|
চীন-পাকি
সন্ত্রাস দমন মহড়া
ইশা
॥
‘মৈত্রী-২০১০’
শীর্ষক চীন ও পাকিস্তানের তৃতীয় সন্ত্রাসদমন মহড়া গত ৯ জুলাই পশ্চিম চীনের
নিন সিয়া হুই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের ছিনথোংসিয়া অঞ্চলে শেষ হয়েছে।
চীন ও
পাকিস্তানের দুটি বিশেষ সেনাদল এ সামরিক মহড়ায় অংশ নিয়েছে।
৯ জুলাই
সকালে যৌথ সন্ত্রাসদমন মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
চীন ও
পাকিস্তানের বিশেষ বাহিনী বিমান বাহিনীর সহযোগিতায় যৌথ সন্ত্রাসদমন মহড়া
চালিয়েছে এবং সাফল্য অর্জন করেছে।
এ যৌথ মহড়ার
প্রধান লক্ষ্য ছিল মিলিতভাবে চীন ও পাকিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলের সন্ত্রাসী
নিশ্চিহ্ন ও সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা এবং জিম্মি উদ্ধার।
এবারের
সামরিক মহড়ার স্থল সন্ত্রাসদমন বাহিনীর পরিচালনায় একটি জঙ্গী বিমান ও একটি
হেলিকপ্টার সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে গুলি করে।
চীনের পরিদর্শন
দলের নেতা,
চীনের গণ মুক্তি ফৌজের ডেপুটি চীফ অব স্টাফ মা সিয়াও থিয়েন মহড়া পরিদর্শন করে
সিআরআই সাংবাদিককে বলেছেন,
মহড়ার দু’দেশের
অফিসার ও সৈনিকরা মিলিতভাবে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো,
সন্ত্রাসীদের ওপর আঘাত হানা,
জিম্মিদের উদ্ধার ও পলায়নপর সন্ত্রাসীদের পিছু ধাওয়াসহ ছয়টি ক্ষেত্রের
ট্রেনিং সম্পন্ন করেছে।
চীন ও
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর যৌথ মহড়া দু’দেশের
সেনাবাহিনীর সহযোগিতা ও বিনিময় বৃদ্ধি,
দু’দেশের
সার্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্পর্ক উন্নয়ন এবং মিলিতভাবে হুমকি মোকাবিলার
পদ্ধতি অন্বেষণের গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য রয়েছে।
মা সিয়াও থিয়েন
বলেন,
এ
অঞ্চলে সন্ত্রাসী শক্তির হুমকি এখনও দূর করা যায়নি।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো ও সন্ত্রাসদমনের সামর্র্থ্য বৃদ্ধি চীন
ও পাকিস্তানের অভিন্ন স্বার্থের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
পাকিস্তানের
সামরিক মহড়া পরিচালনা গ্রুপের প্রধান খিজার বলেন,
দু’দেশের
যৌথ সামরিক মহড়ায় শুধু দু’দেশের
সন্ত্রাসদমনের দৃঢ়সংকল্প প্রতিফলিত হয়েছে তাই নয়,
এতে আমাদের দু’দেশের
একটি অভিন্ন লক্ষ্যও স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
এ লক্ষ্য
হল কোনো সন্ত্রাসীকে টিকে থাকার সুযোগ না দেয়া এবং সীমান্ত অঞ্চলের
সন্ত্রাসীদের সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করা।
চীন ও পাকিস্তান
এ সন্ত্রাসীদমন মহড়ায় অভিজ্ঞ অফিসার ও সৈন্য পাঠিয়েছে।
চীনের
সৈনিক ছেন মিং বলেন,
আমার মতে সামরিক মহড়ায় পাকিস্তানের বাহিনীর সন্ত্রাসদমনের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ।
তাদের
ট্রেনিং অনেকটা বাস্তব যুদ্ধের মত,
এটা আমার মনে গভীর ছাপ ফেলেছে।
যেমন
পাকিস্তানের সামরিক মহড়ার একটি ট্রেনিং আইটেম হল একজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষকে
রক্ষা করা।
এ কাজ
সম্পন্ন করার জন্য দলের প্রত্যেকের কর্তব্য সুষ্পষ্ট,
তাদের পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় ভাল এবং তাদের আকস্মিক অবস্থা মোকাবিলার
সামর্থ্য বেশি।
পাকিস্তানের
পরিদর্শন নেতা ওয়াহিদ আরশাদ চৌধুরি বলেন,
যৌথ মহড়া সফল হয়েছে,
এতে দু’দেশের
সন্ত্রাসদমন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার দৃঢ়সংকল্প প্রতিফলিত
হয়েছে।
তিনি আরো
বলেন,
এবারের মহড়া চীন ও পাকিস্তানের সামরিক মহড়ার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করেছে।
জানা গেছে,
২০০২ সাল থেকে
চীন ইতোমধ্যে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ এবং পাকিস্তান,
থাইল্যান্ড ও
ভারতের সঙ্গে সন্ত্রাসদমন বিষয়ে ট্রেনিং ও মহড়া চালাচ্ছে।
|