|
মানবতার সামনে
মার্কিন স্পেসফাইটার
সংলাপ ॥
মহাকাশে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া আধিপত্য কায়েমে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের
যথেষ্টই কারণ রয়েছে।
এমন এক
উচ্চতা সেখান থেকে তামাম দুনিয়াকে হুমকি দেয়া যাবে,
ভয় দেখানো যাবে সেই উচ্চতায় একচেটিয়া মার্কিন কর্তৃত্বে গোটা পৃথিবীর
শান্তিকামী মানুষের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।
না,
অহেতুক ভয় নয়।
পাঠক
আপনি ‘স্টার
ওয়ারস’
ছবিটি দেখেছেন।
মহাকাশে
লড়াকু মহাকাশযান লড়াই চালিয়েছিল।
এটিই এখন
বাস্তব।
অতি
সম্প্রতি অত্যন্ত গোপনে এক মার্কিন বায়ুসেনার স্পেস ফাইটারকে দিয়ে পরীক্ষা
চালানো হয়েছে।
চালকবিহীন এক্স-৩৭বি ফাইটারটি মহাশূন্যে পাঠানো হয়েছে ফ্লোরিডা থেকে।
এক্স-৩৭বি নিছক আমেরিকার পূনর্ব্যবহারযোগ্য স্পেস ফাইটার-ই নয়,
আদতে তা মার্কিন গোপন হাতিয়ার।
পৃথিবীর
যে কোনও জায়গায় লক্ষ্যবস্তুতে মাত্র দু’ঘন্টার
মধ্যে আসতে সক্ষম এই স্পেস ফাইটার।
পরমাণু
যুদ্ধের থেকেও এ আরও ভয়াবহ।
এক্স-৩৭বি-র সফল
পরীক্ষা
এক্স-৩৭বি-ই
পৃথিবীর প্রথম স্পেস ফাইটার যা সফলভাবে মহাশূন্যে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।
খুব
বেশিদিন আগের কথা নয়।
আমেরিকা
ধীরে ধীরে তৈরি করছিল এই ফাইটার।
অ্যাটলাস
৫ রকেটে এই উৎক্ষেপণ করা হয়।
শত্রু
রাষ্ট্রের উপগ্রহ এবং বোমারু বিমানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাবার ক্ষমতা
আছে এই স্পেস ফাইটারের।
অভিযান
সেরে নিজে নিজেই ভূখন্ডে ফিরে আসতে পারে।
কোনও
মহাকাশচারীর পক্ষে উপযুক্ত নয় এক্স-৩৭বি।
আকাশে
এবং মহাশূন্যে নানাধরনের অভিযান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালাতে পারে এক্স-৩৭বি।
এই স্পেস ফাইটার
দিয়ে কী ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা অভিযান চালানো হয়েছে সে বিষয়ে মুখে কুলুপ
এঁটেছে মার্কিন বায়ুসেনা।
এক্স-৩৭বি-র উৎক্ষেপণের পর বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে এটি প্রবেশ করেছে।
কিন্তু
কতদিন বা কত সময়ের জন্য প্রবেশ করেছে তা জানা যায়নি।
মহাশূন্য
থেকে ফিরে পৃথিবীতে আসার জন্য অটো পাইলট মোডের মতো স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতেই আসবে
এই স্পেস ফাইটার।
নামার
কথা ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ এয়ারফোর্স বেসে কিংবা কাছাকাছি এডওয়ার্ডস
এয়ারফোর্স বেসে।
আকারে ছোট হলেও
আদতে এই স্পেস ফাইটার উচ্চপর্যায়ের মার্কিন সামরিক গোপন হাতিয়ার।
যদিও
মার্কিন সেনাবাহিনীর তরফে বারবার বলা হয়েছে,
বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্যই এই স্পেস ফাইটার তৈরি করা হয়েছে।
কিন্তু
একবার আসল সত্য বেরিয়ে পড়লে তা থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া হতেই পারে।
কিছু
সামরিক বিশেষজ্ঞ একে বলছেন,
‘প্রথম
প্রোটোটাইপ স্পেস ফাইটার’।
বস্তুত,
এই প্রকল্পের সামরিক উদ্দেশ্য স্পষ্ট।
মহাশূন্যে সাময়িকীকরণ এর সম্ভাবনা এবং ফলে ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।
অন্যান্য
উপগ্রহের কাজে বাধাও দিতে পারে এক্স-৩৭বি।
অন্যান্য
উপগ্রহের কাজ বন্ধ করতে এর রোবোটিক আর্ম আছে।
ছড়িয়ে
দিতে পারে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ।
একটি
উপগ্রহের স্বাভাবিক কাজকে নষ্ট করে দিতে পারে।
নানাধরনের সরঞ্জাম এবং অস্ত্র বহন করতে সক্ষম এই স্পেস ফাইটার।
দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে অনায়াসে।
বহির্বিশ্বে
এক্স-৩৭বি নিয়ে খুব বেশি তথ্য জানা নেই।
জানা
গেছে,
১৯৯৯ সালে নাসা এবং বোয়িং এক কম দামী মহাকাশযান তৈরি করেছিল যা
পুনর্ব্যবহারযোগ্য স্পেস ফাইটার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
আর্থিক
কারণে ২০০৪ সালে এই মহাকাশযানটি আর ব্যবহার করা হয়নি।
ক্রমশ
মার্কিন বায়ুসেনা এটির দখল নেয় এবং এই প্রকল্পকে অত্যন্ত গোপনে সামরিক
প্রকল্পে বদলে ফেলে।
এক্স-৩৭বি-তে রকেট চালিত মহাকাশযান রয়েছে।
একটি
নির্দিষ্ট উচ্চতায় ওঠার পরই স্পেস প্লেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে শুরু করে।
কিন্তু
গতিই এর গোপনীয়তা।
শব্দের
গতির ২৫ গুণ দ্রুতগতিতে এই স্পেসফাইটার ছুটতে পারে।
পৃথিবীর
অভিকর্ষ বলের থেকে বেশি গতিতে মুক্ত বেগে ভর করে পৃথিবীর বর্হিমণ্ডলে এবং
কক্ষপথে পাড়ি দেয় এই মহাকাশযান।
এতে
রয়েছে সোনার প্যালেস।
প্রায়
২৭০ দিন পর্যন্ত মহাশূন্যে অভিযান চালাতে সক্ষম এই মহাকাশযান।
সামরিক দিক থেকে
স্পেস ফাইটারের কতগুলি বিচার্য বিষয় থাকে।
এক,
মহাশূন্যে থেকে যুদ্ধ চালানো।
দুই,
শত্রুর উপগ্রহ এবং মিসাইলের মোকাবিলা করা।
বলাই
বাহুল্য,
এই মহাকাশযানের অত্যন্ত দ্রুতগতি অন্যান্য মাহাকাশযানের থেকে এগিয়ে রয়েছে
এক্স-৩৭বি-কে।
মহাশূন্যে
স্বয়ংক্রিয় মহাকাশযান
এক্স-৩৭বি-র
প্রথম সাফল্যের খবর মিলেছে গোটা পৃথিবীর বিমান পরিষেবা,
সামরিক
ক্ষেত্র এমনকি মিডিয়া থেকেও।
অনেক বছর ধরেই
আমেরিকা এমন মহাকাশযান তৈরি করতে চাইছিল যা মহাশূন্য এবং ভূপৃষ্ঠের মধ্যে
ধারাবাহিকভাবে বারংবার আসা যাওয়া করতে পারে।
এক্স-৩৭বি স্পেস ক্রাফট-এর সঙ্গে স্পেস শাট্ল এর ফারাক রয়েছে।
প্রথমত
ফারাক পরিবহন ক্ষমতা নিয়ে,
যেখানে স্পেস
শাট্ল প্রায় ৪০ টন ওজনের পণ্য পরিবহণ করতে পারে সেখানে স্পেস প্লেনের বহন
ক্ষমতা মাত্র ৫ টন।
এক্স-৩৭বি-এর বৈশিষ্ট্য হলো এখানে মহাকাশচারীরা থাকেন না।
থাকেন
না কোনও চালক।
কাজেই,
মহাশূন্যে
মানুষের উপযোগী পরিবেশ তৈরির দরকার পড়ছে না।
কেবিন
বন্ধ করারও প্রয়োজন হচ্ছে না।
এরো
এবং স্পেস এর মধ্যে এক্স-৩৭বি শাট্ল করতে পারে।
কম
উচ্চতায় পৃথিবীর চারপাশে চক্কর কাটতে পারে,
৩০ থেকে ১০০
কিলোমিটার গতিতে পৃথিবীর কক্ষপথে পরিক্রমণ করতে পারে।
মহাকাশ যুদ্ধে
এক্স-৩৭বি আদতে এক নতুন মঞ্চ।
কিছু
গণমাধ্যম একে
‘ফাইটার
স্পেস ক্রাফট’
বলছে।
কারণ
এই মহাকাশযানে অস্ত্রও বহন করতে পারে।
নাগরিক
ও সামরিক দু’ক্ষেত্রেই
এই মহাকাশযানকে ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
অন্য
উপগ্রহ ধ্বংস করতে বা অন্য উপগ্রহকে নিজের কবজায় আনতে কিংবা ভূপৃষ্ঠ লক্ষ্য
করে মিসাইল ছোঁড়ার মতো কাজ করতে মহাকাশযানে তড়িৎ চুম্বকীয় অস্ত্র ব্যবহার
করতে দেয়া হবে কিনা তা নিয়ে জল্পনাও রয়েছে।
সাধারণভাবে বলা যেতে পারে,
এই মঞ্চ থেকে
অনেক কিছুই করা সম্ভব।
কোনও
ক্ষেত্রেই একে লক্ষ্য বা নিশানা করা যাবে না।
মহাশূন্যে আসা-যাওয়া করতে পারে এমন কোনও স্পেস প্লেনকে নিশানা করার কার্যত
কোনও পথই নেই।
মহাশূন্যে বাধা খুবই কম থাকায় পৃথিবীতে আঘাত হানা অনেক সহজ হয়ে যাচ্ছে।
মহাশূন্যে
কর্তৃত্ব
মহাশূন্যে
আবিষ্কার ও গবেষণা চালিয়ে যাওয়া ইতিবাচক প্রশ্ন উঠেছে,
রাশিয়া চীন
এবং পৃথিবীর অন্যান্য অনেক দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি আমেরিকার বোঝা উচিত এবং
সেই মতো ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
মহাকাশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে,
অনেক আঞ্চলিক
যুদ্ধ।
শত্রু
রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এবং নাগরিকদের ধ্বংস করতেই মহাশূন্যের প্রযুক্তি
ব্যবহৃত হচ্ছে।
এগুলি
সবই বাস্তব।
পৃথিবীর কিছু গণমাধ্যম বলেই ফেলেছে,
‘মহাশূন্যের
প্রযুক্তির ব্যবহারের একমাত্র রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।’
এপ্রিলের
গোড়ায় ওয়াশিংটন ডিসি তে পরমাণু মুক্ত পৃথিবীর ধারণা প্রচার করেছিলেন ওবামা।
যদিও
২২ এপ্রিল পর্যন্ত মহাশূন্যে আমেরিকার পাড়ি দেয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন
খোদ মার্কিন মুলুকের বাসিন্দারা।
মানবতার সামনে প্রধান পরমাণু অস্ত্র।
আমেরিকার
লক্ষ্য,
অর্থ ও
প্রযুক্তির সাহায্যে এমন এক সামরিক মহাশূন্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা যাতে অন্য
কোনও দেশ প্রতিযোগিতায় পাল্লা দিতে না পারে।
মার্কিন মহাশূন্যে ব্যবস্থা রাশিয়ার কৌশলগত সামরিক ব্যবস্থাকে দূর্বল করবে।
রাশিয়ার বায়ুসেনার এক প্রাক্তন কমান্ডার প্রকাশ্যে তার উদ্বেগ জানিয়ে
বলেছেন,
রাশিয়াও আর
একটি ইরাক হবে।
এই
চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় মহাশূন্যে নতুন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য
রাশিয়ার কাছে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তামাম দুনিয়ার
কাছে এক আপৎকালীন পরিবেশ নিয়ে আসছে আমেরিকা।
মানবিকতার সামনে এক নতুন বিপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে এক্স-৩৭বি।
|