লাহোরে
সাম্প্রতিক ভয়াবহ জঙ্গী হামলার পর প্রবল আন্তর্জাতিক চাপের মুখে অবশেষে
জামাতসহ জঙ্গী গোষ্ঠীর একটি তালিকা তৈরি করে তাদের দেশের মাটি থেকে নির্মূল
করা দরকার বলে স্বীকার করল পাকিস্তান।
১৭টি
নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের একটি তালিকা বানিয়েছে ইসলামাবাদ।
লাহোরের বিস্ফোরণে ৪৫ জনের মৃত্যুর তিনদিন বাদে তৈরি হওয়া ওই তালিকায় ২৬/১১’র
মুম্বই জঙ্গি হামলার চক্রী হাফিজ মহম্মদ সঈদের নেতৃত্বাধীন জামাত (আগের
লস্কর-ই-তোইবা) আছে।
পাঞ্জাব প্রদেশের স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে,
জামাতসহ সব
গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই এবার জোরদার অভিযান শুরু হবে।
এ
ব্যাপারে তারা একটি টাস্ক ফোর্স গড়েছে বলেও খবর।
এ
ব্যাপারে পাঞ্জাব প্রদেশের আইনমন্ত্রী সানাউল্লাহ খান একটি ভারতীয় সংবাদ
চ্যানেলকেও বলেন,
আমরা জঙ্গীদের
বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযানের প্ল্যান করছি।
সঈদের
গতিবিধি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
তিনি
পাকিস্তান ছেড়ে কোথাও যেতে পারবেন না বলে নির্দেশ জারি হয়েছে।
রীতিমতো
উপমহাদেশের সব রাষ্ট্রের খুশি হওয়ার মতো খবরই এটা।
ভারত
তথ্যপ্রমাণ দেয়া সত্ত্বেও সঈদের মুম্বই হামলায় জড়িত থাকার কথা এতদিন মানতেই
চায়নি পাকিস্তান।
বরং
তাকে আড়াল করারই চেষ্টা করেছে ইসলামাবাদ।
সম্প্রতি পাকিস্তান সফরে গিয়ে সঈদ ও জামাতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে সরব হন
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরম।
কিন্তু
পাকিস্তান নাম বদলে জঙ্গী তৎপরতা চালিয়ে সংগঠনগুলিকে নিষিদ্ধ করতে কোনও
নতুন নির্দেশ জারি করা হয়নি বা সঈদের বিদেশযাত্রার উপরও কোনও নিষেধাজ্ঞা
জারি হয়নি।
একমাত্র উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়া গেলেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আপাতত
সিদ্ধান্ত নিচ্ছে পাকিস্তান সরকার।
সম্প্রতি
আহমেদিয়া সম্প্রদায়ের মসজিদ ও লাহোরের দাতা দরবার নাশকতার পর রীতিমতো চাপের
মুখে পড়েছে পাকিস্তান।
বিরোধী
নেতা নওয়াজ শরিফও পারস্পারিক দোষারোপ বন্ধ করে জঙ্গি দমনে একযোগে অভিযানের
কথা বলেন।
তার
দলের নেতৃত্বাধীন পাঞ্জাব সরকার এদিন জানায়,
১৭টি নিষিদ্ধ
সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে টাস্ক ফোর্স।
ওই
সংগঠনগুলির মধ্যে রয়েছে লস্কর-ই-তোইবা,
জয়েশ-ই-মহম্মদ,
জামাত,
সিপাহ সাহাবা
পাকিস্তান,
বালুচিস্তান
লিবারেশন আর্মি ইত্যাদি।
প্রতিটি টাস্ক ফোর্সে সিআইডি,
স্পেশাল
ব্র্যাঞ্চ ও সন্ত্রাসদমন স্কোয়াডের সদস্যরা থাকবেন।
তবে
তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হল,
পাকিস্তানে
সক্রিয় সবচেয়ে শক্তিশালী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালিবান।
পাকিস্তানের নাম ওই তালিকায় নেই!