|
ধর্ম
নিয়ে রাজনীতি ও রাজনীতি নিয়ে ধর্ম আর কতদিন?
‘কুরআনের
আলোকে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ও বিসমিল্লাহ....’
শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় বক্তারা যা বললেন -
সংলাপ
॥
সংবিধান
রাষ্ট্র গঠনের হাতিয়ার।
বাংলাদেশের সংবিধান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রণীত।
সেই
সংবিধানকে বারবার অবমাননা করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জন্য।
সর্বশেষে ধর্মীয় অনুভূতিকেও পুঁজি করা হয়েছে এবং হচ্ছে।
সময়ের
দাবিতে সত্য প্রতিষ্ঠার মহান ব্রতে সূফী সাধক আনোয়ারুল হক আর্শীবাদপুষ্ট
‘কুরআন
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আলোচনা কেন্দ্র’
- ‘কুরআনের
আলোকে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ও বিসমিল্লাহ....’
শীর্ষক মুক্ত আলোচনার আয়োজন করে।
গত ১১
চৈত্র ১৪১৭,
২৫
মার্চ ২০১১,
শুক্রবার সকাল ১০:০১ মিনিটে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এই মুক্ত
আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. মুহাম্মদ মেজবাহ উল-ইসলাম,
সভাপতি,
কুরআন
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আলোচনা কেন্দ্র।
মুক্ত
আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর এম. শাহ্ আলম,
চেয়ারম্যান,
আইন
কমিশন,
বাংলাদেশ।
বিশেষ
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন : জনাব রাশেদ খান মেনন,
সংসদ
সদস্য,
সভাপতি,
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এবং সভাপতি,
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি;
আল্লামা মোহাম্মদ সাদেক নূরী,
নির্বাহী উপদেষ্টা,
আশিক্কীনে আউলিয়া ঐক্য পরিষদ বাংলাদেশ।
মুক্ত
আলোচনায় বক্তব্য রাখেন - অধ্যাপক ড. মোঃ আখতারুজ্জামান,
চেয়ারম্যান,
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ,
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়;
সৈয়দ
আবদুল্লাহ সহিদ,
সাবেক
জজ ও মহাসচিব,
বি.সি.এস. (বিচার) এসোসিয়েশন,
এ্যাডভোকেট জর্জকোর্ট,
ঢাকা;
আলহাজ্জ মোহাম্মদ আলী ফারুকী,
বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন,
শাহ্
সূফী ড. এমদাদুল হক কাজল,
তত্ত্বাবধায়ক,
কাজলডাঙ্গা আস্তানা শরীফ,
নরসিংদী;
শাহ্
মোঃ লিয়াকত আলী,
সদস্য
সচিব,
কুরআন
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আলোচনা কেন্দ্র;
শাহ্
শেখ মজলিশ ফুয়াদ,
বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ,
ব্রাহ্মণবাড়িয়া;
শাহ্
ফাতেমা আফরোজ নাসরিন,
মিরপুর আস্তানা শরীফ প্রমুখ।
জাতীয়
সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে সকাল ১০টা ১ মিনিটে শুরু হয় অনুষ্ঠান এবং দুপুর ১২
টা ৪৫ মিনিটে -
‘হাক্কানী
প্রার্থনা’র
মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
স্বাগত বক্তব্যে কুরআন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আলোচনা কেন্দ্র-এর সদস্য
সচিব শাহ্ মোঃ লিয়াকত আলী বলেন -
মুক্ত
আলোচনায় বিষয়বস্তুর পক্ষে-বিপক্ষে মাননীয় সুধী ও আলোচকবৃন্দের নিজস্ব
দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন মতামত থাকতেই পারে।
তাই
আলোচনায় যুক্তি নির্ভর ও পরমত-সহিষ্ণুতার মাধ্যমে পারস্পরিক সম্মান,
মর্যাদা ও শ্রদ্ধাবোধ
বজায় রাখার জন্য এই আলোচনা অনুষ্ঠান সকলের কাছে আবেদন করছে।

মহান
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এদেশের সকল সম্প্রদায়ের সম্মিলিত অংশগ্রহণের ফলেই
স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম।
তাই
জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের প্রতি সম্মান,
শ্রদ্ধা ও সাম্যের ভিত্তিতে এদেশের সংবিধান প্রণয়ন নীতিগতভাবে দাবি রাখে।
সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ও বিস্মিল্লাহ... সংযোজন-বিয়োজন প্রশ্নে জাতীয় পর্যায়ে
পক্ষে-বিপক্ষে নানাবিধ প্রশ্ন জেগেছে।
রাষ্ট্রের - কি ধর্ম থাকতে পারে?
সংবিধানে বিস্মিল্লাহ্.... সংযোজনের কি কোন কুরআনিক ভিত্তি আছে?
এসকল
প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বার করে সমাজে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করেই সরকার ও জাতীয়
সংসদের পক্ষে জাতির জন্য গ্রহণযোগ্য সংবিধান প্রণয়ন সম্ভব।
রাষ্ট্রীয় সংবিধান সংশোধন ও প্রণয়নে সহযোগিতা দানে বিজ্ঞ-গুণীজনের মুল্যবান
মতামত সংগ্রহ ও প্রচারকল্পে আয়োজিত আলোচ্য বিষয়বস্তুর ওপর এই মুক্ত আলোচনা।
পরমত-সহিষ্ণুতার আলোকেই সম্মানিত উপস্থিতি অনুষ্ঠানের সার্বিক শৃঙ্খলা বজায়
রেখে নিজ নিজ মতামত তুলে ধরবেন বলে আমরা আশা করছি।
সূফী
সাধক খাজা আনোয়ারুল হক আর্শীবাদপুষ্ট
‘কুরআন
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আলোচনা কেন্দ্র’
জীবন
দর্শন হিসেবে কুরআনের প্রকৃত শিক্ষা কী ভাবে জীবন চলার পথে শান্তি ও মঙ্গল
সংরক্ষণে অবদান রাখতে পারে এবং আত্মিক উৎকর্ষতা সাধন ও একরৈখিক জীবন যাপন এর
প্রকৃত পথ ও পদ্ধতি কি তা উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে ১৯৯৩ সাল হ’তে
এদেশে নিরলসভাবে গবেষণামূলক কাজে নিয়োজিত আছে।
এই
গবেষণা প্রতিষ্ঠান মানুষের স্বভাব,
পরিবেশ,
সংস্কার ও মানবিক গুণাবলী চর্চা ও চর্যার পাশাপাশি স্রষ্টার একক সত্তার প্রতি
বিশ্বাস স্থাপন করার ক্ষেত্রে একমাত্র চরম আত্মসংযম,
প্রেম
ও পরম ত্যাগের অনুশীলনের পথ দেখায়।
প্রতিষ্ঠালগ্ন হ’তে
কুরআন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আলোচনা কেন্দ্র এ পর্যন্ত যে সকল বিষয়ে মুক্ত
আলোচনা ও সেমিনারের আয়োজন করেছে,
তার
মধ্যে অন্যতম হলো :
-
উম্মুল কুরআন,
-
কুরআন
ও সুন্নাহর আলোকে বিজ্ঞান সাধনা,
-
দর্শন
না বিধানের আলোকে সূরা আল ফাতিহা,
-
আল
কুরআন জীবন দর্শন না জীবন বিধান,
-
মুসলিম ঐক্য সমস্যা সম্ভাবনা এবং পথ-পদ্ধতি,
-
ধর্ম
মানবতার জন্য,
-
মানব
সভ্যতায় সাধনা,
-
সৃষ্টি সেবায় জ্ঞান চর্চা,
-
অজ্ঞতাই সকল ভুলের মূল,
-
ধর্মের নামে আরবী,
সভ্যতার নামে ইংরেজী,
বিনোদনের নামে হিন্দি - বিপন্ন বাংলা।
এই
প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য পবিত্র কুরআনের আলোকে বিভিন্ন বিষয়ে উৎসরিত ভ্রান্ত
ধারণা ও বিভ্রান্তির যৌক্তিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ জনসমক্ষে তুলে ধরা নীতি
আন্তর্জাতিক ধর্মীয় চিন্তা ও গবেষণার অঙ্গন হ’তেও
সমর্থন পেয়ে আসছে।
সংবিধান রাষ্ট্রের নীতিগত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে আবশ্যিক
বিধানগ্রন্থ।
রাষ্ট্রের সংবিধান যতটা বাস্তবসম্মত এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এর
অনুশীলনে কল্যাণকর কার্যক্রম পরিচালনার পথ-পরিক্রমা ততটাই সহজতর হবে।
বাংলাদেশের জনগণের শান্তিপূর্ণ সুষ্ঠু জীবন যাপনের ক্ষেত্রে সংবিধানে
রাষ্ট্রধর্ম ও বিস্মিল্লাহ.... এর সংযোজন কতটা অবদান রাখতে পেরেছে বা পারছে
তা জাতি জানে।
কিন্তু এই নিয়ে ধর্মজীবী- ধর্মান্ধ প্ররোচনায় ধর্মভীরুদের মাঝে নানান মতভেদ
দেখা দিয়েছে।
উত্থাপিত হচ্ছে সমাজের বিভিন্ন স্তরে নানান প্রশ্ন।
রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণে এসব প্রশ্নের সুষ্ঠু জবাব ও সমস্যার সমাধান বের
করে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ সংবিধান সময়ের দাবি।
সংবিধান নিয়ে সমাজে সৃষ্ট সমস্যার সমাধানকল্পে জাতীয় সংসদের যৌক্তিক
সিদ্ধান্ত ও কার্যকরী পদক্ষেপ অত্যাবশ্যক।
তাই
কুরআন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আলোচনা কেন্দ্র কুরআনের আলোকে
‘সংবিধানে
রাষ্ট্রধর্ম ও বিস্মিল্লাহ্....’
শীর্ষক মুক্ত আলোচনার বিশেষ আয়োজন করেছে এবং করবে সত্য উদঘাটন ও প্রতিষ্ঠার
জন্য।
আজকের
আলোচনায় অংশগ্রহণকারী সম্মানিত আলোচকবৃন্দের কাছে কিছু গণ-জিজ্ঞাসা তুলে ধরা
হলো -
*
বাংলা
ভাষাভাষি রাষ্ট্রের জন্য সংবিধানে আরবী ভাষায়
‘বিস্মিল্লাহ্....’
সংযোজনের যৌক্তিকতা কোথায়?
সংবিধানে
‘বিস্মিল্লাহ্
....’
সংযোজনের আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা?
বিসমিল্লাহ্ ... পড়া ও লেখা কোথায় প্রযোজ্য?
* ‘বিসমিল্লাহির
রাহমানির রাহিম’
কুরআন
মজিদের সূরা নমলের অংশবিশেষ- রাষ্ট্রীয় সংবিধানে কুরআনের কিছু গ্রহণ আর কিছু
গ্রহণ না করার পেছনে জনগণের কোন লাভ-ক্ষতি বা কল্যাণ-অকল্যাণ আছে কি?
থাকলে
কিভাবে?
*
মুসলমান কুরআন পাঠকারীকে কুরআন মজীদে
‘আয়ুযু
বিল্লাহ...’
পড়ে
কুরআন পাঠ করার নির্দেশনা রয়েছে অর্থাৎ বিস্মিল্লাহ্ ... পড়ার পূর্বেই
‘আয়ুযু
বিল্লাহ...’
পড়ার
নির্দেশনা।
সংবিধানে কুরআনের কিছু অংশ সংযোজনের প্রয়োজন হ’লে
কোনটির সংযোজন বেশি আবশ্যক-
‘আয়ুযু
বিল্লাহ...’
না
‘বিস্মিল্লাহ্
...’?
*
সংবিধানে কোন বিষয় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন করার জন্য না পাঠ করার জন্য
সংযোজন করা হয়?
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যা বাস্তবায়ন যোগ্য নয় তা কি কেবল পাঠ করার জন্য
সংবিধানভুক্ত হ’তে
পারে?
*
সংবিধানে রাষ্ট্রধর্মের কার্যকারিতা কোথায়?
রাষ্ট্রের কি কোন ধর্ম আছে?
থাকলে
রাষ্ট্রধর্ম বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের কি কোন প্রয়োজনে লাগে?
লাগলে
কিভাবে?
আর না
লাগলে সংবিধানে এর প্রয়োজন কেন?
*
সম্প্রদায়ের ধর্ম ও রাষ্ট্রধর্ম কি এক না ভিন্ন?
এক
কিংবা ভিন্ন হ’লে
রাষ্ট্রীয় সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম সংযোজন করা সমীচীন কি?
*
কুরআন
অনুসারে মানব ধর্ম হ’ল
‘শান্তি’
(ইসলাম)।
ইসলাম
কখন থেকে কিভাবে রাষ্ট্রধর্ম হ’ল?
প্রাণ
নির্ভর মানব সত্তায় চর্চা ও চর্যায় ধর্মীয় অনুভূতি অনুভব করা যায়।
প্রাণনির্ভরহীন রাষ্ট্র,
ধর্মীয় অনুভূতি অনুভব করতে কি পারে?
রাষ্ট্র ধর্মীয় অনুভূতি অনুভব করতে না পারলে রাষ্ট্রধর্ম কেন এবং রাষ্ট্রীয়
সংবিধানে থাকবে কেন?
যুগোপযোগী সংবিধান সংস্কার ও বাস্তবায়নে রাষ্ট্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়তে
বাঙালি জাতি জানতে চায় সত্যটা কি?
তাই
সময়ের চাহিদায় কুরআন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আলোচনা কেন্দ্র আয়োজন করেছে কুরআনের
আলোকে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ও বিস্মিল্লাহ্ ... শীর্ষক মুক্ত আলোচনা।
প্রতিষ্ঠান বিশ্বাস করে আলোকিত ব্যক্তিত্বরা আলোচ্য বিষয়ে তাঁদের মূল্যবান
মতামত দেবেন যুগোপযোগী সংবিধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে ব্যাপক অবদান রাখতে।
উপস্থিতিকে হার্দিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
মুক্ত
আলোচনায় বক্তারা যেসব মূল্যবান বক্তব্য উপস্থাপন করেন পর্যায়ক্রমে সংক্ষেপে
তা তুলে ধরা হলোঃ
শাহ্
শেখ মজলিশ ফুয়াদ
বাংলাদেশ হাক্কানী খানকা শরীফ,
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
সূফী
সাধক আনোয়ারুল হক আশীর্বাদপুষ্ট হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ পরিচালিত কুরআন
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আলোচনা কেন্দ্র আয়োজিত
‘কুরআনের
আলোকে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিস্মিল্লাহ্....’
শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় উপস্থিত সমবেত সকলকে প্রথমেই জানাই আন্তরিক হাক্কানী
শুভেচ্ছা।
এখানে
উপস্থিত আছেন অনুষ্ঠানের মাননীয় সভাপতি ড. মুঃ মেজবাহ উল ইসলাম,
সভাপতি,
কুরআন
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আলোচনা কেন্দ্র;
উপস্থিত সম্মানিত প্রধান অতিথি প্রফেসর এম. শাহ্ আলম,
চেয়ারম্যান,
আইন
কমিশন,
বাংলাদেশ।
মাননীয় বিশেষ অতিথি রাশেদ খান মেনন,
সংসদ
সদস্য ও সভাপতি,
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি;
আল্লামা মুহাম্মদ সদেক নূরী,
নির্বাহী উপদেষ্টা,
আশিক্কিনে আউলিয়া ঐক্য পরিষদ,
বাংলাদেশ;
সম্মানিত আলোচকবৃন্দ ও উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
কুরআন,
সংবিধান,
রাষ্ট্র,
ধর্ম,
আল্লাহ্ এই প্রত্যেকটি শব্দই আমাদের কাছে পবিত্র।
‘কুরআন’
যার
আভিধানিক অর্থ বার বার পাঠ করা,
তা
অবতীর্ণ ও প্রকাশিত হয়েছিল আমাদের মহানবী,
মানবজাতির শান্তির দূত হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) -এঁর মাধ্যমে,
আজ
থেকে চৌদ্দশত বত্রিশ বছর আগে এবং আজও তা সমগ্র মানব জাতির জন্য শান্তি ও
কল্যাণের পথে উজ্জ্বল দিকনির্দেশনা।
আর
সংবিধান বলতে এখানে আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি যা একটি সশস্ত্র
মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছিল আজ থেকে ৪০ বছর আগে,
যার
সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে লাখো শহীদের রক্ত আর মা-বোনের সম্ভ্রম হারানো ইতিহাস,
সেই
বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সংবিধানের কথাই বলা হয়েছে।
মাতৃভূমির সংবিধান অত্যন্ত স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের কাছে পবিত্র।
আর
ধর্ম-সেতো একজন ব্যক্তির ধীরে ধীরে ধারণ করার ব্যাপার।
আমাদের ধর্ম শান্তির ধর্ম,
ইসলাম
শব্দের অর্থই যে হচ্ছে শান্তি।
কিন্তু নিজেকে পূঁত-পবিত্র করে গড়ে তুলতে না পারলে শান্তির ধর্ম ধারণ করা কি
কোনোদিন সম্ভব?
মুখে
মুখে শুধু শান্তি অর্থাৎ ইসলামের কথা বললে,
আর
কাজে কর্মে শান্তির পরিপন্থী কাজ করলে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে আমাদেরকে যে
কপট (আরবীতে যাকে বলা হয়েছে মোনাফেক) হিসেবে গণ্য করা হবে।
পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে
‘মোনাফেকদের
স্থান জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে।’
তাই
আমাদের অতি সাবধানে পা বাড়ানো দরকার।
কুরআনের আলোকে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিস্মিল্লাহ....এর মতো অত্যন্ত
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার আগে তাই আমি আমার আল্লাহ্র কাছে অনিচ্ছাকৃত
ভুল-ত্রম্নটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে উলিস্নখিত বিষয়ের ওপর কিছু আলোকপাত
করছি।
আমাকে
কিছু বলার সুযোগ দেয়ার জন্য হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান
‘কুরআন
গবেষণা প্রতিণ্ঠান আলোচনা কেন্দ্র’কে
জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
শুরুতেই আমার কিছু প্রশ্ন।
হযরত
মুহাম্মদ (সাঃ) কেন ইসলাম অর্থাৎ শান্তির বাণী প্রচার করেছিলেন?
এটা
কি শুধু আজকের দিনের মুসলমানদের জন্য?
পবিত্র কুরআনের কোথাও যে
‘মুসলমান’
শব্দটি নেই,
আছে
মুসলিম যার অর্থ ভদ্র।
তাঁর
আদর্শে তৎকালীন মক্কা নগরীর প্রতাপশালী কুরাইশ বংশের কত জন শান্তির ধর্মে
দীড়্গিত হয়েছিলেন?
নাকি
তিনি ইসলাম-এর আদর্শের পথে ডাক দিয়েছিলেন সমগ্র মানবজাতিকে?
যারা
তাঁর আদর্শ অর্থাৎ শান্তির ধর্মকে গ্রহণ করেনি,
তাদেরকে কি আমরা তাঁর ধর্মাবলম্বী বলে গ্রহণ করতে পারি?
সে
ক্ষেত্রে তাদেরকে শুধু আরবীয় বলাই ভাল,
মুসলিম বা ইসলাম - ধর্মের অনুসারী না বলাই উত্তম।
কেন
না,
একজন
মুসলিম কখনো অপরের ক্ষতি সাধন করতে পারে না যা মুহাম্মদ (সাঃ) এঁর ওফাতের পরে
হয়েছে এবং সেটা হয়েছে ইসলামের নামে।
শেষ
পর্যন্ত আরবীয় রাজা-বাদশাহদের রাজবংশের উত্থান-পতনের ইতিহাসকে ইসলামের ইতিহাস
বলে চালিয়ে দেয়া হয়েছে যাকে এক কথায় বলা যায়,
শান্তির ধর্ম ইসলামের রাজনীতিকীকরণ।
হযরত
মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর আজীবনের শ্রম-সাধনা,
ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে শান্তির ধর্মের যে নিশানা মানবজাতিকে উপহার
দিয়েছিলেন তার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে শান্তির ধর্ম অর্থাৎ ইসলামকে ক্ষমতায়
যাওয়ার হাতিয়ার করা হয়েছে।
মোগল
শাসনামলের শেষ দিকে এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে এই উপমহাদেশে ইসলাম ধর্মের ও
সুন্নাহ্র অপব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে।
গবেষণায় দেখা যায়,
ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত কলকাতা মাদ্রাসা সহ বড় বড় সব মাদ্রাসার প্রধানরা
ছিলেন ইংরেজ এবং তারা এ উপমহাদেশের ধর্মভীরু মানুষের মধ্যে বিশেষ করে হাদীসের
নামে কুরআন ও সুন্নাহ্র মিথ্যা ব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।
এ
অঞ্চলের মানুষ প্রকৃতিগত কারণেই সহজ সরল,
আথিতেয়তায় ভরপূর এবং অল্পতেই তারা তুষ্ট থাকে।
রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা কোনদিনই তাদের ছিল না।
১৯৭১
সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের মাধ্যমেই তারা প্রথম স্বাধীনতার স্বাদ
পায়।
ধর্মের নামে অর্থাৎ ইসলামের নামেই তখন এদেশ সংঘটিত হয়েছিল বিশ্ব ইতিহাসের
বর্বরতম গণহত্যা ও নারী নির্যাতন।
আর
এদেশের মুক্তিকামী মানুষের কণ্ঠে তখন গান ছিল,
‘বাংলার
হিন্দু,
বাংলার বৌদ্ধ
বাংলার খ্রীষ্টান,
বাংলার মুসলমান
আমরা সবাই বাঙালি,
এ
বাংলার কথা বলতে গিয়ে
বিশ্বটাকে কাঁপিয়ে দিলো সে যে কণ্ঠস্বর,
মুজিবর,
মুজিবর।
একথা
দিনের আলোর মত সত্য যে,
’৭১
এর মহান মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের সব ধর্মাবলম্বী জনগণের সর্বাত্মক ভূমিকা এবং
ধর্মের নামে আর যেন কোনদিন এ দেশে শাসন-শোষণ,
মিথ্যাচার না চলতে পারে সে কথা মনে রেখেই ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রীয় সংবিধানে
ধর্মের ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল।
ধর্মের নামে রাজনীতি করে যারা সমাজ ও দেশের সর্বনাশ ডেকে এনেছিলো তারা তখন
গর্তে লুকিয়েছিল।
স্বাধীনতাবিরোধী সেই রাজাকার আলবদররাই শান্তি ধর্ম ইসলামের নামে তথাকথিত
নিজস্ব ধর্ম নিয়ে রাজনৈতিক ইসলাম এর ভীত গেঁড়ে আজ তারা ইসলাম এর সবচেয়ে বড়
ধারক ও বাহক সেজেছেন।
যারা
মাতৃভূমির বিরুদ্ধে,
মানুষের বিরুদ্ধে কাজ করে বিদেশী শক্তির স্বার্থ উদ্ধারে সদালিপ্ত থাকে তাদের
পক্ষেই পবিত্র ধর্মের নামে রাজনীতি করা মানায়।
কিন্তু বাংলার মানুষ তা কখনো মেনে নেয়নি,
তাদেরকে ভালবাসে না যেহেতু তারা কখনো বাংলার মানুষের কল্যাণ করে না,
বা
করতে পারে না।
ইতিহাসের নির্মম পরিণতি তাদের জন্য সব সময় অপেক্ষা করে।
পবিত্র কুরআনও কখনো ধর্মের নামে মিথ্যাচার বা কপটতাকে প্রশ্রয় দেয় না।
কুরআন
সর্বদাই সত্যের পথে চলার নির্দেশ দেয়।
এখন
স্বাধীনতা পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার জন্য বা
থাকার জন্য যেভাবে পবিত্র সংবিধানে ধর্মকে ব্যবহার করা হয়েছে তা এক নির্মম
কালো অধ্যায় বাংলার ইতিহাসে।
১৯৭৫
সালের ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে সপরিবারে হত্যা,
৩রা
নভেম্বর জেলখানার ভেতরে জাতীয় চারনেতা হত্যা এবং ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক
মুক্তিযোদ্ধা সৈনিকদের হত্যার ধারাবাহিকতায় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন
প্রথমে ‘খন্দকার
মোশতাক আহমেদ এবং তারপর সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান।
স্বাধীনতা যুদ্ধের পাঁচ বছরও তখন পার হয়নি।
গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে ক্ষমতাচ্যুত এবং
হত্যাকান্ডের কোন বিচার না করেই তখন জিয়াউর রহমান সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন
ঘটান।
পঞ্চম
সংশোধনীর মাধ্যমে একদিকে
’৭৫
এর সকল হত্যাকান্ড বিচার পক্রিয়া বন্ধ করেন এবং অপরদিকে সংবিধানে সস্তার
রাজনীতি করতে,
ধর্মান্ধ-ধর্মভীরু-ধর্মজীবীদের ব্যবহার করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকতে কুরআনের
বাণী ‘বিসমিল্লাহির
রহমানির রাহিম’
সংযোজন করেন এবং সকল রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের শুরুতেই এই বাণী পাঠের বিধান চালু
করেন।
নিজেকে মিথ্যাচার থেকে মুক্ত না করে বিস্মিল্লাহ্... বলা কতটুকু ধর্মের কাজ
সেটা ভেবে দেখার বিষয় নয় কি?
পরবর্তীতে আবারো অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসেন সামরিক শাসক হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ।
সংবিধানের ৮ম সংশোধনীর মাধ্যমে কুরআন ও সুন্নাহকে অবমাননা করে রাজনৈতিক
ইসলামকে হাতিয়ার করে ইসলামকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করেন যা জিয়াউর
রহমানের প্রবর্তিত ধর্মের নামে রাজনীতিকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়।
প্রকৃত অর্থে ধর্মের নামে রাজনীতির ষোলকলাপূর্ণ হলো তখন।
অবৈধ
ক্ষমতাকে বৈধ করতে ধর্মের ব্যবহারের চেয়ে মোক্ষম অস্ত্র বুঝি আর কিছু নেই।
পরবর্তীতে এই এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে বিজয়ী হলো এদেশের মানুষ।
কিন্তু তার প্রবর্তিত রাষ্ট্রধর্ম বহাল থাকলেও আদালতের রায়ের মাধ্যমে পঞ্চম ও
সপ্তম সংশোধনী অর্থাৎ জিয়াউর রহমান ও এরশাদের শাসনামলকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সেই
অবৈধ শাসনামলের প্রবর্তিত রাষ্ট্রধর্ম বাংলার মানুষের অসাম্প্রদায়িক চেতনা
প্রতিষ্ঠায় কতটুকু আঁচড় কাটতে পেরেছে এবং ভবিষ্যতে জতির জন্য কতটুকু কাজে
আসবে তা আজ ভেবে দেখার সময় এসেছে।
বর্তমান সরকার সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হোক এবং প্রতিটি পদক্ষেপ বাংলা ও
বাঙালির স্বার্থে গ্রহণ করুক এটাই জাতির প্রত্যাশা।
শাহ্
ফাতেমা আফরোজ নাসরিন,
মিরপুর আস্তানা শরীফ
সম্মানিত সূধী,
এই
মহতী অনুষ্ঠানে কিছু বলার জন্য সুযোগ পেয়ে আমি ধন্য।
উপস্থিত সবাইকে জানাই সত্যের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
সূফী
সাধক আনোয়ারুল হক এঁর বাণী- অজ্ঞতাই সকল ভূলের মূল- স্মরণ করে আমি কিছু বলার
চেষ্টা করবো।
বাংলা
তথা বাংলাদেশ সভ্যতার বয়স প্রায় চার হাজার বছর।
সাধকরা বলেন পাঁচ হাজার বছর।
এই
সময়েও শান্তি ছিল।
কোন
কোন সময়ে শান্তি বিঘ্নিত হলেও হাসিমুখে তা বাঙালি বরণ করে নিয়েছে।
কিন্তু সার্বিক অঙ্গনে দেয়ালে যখন পিঠ ঠেকে যায় তখন মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে
সাধককূলের আশীর্বাদে বাঙালি বাংলাদেশ পায়।
আরবী
‘ইসলাম’
বাংলায় ‘শান্তি’।
শান্তি সব সময়েই বর্তমান এবং সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।
পরিবার থেকে সমাজ।
সমাজ
থেকে রাষ্ট্র - পশ্চিমাদের অবদান।
সেখান
থেকেই শুরু হয়েছে মানবজাতির দারিদ্র ও ধর্ম নিয়ে বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক খেলা।
বাংলাদেশ তার থেকে বাদ পড়েনি বরং প্রকট আকার ধারণ করার মাঝে মাঝে পূর্বাভাস
পাওয়া যায় যা বাংলার জন্য অশনি সংকেত।
রাষ্ট্রের প্রকৃতি কিরূপ হ’বে
এবং কিভাবে চলবে তা নির্ধারণ করতেই সংবিধান।
জাতীয়
সংসদ আইন তৈরি করবে সংবিধানের আলোকে।
রাষ্ট্রের সংবিধান জনগণের জন্য।
কাজেই
সংবিধানে একটি রাষ্ট্রের জনগণের আশা আকাঙ্খা ও মৌলিক অধিকারের প্রতিফলন থাকবে
এটাই বাঞ্ছনীয়।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে সংবিধান পরিবর্ধন,
পরিবর্তন,
সংশোধন সংবিধানের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করবে এটাই স্বাভাবিক।
অতীতে
সুবিধাবাদি চক্রান্তকারীরা বার বার তাদের হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য
জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়াই সংবিধানের উপর ছুরি-কাঁচি চালিয়েছে এবং চরমভাবে
সংবিধান লঙ্ঘন করার পথ সৃষ্টি করে এর পবিত্রতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে,
বর্তমানে তা অবশ্যই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
এটাই
সময়ে দাবি।
সমাজে
যারা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে তারা উল্টো পথে হাটে,
তারাই
মুখে আল্লাহর দোহাই,
কুরআনের দোহাই,
ইসলামের দোহাই দেয় কিন্তু কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নিজেদেরকে সত্যের উপর
প্রতিষ্ঠিত করে সমাজে পরিবর্তন আনতে চায় না।
রাজনীতিকরা আজ সেই পথে হাঁটছে।
যারা
সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ও বিস্মিল্লাহ্.... সংযোজন করলেন তাদের জীবনাচরণে কি
ছিলো বা আছে তা জাতি জানে।
সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম এবং বিস্মিল্লাহ্.... এর সংযোজন এদেশে আপামর জনগণের
জন্য কোন ফলাফল বয়ে আনেনি,
মানুষের ক্ষুধা কমেনি,
মিথ্যাচার কমেনি এবং অজ্ঞতা দূর করে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের কোন
পরিবর্তন হয়নি,
বরং
সংঘাত বেড়েছে।
ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করা হলো।
ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ দলিল কুরআনে কি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা লেখা আছে?
সমস্ত
কুরআন জুড়ে রয়েছে এক আল্লাহকে ধারণ-লালন-পালন করে ব্যক্তিগত পরিশুদ্ধতার কথা।
রাষ্ট্রধর্ম ব্যক্তিকে বা সমাজকে পরিপূর্ণ পরিশুদ্ধ করতে পেরেছে এমন কোন নজির
ইতিহাসে দেখা যায় না।
কোন
বিধান পারেনি ব্যক্তিকে পরিশুদ্ধ করতে।
বাংলাদেশের সংবিধান ইসলাম ধর্মের আলোকে তৈরি করা হয়নি।
সংবিধানে শুধু রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম লেখা হয়েছে নির্বাচনের সময়ে ধর্মভীরু
মানুষের ভোট পাওয়ার জন্য এবং ধর্মজীবীদের খুশী করার জন্য যা মোনাফেকির
অনর্ত্মভূক্ত।
যদি
ধরে নেয়া হয় রাষ্ট্রধর্ম মানে এদেশের জনগণের ধর্ম,
তাই
বা কি করে সম্ভব?
একটি
রাষ্ট্রে বাস করে বহু ধর্মের লোক,
এক
ইসলাম ধর্মের মধ্যেই রয়েছে বহু দল-উপদল।
বিবেকবান মানুষের মধ্যে প্রশ্ন জাগে কেন ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করা হলো।
বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর প্রত্যেকের মত-পথে রয়েছে স্বাতন্ত্র,
ধর্মীয় বিধান এবং সংস্কৃতিভেদে আনুষ্ঠানিকতায় রয়েছে বিভিন্নতা।
কুরআনের কোথাও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা বা রাষ্ট্রধর্মের কথা নেই।
যে
কোন রাষ্ট্র সরকারের কাজ হলো সকল সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করে
জনগণের সেবা করা।
কুরআন
বলছে, ‘ধর্মে
জোর জবরদস্তি নাই’।
(সূরা
বাকারাহ্,
২২৬
নং আয়াত)
স্বয়ং
নবীজির প্রতিই আল্লাহর তরফ থেকে স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দেয়া হয়েছে,
‘আপনার
দায়িত্ব তো শুধু পৌঁছে দেয়া,
আমার
দায়িত্ব হিসাব নেয়া।
(সুরা
রাদ,
৪০
আয়াত)
আপনাকে আমি রক্ষক করে পাঠাইনি আপনার কর্তব্য কেবল প্রচার করা।
(সূরা
শুরা,
৪৮
আয়াত)
আপনি
বলে দিন,
আমি
তোমাদের উপর নিয়োজিত নই।
(সূরা
আনাম,
৬৬
আয়াত)
তাদের
সৎপথে আনার দায় তোমার নয়।
(সূরা
বাকারাহ্,
২৭২
আয়াত)
আপনি
তো একজন উপদেশ দাতা,
আপনি
তাহাদের শাসক নহেন।
(সূরা
গাসিয়া ২১,২২
আয়াত)
এরকম
আরও বহু আয়াত আছে কুরআনে।
কুরআনের কোথাও ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা বা রাষ্ট্রধর্মের বিন্দুমাত্র আভাস
নেই।
যারা
বেদাত বেদাত করে চিৎকার করছে,
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের জন্য তারাই ধর্মের নামে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি করে চলেছে
নব নব বেদাত।
বিজ্ঞানের রথে চড়ে বিজ্ঞানকে অস্বীকার করছে।
নবীজি
নিজে ছিলেন জীবন্ত কুরআন।
তিনি
কোন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করনেনি,
রাষ্ট্রধর্মও ঘোষণা করেননি।
তিনি
যা করেছেন বাস্তবতার নিরিখে শান্তি (ইসলাম) এর জন্য সমাজ সংস্কারের কাজ করে
গেছেন।
যদি
কেউ মনে করেন নবীজি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন,
এটা
সম্পূর্ণ মিথ্যা।
রাষ্ট্রের ধারণা বহু পরের।
তখনকার মানুষ জীবন জিবিকার প্রয়োজনে সর্বাধিক সুবিধাজনক স্থানে গোষ্ঠিবদ্ধ
হয়ে বাস করতো,
এমনই
একটি সমাজে নবী মুহাম্মদ (সঃ) এঁর আবির্ভাব।
প্রেম-ভালোবাসা দিয়েই তিনি আকৃষ্ট করেছিলেন মানুষকে।
আল্লাহ্ প্রেমের ফুল যেখানে ফুটে সেই ঘ্রাণে মানুষ সেখানে ভীড় জমাবেই।
নবী
মুহাম্মদ (সঃ)-এঁর ভক্তি ও প্রেমের রাজত্ব এভাবেই গড়ে উঠেছিলো।
সেই
রাজত্ব কোন ভৌগলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ ছিলো না।
আধ্যাত্মিক জগতের বাদশাহ্ কোন ক্ষুদ্র রাষ্ট্র সীমায় সীমাবদ্ধ থাকে না।
কোন
নবী-রাসূলই রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেননি।
বরং
তাঁরা রাষ্ট্রক্ষমতা ছেড়েছেন তার বহু উদাহরণ আছে।
আল্লাহ্,
জীবরাইল ও নবী মুহাম্মদ (সঃ)-এঁর মধ্যে সংযোগ স্থাপনে কোন সময়
বিস্মিল্লাহ.... দিয়ে শুরু করতে হয়েছে এমন নিদর্শন আরবীয় ইতিহাসে নেই।
নজির
আছে,
কুরআন-এ প্রত্যেক সুরার প্রথমে বিসমিল্লাহ্... আয়াত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বহু
পরে শুধু মাত্র কুরআন পাঠের সময় যা মনে বা মুখে পাঠ করতে হয়।
বিদায়
কালে নবীজির শেষ ভাষণ ও শেষ বৃহস্পতিবারে মৃত্যুশয্যা থেকে দেয়া তাঁর সর্বশেষ
৩টি নির্দেশে তিনি ঘুণাক্ষরেও কোনো ইসলামী রাষ্ট্রের কথা বা রাষ্ট্রধর্মের
কথা বলেননি।
কোন
শারিয়ার কথা বলেননি।
যা
বলেছেন তার মূল কথা হলো কুরআন ও সুন্নাহ্র আলোকে ভালো মানুষ হওয়ার কথা,
মানবতার কথা।
তিনি
ভালো করেই জানতেন,
আইন
প্রয়োগ করে বা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জবরদস্তি করে মানুষকে বশে আনা যায় কিন্তু
ভালো মানুষ বানানো যায়না।
ইসলামের ধারক-বাহক সাধকগণ কখনই কোন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেননি বা রাষ্ট্র দখল
করে ধর্ম প্রচার করেননি বরং রাষ্ট্রনায়কগণই তাঁদের কাছে ছুটেছেন পরামর্শের
জন্য যা বংলার ইতিহাসে বহু নজির আছে।
বহু
উদাহরণও রয়েছে এই উপমহাদেশের ইতিহাসে।
হাজারের উপর সাধক শুয়ে আছেন বাংলার মাটিতে।
ওঁনারা কখনও রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেননি বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেননি।
সৃষ্টির শুরু থেকে এ পর্যন্ত সাধকগণ বহুভাবে রাষ্ট্র নায়ক কর্তৃক নির্যাতিত
হয়েছেন,
তারপরেও রাষ্ট্র ক্ষমতার প্রতি তাঁরা মনোযোগ দেননি।
আজ
যাঁর আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে আমরা এখানে সমবেত হয়েছি,
সেই
মহাপ্রাণ সূফী সাধক আনোয়ারুল হক্ একটি নিভৃত কক্ষে বসে আধ্যাত্মিক জগতে
রাজত্ব করেছেন।
তাঁর
পরিচয় জানেন তারা,
যারা
তাঁর সান্নিধ্যে এসেছেন।
মানব
প্রেম আর নিরপেক্ষতার এক বিরল রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে গেছেন তিনি।
তিনি
তো জোর জবরদস্তি করেননি,
রাজনীতি করেননি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা আর রাষ্ট্রধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য।
মানুষকে সত্যের পথ ধরে শান্তি জগতে নিয়ে যাওয়া যায় একমাত্র মানুষ প্রেমের
মাধ্যমে।
সাধকদের একভাষা আর তা হ’ল
প্রেমের ভাষা,
যা
প্রাণীকুল সবাই বুঝে।
সত্য
প্রতিষ্ঠা হয়ে গেলে মানুষের মাঝে আর দায়িত্ব,
কর্তব্য ও অধিকার বুঝাতে হয় না।
আপন
ধর্মের তাড়নায়ই সে কাজ করে যায়।
তাই
সাধকগণ সারা জীবন এই মানুষই তৈরি করে গেছেন।
বাংলাদেশের সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম... এবং রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম
একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য সংযোজিত।
ধর্ম
ব্যক্তিগত,
বিস্মিল্লাহ্...ও ব্যক্তিগত।
এটা
ব্যক্তির চর্চার ব্যাপার,
ধারণ
করার ব্যাপার।
বিসমিল্লাহ্.... ধারণ না করে পড়ে কোন কাজ হয় না।
ঔষধ
সেবন না করে ঔষধের নাম পড়লে কি কোন কাজ হয়।
যদি
তাই হতো তবে বিস্মিল্লাহ্... এর জোয়ারে বাংলাদেশ উন্নতির বন্যায় ভেসে
যাওয়ার কথা।
বাংলাদেশে যখন মুহাম্মদী ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়নি তখন সংবিধানে বিসমিল্লাহ্...
থাকার বা রাখার প্রয়োজনীয়তা রাজনীতিকরা উপলব্ধি করলে তা হবে সত্যের বদলে
মিথ্যা প্রতিষ্ঠা ও ভ্রষ্টাচার যা বাংলার মানুষ বর্তমান সরকারের কাছ থেকে
প্রত্যাশা করে না।
রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিসমিল্লাহ্.... সংবিধানে সংযোজন করে বাংলাদেশীদের
মধ্যে মিথ্যাচারিতা কমেনি,
স্বার্থের হানাহানি কমেনি,
কোন
সরকার সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে জনগণের সেবা করেনি।
বরং
ধর্মের নামাবলী গায়ে জড়িয়ে একই শ্রেণীর রাজনীতিকরা বাংলাদেশের ধর্মভীরু
মানুষকে পূঁজি করে বারবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করে
চলেছে।
আনুষ্ঠানিকতার মোড়কে আরবীয় সংস্কৃতি আমদানী করার প্রচেষ্টায়রত,
আজও
একশ্রেণীর মানুষ বুদ্ধিবৃত্তিক দূর্নীতির মাধ্যমে মুহাম্মদী ইসলামকে দূরে
সরিয়ে আরবীয় বাদশাহী ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের তাবেদার ও চর হিসেবে সমাজে
কাজ করে যাচ্ছে।
বাংলার মাটি দুর্জয় খাঁটি।
সত্য
ছাড়া মিথ্যার পথ ধরলে পতন অবশ্যম্ভাবী।
সবাইকে আবারো হার্দিক শুভেচ্ছা।
শাহ্
সূফী ড. এমদাদুল হক কাজল,
তত্ত্বাবধায়ক
কাজলডাঙ্গা আস্তানা শরীফ,
নরসিংদী
শ্রদ্ধেয়
সভাপতি,
প্রধান অতিথি,
বিশেষ
অতিথি,
বিজ্ঞ
আলোচকবৃন্দ,
উপস্থিত সাংবাদিক বন্ধুগণ এবং সুপ্রিয় সুধী।
আপনাদের সবাইকে আন্তরিক হাক্কানী শুভেচ্ছা।
আজ ২৫
শে মার্চ,
২০১১।
স্বাধীনতার ৪০ বছর পর আজ আমাদেরকে
“কুরআনের
আলোকে রাষ্ট্রধর্ম ও বিসমিল্লাহ....”
নিয়ে
আলোচনা করতে হচ্ছে।
৪০
বছর আগে যে প্রশ্নের মীমাংসা হয়ে গেছে,
৩০
লক্ষ মানুষ রক্ত দিয়ে যে প্রশ্নের উত্তর লিখে গেছেন আজ আমাদের সেই একই প্রশ্ন
নিয়ে আলোচনা করতে হচ্ছে! এর চেয়ে পরিতাপের বিষয় আর কি হতে পারে?
আজো
আমাদের এ বিষয়ে কথা বলতে হচ্ছে,
কারণ
রাজনীতিকগণ ক্ষমতার মোহে আচ্ছন্ন।
তারা
এমনভাবে নীতি নির্ধারণের কথা বলছেন যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী।
তাই
আজকের আলোচনা গোটা জাতির জন্য প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইসলাম
কোন একটা ভূ-খন্ডের জন্যে আসেনি।
ইসলাম
সারা বিশ্বের জন্য।
সুরা
তাকভীরের ২৭ নং আয়াতে আল্লাহ বলছেন -
‘কুরআন
বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ’।
তাই
ইসলামকে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের রাষ্ট্রধর্ম বললে এর বিশ্বজনীনতা ক্ষুণ্ন হয়।
ইসলাম
কোন বিশেষ সীমা,
জনগোষ্ঠী,
সমাজ
ও রাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এবং ইসলামকে সীমায় আবদ্ধ করা ইসলামিক নয়।
ইসলাম
হচ্ছে একটা জীবন দর্শন এটা কোন রাষ্ট্র দর্শন নয়।
কুরআনের সুস্পষ্ট ঘোষণা হলো - ইসলাম মানুষের ফিতরাত বা প্রকৃতির ধর্ম।
মানুষ
ছাড়া অন্য কোন জীব-জন্তু,
বস্তু
বা প্রকৃতির জন্য কুরআন প্রযোজ্য নয়।
সুরা
হাশরের ২১ নং আয়াতে আল্লাহ বলছেন -
‘যদি
আমি কুরআনকে পর্বতের উপর অবতীর্ণ করতাম তবে তা নুয়ে পড়তো,
ভেঙ্গে পড়তো।
আমি
তা মানুষের উপর অবতীর্ণ করেছি যাতে তারা চিন্তা করে।’
কুরআন
- পাহাড়,
নদী,
জীব-জন্তু বা রাষ্ট্রের উপর অবতীর্ণ হয়নি।
রাষ্ট্র কোন ধর্মীয় বিধান রচনা করতে পারে না কিংবা কোন ধর্মীয় বিধানকে রহিত
করার ক্ষমতাও রাষ্ট্রের নেই।
রাষ্ট্র সালাত করতে পারে না,
স্মরণ
করতে পারে না,
রোজা
রাখতে পারে না,
হজ্জ্ব করতে পারে না,
রাষ্ট্রের কোন ফিতরাত নেই।
তাই
রাষ্ট্রের কোন ধর্মও থাকতেও পারে না।
আসুন,
আমরা
একটু নিজেদের বিবেক-বুদ্ধিকে কাজে লাগাই।
কুরআন
বারবার বিবেক-বুদ্ধিকে প্রয়োগ করতে বলেছে।
যারা
বিবেক বুদ্ধির প্রয়োগ করে না সুরা জুমআয় তাদেরকে
‘কিতাব
বহনকারী গাধা’
বলা
হয়েছে।
সংবিধান নিয়ে যারা কাজ করছেন তারা বলছেন -
‘রাষ্ট্রধর্ম
ইসলাম ও বিসমিল্লাহ রেখেই না-কি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।
দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে দেশবাসী এমন দায়িত্বহীন ও অর্থহীন বক্তব্য
আশা করে না।
দেশের
মানুষ রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ বুঝে।
ক্ষমতার মোহে আবিষ্ট হয়ে নিজেদেরকে অতি বুদ্ধিমান আর সাধারণ মানুষকে মূর্খ ও
বেকুব ভাবা হচ্ছে।
সংবিধানে একই সাথে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও ধর্মনিরপেক্ষতা সুস্পষ্ট স্ববিরোধিতা।
দুই
নৌকায় দুই পা রেখে এক ব্যক্তি বেশি দূর যেতে পারে না।
ডুবে
মরবে।
দুই
নৌকায় দুই পা রেখে চলতে চাইলে বিশ্ববাসী হাসবে আর বাঙ্গালী জাতি কুরআনের
ভাষায় ‘কিতাব
বহনকারী গাধা’
হিসেবে পরিচিত হবে।
বিশ্ববাসীর দরবারে এবং আল্লাহর দরবারে - বাঙালী জাতির এই অবমাননা হতে দেয়া
যায় না।
একই
সাথে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও ধর্মনিরপেক্ষতা রাখার পেছনে শাসকগোষ্ঠীর
উদ্দেশ্য আমরা বুঝি।
তারা
এদেশের ধর্মভীরু মানুষের ভোট চান আবার ধর্মনিরপেক্ষ,
উদার,
বুদ্ধিবৃত্তি সম্পন্ন মানুষের ভোটও তাদের দরকার।
দুই
পক্ষকেই কাছে রাখার জন্য সস্তা চালাকি করা হচ্ছে।
ভোটের
লোভে বিবেক-বুদ্ধি বিসর্জন দিয়ে একটা স্ববিরোধী সংবিধান প্রণয়নের পাঁয়তারা
চলছে।
কুরআন
নয়,
বাস্তবে অনুসরণ করা হচ্ছে ম্যাকিয়াভ্যালিকে।
যারা
কাজে কর্মে ম্যাকিয়াভ্যালির দর্শনকে অনুসরণ করে আর মুখে লোক দেখানো
বিসমিল্লাহ বলে কুরআনের ভাষায় তাদেরকে মুনাফিক বলা হয়।
কুরআনের মূলনীতি হলো -
‘তুমি
তেমন আচরণই করবে,
যেমন
আচরণ অন্যের কাছ থেকে আশা কর’।
সুতরাং আমাদের এমন কিছু করা উচিত নয় যা অন্যদের কাছ থেকে আমরা আশা করি না।
পৃথিবীর ৭২টি দেশে কখনো রাষ্ট্রধর্ম ছিলো না।
পৃথিবীর ২৯টি দেশ নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে রাষ্ট্রধর্ম তুলে নিয়েছে।
আলবেনিয়া,
লেবানন,
তুরষ্ক,
ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি মুসলিম অধ্যূষিত দেশ রাষ্ট্রধর্ম তুলে নিয়েছে।
আজারবাইজান ও সেনেগালের শতকরা ৯৪ ভাগ লোক মুসলমান;
ইরাকের ৯৭ ভাগ,
সিরিয়া ও মালির ৯০ ভাগ লোক মুসলমান কিন্তু এসব দেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নয়।
পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মুসলমান ইন্দোনেশিয়ায়,
কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রধর্মও ইসলাম নয়।
পৃথিবীতে এমন একটি দেশও নেই যে দেশের সংবিধানে একই সাথে রাষ্ট্রধর্ম ও
ধর্মনিরপেক্ষতা আছে।
আমরা
পৃথিবীতে কোন্ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবো তা ভেবে দেখার সময় এসেছে।
বাংলাদেশের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে ভারত,
চীন,
জাপান,
কোরিয়া,
সুইডেন,
ফ্রান্স,
আমেরিকা,
কানাডা,
অষ্ট্রেলিয়া ইত্যাদি রাষ্ট্র নিজ নিজ দেশের রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করে বাংলাদেশকে
সহযোগিতা বন্ধ করে দিলে ফলাফল ভাল হবে না।
বাংলাদেশ এখন কোন্ দিকে যাবে?
বাংলাদেশ কি সারাবিশ্বে সামপ্রদায়িকতা ও বিভেদ সৃষ্টি করবে?
না-কি
ঐক্য ও সামপ্রদায়িক সমপ্রীতির দিকে যাবে,
এখনই
সিদ্ধান্ত নেবার উপযুক্ত সময়।
কুরআনের আলোকে
‘পৃথিবীর
সকল মানুষ এক জাতি’।
সুরা
মুমিনুন এবং সুরা হুজুরাতে কুরআন বলছে -
‘হে
মানব জাতি - তোমাদের এই যে জাতি এ তো একই জাতি’।
যে
সমাজে মুসলমানের সংখ্যাধিক্য রয়েছে সে সমাজে সংখ্যালঘুদের প্রতি মুসলমানরা
কেমন আচরণ করে তা আল্লাহ পরীক্ষা করে দেখতে চান।
তাই
সূরা মায়িদার ৪৮ নং আয়াতে আল্লাহ বলছেন,
- ‘ইচ্ছে
করলে আমি তোমাদেরকে এক জাতি করতে পারতাম,
কিন্তু আমি তা করিনি,
যেন
তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারি’।
আল্লাহ পরীক্ষা করে দেখতে চান -
‘সকল
মানুষই আল্লাহর বৃহত্তর পরিবার’
কুরআনের এই মূলনীতি মুসলিমরা ভুলে যায় কি-না।
তাই
মুহাম্মদ (সাঃ) বার বার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন,
‘নিশ্চয়ই
তাদের রক্ত আমাদের রক্তের মত।
তাদের
সম্পদ আমাদের সম্পদের মত এবং তাদের ইজ্জত আমাদের ইজ্জতের মত’।
‘আমাদের
জন্য সির্কা যেমন তাদের জন্য মদ তেমন।
আমাদের জন্য বকরী যেমন তাদের জন্য শুকর তেমন।’
সুরা
কাফিরূনের ৬ নং আয়াতে কুরআন স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছে -
‘তোমাদের
জন্য তোমাদের ধর্ম,
আমাদের জন্য আমাদের ধর্ম’।
সুতরাং প্রকৃতপক্ষেই কোন রাষ্ট্র ইসলামিক হলে
‘সকল
মানুষই আল্লাহর বৃহত্তম পরিবার’
এই
নীতিকে অনুসরণ না করে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ঘোষণা করলে সংখ্যালঘু নাগরিকদের
অবমাননা করা হয়,
মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা হয়।
মানুষে মানুষে ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করা কুরআনের আলোকে বৈধ নয়।
বলা
হচ্ছে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হবে না।
আমরা
বলতে চাই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা ধর্মভিত্তিক নয়।
‘ধর্ম
নিয়ে রাজনীতি ও রাজনীতি নিয়ে ধর্ম’
চলতে
থাকলে ধর্ম ও রাজনীতি দুটোই শেষ হয়ে যাবে।
ধর্মের নামে সংঘাত ও হানাহানি অনিবার্য হয়ে উঠবে এবং মানুষ ধর্ম থেকে দূরে
সরে যাবে।
ধর্ম
নিয়ে রাজনীতির ফলাফল কি হয় তা আমরা ২৫ বছরের পাকিস্তানে দেখেছি।
ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণের সময় এসেছে।
এখনই
ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ না করলে ২৫ বছর পর আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ করতে হবে।
ইসলাম
অর্থ শান্তি।
যে
দেশের মানুষ শান্তিতে আছে,
যে
দেশে মানুষে মানুষে মমত্ব,
ভ্রাতৃত্ব ও প্রেম আছে,
যে
দেশে অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-শিক্ষা ও চিকিৎসার নিশ্চিয়তা আছে সে দেশে শান্তি
বা ইসলামও থাকতে পারে।
কিন্তু যে দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান হয়,
যে
দেশের মানুষ দু’বেলা
পেট ভরে খেতে পায় না,
এখনো
যে দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত,
সে
দেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হয় কি করে?
যার
জীবনে কোন শ্রী নেই তার নামের আগে শ্রী যুক্ত করলে
‘শ্রী’
শব্দটির অপমান হয়।
বাংলাদেশ একটি দরিদ্র,
দুর্নীতিগ্রস্ত এবং অশান্ত দেশ।
এমন
একটা দেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হলে
‘ইসলাম’
অর্থাৎ শান্তি শব্দটিকে অপমান করা হয়।
তাই
যারা প্রকৃতই ইসলামকে ভালোবাসেন তাদের ইসলামকে এই অপমানের হাত থেকে রক্ষা
করতে এগিয়ে আসা উচিত।
আদমশুমারী অনুযায়ী বাংলাদেশের ৮৫ ভাগ লোক মুসলমান।
তাই,
কুরআনের মূলনীতিকে উপেক্ষা করে সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকের ভোটের লোভে ইসলামকে
রাষ্ট্রধর্ম করা হয়েছে।
আমাদের প্রশ্ন - দেশে কতজন মুসলিম আছে তা গণনা করার অধিকার আছে কার?
মুসলিমের সংখ্যা গণনার অধিকার একমাত্র আল্লাহর।
মুসলমানের ঘরে জন্ম হলেই কেউ মুসলিম হয় না,
সুন্নাতে খতনা দিলেই কেউ মুসলিম হয়ে যায় না,
ওটা
জন্মগত জিনিস নয়।
নিজেকে মুসলিম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা একটা কষ্টলভ্য নেয়ামত,
এজন্য
কঠোর সাধনা করতে হয়।
শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বলে মুসলমানের ভোট চায়।
কিন্তু যাঁরা মুসলিম,
তাঁরা
সাবধানি।
বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম এবং বিসমিল্লাহ যুক্ত করেছিলেন এরশাদ এবং
জিয়াউর রহমান।
এখন
পূর্ণ সুযোগ পেয়েও নিজ স্বার্থের মোহে স্বৈরাচারী সংশোধনের সুবিধাজনক অংশ
মেনে নেয়া হচ্ছে।
সূতরাং যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হলো - যারা তা করছেন তারাও আংশিক স্বৈরাচারী ও
পূর্র্ণ স্বার্থবাদী।
শুধু
সামরিক সরকারই স্বৈরতন্ত্রী সরকার না।
বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে যে সরকার
‘মুক্তিযুদ্ধের
চেতনা’
পরিপন্থি কাজ করে সে সরকারই স্বৈরতন্ত্রী।
আমরা
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলি।
কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনাটা কি?
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হচ্ছে - রাষ্ট্রকে ধর্মমুক্ত করার চেতনা,
গণতন্ত্রের চেতনা,
সকল
মানুষের ভাত,
কাপড়,
বাসস্থান,
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের চেতনা।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হচ্ছে - বাংলাদেশকে ধর্মপক্ষতা থেকে মুক্ত করার চেতনা,
ধর্ম
চর্চাকে ব্যক্তিগত ব্যাপারে পরিণত করার চেতনা,
রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ধর্মচর্চায় কিংবা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অর্থ ব্যয়
বন্ধ করার চেতনা,
ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থা চালু করার চেতনা।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি ন্যুনতম শ্রদ্ধা থাকলে রাষ্ট্রধর্মকে সমর্থন করা
যায় না।
যারা
এটাকে সমর্থন করবে ইতিহাস তাদেরকে স্বৈরাচারের সমর্থক হিসেবেই চিহ্নিত করবে।
ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না।
এখনো
ঘুরে দাঁড়াবার সময় আছে।
বাহাত্তরের মূল সংবিধানে ফিরে যেতে হবে।
নইলে
অচিরেই এজন্য আফসোস্ করতে হবে।
সত্য
প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েও যারা সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে জানে না আল্লাহ
তাদেরকে আবার সুযোগ দেন না।
কুরআনের আলোকে সংবিধানে
‘বিসমিল্লাহ....’
সম্পর্কে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে - সুরা নাহলের ৯৮ নং আয়াতে আল্লাহ বলছেন -
‘ফাইজা
ক্বারা তাল কুরআন ফাসতাউজুবিল্লাহ মিনাস শাইতানের রাজিম’
অর্থাৎ ‘যখন
তুমি কুরআন আবৃত্তি করবে তখন অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর স্মরণ নেবে’।
এই
নির্দেশের জবাবে আমরা বলি -
‘আউজুবিল্লাহি
মিনাজ শাইতানের রাজিম’।
এখানে
দুটি বিষয় লক্ষ্যণীয় - ১. শুধু মাত্র কুরআন পাঠের বেলায় এই নির্দেশনা
প্রযোজ্য।
২.
আউজুবিল্লাহ না পড়ে বিসমিল্লাহ পড়া কুরআনিক নয় কারণ বিসমিল্লাহও কুরআন।
যেখানে কুরআন স্পষ্টভাবে বলে দিচ্ছে -
‘যখন
তুমি কুরআন পড়বে তখন আউজুবিল্লাহ পড়বে’
সেখানে সংবিধান পড়ার সময় আউজুবিল্লাহ ছাড়াই বিসমিল্লাহ পড়া হচ্ছে।
তাই
সংবিধানে বিসমিল্লাহ যুক্ত করার মাধ্যমে দুইভাবে কুরআনের বিরোধিতা করা হয়।
প্রথমত,
বিসমিল্লাহ কুরআনের আয়াত তাই আউজুবিল্লাহ না পড়ে বিসমিল্লাহ পড়া যায় না।
দ্বিতীয়ত,
শুধু
কুরআন পাঠের বেলায় আউজুবিল্লাহ পড়ার নির্দেশনা আছে,
সংবিধান পাঠের বেলায় এই নির্দেশনা নেই।
সুতরাং বাংলাদেশের সংবিধানে যারা বিসমিল্লাহ যুক্ত করেছেন এবং যারা তা বহাল
রাখতে চান তারা উভয়েই শুধু সংবিধান নয় কুরআনকেও অবমাননা করছেন।
কুরআন
সুরা সাফফের ২ নং আয়াতে প্রশ্ন করছে -
‘তোমরা
এমন কথা কেন বল,
যা
তোমরা কর না?’।
আমাদের সংবিধানে এমন অনেক কথাই আছে যা পালন করা হয় না।
যা
পালন করা হয় না তা পড়ার সময় কিংবা লেখার সময় আল্লাহর নামে শুরু করার অর্থ
হচ্ছে আল্লাহর বিরোধিতা করা।
যে
কর্মে আল্লাহর অনুমোদন নেই সেই কর্ম আল্লাহর নামে শুরু করা যায় না।
মোদ্দা কথা - সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিসমিল্লাহ কুরআন সম্মত নয়।
তাই
দেশের কুরআন সচেতন মুসলিমদের আহ্বান - সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও
বিসমিল্লাহ তুলে নেয়া হোক।
স্মরণ
রাখতে হবে,
শুধু
সংবিধান থেকে রাষ্টধর্ম ইসলাম ও বিসমিল্লাহ তুলে নিলেই যে সব সমস্যার সমাধান
হয়ে গেলো এমনটি নয়।
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিগুলোকে মৌলিক অধিকারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
যেন
ক্ষুধার্ত ও আশ্রয়হীন মানুষ,
বেকার,
অশিক্ষিত ও অসুস্থ মানুষ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আদালতে যেতে পারেন।
তবেই
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি শ্রদ্ধা প্রমাণিত হবে।
প্রকৃত অর্থে ইসলাম বা শান্তি প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রসর হওয়া যাবে।
কুরআন
সাম্যবাদী।
রাষ্ট্রধর্ম তো দূরের কথা
‘রাষ্ট্র’
শব্দটিই কুরআনে নেই।
যেদিন
পৃথিবীর সকল রাষ্ট্র বিলোপ হবে,
পৃথিবীর সকল মানুষ
‘এক
মানবজাতি’
হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে সেদিনই কুরআনকে মর্যাদা দেয়া হবে।
এটাই
‘হাক্কানী
চেতনা’।
এক
আল্লাহ,
এক
পৃথিবী,
এক
মানবজাতি এই হাক্কানী চেতনার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর আধুনিক মানুষ।
মানবতার জন্যে কর্মের মাধ্যমে মানুষ শান্তি বা ইসলামের দিকে এগিয়ে যাবে।
বিশ্বজুড়ে কর্ম-মানবতা-শান্তির পতাকা উড়ুক।
জয়
হোক হাক্কানী চেতনার।
আলহাজ্জ মোহাম্মদ আলী ফারুকী,
বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন

হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ পরিচালিত কুরআন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আলোচনা কেন্দ্র
আয়োজিত ‘কুরআনের
আলোকে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ও বিসমিল্লাহ....’
শীর্ষক মুক্ত আলোচনা সভার সম্মানিত সভাপতি,
উপস্থিত প্রধান অতিথি
ও সম্মানিত সুধীবৃন্দ।
আস্সালামুআলাইকুম ওয়া রাহমতুল্লাহ।
শুরুতেই এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুক্ত আলোচনার আয়োজন করার জন্য বাংলাদেশ
তরীকত ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আমি
‘কুরআন
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আলোচনা কেন্দ্র’-কে
ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
আলোচ্য বিষয়টি আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সাথে সম্পৃক্ত।
আগামীকাল আমাদের স্বাধীনতা দিবসের ৪০ বছর পূর্তি হবে।
স্বাধীনতার ৪০ বছর পরে আমাদের সংবিধানে কি থাকবে,
কি
থাকবে না এসব বিষয় নিয়ে আমাদের কথা বলতে হচ্ছে।
একটা
স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক।
জাতি
হিসেবে আমাদের এই দুঃখ ঢাকার কোন সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।
এই
মহান স্বাধীনতার মাসে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা শহীদ হয়েছেন তাঁদের
প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
মহান
মু্ক্তিযুদ্ধে একটি দল
‘ইসলাম
গেল,
ইসলাম
গেল’
এই
ধোঁয়া তোলে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলো,
এদেশের মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করেছিলো,
আমাদের মা-বোনকে নির্যাতিত ও লাঞ্ছিত করেছিলো।
তাদেরকে ধিক্কার জানানোর ভাষা আমার জানা নেই।
এইসব
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আজ জাতীয় দাবী এবং গণদাবীতে পরিণত হয়েছে।
আমরা
সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে কথা বলছি,
প্রথমেই আমাদের বুঝতে হবে - ধর্মটা কি?
যারা
সংবিধানে
‘রাষ্ট্রধর্ম
ইসলাম’
যুক্ত
করেছিলেন তাদের ধর্ম সম্পর্কে কোন ধারণা ছিল না।
ইসলাম
রাষ্ট্রধর্ম নয়।
ইসলাম
কোন নির্দিষ্ট ভূ-খন্ডের ধর্ম নয়।
আল্লাহ হচ্ছেন রহ্মানির রহিম।
আল্লাহ্ সমগ্র বিশ্বের স্রষ্টা এবং রহমতদাতা।
আল্লাহু রাব্বুল আল-আমিন,
তিনি
যেই মহাবিশ্বের রব সেই মহাবিশ্বের জন্য রসূল হচ্ছেন মুহাম্মদ (সাঃ)।
আল্লাহ মুহাম্মদ (সাঃ) কে শুধু মুসলমানদের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেন নাই,
তিনি
রসূল (সাঃ) কে কোন নির্দিষ্ট জাতির জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেন নাই,
সমগ্র
বিশ্বজাহানের রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন।
তাই
আমি মনে করি,
বাংলাদেশে
‘রাষ্ট্রধর্ম-ইসলাম’
করে
ইসলামকে অবমাননা করা হয়েছে।
এর
পেছনের মূল কারণটি হচ্ছে,
এদেশের মানুষ ধর্মভীরু,
ধর্মের কথা বললে মানুষ সহজেই আকৃষ্ট হয়ে যায়।
যিনি
ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করেছিলেন আমরা সবাই জানি তিনি ছিলেন অবৈধভাবে ক্ষমতা
দখলকারী।
ক্ষমতায় থাকার সময় তার কর্মকান্ড এবং ক্ষমতা থেকে চলে যাবার পর তার
কর্মকান্ড সম্পর্কে আমরা সবাই জানি।
তাই
আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি এটা ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য নয়,
মানুষের ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে শুধু মাত্র রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত
করার জন্যই ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করা হয়েছে।
একইভাবে বিসমিল্লাহকেও সংবিধানে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য একটা সার্বজনীন সংবিধান প্রণীত হোক এই আশাবাদ ব্যক্ত করে আমি
আমার বক্তব্য শেষ করছি।
আস্সালামু আলাইকুম।
অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামান,
চেয়ারম্যান,
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ,
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়।
সম্মানিত
সভাপতি ড. মুহাম্মদ মেজবাহ-উল-ইসলাম,
প্রফেসর এম. শাহ আলম,
চেয়্যারম্যান আইন কমিশন,
বাংলাদেশ;
শ্রদ্ধাভাজন রাশেদ খান মেনন,
সভাপতি,
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এবং সভাপতি,
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি,
আলোচক
শাহ্ সূফী ড. এমদাদুল হক কাজল,
মঞ্চে
উপবিষ্ট আল্লামা মোহাম্মদ সাদেক নূরী,
সূফী
সাধক,
সুধীবৃন্দ সকলকে শুভ সকাল,
আস্সালামু আলাইকুম।
আমি
কুরআন বিশেষজ্ঞ নই তাই কুরআনের আলোকে বিষয়ের উপর আলোচনা করতে পারবো না।
আমি
ইতিহাসের ছাত্র,
ইতিহাস পড়েছি তাই ইতিহাসের আলোকে কিছুটা আলোচনা করতে পারবো।
কুরআন
যতটুকু পড়েছি তার ভিত্তিতে কিছু মন্তব্য করা যাবে।
প্রথমেই বলে নিচ্ছি যে হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ সমপ্রতি কিছু ব্যতিক্রমী বিষয়
নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত ঘটায়।
যেসব
বিষয় নিয়ে গবেষণার সুযোগ আছে।
এটি
একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিষ্ঠান।
তারা
যে বিষয়কে আলোচনায় নিয়ে আসেন তা সমাজের জন্য এবং মুক্তবুদ্ধির চর্চার জন্য
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
তাদের
একটি সামপ্রতিক আলোচনায় প্রশ্ন উঠেছে রাষ্ট্রের কি কোন ধর্ম আছে?
আমি
বলতে চাই - জীব-জন্তু,
জড়,
রাষ্ট্র এমন কিছুই নেই যার ধর্ম নেই।
প্রশ্নটা হলো,
সেই
ধর্মটা কি ঐশী ধর্ম না নৈর্বেত্তিক ধর্ম।
কুরআনে তিনটি কথা স্পষ্টভাবে বলা আছে,
প্রথমত,
ধর্ম
হিসেবে ইসলাম একটি মনোনীত ধর্ম,
এটা
মানুষের জন্য,
জড়
পদার্থ কিংবা গাছের জন্য নয়।
দ্বিতীয়ত,
কুরআন
মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক।
তৃতীয়ত,
কুরআনে বাড়াবাড়ি নিষিদ্ধ আছে।
একটু
আগে ড. এমদাদুল হক কাজল যে বক্তব্য দিয়েছেন তার সাথে আমি একমত।
আসলে
তিনি আমাদের কথাগুলোই বলে দিয়েছেন।
কুরআনে এমন কোন কথা নেই যে,
ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করতে হবে।
সপ্তম/অষ্টম শতকে গীর্জা এবং রাষ্ট্র এক এবং অভিন্নভাবে কাজ করছিলো।
মজার
ব্যাপার হলো যখন ধর্ম এবং রাষ্ট্র একসাথে কাজ করছিলো তার বিপরীতে তখন
মুহাম্মদ (সাঃ) যে মদীনা রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তা কিন্তু ছিল একটা
ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র।
এটা
একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
মদীনায় বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী লোকের বাস ছিল এবং প্রত্যেককে প্রত্যেকের ধর্ম
পালন করতে বলা হলো।
খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়েও রাষ্ট্রধর্ম বলতে কোন কিছু ছিল না।
তাহলে
বাংলাদেশের রাজনীতিকরা এটা হঠাৎ করে কোথা থেকে পেলো?
তার
ব্যাখ্যাটি হলো - উপমহাদেশে পূর্বেই এটা ঘটেছে এবং ইসলামের ইতিহাসেও কোথাও
কোথাও এটা ঘটেছে।
যখন
এমন কোন দুর্বল শাসক আসে যাকে মানুষ মানে না তখন সে নিজেকে কোন সুলতানের
প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করতো।
ধারণা
করা হতো,
ধর্মের সাথে রাষ্ট্রের সংযোগ সৃষ্টি করতে পারলে মানুষের সমর্থন পাওয়া যাবে।
এইভাবে ধর্মের অনুপ্রবেশ শুরু হয়েছিলো।
মুহাম্মদ বীন তুঘলক খুব উদার প্রকৃতির লোক ছিলেন।
তিনি
উন্নয়নের জন্য নানা কর্মসূচী নিয়েছিলেন কিন্তু তার সকল পরিকল্পনাই ব্যর্থ
হয়েছিলো।
তার
ব্যর্থতার কারণ হিসেবে বলা হয়েছিলো যে,
যদি
তিনি কোন খলিফার অনুমোদন নেন এবং ধর্মকে মানেন তাহলে সফলকাম হবেন।
তিনি
অবশ্য এদিকে যাননি,
কিন্তু তাকেও এরকম পরামর্শ দেয়া হয়েছিলো।
তাই
ইতিহাস থেকেই যে সামরিক শাসকেরা ক্ষমতার স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করার শিক্ষা
নিয়েছে এটা বলা যায়।
এখন,
যেখানে সারা পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে আলাদা করে
ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে যাচ্ছে সেখানেও কিন্তু কিছু কিছু গরিব
দেশ ধর্মকে রাষ্ট্রের সাথে যুক্ত রাখার অপপ্রয়াস করছে।
যদিও
কুরআন বা সুন্নায় এমন কোন অনুমোদন নেই।
যারা
ধর্মকে রাজনীতিতে নিয়ে এসেছেন তারা তাদের নিজেদের জীবনে কিন্তু সেটাকে
অনুশীলন করেননি।
আমি
বলছিলাম যে কুরআনে বাড়াবাড়ি নিষিদ্ধ আছে।
সংবিধানে রাষ্টধর্ম শব্দটি থাকলেই যে ধর্ম থাকলো আর না থাকলেই যে ধর্ম থাকলো
না এমনটি নয়।
সুতরাং বাড়াবাড়ি না করে মধ্যপন্থা অবলম্বন করাই বাঞ্ছনীয় হবে।
আপনাদের সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
সৈয়দ
আবদুল্লাহ সহিদ,
সাবেক
জজ ও মহাসচিব,
বি.সি.এস. (বিচার ) এসোসিয়েশন,
এডভোকেট জজকোর্ট,
ঢাকা

আজকের
এই গুরত্বপূর্ণ আলোচনা সভার সম্মানিত সভাপতি,
প্রধান অতিথি,
বিশেষ
অতিথি এবং উপস্থিত সুধীবৃন্দ।
আপনাদের সবাইকে আমার সালাম,
শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।
আমি
প্রথমেই শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি মহান সূফী সাধক আনোয়ারুল হক-কে যাঁর
সান্নিধ্যে আসার সুযোগ আমার হয়েছিলো।
তিনি
একজন শ্রদ্ধেয়,
স্মরণীয়,
বরণীয়,
মাননীয় ব্যক্তিত্ব।
আজকের
আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই
আলোচনা ৫/১০ মিনিটে শেষ করার মতো নয়।
এজন্য
দিনব্যাপি একটা সেমিনারের দরকার ছিলো।
আজকের
আলোচনা সভায় বিশেষ করে তিনজন আছেন যারা এ বিষয়ে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করতে
পারেন,
প্রফেসর শাহ আলম,
চেয়ারম্যান আইন কমিশন,
জনাব
রাশেদ খান মেনন এমপি,
এবং
উপস্থিত সাংবাদিকগণ।
প্রথমেই বলতে চাই যে,
সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং বিসমিল্লাহ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়নি।
১৯৭৭
সালে সামরিক শাসন চলাকালীন জিয়াউর রহমান সংবিধানে বিসমিল্লাহ... যুক্ত করেন।
আর
রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম যুক্ত করেছিলেন এরশাদ।
বাংলাদেশের সংবিধান সংসদেরও উপরে।
সংবিধানের দু’টি
অংশ - প্রধান অংশ ও বাস্তবায়ন যোগ্য অংশ।
প্রধান অংশ হচ্ছে মূলনীতি।
বাহাত্তরে মূলনীতি ছিলো - ধর্মনিরপেক্ষতা,
জাতিয়তাবাদ,
গণতন্ত্র,
সমাজতন্ত্র।
এই
মূলনীতিগুলো সবার উপরে।
এটার
মালিক জনগণ।
এর
উপর হাত দেবার অধিকার কারো নেই।
এর
রক্ষক জনগণ।
পঞ্চম
ও অষ্টম সংশোধনী বাতিল হলে এগুলো থাকার কথা না।
বিষয়টা এখনো আমার কাছে পরিষ্কার না।
শুনছি
বিসমিল্লাহও রাখা হবে।
সংবিধানে রাষ্টধর্ম ইসলাম থাকলে কোন লাভ বা লোকসান নাই।
এটি
একটি অপ্রয়োজনী,
অপাংক্তেয় বস্তু।
আমরা
বলতে পারতাম যে,
এই
রাষ্ট্রে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী লোক আছে আর বেশিরভাগ মানুষের ধর্ম হচ্ছে ইসলাম।
তাহলে
কারো ধর্মে আঘাত লাগতো না।
আইন
কমিশনের চেয়ারম্যান,
মাননীয় সংসদ সদস্য এবং সাংবাদিকগণের মাধ্যমে সরকারের প্রতি আমার প্রত্যাশা -
যদি ধর্মকে সংবিধানে রাখতে চান তাহলে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম কথাটা বাদ দিয়ে বলুন
যে,
প্রধান ধর্ম ইসলাম এবং এই রাষ্ট্রে এই এই ধর্মের লোক বাস করে।
কুরআনের আলোকে একটি মানুষকে কষ্ট দেয়া মানে সমগ্র মানবজাতিকে কষ্ট দেওয়া।
আজকের
অশান্ত বাংলাদেশ একদিন শান্তির নেতৃত্ব দেবে না এটা আমি বিশ্বাস করি না।
আমি
বিশ্বাস করি বাংলাদেশ উঠে দাঁড়াবে এবং এই অশান্ত বাংলাদেশ পৃথিবীকে শান্তির
নির্দেশনা দেবে এবং এটাও বিশ্বাস করি যে ২০২৫ সালের মধ্যেই এটা দেখা যাবে।
আজকের
আলোচনায় ড. এমদাদুল হক একটি প্রস্তাব করেছেন।
উনার
এই প্রস্তাবটির প্রতি আমার দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে।
রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং বিসমিল্লাহ.... এগুলো নিয়ে টানাটানি না করে আমরা চাই,
মানুষের মৌলিক অধিকার - অন্ন,
বস্ত্র,
বাসস্থান,
চিকিৎসা ও শিক্ষার অধিকার সংবিধানে এমনভাবে উল্লেখিত হোক যেন এগুলো থেকে
বঞ্চিত মানুষ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করতে পারে।
বাংলাদেশ একটি গরিব রাষ্ট্র।
তাই
রাষ্ট্রের পক্ষে এটা করা সম্ভব হচ্ছে না।
তাহলে
এমন কিছু করা যায় কি-না যে,
রাষ্ট্রের যত কর্মচারী আছে তাদের সকলের আয় থেকে শতকরা আড়াই ভাগ কেটে নিয়ে
একটি সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল গঠন করা হবে এবং এই তহবিল থেকে সামাজিক
নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
শাহ্
ফাতেমা আফরোজ নাসরিনের একটি বক্তব্যও আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
তিনি
তার বক্তবে এক জায়গায় বলেছেন যে,
সমগ্র
কুরআন জুড়ে রয়েছে এক আল্লাহকে ধারণ-লালন-পালন করে ব্যক্তিগত পরিশুদ্ধতার কথা।
তার
বক্তব্যের সাথে আমি সংযোজন করতে চাই যে,
কুরআনের সুরা আল ইমরানের ১০৪ নং আয়াতে আল্লাহ বলছেন -
‘তোমাদের
মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা মানুষকে ভালোর দিকে ডাকবে ও সৎকর্মের
নির্দেশ দেবে এবং অসৎকর্মের ব্যাপারে নিষেধ করবে।
আর
এসব লোকই হবে সফলকাম’।
সুতরাং ব্যক্তিগতভাবে তো পরিশুদ্ধতার চর্চা করবোই সাথে সাথে সামগ্রিকভাবে,
সমষ্টিগতভাবে মানুষকে সৎকর্মের দিকে আহ্বান করাও মুসলিম হিসেবে আমাদের
দায়িত্ব।
একই
সুরার ১১০ নয় আয়াতে বলা হচ্ছে -
‘তোমরাই
শ্রেষ্ঠ দল,
মানবজাতির জন্য তোমাদের অভ্যুত্থান হয়েছে।
তোমরা
সৎকর্মের নির্দেশ দান করো এবং অসৎকর্ম নিষেধ করো’।
আসুন
আমরা এমন একটা সামাজিক সংগঠন গড়ে তুলি যে সংগঠন সৎ কাজের আদেশ করবে এবং
অসৎকাজ নিষেধ করবে।
এরকম
একটা সামাজিক সংগঠনের নেতৃত্বে ইনশাল্লাহ্ আমি থাকবো।
আজকের
এই মুক্ত আলোচনা সফল হোক।
সত্য
প্রস্ফুটিত হোক।
আমাদের আশা পূরণ হোক।
বাংলাদেশ একটি শান্তিময় দেশ হোক,
বিশ্বব্যাপি শান্তি প্রসারিত হোক।
আমিন।
আস্সালামু আলাইকুম।
আল্লামা মোহাম্মদ সাদেক নূরী,
নির্বাহী উপদেষ্টা,
বাংলাদেশ আশিক্কীনে আউলিয়া ঐক্য পরিষদ
মহান
সূফী সাধক আক্তারউদ্দীন শাহ্ কলন্দর আশীর্বাদপুষ্ট এবং তাঁর সুযোগ্য
উত্তরসূরী সূফী সাধক আনোয়ারুল হক-এঁর আদেশে প্রতিষ্ঠিত হাক্কানী মিশন
বাংলাদেশ পরিচালিত কুর’আন
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আলোচনা কেন্দ্র আয়োজিত
‘কুর’আনের
আলোকে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ও বিস্মিল্লাহ্ ...’
শীর্ষক এই মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানের শ্রদ্ধেয় প্রধান অতিথি,
বিশেষ
অতিথি,
বিজ্ঞ
আলোচকবৃন্দ ও সুধী সাংবাদিক বন্ধুগণ এবং সুপ্রিয় উপস্থিতি! আপনাদের সকলকে
জানাই আন্তরিক হাক্কানী শুভেচ্ছা।
সুপ্রিয় সভাপতি,
উপস্থিত সুধিবৃন্দ!
‘কুর’আনের
আলোকে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ও বিস্মিল্লাহ্....’
একটি
সামপ্রতিক আলোচ্য বিষয়।
মহান
হাইকোর্টের একটি রায়ের আলোকে বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণের
প্রেক্ষিতে বিষয়টি আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে,
জেনারেল জিয়াউর রহমান ও জেনারেল হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ দু’জনই
রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন দু’টি
জঘন্যতম রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের ফলাকাঙ্খার ফসল হিসাবে এবং তাদের ব্যক্তিগত
ঈপ্সা ও উদ্যোগে যথাক্রমে বিস্মিল্লাহ্ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাংলাদেশের
সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত হয়।
বলা
বাহুল্য,
তাদের
উত্তরসূরী খন্দকার মোশতাক ক্ষমতায় আরোহন করেছিল শবে কদরের নামাবলি জপতে জপতে।
আসলে
এ শ্রেণীর অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীরা নিরীহ মুসলমানদের সমর্থন আদায়ের ইপ্সা থেকেই
প্রকৃত ইসলাম নয়,
অনুরূপ ইসলামী সেন্টিমেন্টের আশ্রয় গ্রহণ করে থাকে।
স্মরণীয় যে,
বর্তমানে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতি পক্ষাপক্ষে বিভক্ত।
তা’ছাড়া
’৭১
এর গণহত্যা,
নারীধর্ষণ,
অগ্নিসংযোগ ইত্যাকার মহাপাপ কার্যাদির সক্রিয় সহযোগী সমর্থক বর্তমানে ইসলামের
রাজনৈতিক অপব্যবহারে লিপ্ত অলি-আউলিয়া বিরোধী কতিপয় পাকিপন্থী দল আলোচ্য
বিষয়টি নিয়ে নিরীহ মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত
রয়েছে।
এ
কারণে বিষয়টির আলোচনা জাতীয়ভাবে আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আমরা
মনে করি প্রকৃত মুসলিমের ধর্ম বিষয়ক যে কোন সিদ্ধান্ত ও মতামত কুর’আন
কেন্দ্রীক ও কুর’আন
ভিত্তিক হওয়া আবশ্যক।
তবে,
যে সব
বিষয়ে কুর’আনের
সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই সে সব বিষয়ে গবেষণা ও সিদ্ধান্ত যুগজ্ঞানীদের
এখতিয়ারভূক্ত।
এ
ক্ষেত্রে হযরত মোহাম্মদ থেকে প্রাপ্ত অকাট্ট তথ্যাদি অবশ্যই বিবেচ্য।
অতএব
দেখা যাক,
আলোচ্য বিষয়ে কুর’আনে
কোন সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে কি না অথবা হযরত মোহাম্মদ থেকে কোন তথ্য পাওয়া
যায় কি না।
প্রথমেই দেখা যাক
‘রাষ্ট্রধর্ম’
বা
‘রাষ্ট্রীয়
ধর্ম’
সম্পর্কে কুর’আন
কী বলে এবং হযরত মোহাম্মদ এঁর নীতি কী?
কুর’আনে
‘রাষ্ট্রধর্ম’
বা
‘রাষ্ট্রীয়
ধর্ম’
বলে
কোন ধর্মের উল্লেখ নেই।
মানুষ
ও জ্বিনকে সম্বোধন করেই কুর’আনের
সমস্ত বিধান;
রাষ্ট্রের জন্য কোন ধর্ম বা রাষ্ট্রকে সম্বোধন করে কুর’আনে
কোন বিধান নেই।
হযরত
মোহাম্মদ দ্বারা সম্পাদিত দু’টি
রাষ্ট্রীয় দলিল
‘হুদাইবিয়ার
সন্ধি’
এবং
‘মদীনা
সনদ’
কোনটিতেই রাষ্ট্রধর্ম বা রাষ্ট্রীয় ধর্ম বলে কিছুর উল্লেখ নেই।
এমন
কি চার খলিফাসহ সমগ্র মুসলিম শাসনের কোন দলিলেও কথিত রাষ্ট্রধর্মের কোন
উল্লেখ পাওয়া যায় না।
এক
কথায় কুর’আন
ও সুন্নাহ্তে রাষ্ট্রধর্ম বা রাষ্ট্রীয় ধর্মের কোন সমর্থন বা স্বীকৃতি নেই।
বস্তুত: ধর্মের ব্যাপারে রাষ্ট্রের একমাত্র নীতি হওয়া উচিৎ
‘নিরপেক্ষতা’,
যার
সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে
’৭২
এর সংবিধানে;
বলা
হয়েছে,
এ
নীতির বাস্তবায়নের জন্য (ক) সর্বপ্রকার সামপ্রদায়িকতা (খ) রাষ্ট্র কর্তৃক
কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান (গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার
এবং (ঘ) কোন ধর্ম পালনকারীর প্রতি বৈষম্য ও তাহার উপর নিপীড়ন বিলোপ করা হইবে।’
বস্তুত: এটাই তো ধর্ম সম্পর্কে কুর’আনের
রাষ্ট্রীয় নীতির সারকথা।
এখন
দেখা যাক,
আরবী
ভাষার, ‘বিস্মিল্লাহির
রাহমানির রাহিম’
বাক্যটি সংবিধানে লেখার ব্যপারে কুর’আন-সুন্নাহ্তে
কী তথ্য পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য যে,
কুর’আনের
মতে প্রধানত আরবদের বোঝার জন্য কুর’আন
আরবী ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে।
(১২:২)।
এজন্য
উক্ত বাক্যটি সূরা নামলে আরবী ভাষা ও অক্ষরে উদ্ধৃত হয়েছে।
বস্তুত: বাক্যটি সাবা শহরের সম্রাজ্ঞী বিলকীসকে নবী সোলেমানের নিজের ভাষায়
লেখা বিলকীসের ভাষায় অনূদিত বাক্যের আরবী অনুবাদ।
(তাফসীরে
রুহুল মা আনী)
স্মরণীয় যে,
কাহিনীটি হযরত মোহাম্মদ-এঁর জন্মের এক হাজার সাতশত মতান্তরে,
এক
হাজার চারশত বছর পূর্বের।
সে
সময়ে আল্লাহ্ শব্দের প্রচলন ছিল বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না।
তবে
উক্ত কাহিনী দ্বারা ব্যক্তিগত চিঠি লেখালেখিতে স্বঃ স্বঃ বিশ্বাস অনুযায়ী
স্বঃ স্বঃ ভাষায় নিজ নিজ উপাস্যের নামে শুরু করা ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায়
সুন্নতে সোলেমানী হলেও ধর্মীয় বিভিন্ন সমপ্রদায় সম্পৃক্ত কোন দলিলে আল্লাহ্
বা রব বা সৃষ্টিকর্তা বা কোন নির্দিষ্ট উপাস্যের নাম না লেখা হযরত
মোহাম্মদ-এঁর সুন্নত বা নীতি।
প্রমাণ,
তাঁর
দ্বারা সম্পাদিত
‘হুদাইবিয়ার
সন্ধি’
ও
‘মদীনা
সনদ’।
এর
কোনটির শুরুতেই আল্লাহ্ বা কোন উপাস্যের নাম লেখা হয় নি।
তা
সত্ত্বেও এগুলো মেনে নিতে স্বয়ং রাসূল ও অন্য কারো কোন আপত্তি হয় নি।
উল্লেখ্য যে,
কুর’আনে
প্রত্যেক সূরার শিরে বসানো বিস্মিল্লাহ্ বাক্যটি সূরার অংশ নয়;
কেবল
একটি সূরাকে অন্য সূরা থেকে আলাদা করার উদ্দেশ্যেই সংকলনের সময়ে তা বসনো
হয়েছে।
পক্ষাপক্ষ সম্পৃক্ত কোন দলিলের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়।
অপরদিকে কুর’আনের
অনেক স্থানে সর্বদা আল্লাহ,
নিজ
রব ও সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করার সাধারণ অনুজ্ঞা রয়েছে।
তা’ছাড়াও
বিশেষভাবে রয়েছে প্রাণীর মাংস বৈধ হওয়ার জন্য প্রাণী জবাই করার সময়ে
আল্লাহ্র নাম স্মরণ করার বিধান।
(৬:১১৯,
১২১
এবং ৭৩:৮)।
তবে,
এ
স্মরণের ধরন ও নিয়ম সম্পর্কে কুর’আনের
অনুজ্ঞা হলো
‘আত্মগত
ভাবে অনুচ্চারণে ভীত সন্ত্রস্ত হৃদয়ে নিজ রবকে স্মরণ করো।
(৭:২০৫)।
তা’ছাড়া
কুর’আনে
রব ও সৃষ্টিকর্তার নাম নিয়ে পড়তেও বলা হয়েছে।
(৯৬:১,৩)।
কিন্তু কোন কিছু লেখার আরম্ভে আল্লাহ্,
রব বা
সৃষ্টিকর্তার নাম লেখার কথা কুরআনের কোথাও নেই।
আল্লাহ্,
রব বা
সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করার বিষয়টি একান্তই বৈক্তিক এবং নিজ নিজ হৃদয় ক্রিয়ার
সাথে সম্পৃক্ত।
উল্লেখ্য,
ইমাম
আবু হানিফার মতে প্রাণী জবাই করার সময়ও আল্লাহর নাম হৃদয়ে থাকাই যথেষ্ঠ,
মুখে
উচ্চারণের কোনও প্রয়োজন নেই।
মোদ্দা কথা,
ধর্মীয় বিভিন্ন সমপ্রদায় সম্পৃক্ত কোন দলিল সম্পাদনে আল্লাহর বা কোন উপাস্যের
নাম না লেখাই কুর’আনের
শিক্ষা এবং রাসূলের সুন্নত বা অনুসৃত নীতি;
যা
আমাদের জন্য অনুসরণীয়।
এমত
অবস্থায় উক্ত তত্ত্ব ও তথ্যাদির অলোকে যথা বিহিত কুর’আনিক
অনুসিদ্ধান্ত,
যেহেতু বাংলাদেশে ধর্মীয় বিভিন্ন সমপ্রদায়ের বাস,
যেহেতু সংবিধান প্রণয়নে সকলেই অংশীদার,
সর্বোপরি যেহেতু সকলের জন্যই সংবিধান সেহেতু বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম
ও কথিত বিস্মিল্লাহ্র অন্তর্ভূক্তি এতদসংক্রান্ত কুর’আনের
শিক্ষা এবং রাসূলের অনুসৃত নীতির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক এবং ক্ষতিকর বেদ’আত।
প্রকৃত মুসলিমের জন্য ধর্মত: ও ইসলামী শরিয়তে এটা সমর্থনযোগ্য নয়।
তা
সত্ত্বেও যে বা যারা যেখানেই ইসলাম তথা ধর্মীয় কোন বিশেষ ব্যবস্থাকে বিশেষ
রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়ার চেষ্টা করেছে সর্বত্রই বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাথে তো
বটেই নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যেও ফল হয়েছে হানাহানি,
রক্তপাত,
অনৈক্য ও অশান্তি।
চার
খলিফাসহ সমগ্র মুসলিম ও বিশ্ব ইতিহাসে এর অনেক উদাহরণ রয়েছে।
অবশেষে আমরা আশা করি,
কুর’আনের
শিক্ষা ও রাসূলের নীতির সার্বজনীন আবেদন অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে দেশের কুর’আনপন্থী
রাসূল প্রেমিকগণ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে ভেবে দেখবেন।
বিশেষ
দ্রষ্টব্য : স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জনক বঙ্গবন্ধু সিংহ হৃদয়ের সম্পূর্ণ
উদারতা দিয়ে চেষ্টা করেও যাদের হৃদয় জয় করতে পারেন নি তাদের সমর্থন ও ভোটের
দুরাশায় আজও কেউ যদি কোনভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তথা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে
নির্মিত জাতীয় স্বাধীনতার সার্বজনীন ঐক্যের ভিত্টাকে দূর্বল বা নষ্ট করেন
তাতে তাদের সমর্থন তো পাবেনই না,
বরং
নিজ ম-লে দেখা দেবে অনৈক্য ও অনাস্থা;
হারাতে পারেন শ্যাম ও সখী দু’ই।
কারণ
কুর’আনের
ভাষায় এরা এদিকেও না ওদিকেও না,
দোদুল্যমান অবস্থায় ঝুলন্ত’।
(৪:১৪৩)।
এ
জন্য এরা কারো বিশ্বস্ত হয় না।
কুর’আনের
ভাষায় এরা মুনাফেক।
আর
মুনাফেকের স্থান নরকের সর্ব নিম্নস্তরে।
(৪:১৪৫)।
তাই
সাধু সাবধান।
অতএব,
এ
প্রসঙ্গে আমাদের সুচিন্তিত অভিমত সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ও কথিত বিস্মিল্লাহ্
কুর’আন-সুন্নাহর
শিক্ষার সাথে সাংঘর্ষিক বা সংগতিহীন বিধায় তা পরিহার্য এবং সার্বজনীন ধর্মীয়
আবেগ অনুভূতির খাতিরে সংবিধানের শিরে
‘দয়ালু-দয়ময়-এঁর
নামে’
বাক্যটি স্থাপন করে জাতীয়তা-বাঙালি,
নাগরিকত্ব - বাংলাদেশী,
জাতীয়
শেস্নাগান - জয় বাংলা,
রাষ্ট্রীয় শেস্নাগান - বাংলাদেশ চিরস্থায়ী হোক;
সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত হলে সাপও মরবে লাঠিও ভাঙবে না।
এ
প্রসঙ্গে আরো উল্লেখ্য যে,
সকল
বিতর্ক এড়িয়ে
‘স্বাধীন
বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’
বাক্যটি সংবিধানস্থ হওয়া বাঞ্ছনীয়।
আপনাদের সকলকে আবারো হাক্কানী শুভেচ্ছা,
আপনাদের সকলের মঙ্গল,
কল্যাণ ও শান্তি হোক।
বাংলাদেশ চিরস্থায়ী হোক।
প্রফেসর এম. শাহ্ আলম,
চেয়ারম্যান,
আইন
কমিশন,
বাংলাদেশ

বিস্মিল্লাহির রাহ্মানির রহিম।
আজকের
অনুষ্ঠানের স্নেহভাজন সভাপতি মেজবাহ-উল-ইসলাম,
মাননীয় সভাপতি,
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এবং সভাপতি,
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি জনাব রাশেদ খান মেনন এমপি;
আশিক্কীনে আউলিয়া ঐক্য পরিষদের নির্বাহী উপদেষ্টা আল্লামা মোহাম্মদ সাদেক
নূরী,
আলোচকবৃন্দ,
সুধীমন্ডলী আস্সালামু আলাইকুম।
আমি
প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই আপনাদের সবাইকে বিশেষ করে ড. মেজবাহ-উল-ইসলামকে আমাকে
আমন্ত্রণ জানানোর জন্য।
আপনাদের আয়োজিত অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা,
আন্তরিকতা এবং আলোচনা শুনে আমি অভিভূত।
প্রথম
যখন আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয় তখন আমি দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম।
কারণ,
বাংলাদেশের কুরআন আলোচনা কেন্দ্রগুলোর বেশিরভাগই প্রতিক্রিয়াশীল।
আমি
বললাম,
আপনারা হয়তো ভুল করে আমার কাছে এসেছেন।
তারপর
মেজবাহ্ আমাকে বললো -
‘না
স্যার,
আমি
ভুল করে আসিনি,
আমরা
একটা সামাজিক আন্দোলন করছি।’
সে
আমাকে কতগুলো পেপার দিয়ে গেলো।
আমি
বাসায় গিয়ে সেগুলো পড়লাম।
পেপারগুলো পড়ার পর আমি ফোন করে তাকে আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার বিষয়ে
আমার সম্মতি জানিয়েছি।
এখানে
আসার পর এই পর্যন্ত যে আলোচনা আমি শুনলাম তাতে আমি অভিভূত।
আমার
হৃদয়ের কথাগুলোই যেন এখানে বলা হয়েছে।
আমি
সৃষ্টিকর্তা বিশ্বাস করলেও ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ।
আমি
যেই বিশ্বাস লালন করি সেই একই বিশ্বাসের সুর এখানে ধ্বনিত হয়েছে।
আপনারা প্রবন্ধে এখন পর্যন্ত যা বলেছেন এর বাহিরে একটা কথা বলারও কোন সুযোগ
নাই,
বলতে
আমি পারবো না।
আপনাদের কাছ থেকে যেসব কথা শুনেছি তা আগে এমনভাবে আর কখনো শুনিনি।
আমার
মনে হচ্ছে - আমি আপনাদেরই একজন।
আমরা
বাঙালি,
আমাদের একটা ঐতিহ্য আছে,
সংস্কৃতি আছে।
আমি
বিশ্বাস করি সূফীবাদ বাঙালি জাতির ঐতিহ্যের,
সংস্কৃতির একটা অংশ।
বাংলাদেশে সূফীবাদ যেভাবে বিস্তার করেছে পৃথিবীর আর কোথাও তা এভাবে বিস্তার
লাভ করে নাই।
সূফীবাদের মূল সুর কিন্তু মানবতার সেবা এবং আল্লাহর সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন।
আপনারা যে আন্দোলনটা করছেন এটা একদিকে আধ্যাত্মিক আন্দোলন,
সামাজিক আন্দোলন,
মানবিক আন্দোলন।
এটা
একটা বিশাল ব্যাপার।
আপনারা যে লাইনে আছেন এই লাইনে যদি বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ যুক্ত হতো
তাহলে এটা দেশের জন্য একটা অসাধারণ মঙ্গলজনক ব্যাপার হতো।
আপনাদের যে আন্দোলন,
হাক্কানী মিশনের যে আন্দোলন তা আমার দৃষ্টিতে বাংলাদেশে প্রগতিশীল যে আন্দোলন
আছে তারই অন্যতম প্রধান একটা অংশ।
আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং আমারও দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে ধর্মে-ধর্মে কোন বিভেদ নাই।
সব
ধর্মের মূল সুর কিন্তু এক।
বিভিন্ন ধর্মের নবীদেরও কিন্তু মানবতাবোধ,
ধর্মবোধ একই ধরনের ছিল।
তারা
ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেন নাই।
মানুষকে সঠিক পথে নেয়ার জন্য,
আল্লাহর পথে নেয়ার জন্য,
মানুষের মধ্যে মানবতা বোধ জাগ্রত করার জন্য,
মানব
কল্যাণের জন্য তাঁরা ধর্ম প্রচার করেছেন।
আমি
আমার ধর্ম মতে মানব সেবা করবো,
অন্যেরা অন্যের ধর্মমতে মানব সেবা করবে।
কিন্তু ধর্মকে স্বার্থান্বেষী মহল ব্যবহার করেছে ক্ষমতার স্বার্থে,
রাজনীতির স্বার্থে।
এই
স্বার্থান্বেষী মহল ধর্মের নামে অধর্ম করছে এবং ধর্মের ক্ষতি করছে।
তাদের
কারণেই ধর্মে-ধর্মে হানাহানি হয়েছে,
রক্তারক্তি হয়েছে,
লক্ষ
লক্ষ মানুষ নিহত হয়েছে।
আমি
আশা করি,
হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ ধর্মের যৌক্তিক ব্যাখা দেবার বিষয়ে কাজ করবে।
কোন
মানুষ নির্দিষ্ট কোন ধর্মে বিশ্বাস না করেও সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করতে পারেন।
আমি
আমার ধ্যান ও গবেবষণায় বুঝেছি সৃষ্টিকর্তা একজন আছেন।
আর
ধ্যানের মাধ্যমেই জানা যায় আমার দায়িত্ব কি?
আমার
দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের সেবা।
মানবতার জন্য কর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম।
আপনারা আজ যে বিষয়টা আলোচনায় নিয়ে এসেছেন -
‘সংবিধানে
রাষ্ট্রধর্ম ও বিসমিল্লাহ... এ সম্পর্কে জনাব রাশেদ খান মেনন মূল্যবান আলোচনা
করবেন।
তিনি
সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে আছেন,
আমি
আমন্ত্রিত হয়ে কমিটির বৈঠকে মাঝে মধ্যে যাই।
প্রথম
যখন বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম যুক্ত করা হয় তখনই প্রায় ২০ বছর আগে আমি
এই বিষয়ে একটা গবেষণামূলক প্রবন্ধ লিখেছিলাম।
আজ
আমি তার একটি কপি আপনাদেরকে দিয়ে গেলাম।
এটা
যে একটা ভাওতাবাজি হয়েছে,
রাষ্ট্রধর্ম বলে যে কিছু থাকতে পারে না এটাই আমি এই প্রবন্ধে বলতে চেষ্টা
করেছি।
আমি
আমার প্রবন্ধে সামাজিকভাবে,
ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণ করেছি যে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম যুক্ত করা একটি রাজনৈতিক
চাল।
আমি
দেখিয়েছি যে এই সংযোজন সংবিধানের মূলনীতির লঙ্ঘণ।
এটার
কোন প্রয়োজন নাই,
তা
সত্ত্বেও কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এখানো রাষ্ট্রধর্ম আছে।
আফগানিস্তান,
পাকিস্তানে আছে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও কিন্তু আছে।
যারা
সৃষ্টিকর্তা বিশ্বাস করেন তারা বিসমিল্লাহ বলে শুরু করতে পারেন।
এটা
আরবি শব্দ হলেও এখন প্রায় বাংলাই হয়ে গেছে।
আমি
এটার পক্ষে নই।
কিন্তু আপনারা জানেন বিভিন্ন বাস্তব কারণে,
রাজনৈতিক কারণে এটা রাখা হতে পারে।
আমি
বলছি না যে এটা থাকবেই।
কিন্তু এটাও রাখা যেতে পারে এমনভাবে যেন আমাদের মূলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতার সাথে
সাংঘর্ষিক না হয়।
মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক না করে কিভাবে রাখা যাবে সেটাও হয়তো চেষ্টা করা
হচ্ছে।
এটা
কিভাবে রাখবেন তা শ্রদ্ধাভাজন রাশেদ খান মেনন বলবেন।
বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে,
সংসদ
বিবেচনা করবে।
সবশেষে,
আমি
আপনাদের সাফল্য কামনা করছি।
আপনারা যে মহান আন্দোলনে আছেন তার সাথে আমি পুরোপুরি একাত্ম।
আপনাদের সংখ্যা বাড়ান।
দিগ-দিগনেত্ম ছড়িয়ে পড়ুন।
তাহলে
দেশ ও দশের মঙ্গল হবে।
আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
রাশেদ
খান মেনন,
সংসদ
সদস্য;
সভাপতি,
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি;
সভাপতি,
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি
কুরআনের আলোকে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ও বিসমিল্লাহ শীর্ষক মুক্ত আলোচনার
সম্মানিত সভাপতি,
প্রধান অতিথি,
আলোচকবৃন্দ এবং সুধীমন্ডলী।
আপনাদের সকলকে আমার শুভেচ্ছা ও সালাম।
প্রথমেই আমি আমার দু’টি
সীমাবদ্ধতার কথা বলে নেই।
প্রথম
সীমাবদ্ধতা হচ্ছে,
ধর্ম
বিষয়ে আমার তেমন কোন জ্ঞান নেই।
তাই
যেভাবে আপনারা এতক্ষণ আলোচনা করেছেন,
অধিকাংশ বিষয়ে একমত হলেও,
আমার
পক্ষে এসব বিষয়ে কোন মন্তব্য করা সমীচীন হবে বলে আমি মনে করি না।
দ্বিতীয় সীমাবদ্ধতা হচ্ছে - আমি সংবিধান সংশোধনী কমিটির একজন সদস্য।
কমিটি
ঠিক করেছে যে,
বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে এমন কোন বক্তব্য আমরা বাইরে দেবো না।
সুতরাং যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য আপনারা আমার কাছ থেকে আশা করছেন তা
কিন্তু আমি বলতে পারবো না।
আমি
আমার কথা বলতে পারি এর বাইরে কিছু বলতে পারবো না।
আমরা
চেষ্টা করছি জাতির প্রয়োজনে,
রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সংবিধানকে
’৭২
এর মূলে ফিরিয়ে আনার।
এবং
সেই লক্ষ্যে গত ৪০ বছরে যে জঞ্জাল জমেছে আমাদের রাষ্ট্রে,
সমাজে
ও চিন্তা-ভাবনায় সেগুলোকে কতটুকু দূরে সরিয়ে দিয়ে আমরা কতটুকু মুক্তিযুদ্ধের
চেতনার ধারায় ফিরে যেতে পারি সে চেষ্টা করছি।
রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিসমিল্লাহ.... এই দুটো শব্দ আমাদের সংবিধানে ধর্মীয় কোন
কারণে এসেছে বলে আমি মনে করি না।
এটা
এসেছে রাজনৈতিক কারণে।
এর
সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক আছে এটাও আমি মনে করি না।
দীর্ঘ
২৫ বছর সংগ্রাম করে
’৭১
এর মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি।
’৭৫
এ যখন রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে তখন মূল সুরটি ছিল আবার সেই দ্বি-জাতি
তত্ত্বের ধারায় প্রত্যাবর্তন করা।
এই
প্রত্যাবর্তনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু ধর্মকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছিল।
আপনারা দেখবেন যে অত্যন্ত অনাবশ্যকভাবে এটা যুক্ত হয়েছে এবং পঞ্চম সংশোধনীতে
মূলত এই ভাবনাটাই কাজ করেছে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে হিন্দু,
মুসলমান,
বৌদ্ধ,
খৃষ্টান সকলেরই অংশগ্রহণ ছিল।
সকলে
মিলেই এই স্বাধীন বাংলাদেশ আমরা প্রতিষ্ঠিত করেছি।
অথচ
রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করার মাধ্যমে অন্য ধর্মের অনুসারীদের আঘাত করার একটা
প্রবণতা এখানে লক্ষ্য করা যায়।
এটাই
বাস্তব সত্য।
পরবতীর্তে বিসমিল্লাহ... থেকে খারাপ অর্থে উত্তরণের মাধ্যমে রাষ্ট্রধর্ম
এসেছে।
আমরা
কিন্তু বিএনপি জামাত আমলে আরো কঠিন একটা অবস্থায় চলে গিয়েছিলাম।
সেটি
হচ্ছে,
রাষ্ট্র কিন্তু এই ধরনের আইন প্রণয়ণেরও চেষ্টা করেছিলো।
যদি
এই আইন প্রণীত হতো তাহলে আজকে বাংলাদেশের অবস্থা পাকিস্তানের মতো হতো।
রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং বিসমিল্লাহ... এর মধ্যে ধর্মের কিছু আছে বলে আমি মনে
করি না।
আপনারা মদীনা সনদ ও হুদায়বিয়ার সন্ধির কথা বলেছেন।
আমাদের নবীজীর বিদায় হজ্জের বক্তব্যেও কিন্তু বিসমিল্লাহ নেই।
কারণ
বিদায় হজ্জের ভাষণ শুধু মুসলিমদের উদ্দেশ্যে ছিল না।
সমগ্র
মানব জাতিকে উদ্দেশ্য করেই তিনি কথা বলছিলেন।
সেখানেও তিনি একথাটি বলেছেন যে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না।
বিসমিল্লাহ লেখা এবং রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম লেখা আমাদের মূলনীতির সাথে
পরিপূর্ণভাবে সাংঘর্ষিক।
আমরা
যদি সত্যই
’৭২-এর
সংবিধানে ফিরে যেতে চাই,
আমি
স্পষ্ট করে বলতে চাই,
এই
কথাগুলো আমি সংশোধনী কমিটিতেও বলেছি যে,
এই
ধরনের সাংঘর্ষিক বিধান রেখে সংবিধান প্রণীত হলে তা বেশিদিন টিকতে পারে বলে
আমি মনে করি না।
বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং বিসমিল্লাহর পরিণতি আমরা
দেখেছিলাম জঙ্গীবাদের উত্থানের মধ্যে।
একদিকে স্বাধীনতা বিরোধী অন্যদিকে ধর্মব্যবসায়ী শক্তি নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত
করার চেষ্টা করছে।
ব্যাংক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও ধর্মকে মুনাফা লাভের কাজে ব্যবহার
করা হচ্ছে।
আমি
স্পষ্টভাবে বলতে চাই সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং বিসমিল্লাহ.... থাকলে
সংবিধানের যেই ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র সেই চরিত্র আমরা হারাব,
সেই
চরিত্র আমরা বজায় রাখতে পারবো না।
ড.
এমদাদুল হক কাজল অন্ন,
বস্ত্র,
বাসস্থান,
চিকিৎসার অধিকারকে মৌলিক অধিকারে নিয়ে আসার যে প্রস্তাবটি করেছেন তা আমি
সমর্থন করি।
কিন্তু এটা করা বাংলাদেশের পক্ষে খুবই কঠিন।
ভারতে
ইতোমধ্যে শিক্ষা বিষয়টিকে মৌলিক অধিকারের মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে।
কর্মসংস্থানের বিষয়টিও মৌলিক অধিকারে নিয়ে আসার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানে এখনো পর্যন্ত এসব কোন বিষয় আমরা মৌলিক অধিকারে নিয়ে আসতে
পারি নাই।
এজন্য
রাষ্ট্রের আরো অগ্রগতি প্রয়োজন হবে বলে আমি মনে করি।
তবে
যে ভাবনাটিকে আপনারা এখানে নিয়ে এসেছেন এটাকে যে আমি কেবল সমর্থন করি তা-ই নয়।
এটা
নিয়ে একটি আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন বলেও আমি মনে করি।
আমার
বক্তব্য আর দীর্ঘায়িত করতে চাই না।
মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে সংবিধানটি আমরা নিয়ে এসেছিলাম সেই সংবিধানে
প্রত্যাবর্তনই সর্বোত্তম বলে আমি মনে করি।
সংবিধানে ধর্মের নামে যে বিকৃতিগুলো ঘটেছে,
সেই
বিকৃতিগুলোকে সংশোধন করার যে সুযোগ আমাদের এসেছে সে সুযোগ গ্রহণ করা উচিত।
এই
ক্ষেত্রে আপোষ,
চক্রানেত্মর রাজনীতিকে সহায়তা করবে বলে আমার বিশ্বাস।
আপনারা যে বিষয়টি আলোচনায় নিয়ে এসেছেন এবং আমি এসে যা শুনেছি তাতে আমি অভিভূত।
এটাকে
শুধু আলোচনার মধ্যে নয়,
সত্যিকার অর্থে আন্দোলনে রূপ দিতে চেষ্টা করলে আপনাদের সাথে থাকার জন্য
আশাবাদ ব্যক্ত করে আমি আমার বক্তব্য শেষ করছি।
ধন্যবাদ।
ড.
মুহাম্মদ মেজবাহ-উল-ইসলাম,
সভাপতি,
কুরআন
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আলোচনা কেন্দ্র

আজকের এই মুক্ত আলোচনায় যারা উপস্থিত হয়ে মূল্যবান সময় দিয়েছেন বিশেষ করে
জনাব রাশেদ খান মেনন এমপি,
এবং
মাননীয় চেয়ারম্যান আইন কমিশন - প্রফেসর এম. শাহ আলম অনেক কর্মব্যস্ততার মাঝে
যে সময় আমাদের দিয়েছেন এজন্য তাদের প্রতি এবং উপস্থিত সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ
এবং কৃতজ্ঞতা জানাই।
আসুন,
আমরা
সবাই মিলে বাংলাদেশে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাই।
কুরআন
গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং আলোচনা কেন্দ্র যে আন্দোলনের সূচনা করেছে ১৯৯৩ সাল
থেকে এবং দেশের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে প্রতিটি বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের
বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে সাথে নিয়ে যে সকল আলোচনা করেছে এ ব্যাপারে
আপনাদের সমর্থন পেলে সমাজে সত্যপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমরা অগ্রগামী হতে পারবো।
আজকের
আলোচনায় যে সব বিষয়গুলো উঠে এসেছে সেসব বিষয় আপনাদের মাধ্যমে যেন সরকারের
কাছে তুলে ধরা হয়।
হাক্কানী মিশন বাংলাদেশ পরিচালিত সাপ্তাহিক বর্তমান সংলাপের শ্লোগান হলো -
‘আমরা
নিরপেক্ষ নই,
সত্যের পক্ষে।’
এই
পত্রিকাটির মাধ্যমে আমরা আমাদের বক্তব্য দেশবাসীর কাছে দীর্ঘদিন ধরে তুলে ধরে
আসছি।
আপনারা সকলেই আমাদের সহযোগিতা করুন এবং আশা করি ভবিষ্যতেও আপনারা আমাদের সাথে
থাকবেন।
|