ব্রিটেনের রানির রত্নভাণ্ডার সাধারণের সামনে আসছে।
আগামী আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাসে বাকিংহাম প্যালেসে শুরু হবে প্রদর্শনী।
ইতোমধ্যেই ব্রিটেনজুড়ে শুরু হয়েছে তোড়জোড়।
কাগজে কাগজে রাজকীয় রত্নভাণ্ডারের মূল্য ও ইতিহাস নিয়ে চর্চাও শুরু হয়েছে।
অবশ্য এই প্রদর্শনী হঠাৎ দেখার মতো কোনও বিষয় নয়।
এক
বিশেষ উপলক্ষে ব্রিটিশ তোশাখানার সম্পদ জনসাধারণের চাক্ষুসের জন্য খুলে
দেয়া হচ্ছে।
চলতি বছরেই রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের রাজত্বকালের হীরক জয়ন্তী পূরণ হচ্ছে।
ডায়মন্ড জুবিলিতে ডায়মন্ড প্রদর্শন করে বছরটাকে স্মরণে রাখতে চাইছে
ব্রিটেনের রাজ পরিবার।
সূর্য কোনওদিন অস্ত যাবে না ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে - একথা সারা পৃথিবীতেই
কমবেশি বিশ্বাসযোগ্য ছিল।
আরও
একটা বিশ্বাস ছিল মানুষের মনে,
বাকিংহাম প্যালেসের তোশাখানা মানে সত্যিকারের কুবেরের রত্নভাণ্ডার।
প্রাচ্য দেবতা কুবেরকে ব্রিটিশরা চিনতে নাও পারেন।
যদি
বলা যায়,
ব্রিটেনের রাজকীয় রত্নভাণ্ডার সত্যি সত্যি একটা ট্রেজার আইল্যান্ড
বা
কিং সলোমনস মাইন
-
এতটুকু ভুল হবে না।
তর্কের খাতিরে ধরে নেয়া যাক,
রানির রত্নভাণ্ডারের যা মণিমুক্তো তার পরিমাণ ট্রেজার আইল্যান্ড
বা
রাজা সলোমনের রত্নরাজির থেকে কম।
তাতেও কিন্তু রানির সম্পদরাজি থেকে যাবে অমূল্য।
এর
প্রতিটি গহনা,
প্রতিটি রত্নের সঙ্গে যে ইতিহাস,
যে
আভিজাত্য লুকিয়ে আছে তার মূল্য অর্থ দিয়ে বিচার করা যাবে না।
পৃথিবীর সুখ্যাত দুটি হিরে এখন ব্রিটিশ রাজ পরিবারের দখলে।
একটি ভারতের কোহিনুর অন্যটি আফ্রিকার কালিনান।
কোহিনুর তো বহু রাজপুরুষ ও রাজপরিবারের উত্থান-পতনের সাক্ষী।
মোঘলদের হাত থেকে আহম্মদ শাহ আবদালির হাত ঘুরে রানি ভিক্টোরিয়ার
রত্নভাণ্ডারে স্থান পায় কোহিনূর।
পরে
সেটিকে কেটে রানির মুকুটে লাগান হয়।
১৯০৫ সালে জোহানেসবার্গের কালিনানদের খনি থেকে পাওয়া যায় তৎকালীন বৃহত্তম
হিরে।
মালিকদের নাম অনুসারে তার নাম হয় কালিনান।
তখন
ব্রিটিশ রাজ সপ্তম এডওয়ার্ডকে উপহার দেয়া হয় হিরেটি।
পরে
রানি অ্যান সেটি কেটে তার ব্রোচে লাগান।
এই
দুই ঐতিহাসিক হিরে প্রদর্শনীর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে,
এ
বিষযে কোনও সন্দেহ নেই।
এছাড়াও সাধারণের সামনে আসছে গ্র্যানিস টিয়ারা
নামে পরিচিত রানির মুকুট।
যাকে রানি এলিজাবেথ নিজের সেরা রত্নরাজি
বলে
পরিচয় দেন।
এটির পিছনেও সুদীর্ঘ ইতিহাস আছে।
কুইন মেরিকে ১৮৯৩ সালে উপহার দেয়া হয়েছিল।
মুকুটটি তৈরি করেছিল ব্রিটেনের রাজমণিকার জর্জ উইকস প্রতিষ্ঠিত গ্যারাড
অ্যান্ড কোং।
রানি তখন ছিলেন রাজকুমারী।
১৯৪৭ সালে রাজা ফিলিপের সঙ্গে বিয়ের সময় মেরি সেটি নাতনিকে উপহার দেন।
নভেম্বরে রানি এলিজাবেথ একবার গ্র্যানিস টিয়ারা পরেছিলেন তুরস্কের
প্রেসিডেন্টের সম্মানে আয়োজিত ভোজসভায়।
সৌদি আরবের রাজা খালিদ এবং ফয়সলের দেয়া নেকলেস থাকবে প্রদর্শনীতে।
আর
অবশ্যই থাকবে রানি ভিক্টোরিয়ার ১৮৫৮ সালে তৈরি নেকলেস।
ব্রিটিশ রাজ পরিবারে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ছাড়া আর শুধু রানি ভিক্টোরিয়ারই
রাজত্বকালে হীরক জয়ন্তী পালনের সৌভাগ্য হয়েছে।