয়ও প্রকাশ করেছে সে

২০০২ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুলের সাবেক ছাত্র জুয়েলকে রাজধানীর গুলশানের নিকেতন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসে এক সাবেক মন্ত্রীর ভাগ্নেতার কাছ থেকে আটক করা হয় ১২০টি ইয়াবা, পর্নো সিডি, যৌন উত্তেজক ওষুধ আর ইয়াবা বিক্রির আড়াই লাখ টাকাজুয়েলের ঘরে ছয়টি সিসি টিভি ব্যবহার হতোঢাকায় অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করা অবস্থাতেই বখে যায় জুয়েলস্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে বহিষ্কার করলে সে দেশের বাইরে চলে যায়অনেক উন্নত দেশ ঘুরেছে জুয়েল থাইল্যান্ডে থাকতেই সে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে জড়িয়ে যায় ইয়াবার নেশায়এরপর দেশে ফিরে শুরু করে ইয়াবা ব্যবসা২১ ডিসেম্বর এমরান আশরাফ ওরফে সুমন, মুশকিফুর রহমান ওরফে তমাল ও বাপ্পী সাহা ওরফে বাপ্পী চার লাখ টাকা ও ৩৬০টি ইয়াবাসহ আটক হয়তমালের বাবা একজন শিল্পপতি এবং সিআইপিবাপ্পীর বাবা নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট্য ব্যবসায়ীজুয়েলের বাবাও সুপরিচিত ব্যবসায়ীসুমনের শ্বশুর গাড়ি আমদানিকারকতারা সবাই এখন জামিনে মুক্তপুলিশ ও গোয়েন্দাদের সূত্রমতে এরা এখনো ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং রাজধানীর সবচেয়ে বড় ইয়াবা নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে তারাইআরেক প্রভাবশালী ইয়াবা ব্যবসায়ী হচ্ছে হুদা২০০৬ সালে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইয়াবার চালানসহ গ্রেপ্তার হলেও সে এখন জামিনে আছে এবং ইয়াবা সিন্ডিকেটের আন্ডার ওয়ার্ল্ডের একজন বড় নেতা

শিক্ষাঙ্গনে ইয়াবার থাবা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন নামিদামি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এমনকি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে ইয়াবা অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে পুলিশের সোর্স কার্তিক এবং তনু নামে যশোরের এক যুবকতনু ঢাকায় এসে মোহসিন হলে তার এক বন্ধুর কক্ষে ওঠে কার্তিককে কয়েক দিন আগে শাহবাগ থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছেরাজধানীর আরো কয়েকজন বড় ব্যবসায়ী আছে, যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ গুলশান ও বনানী এলাকার কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেএর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- চানখারপুলের পরাগ, বকশীবাজার ও হোসেনী দালানের তানভির, লালবাগ-আজিমপুরের মামুন, আগামাসী লেনের ভাবি, আনন্দবাজারের তারা বানু, লাভলু, রিপন, তাঁতীবাজারের নাসির, শ্যামল, শাঁখারীবাজারের সাইরেন সুমন, মীনা রানী দত্ত, সঞ্জয়, বিপ্লব, মন্টি, পিন্টু, মিন্টু, জয়ন্তী রানী, রাজেন, মোহন, শিল্পী রানী, খিলগাঁও তিলপাপাড়ার মকবুল ওরফে ফল মকবুল ওরফে আর্মস মকবুল, মাসুম, মোস্তফা প্রমুখ

অধিদপ্তরের ভাষ্য : মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সবচেয়ে বড় সমস্যা জনবল আর আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাব অধিদপ্তরের দুই পরিচালক ওমর ফারুক ও আখতারুজ্জামান কালের কন্ঠকে জানান, সারা দেশের ৬৪টি জেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে জনবল (এমএলএসএস থেকে শুরু করে মহাপরিচালক পর্যন্ত) মাত্র ৮৩০ জন৬৪টি জেলাকে ভাগ করে তাদের কাজের সুবিধার্থে ২৫টি উপ-অঞ্চল এবং ১০৮টি সার্কেল করা হয়েছেএকেক সার্কেলে লোকবল পাঁচ থেকে ছয়জন মাত্রঅনেক সার্কেল গঠন করা হয়েছে আবার একাধিক জেলার সমন্বয়েএর মধ্যেই আছে আবার গোয়েন্দা শাখাঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীতে একজন উপ-পরিচালকের তত্ত্বাবধানে তাদের পৃথক ইউনিট থাকলেও কার্যত উল্লেখযোগ্য কোনো তৎপরতা নেই

 

ডেড সি!

 

বিলুপ্ত হয়ে যেতে বসেছে পৃথিবীর সর্বনিম্ন অঞ্চলডেড সি-এর দিকে ইসরায়েল আর অন্য দিকে জর্ডানমাঝখানে নীল সাগরের টানে সারা বছর পৃথিবীর দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে অগণিত মানুষকিন্তু আর কত দিন?

জেরুজালেম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোটি স্টেইনের কথায়, “হয়তো আর এক যুগ, হয়তো বা তা-ও নয়এর চেয়েও কমসান ফ্রান্সিসকোয় আমেরিকান জিওফিসিক্যাল ইউনিয়ন এর বার্ষিক সম্মেলনে এই হুঁশিয়ারিই দিলেন তিনিএক লাখ ২০ হাজার বছর আগের কথাপ্রায় একই দশা হয়েছিল এই বৃহত্তম হ্রদটিরকিন্তু ২০১১ সালে যে অশনি সংকেত দেখতে পাচ্ছেন গবেষকরা, তাতে আগামী কয়েক বছর যদি খাবার মুখে পড়ে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি, তাহলে হয়তো সত্যিকার অর্থেই মরে যাবে ডেড সি

২০১০ সালে হ্রদের নীচে গর্ত খুঁড়ে গভীরতম অংশে পৌঁছে গিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরাএ বছর গবেষণার ফল হাতে পেয়ে রীতিমতো চমকে গিয়েছেন তারাদ্রুত গতিতে শুকিয়ে যাচ্ছে হ্রদের পানিগত ১৪ বছরে পানির স্তর নেমেছে প্রায় ১০ মিটারএকই সঙ্গে চলছে মানুষের অত্যাচারআশপাশের খরাপ্রবণ দেশগুলোতে সেচের পানির যোগান দিতে দিতে ফুরিয়ে যাচ্ছে হ্রদের উৎস নদীগুলোও

লবণ হ্রদের থেকে খনিজ লবণ সংগ্রহ করছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্থাতারও বিরূপ প্রভাব পড়ছে ডেড সি-তেমানুষের সঙ্গে ধ্বংসের খেলায় হাত মিলিয়েছে প্রকৃতিপৃথিবীর উষ্ণায়নও ডেড সির মৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা গবেষকদের পরিবেশবিদ স্টেইর জানান, কয়েকশ হাজার বছর আগে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেও এবার তাকে বাঁচানো যাবে কি না সন্দেহতখন হ্রদের ধারে জনবসতি ছিল খুবই কমকিন্তু এখন পরিস্থিতি অন্য রকমহ্রদের পানির প্রধান উৎস জর্ডান নদীখাল কেটে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নদীর জলচলছে সেচের কাজতাহলে কী করে ভালো থাকে ডেড সিএখন হ্রদকে বাঁচানোর এক মাত্র উপায় পানির যোগান অব্যাহত রাখাসেচের কাজে হ্রদের অবাধ ব্যবহার বন্ধ করতে হবেতবে, এর ফলে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোকে যে ভয়ঙ্কর পানির অভাবে পড়তে হবে সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন স্টেইন

 

মাধুরী গুপ্তর বিরুদ্ধে চার্জশিট তৈরি

 

ভারতের গোপন তথ্য পাক গোয়েন্দা সংস্থার কাছে প্রকাশ করার অপরাধে গ্রেফতার হওয়া ভারতীয় কূটনৈতিক মাধুরী গুপ্তর বিরুদ্ধে চার্জশিট তৈরি করল দিলিস্ন আদালতগত শনিবার দিলিস্ন আদালতের তরফ থেকে এই কথা জানানো হয়েছেআদালতের বিচারপতি পওয়ান কুমার জৈন বলেছেন, মাধুরি গুপ্তর বিরুদ্ধে গুপ্তচর আইন অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্ট অনুসারে ৩ এবং ৫ নম্বর ধারায় এবং ভারতীয় পেনাল কোড অনুসারে ১২০ নম্বরের বি ধারা অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট তৈরি করা হয়েছেতাঁর বিরুদ্ধে প্রধানত বিশ্বাসঘাতকতা, ষড়যন্ত্র এবং অন্যান্য অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে২০১২ সালের ২২ মার্চ থেকে তাঁর মামলার শুনানি শুরু হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছেতাঁকে ২০১০ সালের ২২ এপ্রিলে দিলিস্ন পুলিশের বিশেষ শাখা গ্রেফতার করেছিলতাঁর পাক গোয়েন্দা জামশেদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিলএমনকি তাঁদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছিল

 

ইরান-ভেনিজুয়েলা সম্পর্ক হচ্ছে

 

সফররত ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. মাহমুদ আহমেদিনেজাদ এবং স্বাগতিক দেশের প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সম্পর্ক বাড়ানোর এ ঘোষণা দিয়েছেনএর আগে, দুদেশের মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছেসমঝোতা স্মারকের আওতায় শিল্প, বিজ্ঞান, ন্যানো-প্রযুক্তি এবং অর্থনীতির ক্ষেত্রে ইরান ও ভেনিজুয়েলা সহযোগিতা জোরদার করা হবে

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ ও হুগো শ্যাভেজ ইরান এবং ভেনিজুয়েলার মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্কের প্রশংসা করেনদুদেশের আর্থ-রাজনৈতিক সম্পর্ক থেকে দুই জাতিই লাভবান হবে বলে তারা আশা করেনএ ছাড়া, ইরান ও ভেনিজুয়েলার এ সম্পর্ক আঞ্চলিক শান্তি এবং স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেনবিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকতেও তারা উপনিবেশবাদী ও উগ্রবাদী শক্তিগুলোর প্রতি আহ্বান জানানপশ্চিমা এসব শক্তির হস্তক্ষেপকামী নীতির বিরুদ্ধে স্বাধীন সরকার ও জাতিগুলো সজাগ রয়েছে বলেও দুই প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে দেন

সংবাদ সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, তেহরান ও কারাকাস অভিন্ন স্বার্থ নিয়ে কাজ করছে এবং দুপক্ষই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তি, ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় বিরাট ভূমিকা রাখতে পারেতিনি আরো বলেন, ভেনিজুয়েলার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও শিল্পখাতে সম্পর্ক বাড়ানোর ক্ষেত্রে ইরান সরকার কোনো সীমারেখা রাখেনি ভেনিজুয়েলার সরকার ও জনগণকে ইরান তার বিশেষজ্ঞ এবং অভিজ্ঞতা দিয়ে সবক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে

এ সময় হুগো শ্যাভেজ বলেন, তেহরান ও কারাকাস দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে বিশ্বের বলদর্পী শক্তিগুলোর অনুসৃত নীতির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে পারেতিনি বলেন, বলদর্পী শক্তিগুলোর হুমকি ও আধিপত্যকামী নীতির বিপরীতে এ মুহূর্তে নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা দরকার প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ পাঁচদিনের জন্য লাতিন আমেরিকার চারটি দেশ সফর করছেন ভেনিজুয়েলা থেকে তিনি নিকারাগুয়া যাবেনএরপর তিনি কিউবা এবং ইকুয়েডর সফর করবেন

 

ঢাকায় ফিটনেস সনদ বিহীন গাড়ি ৮০ হাজার!

 

রাজধানী ঢাকায় ফিটনেস সনদবিহীন মোটরগাড়ি চলছে অবাধেঅথচ সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ অনুপযুক্ত যানবাহনঢাকায় সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নিবন্ধিত মোট সাড়ে ৫ লাখ গাড়ির মধ্যে ৮০ হাজার ৬১৫টি গাড়ির ফিটনেস সনদ নেইপুরনো লক্করঝক্কর গাড়ি নগরীতে চলাচল নিষিদ্ধ

ফিটনেস সনদবিহীন গাড়ির তালিকা চেয়ে গত বছরের ১১ মে বিআরটিএ-র চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করে মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগএরপর জুন মাসে তালিকা পাঠায় বিআরটিএনিষিদ্ধ এসব গাড়ির বিরুদ্ধে ১৫ দিন ধরে চলে লোক দেখানো অভিযানপরিবহন নেতাদের চাপের মুখে অভিযানে সফলতা পাওয়া যায়নি বিআরটিএ-র দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত যেমন সনদবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না, তেমনি ট্রাফিক পুলিশের নাকের ডগায় চলাচল করছে সেসব গাড়ি

বিআরটিএ-র চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান খান বলেন, ফিটনেস সনদবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেবিআরটিএ ও ঢাকা জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে রাজধানীতে চলছে বিশেষ অভিযানতিনি জানান, ২০ বছরের পুরনো গাড়ি নগরীতে চলাচলের অযোগ্য

বিআরটিএ-র পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মশিয়ার রহমান বলেন, মাত্র দুজন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিনতবু অভিযান চলছেঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বলেন, ফিটনেস সনদ না থাকা এবং কাগজপত্রের অসঙ্গতির অপরাধে প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করে ডিএমপিএর মধ্যে ফিটনেস সনদবিহীন গাড়ির সংখ্যাই ৫০০-৬০০কিছু গাড়িকে ইতোমধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছেসরাসরি রুট পারমিট বাতিল করার বিধান আইনে নেইতাই শোকজএরপর রুট পারমিট বাতিল করবে মেট্রো আরটিসি (রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট কমিটি)ডিএমপি সাধ্যমত চেষ্টা করছে পুরনো ও লক্করঝক্কর গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে

ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খোন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ফিটনেস সনদবিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে একাধিকবার বিআরটিএ ও পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছেএসব গাড়ি দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছেএজন্য সচেতনতা বাড়াতে পরিবহন মালিকদেরও আমরা নোটিশ দিয়েছিআইন প্রয়োগকারি সংস্থা এসব গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে পরিবহন সমিতি সহযোগিতা করবে

জানা গেছে, ঢাকা শহরে বিআরটিএ-র মোবাইল কোর্ট, রাস্তার মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ থাকার পরও ২০ বছর ধরে ফিটনেস সনদবিহীন অবস্থায় রাজধানীতে গাড়ি চলাচল করছেপ্রতিবছর ফিটনেস পরীক্ষা করানোর বিধি থাকলেও ১৯৯০ সালের পর পরীক্ষা না করিয়ে নগরীতে যাতায়াত করছে এমন যানবাহনও রয়েছেঢাকা উত্তর সার্কেলের ফিটনেস সনদবিহীন গাড়ির সংখ্যা ৭২ হাজার ২২৫টিদক্ষিণ সার্কেলে ৮ হাজার ৩৯০টিএর মধ্যে ১ হাজার ৪৪৬টি বড় বাস এবং ২ হাজার ৩৬৫টি মিনিবাস

 

বিশ্বব্যাংকের অসন্তোষ  অর্থছাড় নিয়ে জটিলতা

 

বিভিন্ন প্রকল্পে চলতে থাকা অর্থছাড় জটিলতায় বিশ্বব্যাংক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেতাদের অর্থায়ন সংশ্লিষ্ট ১৫টি প্রকল্প চিহ্নিত করে এগুলোর বাস্তবায়ন ও অর্থছাড়ে বিশেষ জোর দিতেও অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটিচিহ্নিত ১৫টি প্রকল্পের মধ্যে ৭টিকে সমস্যাবহুল প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছেসম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠানো এক চিঠি থেকে এ সংস্থার বিষয়টি জানা যায়

ইআরডি সূত্র জানায়, দাতা সংস্থাটির অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের কাজে গতি বাড়াতে নিয়মিত পর্যালোচনা হয়েছেতবু আশানুরূপ ফল আসেনি বলে হতাশ বিশ্বব্যাংকসম্প্রতি বাস্তবায়নাধীন বেশ কিছু প্রকল্প পর্যালোচনা করে এসব বিষয় চিহ্নিত করা হয়েছে বলে ইআরডিতে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়

দাতাসংস্থাটির অর্থায়নে বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের মধ্যে অর্ধেকের বেশি অর্থছাড় জটিলতায় পড়েছে বলে ইআরডি সূত্র জানিয়েছেএ প্রকল্পগুলোয় ব্যাপক জটিলতার বিষয়টি সংস্থাটিকে ভাবিয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরাচিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১১টির বৈদেশিক অর্থছাড় ২৫ শতাংশেরও কমএদিকে, বেশ কয়েকটি প্রকল্প দুবছর ধরে বাস্তবায়নাধীন পর্যায়ে রয়ে গেছেইআরডি সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ১৫ প্রকল্পে অর্থছাড় গতি পাচ্ছে না, যা প্রকল্পের বাস্তবায়ন মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলোর সঙ্গে জড়িতরা জানিয়েছেন, প্রকল্পগুলোর চলমান জটিলতা সমাধান করে অর্থছাড়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছেবিশ্ব ব্যাংকের চিহ্নিত সমস্যাজনিত ৭টি প্রকল্প হল- চট্টগ্রাম ওয়াটার স্যানিটেশন অ্যান্ড সাপ্লাই কর্মসূচি, পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটিজ প্রজেক্ট, মধ্য মেয়াদি বাজেট কাঠামো শক্তিশালীকরণ ও অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ প্রকল্প, কেন্দ্রীয় ব্যাংক শক্তিশালীকরণ প্রকল্প, ডিজ্যাবিলিটি অ্যান্ড চিলড্রেন রিস্ক প্রজেক্ট, মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রকল্প

অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত সিদ্ধিরগঞ্জ পিকিং বিদ্যুৎ ও ইমার্জেন্সি সাইক্লোন রিকোভারি প্রজেক্টের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পও অর্থছাড় কম হওয়া প্রকল্পের মধ্যে রয়েছেএ প্রসঙ্গে ইআরডির একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন জটিলতায় এসব প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থছাড় আটকে রয়েছে প্রকল্পের নকশায় ভুল ও চুক্তির সঙ্গে প্রকল্প প্রস্তাবনার (ডিপিপি) অমিল থাকায় এগুলো বারবার সংশোধন করতে হচ্ছে বাস্তবায়ন কার্যক্রম সময়মতো না হওয়া এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণেও কাজ শুরু করতে পারছে না বাস্তবায়নকারী অনেক সংস্থা

সংশ্লিষ্টদের অনেকেই মনে করেন, বাস্তবায়নে গতি না থাকা বৈদেশিক অর্থ সময় মতো না পাওয়ার অন্যতম বড় কারণ প্রকল্পগুলোয় বৈদেশিক অর্থছাড় ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বেশ কয়েকদফা বৈঠকও করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এই বিভাগএগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন ও অর্থছাড়ে গতি আনতে বাস্তবায়নকারী সংস্থার সঙ্গে আবারও ইআরডির বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, প্রকল্পের কাস্টমস শুল্ক (সিডি) ও ভ্যাট খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় ও সঠিকভাবে সিডি-ভ্যাট নির্ধারণ করতে না পারার কারণেও বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা হচ্ছেদরপত্র জটিলতার কারণেও প্রকল্পের বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছেইআরডির কর্মকর্তারা জানান, বেশ কয়েকটি কারণে বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা রয়েছেভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) এ ধরনের প্রকল্পে ম্যাচিং ফান্ড থেকে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকা অর্থের ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছে

  (দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্রিকা হতে সংগৃহীত)