টাইটানিক নিলামে

 

 

বিমা

 

দিনটি ১১ এপ্রিল, ২০১২ এদিনই একটি যুগান্তকারী ঘটনা ঘটতে চলেছে ম্যানহাটনের গুয়ার্নসেস নিলামঘরে নিলাম হবে ডুবে যাওয়া সেই রাজকীয় প্রমোদতরী টাইটানিকের অসংখ্য উদ্ধারপ্রাপ্ত সামগ্রীর তিনটি কারণে ঘটনাটি ঐতিহাসিকও প্রথমত, আগামী এপ্রিলেই শতবর্ষপূর্তি হচ্ছে টাইটানিকের জলসমাধির দ্বিতীয়ত, এই প্রথম ৫০০১টি দ্রব্যের নিলাম হবে একই দিনে, একই সঙ্গে তৃতীয়ত, এই প্রথম নিলাম হবে হুবহু আদালতের নির্দেশ মাফিক

নিলামের তালিকাটা অতি দীর্ঘ তো বটেই, অত্যন্ত আকর্ষণীয়ও হিরের বাহুবন্ধনী, সোনার ফ্রেমের মোটা কাচের চশমা, রত্নখোচিত কানের দুল, পান্না-মুক্তো বসানো গলার হার, সাদা-নীল রঙের চিনামাটির থালা, সোনা-বাঁধানো রুপোর চামচ, বেলজিয়ান কাচের আলমারি, কলম দোয়াত, সিঁড়ির সোনার হাতলের অংশবিশেষ, জামা-জুতো, ঘড়ি, জলের বোতল ইত্যাদি সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত নিলামে চড়ানো হবে ৫০০১টি টাইটানিক সম্পদ সমীক্ষা তথ্য যাচাই করে দেখা গিয়েছে, পৃথিবীর কোনও নিলামঘরে একদিনে এত সংখ্যক সামগ্রীর নিলাম হয়নি তাই প্রথম থেকেই যথেষ্ট সংশয়, আদৌ একদিনে এই নিলাম শেষ করা সম্ভব কী না দ্বিধায় গুয়ার্নসেস নিলাম ঘরের প্রেসিডেন্ট আরলান এটিঙ্গার নিজেও তিনি বললেন, এটা আমাদের কাছে অগ্নি পরীক্ষা হোক, একদিনেই গোটা প্রক্রিয়া শেষ করতে চাই এখনও পর্যন্ত সমস্ত সামগ্রীর প্রাথমিক দাম স্থির হয়েছে বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১০২৫ কোটি টাকা নিলাম শুরু হওয়ার পর এই দাম আরও বাড়বে তবে এই নিলাম আগাগোড়া বিধিবদ্ধ ভার্জিনিয়া হাউসের ফেডারেল বিচারক নির্দেশ দিয়েছেন, নিলাম হবে আদালতের তত্ত্বাবধানে একই নির্দেশ জারি আছে মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক রেবেকা বিচ স্মিথের দেয়া রায়ে বলা হয়েছে, উপযুক্ত এবং সর্বোচ্চ দাম যিনি তৎক্ষণাৎ মিটিয়ে দিতে পারবেন, তিনিই টাইটানিক সম্পদ কিনতে পারবেন আর শুধু দাম দিতে পারলেই হবে না, সামগ্রিটির যত্ম করতে হবে একদম নিয়ম মেনে যখনই প্রয়োজন হবে সেটি জনসমক্ষে বের করে দেখাতে হবে টাইটানিককে নিয়ে এখনও গবেষণা এবং তদন্ত চলছে তাদের প্রয়োজনে ক্রেতাকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিতে হবে

গুয়ার্নসেস নিলামঘরের প্রেসিডেন্ট আরলান এটিঙ্গার এবং টাইটানিকের নির্মাতা আটলান্টা প্রিমিয়ার সংস্থার মুখপাত্র ব্রায়ান ওয়েঙ্গার বলেন, একশো বছর আগে, ১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল উত্তর আটলান্টিক সমুদ্রে ডুবে গিয়েছিল আরএমএস টাইটানিক মাঝ-সমুদ্রে একটি পর্বতপ্রমাণ হিমবাহের সঙ্গে ধাক্কা লেগে টুকরো টুকরো হয়ে যায় সেই সময়ের পৃথিবীর বৃহত্তম জাহাজ টাইটানিক জাহাজের ২২২৩ যাত্রীর মধ্যে ১৫১৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল ঘটনাস্থলেই পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো কয়েকজন মারা গিয়েছিলেন তারপর থেকে বহু গবেষণা হয়েছে টাইটানিক নিয়ে কেন ডুবে গিয়েছে, অন্তর্ঘাত নাকি প্রকৃতই দুর্ঘটনা, নাবিক কতটা দায়ী এসব নিয়ে চুলচেরা বিশেস্নষণ চলছিলই ১৯৮৫ সালে সমুদ্র বিশেষজ্ঞ রবার্ট বালার্ড প্রথম উত্তর আটলান্টিকের নিচে নেমে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে দেখেন তারপর ১৯৮৭, ১৯৯৩, ১৯৯৪, ১৯৯৬, ১৯৯৮, ২০০০ এবং ২০০৪ সালে একাধিক সংস্থা সমুদ্র গর্ভে গিয়ে একে একে তুলে এনেছে টাইটানিকের মহার্ঘ সম্পদ আর সব জমা পড়েছে আটলান্টা প্রিমিয়ার সংস্থার দফতরে প্রায় ২৫ বছর ধরে সেগুলো নিজেদের দায়িত্বেই সংরক্ষণ করছে ওই সংস্থা কিন্তু ইদানিং আর সম্ভব হচ্ছে না স্থানাভাব যেমন আছে, তেমনই ব্যয়ের ব্যাপারও রয়েছে নিলামের টাকার বড় অংশ দিয়ে আটলান্টা প্রিমিয়ার সংস্থা তাদের লোকসান মেটাবে বাকি টাকা সংরক্ষিত হবে টাইটানিকের বাকি সম্পদ উদ্ধার অভিযানে কানাডার কাছে সমুদ্রের ১২০০০ ফুট গভীরে প্রায় ১৩ মাইল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে ছিল উদ্ধার হওয়া সম্পদ গুলো এখনও ৩-৪ মাইল এলাকার ধ্বংসাবশেষ খুঁজে দেখা হয়নি ধারনা করা হচ্ছে সেখানে ছড়িয়ে আছে আরও অনেক সম্পদ

নিলামের আর একটি দিক খুবই আকর্ষণীয়, বলা চলে অভূতপূর্ব ওই অভিশপ্ত টাইটানিকে যারা সওয়ার ছিলেন, তাদের পরবর্তী প্রজন্মের মানুষজনও এই নিলামের সময় উপস্থিত থাকবেন তারা চান, তাদের প্রয়াত প্রিয়জনের জিনিসপত্র একবার  চিনে নিতে, পারলে নিলামে কিনে নিতে